ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বেইজিং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেও চীন নিজের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলেও চীন সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে ইরানকে সামরিকভাবে সহায়তা করার ঝুঁকি নেবে না।
বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, এই জলপথ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং তারা পারস্য উপ-সাগরজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
চীনের বিশাল কৌশলগত তেল মজুত দেশটিকে স্বল্পমেয়াদী সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং এ সময়ে অন্যান্য কূটনৈতিক বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে পারছে। ৩১ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন ইরানকে সামরিক মিত্র হিসেবে নয়, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে। উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কও চীনের সরাসরি সামরিক সহায়তা থেকে বিরত রাখছে।
সম্প্রতি চীনের মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে চীন মধ্যস্থতা করেছে। ইরানকে চীন ও মস্কো নেতৃত্বাধীন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের পূর্ণ সদস্য করা হয়।
চীনের বিশাল অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা রয়েছে। কেপলার বিশ্লেষকের মতে, চীনের নিজস্ব তেল উৎপাদন দেশীয় চাহিদার মাত্র ৩০% মেটাতে সক্ষম। বাকি প্রয়োজনীয় তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ২০২৫ সালে চীনের সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের ৫৭% মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে, যার মধ্যে ১৪ লাখ ব্যারেল এসেছে ইরান থেকে।
চীনের কাছে বর্তমানে প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা সমুদ্রপথে ১১৫ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মজুত চীনের জন্য নিরাপত্তার বড় হাতিয়ার।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর চীন কড়া নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা।” তবে চীনের সীমাবদ্ধতা মূলত তেল নিরাপত্তা ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর অনিচ্ছার কারণে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী থেকে তেলের সরবরাহ রক্ষা চীনের প্রধান স্বার্থ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সঙ্গে যেমন সমর্থন দেখিয়েছিল চীন, ইরানের ক্ষেত্রে তেমন সম্ভাবনা কম। তেলের বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল চীন ও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
হিমালয়কন্যা নেপালে আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তবে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের এক অগ্নিপরীক্ষা। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালি 'জেন জি' (Gen Z) প্রজন্মের নজিরবিহীন আন্দোলনের পর এই প্রথম ব্যালট বাক্সে রায় দিচ্ছে জনতা। ১৯৯০ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর থেকে নেপাল ৩২টি সরকার পরিবর্তন হতে দেখলেও স্থায়ী স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারও কোনো একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও সাবেক র্যাপার ৩৫ বছর বয়সী বালেন শাহ। পেশাদার সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বালেন লড়ছেন ঝাপা-৫ আসনে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ভারত নাকি চীন: অস্বস্তিতে দিল্লি নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)-এর প্রধান কেপি শর্মা ওলি বরাবরই চীনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্মের আইকন বালেন শাহ নিজেকে কট্টর 'ভারত-বিরোধী' হিসেবে তুলে ধরেছেন। মেয়র থাকাকালীন তিনি তাঁর দপ্তরে 'অখণ্ড নেপাল'-এর মানচিত্র টাঙিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন, যেখানে ভারতের উত্তরাখণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশকে নেপালের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে, ওলি বা বালেন—যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তা ভারতের কৌশলগত স্বার্থের প্রতিকূলে যেতে পারে। নির্বাচনী ময়দানের সমীকরণ নেপালি কংগ্রেস এবার প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দেউবার পরিবর্তে ৪৯ বছর বয়সী তরুণ নেতা গগন থাপাকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে, সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহাল ওরফে 'প্রচণ্ড'ও রয়েছেন লড়াইয়ে। তবে সবার নজর বালেন শাহের 'রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি' (আরএসপি)-র দিকে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সোশ্যাল মিডিয়া এবং তরুণ প্রজন্মের বিপুল সমর্থনে বালেন এবার চমক দেখাতে পারেন। নেপাল নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে ১৬৫টি আসন থেকে ব্যালট সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। হিমালয়ের এই দেশে কি এবার জেন-জি বিপ্লব সফল হবে, নাকি পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণই বজায় থাকবে—তার উত্তর পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এর ফলে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শেষ শাহের স্ত্রী ফারাহ পাহলভি। মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নিজে থেকেই একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটায় না। এ বিষয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ফারাহ পাহলভির মতে, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণের ঐক্য এবং তারা কতটা সংগঠিতভাবে আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক রূপান্তরের পথে এগোতে পারে। ৮৭ বছর বয়সী এই সাবেক সম্রাজ্ঞী ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর স্বামী শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির সঙ্গে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই সময় থেকে তিনি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন ইরানের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান জানানো হয়। ফারাহ পাহলভি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলকে ইরানিদের মৌলিক অধিকার নেতা নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। তবে সেই সমর্থন যেন ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দেওয়া হয়। তিনি ইরানের বর্তমান কর্তৃপক্ষের প্রতিও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সহিংসতা ও রক্তপাত এড়ানো যায়। এর আগে জানুয়ারিতে তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কঠোর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ওই দমন অভিযানে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। এদিকে ইরানের ইসলামি সরকারের পতন ঘটলে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে সামনে আনছেন ফারাহ পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি চলমান সংঘাতকে বিভাজনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার না করার বার্তাও দেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর আর ইরানে ফিরে যাননি।
ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি যোদ্ধাদের একটি বড় অংশ ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, কয়েক হাজার কুর্দি যোদ্ধা সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানের ভেতরে স্থল অভিযান শুরু করেছে। তবে তেহরান এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে চারটার দিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায় যে, ইরাকের দিক থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের একটি দল ইরানে প্রবেশ করেছে। জেনিফার গ্রিফিন নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন—কয়েক হাজার কুর্দি যোদ্ধা ইরানের বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে স্থল হামলা শুরু করেছে। এর আগে বার্তা সংস্থা এপিকে কুর্দিদের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য তাদের কয়েক হাজার যোদ্ধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহযোগিতা চেয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা স্থল অভিযানে সহায়তা করতে প্রস্তুত। ইরান সরকারের বিরোধী হিসেবে পরিচিত কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর কাছে প্রশিক্ষিত বহু যোদ্ধা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তারা যদি বড় আকারে হামলা শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। এদিকে খলিল নাদিরি নামের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির এক নেতা জানান, তাদের যোদ্ধারা ইরান সীমান্তের কাছাকাছি ইরাকের সুলাইমানিয়াহ প্রদেশে অবস্থান করছে এবং প্রয়োজন হলে তারা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলটি একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত এলাকা, যেখানে প্রধানত কুর্দি জনগোষ্ঠীর বসবাস। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কুর্দি বাস করে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, এপি