আমেরিকা

জর্জিয়ায় নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ, আগামীকাল ভোটগ্রহণ

মিজানুর রহমান প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২২:১০
জর্জিয়ায় নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ!
জর্জিয়ায় নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ!

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামীকাল ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ, আলোচনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

 

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কমিউনিটির নেতারা বলছেন, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে মূলধারার রাজনীতিতে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জর্জিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলাহ পার্কেস। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের (এজেসি) এক জরিপে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়ছে।

 

নাবিলাহ পার্কেস জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ফলে তার বর্তমান প্রার্থিতা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

এছাড়া জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে শেখ রহমানের প্রার্থিতাও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত শেখ রহমানকে অনেকেই কমিউনিটির শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে দেখছেন।

 

অন্যদিকে, জর্জিয়া স্টেট হাউস ডিস্ট্রিক্ট-৯৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী তানজিনা। স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, শিক্ষা, কমিউনিটি উন্নয়ন ও অভিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন।

 

নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। বিভিন্ন পোস্টে ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, “ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব।” পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

 

বাংলাদেশী কমিউনিটি একটিভিস্টদের মতে, জর্জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
Donald Trump ছবি: সংগৃহীত
নিজেকে ইতিহাসের সফল প্রেসিডেন্টদের কাতারে তুলে ধরতে চাইছেন ট্রাম্প, অতীতের ব্যর্থতা থেকেও টানছেন তুলনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই তাঁর তাৎক্ষণিক পূর্বসূরিদের নীতির সমালোচনায় সরব ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন একটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। এখন তিনি শুধু সাম্প্রতিক প্রশাসনের সঙ্গে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও নিজের নেতৃত্বের তুলনা করছেন।   বিভিন্ন জনসভা, ভাষণ ও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কখনও নিজেকে অতীতের সফল প্রেসিডেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। আবার কখনও দাবি করছেন, ইতিহাসে যেসব সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়, তাঁর প্রশাসন সেসব ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না।   বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে কেবল বর্তমান সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে চাইছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ, ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় পরিচয়ের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।   পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, অতীতের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে নিজের তুলনা করে ট্রাম্প একদিকে সমর্থকদের কাছে নিজের নেতৃত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে তাঁর প্রশাসনের মূল্যায়ন কীভাবে ইতিহাসে লেখা হবে, সেই বার্তাও আগেভাগেই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৪:২০
Donald Trump  ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ‘কমিউনিজমই দেশের সবচেয়ে বড় হুমকি’

ছবি: কোলাজ, আমেরিকা বাংলা

ওয়াশিংটনে রেকর্ড গরমেও হচ্ছে ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ কনসার্ট, সময়সূচিতে পরিবর্তন আনল কর্তৃপক্ষ

ইরান আলোচনায় আগ্রহী, ট্রাম্পের দাবি

ইরান আলোচনায় আগ্রহী, ট্রাম্পের দাবি

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহে সাময়িক বন্ধ ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের স্টেট ফেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক আর্দ্রতার কারণে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল মলে আয়োজিত গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ কনসার্ট এবং অন্যান্য প্রধান আয়োজন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।   শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু পর মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিকটস্থ নির্গমনপথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শিল্পী, বিক্রেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আবহাওয়ার উন্নতি হলে বিকেল ৫টায় পুনরায় মেলা খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) ওয়াশিংটন মহানগর এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।   প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় মেলা প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পানির স্টেশন, বরফ এবং শীতলীকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা রঙের পোশাক পরা এবং প্রয়োজনে ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   তীব্র গরমের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিম প্রাঙ্গণে কনসার্ট শুরু হবে। দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্য প্রবেশপথ সন্ধ্যা ৭টায় খোলা হবে।   ইউএস ক্যাপিটল পুলিশ সবাইকে পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে আনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশি দ্রুত শেষ করতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না আনারও অনুরোধ করা হয়েছে।   ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজিত হয়ে আসছে ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’। কেবল ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনুষ্ঠানটি আগাম ধারণ করে সম্প্রচার করা হয়েছিল। এবারও অনুষ্ঠানটি পিবিএস টেলিভিশন এবং অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যারা সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন না, তারা ঘরে বসেই অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।   শনিবারের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদযাপনেও আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বিকেল ও সন্ধ্যায় বিচ্ছিন্নভাবে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আয়োজকদের দাবি, নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায়।   তাপপ্রবাহের কারণে ওয়াশিংটন মনুমেন্ট গ্রাউন্ডস-এর প্রবেশপথও নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে বিকেল ৫টায় খোলা হবে। অনুষ্ঠানের পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পানির স্টেশন, শীতলীকরণ কেন্দ্র, কৃত্রিম জলকণা ছিটানোর ব্যবস্থা, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র রাখা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজনগুলোর একটি, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের আতশবাজি প্রদর্শনীও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল, পোটোম্যাক নদীর আটটি ভাসমান প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্ক থেকে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে।   এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভাষণ দেবেন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তিনি দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেবেন, যাতে তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাব দেওয়া যায়।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: National Weather Service, US Capitol Police, Freedom 250, New York Post

