যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর সৃষ্ট মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের বড় ধরণের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু হলে বেইজিং তাদের অন্যতম বন্ধুভাবাপন্ন একটি দেশের সরকার পতনের বাস্তব আশঙ্কা দেখছিল। তবে যুদ্ধের চার মাস পর বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং তেহরানের বর্তমান সরকার বহাল থাকার পাশাপাশি এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধকালীন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের নিজস্ব কূটনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাত চলাকালীন সময়ে চীন একের পর এক প্রভাবশালী বিশ্বনেতাকে আতিথ্য দিয়েছে এবং নিজেদেরকে শান্তির প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বদরবারে অত্যন্ত সফলভাবে তুলে ধরেছে। এমনকি এই সংকটের সময় বেইজিংয়ের সুনিপুণ ও সতর্ক কূটনৈতিক ভূমিকার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একাধিকবার ভূয়সী প্রশংসাও কুড়িয়েছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের গ্রিন টেকনোলজি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) দ্রুত প্রসার এবং বিপুল পরিমাণ কৌশলগত তেল মজুত থাকার কারণে তারা এই বৈশ্বিক শক্তি সংকট অনেক প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশ ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং যেকোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর পেছনে চীনের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করার জন্য চীন তাদের নিজস্ব নৌ-শক্তি ব্যবহার না করায় ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুরো সংঘাত জুড়ে চীন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একদিকে যেমন মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে ও ইরান থেকে তেল কেনা সচল রেখেছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগের রাস্তাও খোলা রেখেছে।
এই যুদ্ধকে চীনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বৈশ্বিক মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের পতন বা এক প্রকার "সুয়েজ মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুন দেগাংয়ের মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রধান মিত্রদের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক জোটে ফাটল ধরেছে। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক হু সিজিন মনে করেন, এই সংঘাতের ফলে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কারণ পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক গোলাবারুদের সীমাবদ্ধতা এখন সবার সামনে নগ্নভাবে উন্মোচিত।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংই পর্দার আড়াল থেকে ইরানকে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছিল বলে মনে করা হয়। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক ও শিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ফেলো সুন চেংহাওয়ের মতে, আমেরিকার এই ধাক্কার মানে এই নয় যে চীন একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার স্থান দখল করবে। বরং এর মূল অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ওয়াশিংটনকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক খেসারত দিতে হচ্ছে, যা বেইজিংয়ের বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারত থেকে আমদানিকৃত চালের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা প্রায় ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চালের একটি বিশাল চালান মানহীন হওয়ায় তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা। এই ঘটনার জেরে প্রতিবেশী দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, নিয়ম মেনে চালের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক পরীক্ষায় সেটি খাওয়ার উপযোগী হিসেবে ছাড়পত্র পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিস্তারিত ও নিবিড় পরীক্ষায় দেখা যায়, চালের মান নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। এর ফলে চালানটির মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল খালাস করার পর বাকি অংশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো চালানটিই ভারতে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক একটি টেন্ডারের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানির স্টক থেকে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই চালগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাণিজ্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, চালের মানহীনতার পাশাপাশি বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা সাময়িক সিদ্ধান্তহীনতার কারণেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ সংকটে কিউবার পাশে চীন, উপহার দিল ৫,০০০ সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম
ধনী হয়েও ইউরোপের দরিদ্রদের চেয়ে কম বাঁচেন অনেক মার্কিন নাগরিক
ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে দেশের নাম পরিবর্তন করল নাউরু
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যে সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক বাংলাদেশি। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তামান লিঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। মালয়েশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনএসটি অনলাইনের প্রতিবেদনে নেগেরি সেম্বিলান পুলিশের প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদের বরাত দিয়ে বলা হয়, সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে তামান লিঙ্গির একটি বাড়িতে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক তদন্তের সময় লিঙ্গির সুয়া মাঙ্গিস এলাকায় আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়ায় তিনজনে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত আরেক বাংলাদেশিকে রেম্বাউ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং একই বাসায় বসবাস করতেন। পুলিশের ধারণা, একাধিক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নেগেরি সেম্বিলান পুলিশের প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশির বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানাতে পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে সংঘর্ষের কারণ কিংবা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকটে ২৫.২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন সহায়তা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইসরাইল, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪৬.৫ ডিগ্রিতে
রেকর্ড তাপমাত্রা ও দীর্ঘ খরার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ দাবানলে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা ইউরোপ। গ্রীষ্মের এই চরম বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে গ্রিস, ফ্রান্স, স্পেন ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো। এর মধ্যে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে এবং আতিকা অঞ্চলের পসাথা এলাকায় আগুন নেভানোর সময় আকাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় একটি হেলিকপ্টারে থাকা গ্রিক ও ডেনিশ নাগরিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে অন্য হেলিকপ্টারে থাকা একজন গ্রিক ও একজন ব্রিটিশ নাগরিক অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। ঠিক কী কারণে আকাশে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল, তা উদঘাটনে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বোয়োটিয়া অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া আগুন বাতাসের তীব্রতায় দ্রুত আতিকা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। ভয়াবহ এই দাবানলে ইতোমধ্যে ওই এলাকার প্রায় ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি পবন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মূল গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বেসরকারি লাইনে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় দুই গ্রিক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দাবানল পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় মেগারা শহরের দিকে আগুন দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা এই শহর এবং এর আশপাশের এলাকায় চরম সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কেফালোনিয়াতেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার বেশ কয়েকটি এলাকাও ইতোমধ্যে খালি করে দেওয়া হয়েছে।
মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা
বেনজীরের তথ্য কেন প্রকাশ করছে না দুবাই পুলিশ