আমেরিকা

নিউইয়র্ক স্কুলে অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস বাধ্যতামূলক নিয়ে বিতর্ক

মিজানুর রহমান প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ১৮:১৯

নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কিছু ভিডিও ও বাস্তব উদ্ধার ঘটনার পর এসব যন্ত্র নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও এর কার্যকারিতা নিয়ে চিকিৎসা মহলে মতভেদ রয়েছে।

 

এই ধরনের ডিভাইস সাধারণত হাতে ধরা যন্ত্র, যা শ্বাসনালীতে আটকে থাকা খাবার বা বস্তু সরাতে সাকশন পদ্ধতিতে কাজ করে। ২০২১ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনার একটি রেস্টুরেন্টে ১০ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করার ঘটনায় ‘লাইফভ্যাক’ নামে একটি ডিভাইস আলোচনায় আসে। পরে ২০২৩ সালে ওহাইওতে পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজে অনুরূপ একটি ডিভাইস ব্যবহারের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

 

সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল একটি আইন পাস করেছে, যেখানে শহরের প্রতিটি স্কুল ভবনে এ ধরনের ডিভাইস রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে আইনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বা আমেরিকান রেড ক্রসের নির্দেশনা প্রয়োজন।

 

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন হেইমলিখ ম্যানুভার, ব্যাক ব্লো বা চেস্ট থ্রাস্টই এখনো সবচেয়ে কার্যকর। তাদের মতে, অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইসের কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত স্বাধীন মানবভিত্তিক গবেষণা নেই। কিছু পরীক্ষায় দীর্ঘ ব্যবহারে শারীরিক জটিলতার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

 

আমেরিকান রেড ক্রস, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে আগে প্রচলিত জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এ ধরনের ডিভাইসকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

অন্যদিকে ডিভাইসটির নির্মাতারা দাবি করছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এটি জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় এর ব্যবহার ইতিবাচক ফল দিয়েছে।


ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি নির্দিষ্ট শর্তে ‘লাইফভ্যাক’ বাজারজাতের অনুমতি দিলেও এর নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি রেখেছে।

 

এই উদ্যোগের পক্ষে থাকা সাবেক সিটি কাউন্সিল সদস্য ক্রিস্টি মারমারোটা বলেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তার মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত একটি জীবনরক্ষাকারী উপায় থাকা প্রয়োজন।

 

অন্যদিকে জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডারিয়া লং বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এসব ডিভাইস বেশি কার্যকর এমন প্রমাণ মেলেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক স্কুলে অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস বাধ্যতামূলক নিয়ে বিতর্ক

নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কিছু ভিডিও ও বাস্তব উদ্ধার ঘটনার পর এসব যন্ত্র নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও এর কার্যকারিতা নিয়ে চিকিৎসা মহলে মতভেদ রয়েছে।   এই ধরনের ডিভাইস সাধারণত হাতে ধরা যন্ত্র, যা শ্বাসনালীতে আটকে থাকা খাবার বা বস্তু সরাতে সাকশন পদ্ধতিতে কাজ করে। ২০২১ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনার একটি রেস্টুরেন্টে ১০ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করার ঘটনায় ‘লাইফভ্যাক’ নামে একটি ডিভাইস আলোচনায় আসে। পরে ২০২৩ সালে ওহাইওতে পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজে অনুরূপ একটি ডিভাইস ব্যবহারের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।   সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল একটি আইন পাস করেছে, যেখানে শহরের প্রতিটি স্কুল ভবনে এ ধরনের ডিভাইস রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে আইনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বা আমেরিকান রেড ক্রসের নির্দেশনা প্রয়োজন।   চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন হেইমলিখ ম্যানুভার, ব্যাক ব্লো বা চেস্ট থ্রাস্টই এখনো সবচেয়ে কার্যকর। তাদের মতে, অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইসের কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত স্বাধীন মানবভিত্তিক গবেষণা নেই। কিছু পরীক্ষায় দীর্ঘ ব্যবহারে শারীরিক জটিলতার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।   আমেরিকান রেড ক্রস, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে আগে প্রচলিত জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এ ধরনের ডিভাইসকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।   অন্যদিকে ডিভাইসটির নির্মাতারা দাবি করছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এটি জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় এর ব্যবহার ইতিবাচক ফল দিয়েছে। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি নির্দিষ্ট শর্তে ‘লাইফভ্যাক’ বাজারজাতের অনুমতি দিলেও এর নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি রেখেছে।   এই উদ্যোগের পক্ষে থাকা সাবেক সিটি কাউন্সিল সদস্য ক্রিস্টি মারমারোটা বলেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তার মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত একটি জীবনরক্ষাকারী উপায় থাকা প্রয়োজন।   অন্যদিকে জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডারিয়া লং বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এসব ডিভাইস বেশি কার্যকর এমন প্রমাণ মেলেনি।

মিজানুর রহমান প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ১৮:১৯
ছবি: মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দিচ্ছেন আয়োজক কমিটি

৪০তম ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে থাকছেন দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা

অভিবাসন আবেদনপত্রে স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়ার প্রতীকী চিত্র

স্বাক্ষর ত্রুটিতে বাতিল হতে পারে এইচ-১বি ও গ্রিন কার্ড আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কে পুলিশের তল্লাশির সময় সতর্কতা অবলম্বনের একটি দৃশ্য । ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ গাড়ি থামালে করণীয় কী? জানুন নাগরিক অধিকার

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য রাস্তায় পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়া একটি পরিচিত অভিজ্ঞতা। এ মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে কী করতে হবে এবং আমেরিকার সংবিধান একজন সাধারণ নাগরিককে কতটা সুরক্ষা দেয়, সে বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি শান্তভাবে এবং আইনসম্মতভাবে সামলানো সম্ভব।   প্রথম করণীয়: শান্ত থাকুন পুলিশের সাইরেন শুনলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে রাস্তার ডান পাশে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে হবে। দুই হাত স্টিয়ারিং হুইলের ওপর রাখুন, যাতে পুলিশ বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখতে পান। হঠাৎ কোনো অঙ্গভঙ্গি বা তাড়াহুড়ো করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। পুলিশ না বললে গাড়ি থেকে নামবেন না।   কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক পুলিশ কাছে এলে গাড়ির জানালা অর্ধেক নামান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের কাগজ দেখান। এগুলো দেখানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কাগজ খোঁজার আগে পুলিশকে জানিয়ে নিন, যাতে হাত নাড়াচাড়াকে ভুলভাবে না দেখা হয়।   চুপ থাকার অধিকার: ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ প্রশ্ন করতে শুরু করলে জেনে রাখুন, আমেরিকার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী আপনি নিজের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য নন। শান্তভাবে বলতে পারেন, 'আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা না বলে কিছু বলতে চাই না।' এটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার এবং পুলিশ সেই অধিকারকে সম্মান দেখাতে বাধ্য।   গ্রেপ্তারের মুখে পড়লে: সিক্সথ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে চায়, তাহলে সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী অনুযায়ী আইনজীবীর সাহায্য চাওয়ার অধিকার আপনার আছে। স্পষ্টভাবে বলুন, 'আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই।' এই মুহূর্তে যত কম কথা বলবেন, ততই নিরাপদ। কারণ আপনার প্রতিটি কথা আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।   তল্লাশির ক্ষেত্রে: ফোর্থ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ গাড়ি বা ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে প্রশ্ন করুন সার্চ ওয়ারেন্ট আছে কিনা। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী নাগরিকদের অযৌক্তিক তল্লাশি থেকে সুরক্ষা দেয়। তল্লাশিতে আপনার সম্মতি না থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। সম্মতি ছাড়া তল্লাশি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।   ভাষা সমস্যায় অনুবাদক চাওয়ার অধিকার ইংরেজিতে সাবলীল না হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট অনুযায়ী আপনি অনুবাদক চাইতে পারেন। সরাসরি বলুন, 'আমি বাংলায় কথা বলি, অনুবাদক চাই।' এই অনুবাদক সহায়তা আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ব্যক্তিগত সম্পত্তির বাইরে যেকোনো সর্বজনীন স্থানে পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করা যাবে। সংবিধানের প্রথম সংশোধনী মত প্রকাশের এই স্বাধীনতা দেয়। তবে রেকর্ড করার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে করুন এবং তাদের কাজে কোনোভাবে বাধা দেবেন না।   ঘটনার সময়, স্থান, পুলিশ অফিসারের নাম ও ব্যাচ নম্বর লিখে রাখুন। মনে হলে স্থানীয় সিভিল লিবার্টি সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আমেরিকার সংবিধান প্রতিটি মানুষকে এই সুরক্ষা দেয়। তবে সেই সুরক্ষা তখনই কাজে আসে, যখন একজন নাগরিক নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ১৭:৩
ছবি: সংগৃহীত

তিন যুগের ভালোবাসা: নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

জর্জিয়ায় নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ!

জর্জিয়ায় নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ, আগামীকাল ভোটগ্রহণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: এপি

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরে ৪৭৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা এখন স্বপ্নের মতো, ডাউন পেমেন্ট জমাতেই লাগতে পারে প্রায় ২০ বছর

বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্কে নিজের একটি বাড়ি কেনা এখন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ট্রিটইজির ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক শহরের গড় আয়ের একজন বাসিন্দার একটি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্ট জমাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ২০ বছরের সঞ্চয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম আয়ের একজন ব্যক্তি যদি প্রতি বছর তার আয়ের ১০ শতাংশ নিয়মিতভাবে সঞ্চয় করেন, তাহলেও একটি সাধারণ বাড়ির ২০ শতাংশ প্রাথমিক অর্থ জোগাড় করতে তার প্রায় দুই দশক সময় লাগতে পারে।   স্ট্রিটইজির তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে নিউইয়র্ক শহরে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে একটি বাড়ি কিনতে প্রাথমিক অর্থ হিসেবে প্রয়োজন পড়ছে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ডলার।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম পারিবারিক আয় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ডলার। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও শিক্ষাঋণের খরচ বহন করার পর এত বড় অঙ্কের অর্থ সঞ্চয় করা অধিকাংশ পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসনের মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং ভাড়াবাড়ির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ভাড়ার বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে।   এদিকে বাড়ি কেনা কঠিন হলেও ভাড়ার বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। বিভিন্ন আবাসন বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিউইয়র্কে ভাড়াবাড়ির খরচও এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ফলে যারা বাড়ি কিনতে পারছেন না, তাদের অনেকেই উচ্চ ভাড়ার চাপ সামলে সঞ্চয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিউইয়র্কে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২:৭
ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

চল্লিশতম ফোবানা কনভেনশন উপলক্ষে মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির আবেদন শুরু

নিউইয়র্কে বাড়ছে গৃহহীনদের সংখ্যা। ছবি: মিন্ট

নিউইয়র্ক সিটিতে ভাউচার তহবিল সংকটে আবাসন সংকটের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ

0 Comments