যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্যবস্তু করার পদক্ষেপকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকিতে পরিণত হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এই শাসনের পক্ষ থেকে আসা অসহনীয় হুমকি মোকাবিলায় এটাই ছিল আমাদের শেষ এবং সেরা সুযোগ।’ তিনি দাবি করেন, অভিযানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমর্থন ছিল।
হামলার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, প্রথম লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। দ্বিতীয়ত, তাদের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করা। তিনি দাবি করেন, ইরানের ১০টি জাহাজ ধ্বংস করে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় লক্ষ্য ছিল, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা–এর প্রশাসনের সমালোচনাও করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের প্রশাসনের নীতির কারণে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। পূর্ববর্তী একটি চুক্তিকে তিনি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যাতে সীমান্তের বাইরে কোনো বাহিনীকে অর্থায়ন বা পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। তাঁর মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপই ছিল একমাত্র কার্যকর পথ।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের ওপর ‘কঠোর আঘাত’ শুরু করেনি এবং বড় ধরনের হামলা এখনও বাকি রয়েছে। তাঁর ভাষায়, শিগগিরই ইরানে ‘মূল আক্রমণ’ চালানো হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরানি জনগণকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য সামরিক অভিযানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখনো বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু হয়নি। তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ফের বন্দুকবাজের হামলায় রক্তাক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস। সপ্তাহের শেষে যখন উৎসবে মেতেছিল অস্টিন শহর, ঠিক তখনই একটি জনপ্রিয় পানশালায় নেমে এল মৃত্যুর ছায়া। অজ্ঞাতপরিচয় এক আততায়ীর এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩ জন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয়েছে খোদ হামলাকারীরও। অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, শনিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিট নাগাদ শহরের একটি অত্যন্ত জনাকীর্ণ পানশালায় আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে এক বন্দুকবাজ। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ হামলাকারীকে আত্মসমর্পণ করতে বললেও সে উল্টো গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই বন্দুকধারীর। জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, আততায়ীর গুলিতে পানশালার ভেতরেই ৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দুকবাজের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও তার পরিচয় এখনও গোপন রাখা হয়েছে। কী কারণে এই নৃশংস হামলা চালানো হলো, তার নেপথ্যে কোনো গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে টেক্সাস পুলিশ। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিগত দুই দশকে ইরাক, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ায় শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপগুলো চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ মিশনগুলো শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতেই নয়, বরং খোদ আমেরিকার জন্যও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে এনেছে। ইরাক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থলসেনা মোতায়েন এবং ব্যাপক বোমা হামলার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পথ বেছে নিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণের বিনিময়ে ইরাকে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা শেষ পর্যন্ত চরম বিশৃঙ্খলা আর লক্ষ লক্ষ ইরাকবাসীর মৃত্যুতে পর্যবসিত হয়। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের অধীনে দীর্ঘ ২০ বছর অবস্থান করেও কোনো স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি হোয়াইট হাউস। বিপুল অর্থ ব্যয়ে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিলেও মার্কিন প্রত্যাহারের পরপরই তালেবানের হাতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, যা আমেরিকার দীর্ঘতম যুদ্ধের এক শোচনীয় সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। লিবিয়ার ক্ষেত্রে কৌশল কিছুটা ভিন্ন হলেও ফলাফল ছিল একই। সেখানে সরাসরি সেনা মোতায়েন না করে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে নিয়ে গাদ্দাফি শাসনের পতন ঘটানো হয়। কিন্তু আজ এক দশকের বেশি সময় পার হলেও লিবিয়া এখনো বিভাজন, সহিংসতা এবং চরম অরাজকতার কবলে আটকে আছে। সামগ্রিকভাবে, গত দুই দশকে আমেরিকার এই তিনটি প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে, জোরপূর্বক শাসন পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কেবল মানবিক ও কৌশলগত বিপর্যয়ই ডেকে আনে।