ইসরাইলি অস্ত্র জায়ান্ট এলবিট সিস্টেমসের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে একটি চেক কোম্পানি ও এলবিট সিস্টেমসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ওই স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়। এতে স্থাপনাটির বেশ কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পেছনে ‘সম্ভাব্য সন্ত্রাসী যোগসূত্র’ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে ‘দ্য আর্থকোয়েক ফ্যাকশন’ নামের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড বা গোপন গোষ্ঠী এই অগ্নিসংযোগের দায় স্বীকার করেছে। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় গোষ্ঠীটি জানায়, দখলদার ইসরাইলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারকের ইউরোপীয় কার্যক্রমের জন্য এই স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, ইসরাইলের সহযোগী সরকারগুলোর কাছে অনুরোধ করার সময় শেষ, এখন তাদের হত্যার সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলবিট সিস্টেমস ইসরাইলি স্থল ও আকাশপথের অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। তাদের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম বর্তমানে গাজা ও ইরান যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই হামলার ফলে ইউরোপে ইসরাইলি সামরিক কার্যক্রমের সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে ভুয়া সতর্কবার্তা ছড়িয়ে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা। দেশটির জাতীয় জরুরি সতর্কতা মোবাইল অ্যাপে সাইবার হামলা চালিয়ে বাসিন্দাদের কাছে পারমাণবিক বিকিরণ, রাসায়নিক হামলা এবং রাস্তায় সংঘর্ষের একাধিক মিথ্যা বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১ নভেম্বর) গভীর রাতে স্থানীয় সময় রাত ১১টার কিছু আগে ইউক্রেনীয় ও ইংরেজি ভাষায় একের পর এক সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু হয়। বার্তাগুলোতে কিয়েভে উচ্চমাত্রার পারমাণবিক বিকিরণের ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে রাসায়নিক হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একটি বার্তায় রাশিয়ার পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব সতর্কবার্তা ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দ্রুত জানায়, রাজধানীতে কোনো ধরনের পারমাণবিক বিকিরণের হুমকি নেই।বার্তাগুলোতে একাধিক বানান ও ভাষাগত ভুল থাকায় অনেক বাসিন্দা শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ অ্যাপটি হ্যাক হওয়ার আশঙ্কায় সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করেন। তবে অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিনা নামের এক বাসিন্দা দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য তিনি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। যুদ্ধের মধ্যে এমন বার্তা মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা তাঁর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে।ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অননুমোদিত পক্ষ অ্যাপটির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সতর্কতা প্রচারের সংশ্লিষ্ট চ্যানেল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক বিজ্ঞপ্তিতে থাকা কোনো লিংকে ক্লিক না করার জন্য ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়। হামলায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাশিয়ার টেলিগ্রাম চ্যানেল মাশের প্রতিবেদনে হিটকোর নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। গোষ্ঠীটি হামলার দায় স্বীকার করেছে বলেও দাবি করা হয়। তবে তাদের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে একই রাতে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মোবাইল অ্যাপেও সাইবার হামলার খবর পাওয়া গেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছেও ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে দেশটির মূল সতর্কতা ব্যবস্থা সচল ছিল বলে জানানো হয়। অর্থাৎ দুই দেশের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা যুদ্ধের নতুন একটি উদ্বেগজনক দিক সামনে এনেছে।সাইবার হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খেরসন শহরে রুশ ড্রোন হামলায় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খেরসনের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে রুশ ড্রোনটি হাসপাতালের একটি ভবনে আঘাত হানে। এতে কয়েকটি কক্ষ, জানালা ও ভেতরের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।যুদ্ধবিরতিটি কার্যকর হয়েছিল খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি এলাকায়। ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সহায়তা ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ওলেশকিতে রুশ বাহিনী নতুন সেনা, ভারী সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের পাঞ্জাবে মসজিদ নির্মাণে জমি দান, ফের আলোচনায় ৭৫ বছর বয়সী শিখ বৃদ্ধা
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষার সময়সীমা ৫ থেকে ১০ বছর করার পরিকল্পনা
গাজায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার বিতরণ করল সৌদি আরব
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানিতে বাধা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। তাঁর দাবি, এই সংকোচন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চেয়েও বড় হতে পারে। এর মধ্যেই আসন্ন শীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের আশঙ্কায় নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইরান সরকার। সোমবার, ২ নভেম্বর ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ জনগণকে গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের জ্বালানি খাতের ভারসাম্যহীনতা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। শীতকালে চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। আরেফ সতর্ক করেছেন, আগের মতো অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত রাখলে গ্রাহকদের বেশি দাম দিতে হবে। তবে নতুন মূল্যহার বা তা কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের বহু পরিবার ঘর গরম রাখা, রান্না এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগস্টে নতুন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কার্যক্রম শুরুর পর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এই হার ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। মার্কিন প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে ইরান নতুন করে তেলবাহী ট্যাংকারে তেল বোঝাই করতে পারেনি। সমুদ্রে আগে থেকে থাকা তেলের মজুতও বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর চাপ বেড়েছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইরানকে স্থলপথের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন স্থানে জট তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তুরস্ক সীমান্তে কিছু পণ্যবাহী ট্রাককে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অক্টোবরে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। তাঁর মতে, এই সংকোচন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এটি বেসেন্টের পূর্বাভাস, নিশ্চিত অর্থনৈতিক ফলাফল নয়। একই সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট ইরানের নাগরিকদের শীতের জন্য জ্বালানি মজুত রাখার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন, দেশটিতে ঘর গরম রাখার জ্বালানির বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। নতুন করে বড় সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আনাই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত মাসে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান এত কঠিন চাপ ও সমস্যার মুখোমুখি হয়নি। আসন্ন শীতে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি, তেল রপ্তানিতে বাধা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশটির অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত কতটা সংকুচিত হবে এবং গ্যাসসংকট কতটা গুরুতর আকার নেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রাহুল গান্ধীকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর
ধর্মগুরুকে ফাঁসাতে তোশকের নিচে মাদক রাখলেন পুলিশ কর্মকর্তা, ক্যামেরায় ধরা পড়ে বরখাস্ত
যুক্তরাজ্যে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ, পুরস্কারের জন্য মনোনীত সিলেটি সাহেদা
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এমবিএ পড়তে গিয়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভারতে ফিরে এসেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। অথচ নিয়মিত ফোন ও মেসেজে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বুঝিয়েছিলেন, তিনি এখনো লন্ডনেই রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মুগ্ধা দেশমুখ নামের ওই নারীর মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগ্ধা দেশমুখ মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে এমবিএ করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পরের মাস অর্থাৎ আগস্টেই তিনি ভারতে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন রেখেছিলেন তিনি। ভারতে ফিরে মুগ্ধা পুনের গাহুঞ্জে এলাকায় একটি ভাড়া অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে তাঁর বাবা-মা জানতেন, মেয়ে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করছেন। নিয়মিত ফোনালাপ ও মেসেজের কারণে মেয়ের অবস্থান নিয়ে তাঁদের সন্দেহ হওয়ার কোনো তথ্য প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সামনে আসার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেন মুগ্ধা যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসার বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে দেশে ফেরার পেছনে ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর মুগ্ধার সঙ্গে তাঁর মায়ের শেষবার ফোনে কথা হয়। সেদিন মুগ্ধা জানিয়েছিলেন, তিনি একটি চাকরির ইন্টারভিউয়ে যাচ্ছেন। পরদিন ২৪ অক্টোবর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ফোন বন্ধ পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। এরপর পরিবার লন্ডনে থাকা মুগ্ধার এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই বান্ধবী জানান, ২২ অক্টোবর মুগ্ধার সঙ্গে তাঁর শেষবার মেসেজে কথা হয়েছিল। পরে তিনি লন্ডন পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, মুগ্ধা আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন। মেয়ের প্রকৃত অবস্থান জানতে তাঁর বাবা অবিনাশ দেশমুখ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন পরীক্ষা করেন। সেখানে ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন অনলাইন সেবায় অর্থ পরিশোধের তথ্য পাওয়া যায়। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইগি ও জোমাটোসহ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হয়েছিল। এসব তথ্য থেকে পরিবার প্রথম বুঝতে পারে, মুগ্ধা সম্ভবত ভারতেই অবস্থান করছেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অনলাইনে খাবার অর্ডারের তথ্য অনুসরণ করে পুনের গাহুঞ্জে এলাকার লোধা বেলমন্ডো আবাসিক কমপ্লেক্সে মুগ্ধার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। বিকল্প চাবির সাহায্যে দরজা খুলে ভেতরে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। পিম্পরি চিনচওয়াড়ের শিরগাঁও থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর দেবেন্দ্র চাভান জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় মুগ্ধার শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তদন্তে আরও জানা গেছে, মুগ্ধা চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে অ্যাপার্টমেন্টটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সেখানে বসবাস শুরু করেন আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের দিকে। পুনেতে থাকার সময় তিনি অনলাইনে এমবিএ শিক্ষার্থীদের কিছু বিষয় পড়াতেন বলেও পুলিশ তথ্য পেয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগ্ধা প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না। তাঁর বাসায় অতিথিদের যাতায়াতও ছিল কম। মরদেহ উদ্ধারের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ কারণে তাঁকে আর কাজে আসতে নিষেধ করেছিলেন। পুলিশ এখন মুগ্ধার ফোনের কল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করছে। কেন তিনি পরিবারকে না জানিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে ফিরেছিলেন, পুনেতে একা থাকার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন এবং মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে। মুগ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে এখনো কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফল এবং তদন্তের তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
আমিরাতে স্বর্ণের দাম কমতেই কেনাকাটার হিড়িক, গয়না ও কয়েনে বাড়ছে আগ্রহ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগের রেকর্ড! দক্ষিণ কোরিয়ার ৬১৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব