ইরানের তেল পরিবনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় এক ব্যবসায়ী দম্পতি ও তাঁদের সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভুয়া জাহাজ নিবন্ধন ও সনদপত্রের মাধ্যমে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে সহায়তা করছিল ওই চক্র।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দম্পতি হলেন ভারতের চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী সুনীল কুমার শর্মা ও তাঁর স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহীদ। তাঁদের পাশাপাশি আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের দাবি, এই দম্পতি একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে ইরানের তেল পরিবহনে নিয়োজিত বিভিন্ন জাহাজকে ভুয়া পরিচয় ও প্রয়োজনীয় সনদ সরবরাহ করা হতো।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, শর্মা ও তাঁর স্ত্রী গায়ানা, এসওয়াতিনি, লাওসসহ বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জাহাজ নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। অথচ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের কাছ থেকে তাঁদের এমন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন ছিল না। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা জাহাজের নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে এসওয়াতিনি মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল শিপ রেজিস্ট্রি নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন শর্মা। এসওয়াতিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন থাকার দাবি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করলেও সেটি ইরানের তেল পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সহায়তা পাওয়া কিছু জাহাজ ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে কাজ করছিল। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এমন জাহাজগুলোকে সাধারণত শ্যাডো ফ্লিট বলা হয়। এসব জাহাজের প্রকৃত মালিকানা, পরিচয় কিংবা কার্যক্রম আড়াল করতে ভুয়া নিবন্ধন ও সনদপত্র ব্যবহার করা হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা অন্য দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন অশ্বনী কুমার ধীমান ও ইশবিন্দর সিং। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া জাহাজ নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একই দিনে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের কয়েকটি এয়ারলাইনসকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য ইরানের তেল বিক্রি থেকে আয় সীমিত করা এবং সেই অর্থ সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ কমানো।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন সম্পদ জব্দ থাকবে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণভাবে তাঁদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করলে বিদেশি ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও মার্কিন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে।
ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধু ইরানি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশটির তেল পরিবহনে সহায়তাকারী বিদেশি ব্যবসায়ী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ঘোষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। বুধবার এনপিআর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমি মনে করি এই নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সঠিক অবস্থানে আছেন।" তবে এল-সায়েদ শুধু বিনামূল্যে সহায়তা বন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তিনি ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যেসব অস্ত্র গণহত্যা ও বর্ণবাদের মতো জঘন্য কাজে ব্যবহৃত হয়, আমরা চাই ইসরায়েলের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হোক।" গত মঙ্গলবার মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েন এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করাই ছিল তার প্রচারণার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নিজের বিজয় ভাষণেও তিনি এ বিষয়ের পুনরুল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতেও মার্কিন সামরিক সহায়তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বিদেশের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নেই ব্যয় হওয়া উচিত। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়েছে। 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেই প্রথম এই সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলকে স্বাবলম্বী করতে এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মজবুত করতে আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান তিনি। তবে সামরিক সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগের মতোই অটুট থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ট্রাম্প।
ইরানের তেল পরিবনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হলো ১৬ আশ্রয়প্রার্থী, তালিকায় বাংলাদেশিও
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষে পণাস্ত্র লঞ্চার বিক্রিতে রাজি রাশিয়া, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাজ্যে উজ্জ্বল কমলা রঙের অদ্ভুত এক পাখি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী হাসপাতালে নেওয়ার পর সামনে আসে বিস্ময়কর তথ্য। প্রথমে পাখিটিকে বিরল কোনো প্রজাতির বলে মনে করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, সেটি আসলে সাধারণ একটি সিগাল বা সামুদ্রিক গাঙচিল। তরকারি কিংবা হলুদের মসলায় পুরো শরীর মাখামাখি হয়ে যাওয়ায় পাখিটির পালক উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করেছিল। ২০১৯ সালের জুলাই মাসের এই ঘটনা সম্প্রতি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ারের এ৪১ মহাসড়কের পাশে অস্বাভাবিক রঙের পাখিটিকে দেখতে পান কয়েকজন পথচারী। পাখিটি ঠিকমতো উড়তে পারছিল না। তাঁরা সেটিকে উদ্ধার করে টিগিউইঙ্কলস ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান। অদ্ভুত রঙের পাখি আনার খবর পেয়ে হাসপাতালের কর্মীরাও প্রথমে বুঝতে পারেননি, তাঁদের সামনে কী ধরনের প্রাণী আসতে যাচ্ছে। হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর জানা যায়, পাখিটি আসলে হেরিং গাল প্রজাতির একটি সাধারণ সামুদ্রিক পাখি। তার পালকের প্রায় প্রতিটি অংশে তরকারির মসলা বা হলুদজাতীয় উপাদান লেগে ছিল। এর ফলে পালকগুলো স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল এবং পাখিটির উড়তে সমস্যা হচ্ছিল। তবে কীভাবে কিংবা কোথায় পাখিটি মসলায় মাখামাখি হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। টিগিউইঙ্কলস ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই নিজেদের ফেসবুক পেজে ঘটনাটি প্রকাশ করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, পাখিটির শরীর থেকে তীব্র মসলার গন্ধ বের হচ্ছিল। তবে অস্বাভাবিক রং ও গন্ধ ছাড়া তার শারীরিক অবস্থায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এরপর হাসপাতালের কর্মীরা পাখিটিকে ভালোভাবে গোসল করানোর উদ্যোগ নেন। প্রথমে পাখিটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং গোসলের সময় কর্মীদের শরীরেও মসলামিশ্রিত পানি ছিটিয়ে দেয়। পরে ধীরে ধীরে তার শরীর থেকে মসলা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। গোসল শেষে পাখিটির স্বাভাবিক সাদা ও ধূসর রঙের পালক আবার দৃশ্যমান হয়। হাসপাতালের কর্মীরা ভারতীয় উপমহাদেশের জনপ্রিয় ভিন্দালু তরকারির নাম অনুসারে পাখিটির নাম রাখেন ‘ভিনি’। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছিল, পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং শিগগিরই প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়ার উপযোগী হবে। পরবর্তী একটি প্রতিবেদনে সেটিকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম ছিল না। এর আগে ২০১৬ সালে ওয়েলসের একটি খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের বাইরে ফেলে রাখা চিকেন টিক্কা মসলার পাত্রে পড়ে আরেকটি সিগাল কমলা রঙের হয়ে গিয়েছিল। সে সময়ও উদ্ধারকারীরা পাখিটিকে হাসপাতালে নিয়ে পরিষ্কার করেন। চিকিৎসার পর পাখিটির স্বাভাবিক রং ফিরে আসে, যদিও কিছুদিন তার শরীরে তরকারির গন্ধ ছিল। সংবাদসূত্র: টিগিউইঙ্কলস ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতাল
২৩ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসর
বোমাতঙ্কে ইউরোপে একাধিক ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, আতঙ্কে হাজারো যাত্রী
কানাডায় বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে ভাল্লুকের হা মলায় মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃ ত্যু
অস্ট্রেলিয়ায় পেশাগত প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য সাবক্লাস ৪০৭ ট্রেনিং ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে। আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের এই ভিসার আবেদন করতে হলে নতুন শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে। সাবক্লাস ৪০৭ অস্ট্রেলিয়ার আগে থেকেই চালু থাকা একটি অস্থায়ী ট্রেনিং ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা নির্দিষ্ট পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত লাইসেন্স অর্জন কিংবা কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধরন ও অনুমোদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে এটি সাধারণ চাকরি খোঁজার বা স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা নয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ভিসার আওতায় মূলত তিন ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, কোনো পেশায় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স অর্জনের প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয়ত, নিজের বর্তমান পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ। তৃতীয়ত, বিদেশি যোগ্যতা অর্জন, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ কিংবা পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিশেষ কর্মসূচি। নতুন নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে আবেদনকারীর অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত। ১২ নভেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার আবেদন জমা দিলে তা বৈধ আবেদন হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। অনলাইন ইমিঅ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হলেও অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করলে আবেদন অবৈধ গণ্য হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার পর অন্য কোনো বৈধ ভিসায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। সাবক্লাস ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে আবার অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করতে হবে। বিদেশ থেকে করা আবেদনের ভিত্তিতে ব্রিজিং ভিসাও পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশি নাগরিকেরা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করলে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে শুধু প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগ্রহ থাকলেই চলবে না। অস্ট্রেলিয়ায় অনুমোদিত স্পনসর, নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় মনোনয়ন থাকতে হবে। সাধারণত আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হওয়া, সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা এবং স্বাস্থ্য ও চরিত্রসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা জরুরি। সাধারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্পনসরশিপ ও প্রশিক্ষণ মনোনয়ন অনুমোদনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা স্পনসর হলে কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নসংক্রান্ত ছাড় থাকতে পারে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্পর্কও যাচাই করা হয়। সরবরাহ করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার মূল আবেদন ফি ৫৩৫ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে শুরু। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার কারণে মোট খরচ বাড়তে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ফি ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। এই ভিসা নিয়ে প্রতারণার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শুধু চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনিং ভিসার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। অনুমোদিত স্পনসর, বৈধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর ভিসা পাওয়া নির্ভর করে। বিশেষ করে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের দেশ ছাড়ার আগে বর্তমান ভিসার মেয়াদ ও নতুন আবেদনসংক্রান্ত শর্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা জরুরি। তবে ১২ নভেম্বরের আগে বৈধভাবে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে নতুন অবস্থানসংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হবে না। সেসব আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। নতুন আইনে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য ব্যতিক্রম রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ট্রেনিং ভিসাকে দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার সীমিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশিসহ বিদেশি আবেদনকারীদের স্পনসরশিপ, প্রশিক্ষণের অনুমোদন এবং অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থানের শর্ত নিশ্চিত করেই আবেদন করতে হবে। তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ার Department of Home Affairs এবং Federal Register of Legislation-এ প্রকাশিত Migration Amendment (Training Visas—Application Requirements) Regulations 2026। #Australia #AustraliaVisa #AustralianVisa #Subclass407 #TrainingVisa #AustraliaTrainingVisa #VisaUpdate #AustralianImmigration #BangladeshiApplicants #WorkplaceTraining #SkillDevelopment #ImmigrationNews
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড