বিশ্ব

যুদ্ধের জন্য যে মূল্য দিতে হচ্ছে ইরানের নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২৫, ২০২৬ ২১:৪
তেহরানের বাসিন্দা নার্গেস নামের এই নারীর বাসভবনে হামলা হয় ২১শে মার্চ। ছবি: সংগৃহীত
তেহরানের বাসিন্দা নার্গেস নামের এই নারীর বাসভবনে হামলা হয় ২১শে মার্চ। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান ইরানে বারুদ আর রক্তে মিশে একাকার হয়ে গেছে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন। গত তিন সপ্তাহে তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর উপর্যুপরি বিমান হামলায় হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তু বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু এই সামরিক অভিযানের সমান্তরাল শিকার হচ্ছেন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


কাজের মাঝেই থেমে গেল পারাশতেশের জীবন
তেহরানের আপাদানা এলাকায় একটি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন তরুণী পারাশতেশ দাহাঘিন। পাশের একটি তথ্যপ্রযুক্তি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। তার ভাই পুরিয়া আবেগঘন এক বার্তায় জানান, বিপদের কথা জেনেও পারাশতেশ দোকান ছাড়েননি। তার শেষ কথা ছিল, "অসুস্থ আর বৃদ্ধদের জন্য আমাকে থাকতেই হবে।" আজ সেই দোকানের সামনে কেবল মোমবাতি আর ফুলের স্তূপ পড়ে আছে।


২৬ বছর বয়সী বেরিভান মোলানি ছিলেন একজন অনলাইন উদ্যোক্তা ও লাইফস্টাইল ব্লগার। নিজের শহরকে ভালোবেসে তেহরানে ফেরার একদিন পরেই ১৭ মার্চের হামলায় নিজ বিছানায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তিনি। তার পরিবার জানতও না যে তাদের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকেই বাস করেন ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী। লক্ষ্যবস্তু মন্ত্রী হলেও প্রাণ দিতে হলো বেরিভান ও তার প্রতিবেশীদের।


যুদ্ধের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয়েছে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে। মার্কিন হামলায় সেখানে ৪৮টি শিশু ও ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণ হারিয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থা 'হেনগাও' নিশ্চিত করেছে। এছাড়া মাত্র তিন বছর বয়সী শিশু এইলমাহ্ বিল্কিও বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পরপারে চলে গেছে। এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, এ পর্যন্ত নিহত ১৪০০ বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে ১৫ শতাংশই শিশু।


ভেঙে পড়া চিকিৎসা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, অন্তত ২০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। তেহরানের ১৭ তলা গান্ধী হাসপাতাল থেকে শুরু করে বুশেহারের শিশু হাসপাতাল—কোনোটিই রেহাই পায়নি। বুশেহারে ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতকদের সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।


আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতিনিধি ভিনসেন্ট কাসার্ড স্পষ্ট জানিয়েছেন, "বেসামরিক অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা।" অথচ ইরানে বর্তমানে কোনো বম্ব-শেল্টার নেই, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় ভেতরের সব খবর বাইরে আসছে না, এমনকি ইরাকি ইন্টারনেট ব্যবহারের দায়ে সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে প্রাণ হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।


একদিকে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, অন্যদিকে আকাশ থেকে ঝরে পড়া মরণঘাতী বোমা—ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য পৃথিবীটা যেন এক জীবন্ত নরক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো শর্তও সামনে এসেছে।    ইরানের অবস্থান হলো, শুধু ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবেই জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো তিনি ইরানের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, অতীতে ইরানের কর্মকাণ্ডে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ চাইছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে ইরানেরই দায় স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।   এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এই অর্থের কাঠামো ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জলপথটি পুনরায় চালু করার শর্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের অন্তত এক পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।   এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এখন শুধু সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   একদিকে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্তে অনড়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের এসব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের একাধিক শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:০
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প

গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

আবারো চীনের ব্যর্থতা! উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

১৯৮০-এর পর, প্রথমবার ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নামল যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত
১৯৮০-এর পর, প্রথমবার ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নামল যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জরুরি তেল মজুত বা এসপিআর ১৯৮০-এর দশকের পর সবচেয়ে নিচের পর্যায়ে নেমে গেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, মজুতে থাকা অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নেমেছে। দীর্ঘদিনের উত্তোলন, জরুরি তেল ছাড় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই পতন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুতের পরিমাণ একসময় ৭০ কোটি ব্যারেলের কাছাকাছি ছিল। তবে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারি বিক্রি ও জরুরি উত্তোলনের কারণে মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ে, যা এ মজুতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এককালীন জরুরি উত্তোলন।   এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও এসপিআরে ৪১ কোটি ৩০ লাখের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার উদ্যোগ নেয়। সরকারি জবাবদিহি সংস্থা গভার্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ ২০২৬ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল ছাড়ার পরিকল্পনা শুরু করে।    এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত জরুরি তেলভাণ্ডার। টেক্সাস ও লুইজিয়ানার উপকূলীয় এলাকায় বিশাল ভূগর্ভস্থ লবণগুহায় এসব তেল সংরক্ষণ করা হয়। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকট কিংবা তেলের বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।   তবে মজুত কমে যাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিক তেল বা গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, এমন নয়। বাণিজ্যিক তেল মজুত এবং সরকারি কৌশলগত মজুত আলাদা। কিন্তু এসপিআরের মজুত দীর্ঘ সময় ধরে নিচের দিকে থাকলে ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।   গভার্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ৫০ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ১৮ কোটি ব্যারেলের জরুরি উত্তোলন ছিল সবচেয়ে বড়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এসপিআরের অবকাঠামোর একটি বড় অংশ পুরোনো হয়ে যাওয়ায় এর তেল উত্তোলন ও পুনরায় মজুত করার সক্ষমতাও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসপিআরের কার্যকর তেল উত্তোলন সক্ষমতা তার নকশাগত সক্ষমতার প্রায় ৬১ শতাংশ এবং তেল পুনরায় মজুত করার সক্ষমতা প্রায় ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছিল। অবকাঠামোর সংস্কারকাজ, পুরোনো সরঞ্জাম এবং মজুতের পরিমাণ কমে যাওয়া এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    এসপিআরের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৩৫ লাখ ব্যারেল হলেও জ্বালানি বিভাগ কার্যকরভাবে প্রায় ৬৮ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল সংরক্ষণ করতে পারে বলে জানিয়েছে। অথচ ভবিষ্যতে কত পরিমাণ তেল মজুত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে, সে বিষয়ে কংগ্রেস ও জ্বালানি বিভাগের এখনো কোনো দীর্ঘমেয়াদি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এসপিআর আবার পূরণ করার পরিকল্পনাও করছে। গভার্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস জানিয়েছে, সর্বোচ্চ কার্যকর ধারণক্ষমতার কাছাকাছি যেতে প্রায় ২৫ কোটি ব্যারেল তেল কিনতে হতে পারে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলার হলে এ জন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।    ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি তেল মজুত ব্যবহার করতে হচ্ছে, অন্যদিকে কমে যাওয়া মজুত দ্রুত পুনরায় পূরণ ও পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।   এসপিআরের মজুত কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপরই আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের বাজারের চাপ অনেকটা নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ০:৩৭
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে  ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় নিরাপত্তার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হুমকিতে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, প্রকাশ্যে ছিল ভিন্ন নাটক

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

হোটেলে এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়ের চিহ্ন দেখান ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিফেনসন। ছবি: সংগৃহীত
বিখ্যাত হোটেল এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়, পেলেন লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত এক হোটেলে এক রাত কাটানোর পর ছারপোকার ভয়ংকর কামড়ের শিকার হয়েছেন হান্নাহ স্টিফেনসন নামের এক নারী। ৩১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দাবি, ক্যামব্রিজের ট্রাভেলজ হোটেলে এক রাত থাকার পর তার হাত, পা, বুক ও মুখমণ্ডল ছারপোকার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শেয়ার করা ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।   সামাজিক মাধ্যম টিকটকে এক পোস্টে স্টিফেনসন তার কামড়ে ফুলে যাওয়া লাল দাগের ছবি শেয়ার করে লেখেন, "এই হোটেলে এক রাতের জন্য ছিলাম। সকালে উঠে দেখি প্রচণ্ড চুলকানি আর বালিশে রক্তের দাগ। এমনকি আমি ছারপোকাগুলো স্বচক্ষে দেখেছি।" পোস্টটিতে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক ভিউ হয়েছে।   তিনি অভিযোগ করেন, ক্যামব্রিজের নিউমার্কেট রোডে অবস্থিত ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার এই দুর্দশার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই অবস্থায় আমাকে একটা পারিবারিক বিয়েতে অংশ নিতে হয়েছে। জঘন্য এই কামড়ের দাগ ঢাকতে নতুন জামাকাপড় কিনতে হয়েছে। একটানা চুলকানির কারণে আমি কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, এমনকি আমার প্যানিক অ্যাটাকও হয়েছে।"   প্রাথমিকভাবে দ্য পোস্টের মন্তব্যের অনুরোধে ট্রাভেলজ ইউকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। তবে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বাজেট হোটেল ব্র্যান্ডটি জানিয়েছে, "স্টিফেনসনের এমন অভিজ্ঞতার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। এমন ঘটনা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা আমরা বুঝতে পারছি।"   গত ২৬ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার বদলে ট্রাভেলজ হোটেলে একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন স্টিফেনসন। তিনি বলেন, "ক্যামব্রিজের সুন্দর জায়গা ও পাবগুলোতে খুব ভালো সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছারপোকার কামড়ে সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। রক্ত আর ছারপোকাগুলো দেখার আগে আমি বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে।" তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তার মুখ ও হাতের লালচে ফোলা দাগগুলো কমেনি। এ সময় তাকে প্রচুর অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ খেতে হয়েছে, যা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যার কারণে অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি।   এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাস করা এই ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, "ক্যামব্রিজের মতো জায়গায় এমন কিছু ঘটবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।" তবে টিকটকে তার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।   গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিফেনসন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রাভেলজ হোটেল থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার (২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ লাখ টাকা) গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, "এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমার শত্রুরও যেন না হয়।" তিনি আশা করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচ্ছন্নতা ও ছারপোকা দমনের ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে।   ট্রাভেলজ হোটেলের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "আমাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তা সবার আগে। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ এবং তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা বিশেষজ্ঞ পরিচালিত কঠোর ব্যবস্থা বজায় রাখি। কোনো হোটেলে এমন অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার আশেপাশের রুমগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দিই।"   ছারপোকার সমস্যা শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, আমেরিকাতেও প্রকট। সম্প্রতি ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের এক দর্শনার্থী ফ্লোরিডায় তাদের রিসোর্টে থাকার সময় ছারপোকার কামড় খাওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, ছারপোকার উপদ্রবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে শিকাগোর পরই লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান।   গবেষকদের মতে, ছারপোকার কামড় সাধারণত ব্যথাহীন হলেও এর ফলে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া এটি মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এমনকি মারাত্মক অ্যালার্জির কারণও হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২২:৪১
man-eating-a-donut-on-the-couch

অলসদের দিন আজ, আলসেমি করারও আছে দিবস!

চীনের ওপর  খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের

চীনের ওপর খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের

'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক

'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক

0 Comments