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২৩:২০
ক্যালিফোর্নিয়ার ডিএমভির নির্দেশে ১১ হাজারের বেশি চালককে পুনরায় লিখিত ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১ হাজার চালককে আবার লিখিত ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে নির্দেশ, না হলে বাতিল হতে পারে লাইসেন্স

ছবি: শিশুদের মা এলিজাবেথ সাইডার্স (সংগ্রহীত)

ওহাইওর ১৬ শিশুর নির্যাতন মামলায় নতুন মোড়, অভিযুক্ত মাও ছিলেন নির্যাতনের শিকার, আইনজীবীর দাবি

ছবি: মিশিগানের স্টেট রিপ্রেজেন্টিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী (সংগ্রহীত)

মিশিগান ডিস্ট্রিক্ট-১৪ থেকে স্টেট রিপ্রেজেন্টিভ পদে লড়ছেন মিনহাজ চৌধুরী, অগ্রাধিকারে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা

এপ্রিল মাসে এপস্টেইন ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
এপস্টেইন নিয়ে কেন প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, জানালেন তার উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত এপ্রিলে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা সে সময় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে খুব কম দেখা যাওয়া মেলানিয়ার এমন অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এবার সেই বক্তব্যের নেপথ্যের কারণ প্রকাশ করেছেন তার একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলানিয়ার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান বলেন, ওই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বিষয় স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে। তার ভাষায়, "মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানাতে চেয়েছিলেন যে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং কখনোই ছিল না। একই সঙ্গে তিনি এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের পক্ষে একজন সমর্থক ও নেতৃত্বদানকারী কণ্ঠ হতে চেয়েছিলেন।"   বেকম্যান আরও জানান, মেলানিয়া কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্য শুনানিতে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সরাসরি আইনপ্রণেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।   কী বলেছিলেন মেলানিয়া?   এপ্রিলের সেই বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি কখনো জেফরি এপস্টেইনের বন্ধু ছিলেন না, তার কোনো অপরাধের শিকারও হননি এবং এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কখনো উপস্থিত ছিলেন না বা অংশ নেননি। তিনি আরও অস্বীকার করেন যে এপস্টেইনই তার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। একই বক্তব্যে তিনি কংগ্রেসকে উদ্দেশ করে বলেন, এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। মেলানিয়ার ভাষায়, "এই নারীদের কংগ্রেসের সামনে শপথ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিন। প্রত্যেক নারীরই প্রকাশ্যে নিজের গল্প বলার অধিকার রয়েছে।"   বক্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া   মেলানিয়া ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। কেউ তার বক্তব্যকে সাহসী উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানান, আবার কেউ সমালোচনা করেন। এপস্টেইনের কয়েকজন জীবিত ভুক্তভোগীর একটি সংগঠন সে সময় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, মেলানিয়ার বক্তব্যে বিচার নিশ্চিত করার দায়ভার ভুক্তভোগীদের ওপরই বেশি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুযায়ী সব নথি প্রকাশে পুরোপুরি সহযোগিতা করেনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস, যিনি নিজেও অতীতে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন, মেলানিয়ার বক্তব্যের প্রশংসা করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, "এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি যখন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন, তখন সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।"   ট্রাম্প কী জানতেন?   এপ্রিলের ওই বক্তব্যের পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি জানতেন যে মেলানিয়া একটি বিবৃতি দিতে যাচ্ছেন। তবে বক্তব্যে কী থাকবে, তা আগে থেকে জানতেন না। তার ভাষায়, "এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি জানতাম তিনি বক্তব্য দেবেন, কিন্তু তিনি কী বলবেন, তা জানতাম না।" এখনও পুরোপুরি প্রকাশ হয়নি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তদন্তের কিছু নথি প্রকাশ নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে কিছু সম্পাদিত (রেডাক্টেড) নথি প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও একটি ফেডারেল আদালত বিচার বিভাগকে ওই নথি প্রকাশ অথবা তা গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে। এসব নথির মধ্যে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের নোটও রয়েছে, যেখানে এক নারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   এ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জেফরি এপস্টেইন-সম্পর্কিত কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হয়নি। সূত্র: Politico, The New York Times

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২২:২২
ম্যাডিসন হাইটসের মসজিদে হুমকির ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগে মামলা করেছে ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানের একটি মসজিদে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভাষণ দিচ্ছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

'অভিবাসীরাই গড়েছেন নিউইয়র্ক' যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী বার্তা মেয়র জোহরান মামদানির

দুর্ঘটনায় নিহত অন্তঃসত্ত্বা লোরেনা লোপেজ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তার গর্ভের যমজ সন্তান

0 Comments