ইরান–এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে চলমান আলোচনায় উভয় পক্ষ ‘প্রাথমিক সমঝোতা’-র বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। বিষয়টিকে সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করলে তবেই এটিকে প্রকৃত অগ্রগতি বলা যাবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভাইজ বলেছেন, “অন্তত যদি উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে কোন বিষয় থাকবে সেই বিষয়ে একমত হতে পারে, তবে সেটিই হবে ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে আলোচনার ‘পরিধি’ ঠিক করা যতটা সহজ, মূল ‘বিষয়বস্তু’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো ততটাই সময়সাপেক্ষ। তিনি ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, সেই চুক্তির মূল বিষয়গুলোতে আড়াই বছর সময় লেগেছিল।
আলি ভাইজ জানিয়েছেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ইরান একটি সেন্ট্রিফিউজও চালু করেনি এবং এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও সমৃদ্ধ করেনি। এতে কিছু ছাড় দেওয়াটা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ নিজেদের দাবিতে কতটা সংযম দেখাতে পারে তার ওপর। সীমিত ও অর্জনযোগ্য কোনো চুক্তি চাইলে সমঝোতা সম্ভব, তবে অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ইরান–এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে চলমান আলোচনায় উভয় পক্ষ ‘প্রাথমিক সমঝোতা’-র বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। বিষয়টিকে সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করলে তবেই এটিকে প্রকৃত অগ্রগতি বলা যাবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভাইজ বলেছেন, “অন্তত যদি উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে কোন বিষয় থাকবে সেই বিষয়ে একমত হতে পারে, তবে সেটিই হবে ইতিবাচক পদক্ষেপ।” তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে আলোচনার ‘পরিধি’ ঠিক করা যতটা সহজ, মূল ‘বিষয়বস্তু’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো ততটাই সময়সাপেক্ষ। তিনি ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, সেই চুক্তির মূল বিষয়গুলোতে আড়াই বছর সময় লেগেছিল। আলি ভাইজ জানিয়েছেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ইরান একটি সেন্ট্রিফিউজও চালু করেনি এবং এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও সমৃদ্ধ করেনি। এতে কিছু ছাড় দেওয়াটা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ নিজেদের দাবিতে কতটা সংযম দেখাতে পারে তার ওপর। সীমিত ও অর্জনযোগ্য কোনো চুক্তি চাইলে সমঝোতা সম্ভব, তবে অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
সৌদি আরবের সরকারি হিজরি ক্যালেন্ডার ‘উম্ম আল-কুরা’ অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ (মঙ্গলবার) চাঁদ দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংশয় বিরাজ করছে। এ নিয়ে এবারও সৌদি আরবের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত ঘোষণা ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তবুও সৌদি আরব তাদের পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবার থেকে রোজা শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলার অভিযোগ ওঠেছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক সময় চাঁদ দেখা না গেলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ দাফতরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে থাকেন। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময়ও এই বিতর্ক prominence পেয়েছিল। কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন তখন উল্লেখ করেছিলেন, আরব উপদ্বীপে সেই রাতে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং কেউ যদি দেখেছে, তার প্রমাণ দাবি করেছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ছবি দেখাতে না পারলেও পরদিন ঈদের ঘোষণা দেন, যা বিশ্ব মুসলিম স্কলার ও বিজ্ঞানীদের সমালোচনার বিষয় হয়। ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও ‘নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, সৌদি আরব প্রায়ই এমন সময় চাঁদ দেখার দাবি করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তার মতে, মাত্র কয়েকজনের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত দাবি ভিত্তি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও চাঁদ দেখা যায় না। যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর মুসলমানরা সাধারণত সৌদি আরবের ঘোষণা অনুসরণ করেন, কারণ তাদের নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় মুসলিম কমিটি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন। মুসলিমরা চন্দ্র বর্ষ অনুসরণ করে, তাই মাসগুলো সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিন হয়। সৌদি আরব আজ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে, যদিও বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবারের আগে চাঁদ দেখা সম্ভবতা কম।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন ভূমি নিবন্ধন আইন অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। আইনটি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করবে বলে জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষ এই পদক্ষেপকে পশ্চিম তীরের “কার্যত দখল” বা ডি-ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। নতুন আইনে কী থাকছে সরকারি সূত্র জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরর ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে নতুন করে ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। পরিকল্পনাটি সমর্থন করেছেন ইসরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী। ইসরায়েলি সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন জমিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার একটি আইনি কৌশল হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “এটি একটি বিপজ্জনক উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” ফিলিস্তিনি নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করবে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এ পদক্ষেপ দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথকে আরও সংকুচিত করবে এবং অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম তীরে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক দখল ঘোষণা না দিলেও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ইসরায়েল ধাপে ধাপে সেই দিকেই এগোচ্ছে। এদিকে জর্ডানসহ কয়েকটি আরব দেশ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।