প্রবল উত্তেজনা এবং চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আগামী রবিবার, ৮ মার্চ থেকে তেহরান প্রদেশের সমস্ত মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং নির্বাহী প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মাত্র ২০ শতাংশ কর্মী সশরীরে অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ পরিচালনা করবেন। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এই বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে:
নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: তেহরান প্রদেশের সকল নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী বর্তমানে সশরীরে অফিসে আসার পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে 'রিমোট ওয়ার্ক' বা দূরবর্তী অবস্থান থেকে কাজ করবেন।
ব্যাংকিং সেবা: জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক খোলা রাখা হবে।
জরুরি সেবা সংস্থাসমূহ: জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপারেশনাল ইউনিটগুলো এই ২০ শতাংশের সীমাবদ্ধতার আওতামুক্ত থাকবে।
ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি: প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তেহরান প্রদেশের সকল স্তরের ব্যবস্থাপক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যে হামলা চালানো হয়েছে, তার পাল্টা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই প্রশাসনিক এই সচলতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস। দেশটিতে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে লিমাসলসহ বিভিন্ন শহরে ‘ব্রিটিশ ঘাঁটি হটাও’ স্লোগানে মুখরিত হয়েছে রাজপথ। ঘটনার সূত্রপাত: চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি ‘আরএএফ আক্রোতিরি’-তে (RAF Akrotiri) একটি ড্রোন হামলা হয়, যা ইরান-নির্মিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাত্র দুই দিন আগেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সাইপ্রাসের সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন যে, তাদের অজান্তেই দেশটিকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। উপনিবেশবাদের অবশেষ: ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা পেলেও একটি চুক্তির মাধ্যমে সাইপ্রাসের প্রায় ৩ শতাংশ ভূমি নিজেদের দখলে রাখে যুক্তরাজ্য। আক্রোতিরি এবং ডেকিলিয়া নামের এই দুটি ঘাঁটি মূলত ব্রিটিশ সার্বভৌম এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মীরা একে ‘উপনিবেশবাদের অবশেষ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, এই ঘাঁটিগুলোর মাধ্যমে সাইপ্রাসকে একটি ‘অডুবন্ত বিমানবাহী রণতরি’ হিসেবে ব্যবহার করছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। কেন বাড়ছে ক্ষোভ? ১. নিরাপত্তা ঝুঁকি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সাইটে ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলার’ জন্য এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে ইরান বা তার সহযোগীদের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে সাইপ্রাস। ২. গাজা যুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা: অভিযোগ রয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং নজরদারি চালাতে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। ডিclassified UK-র তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রথম দুই বছরে সাইপ্রাস থেকে ৬০০-এর বেশি নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। ৩. অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ: সাইপ্রাসের মোট জিডিপির ১৪ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। যুদ্ধের উত্তেজনায় অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় পর্যটন শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো নিরাপত্তা তথ্য না দিয়ে কেবল নিজেদের সামরিক কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বর্তমান পরিস্থিতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাজ্য সরকার সাইপ্রাসে একটি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ স্থানীয়দের আশ্বস্ত করার বদলে উল্টো উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তুলছেন— কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে সাইপ্রাসের সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাসের এই জনরোষ কেবল ক্ষণস্থায়ী কোনো বিক্ষোভ নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সার্বভৌমত্ব এবং পশ্চিমা সামরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক পুঞ্জীভূত বহিঃপ্রকাশ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঘোষণা দিল ইরান। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মাদ নায়েইনি এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরান কেবল প্রস্তুতই নয়, বরং শিগগিরই রণক্ষেত্রে নামানো হতে পারে এমন সব ‘নতুন প্রজন্মের কৌশলগত অস্ত্র’, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। আইআরজিসি-র এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, ‘ট্রু প্রোমিজ ৪’ অভিযানের আওতায় এ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতার একটি সামান্য অংশ মাত্র। নায়েইনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, ইরানের হাতে এমন সব আধুনিক প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র রয়েছে যা এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি। শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী প্রতিটি সামরিক অভিযানে ইরান এমন কঠোর আঘাত হানবে যার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত নয়। মূলত নতুন নতুন যুদ্ধকৌশল ও অপ্রকাশিত অস্ত্রের প্রয়োগই হবে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ। বর্তমান এই সামরিক সংঘাতকে ‘পবিত্র এবং বৈধ যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে নায়েইনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরান এখন কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। ইরানের এই হার্ডলাইন অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে রণক্ষেত্রেও। এই বার্তার পরপরই ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তাদের উচ্চমাত্রার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রমাণ। সার্বিক পরিস্থিতিতে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ইরানের নতুন অস্ত্রের হুমকি এবং অন্যদিকে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পুরো অঞ্চল একটি প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের এই রণপ্রস্তুতি কেবল আত্মরক্ষামূলক নয়, বরং শত্রুকে সমূলে বিনাশ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্লু-প্রিন্ট বলেই মনে করা হচ্ছে।
লেবানন সীমান্তে সংঘাতের তীব্রতা এখন চরম পর্যায়ে। বৈরুত থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা লেবাননের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর সফল হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের দুজন সৈন্য এতে আহত হয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে সরাসরি সংঘাত চললেও রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। তা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি এক টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা এই লড়াইকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হিজবুল্লাহর মূল কৌশল হলো সীমান্ত দিয়ে অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য এই সংঘাতকে আর্থিকভাবে এবং সামরিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল করে তোলা। বিশেষ করে লেবাননের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের স্থল অভিযানকে ইসরায়েলের জন্য যতটা সম্ভব প্রাণঘাতী ও কঠিন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। লেবানন সরকার এবং সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে। লেবাননের সেনাবাহিনী সীমান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে নিষিদ্ধ করার মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় এর চেয়ে বেশি কঠোর হতে পারছে না। গতকাল প্রেসিডেন্ট আউন বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন দূতের কাছে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে মধ্যস্থতার আবেদন জানিয়েছেন। তবে মার্কিন দূত বা ইসরায়েল পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল উভয় পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছে।