অনলাইনের জটিল জালে ফেঁদে কিশোরীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শোষণের ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু যখন সেই শোষকের বয়স ৩৫ আর শিকারের বয়স ১৫, তখন তা নিছক অপরাধের চেয়েও বেশি কিছু একটি নির্মম বাস্তবতার দলিল। অ্যারিজোনার স্কটসডেলের ঘটনাটি তেমনি এক উদাহরণ, যেখানে এক বৃদ্ধাশ্রমী শিকারি নিজেকে ১৭ বছরের কিশোর হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক নাবালিকাকে শোষণ করে, ঘটনাগুলো ভিডিওবন্দী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি আদালতে হাজিরা দেওয়া ৩৫ বছর বয়সী কিথ শ্যাপারের বিরুদ্ধে মোট ২০টি ফেলনি (অভিযোগ) আনা হয়েছে। তার জামিন ধার্য করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা শুধু নগদ অর্থে প্রদেয় । পুলিশ ও আদালতের নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, শ্যাপার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তত ৫০ বারের বেশি ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এর গোড়াপত্তন ঘটে আরও অনেক আগে। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী প্রথম শ্যাপারের সংস্পর্শে আসে যখন তার বয়স মাত্র ১৩। এক বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তাদের কথোপকথন শুরু হয়। প্রথম দিকে শ্যাপার নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে নিজের আসল লিঙ্গ জানান, কিন্তু বয়সের ব্যাপারে মিথ্যা বলেন। সেই সময় থেকেই তারা অসভ্য ছবি বিনিময় করতে শুরু করে, যার মধ্যে শিকারের ১৩ বছর বয়সে তোলা ছবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল । একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা আবার শুরু হয়। গত ১৫ জুলাই, শিকারের দাদি স্কটসডেল পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে পুরো ঘটনা ফাঁস হয়। পুলিশ জানায়, শ্যাপার একটি ধূসর জিপ চেরোকি গাড়িতে করে ওই কিশোরীকে স্কটসডেলের দুটি ভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান এবং সেখানেই ঘটনা সংঘটিত করেন। রাতের অন্ধকারে বারবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিশোরীটির অস্বাভাবিক আচরণ থেকেই সন্দেহ হয় পরিবারের । সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, শ্যাপার নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি এই সম্পর্কের প্রথম দিকের কিছু ঘটনা ভিডিও করেন এবং সেই ভিডিওগুলো রেডিট প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন। যদিও পরে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তিনি নিজেই তা ডিলিট করে দেন, এর মধ্য দিয়ে নাবালিকার ছবি ও ভিডিও সাইবার জগতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় । পাশাপাশি, তিনি মাদক (মেথামফেটামিন) ব্যবহারের কথাও স্বীকার করেছেন এবং অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই কিশোরীকে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে মাদক সেবন করতে শিখিয়েছিলেন । শ্যাপারের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) কাছে একাধিক সাইবার টিপসও জমা পড়েছে। এক টিপসে তিনি অনলাইনে "১৩ বছরের কিশোরী" নিয়ে যৌন বিষয়বস্তু নিয়ে গর্ব করেছেন এবং স্পষ্ট ভাষায় অশ্লীল মন্তব্য করেছেন। তার স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টও নাবালিকাদের যৌন নির্যাতনের ছবি শেয়ার করার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে তিনি কমপক্ষে ৫০ বারের বেশি নাবালিকাদের সঙ্গে অসভ্য ছবি বিনিময় করেছেন। শ্যাপারের বিরুদ্ধে আগেও মাদক, চুরি এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে । আদালতে শুনানির সময় তিনি বিচারকের কাছে মুক্তি চেয়ে আবেদন জানান, বলেন তিনি কাজে ফিরে যেতে চান এবং তার বাবা-মায়ের ওপর বোঝা হতে চান না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি ভুক্তভোগী বা কোনো নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না এবং ইলেকট্রনিক মনিটর পরার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে প্রস্তুত । তবে প্রসিকিউটররা শ্যাপারকে ভুক্তভোগী ও অন্যান্য নাবালিকাদের জন্য বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তিনি ঘটনা ভিডিও করেন, তা রেডিটে পোস্ট করেন এবং একাধিক নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন । শ্যাপার বর্তমানে ম্যারিকোপা কাউন্টি জেলে রয়েছেন। আগামী ২৩ জুলাই তাঁর আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে । এই ঘটনা বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—অনলাইন জগতে কে কী পরিচয়ে লুকিয়ে আছে, তা যাচাই না করে সন্তানদের মুক্ত না দেওয়া এবং অস্বাভাবিক কোনো আচরণ দৃষ্টিগোচর হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মেসা শহরে স্ত্রীকে ২৪ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন, তিনি স্ত্রীকে আঘাত করেছিলেন কারণ তিনি চেয়েছিলেন তার স্ত্রী “কথা বলা বন্ধ করুক”। ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মেসা পুলিশ জানায়, শনিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জরুরি কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। আটক ব্যক্তির নাম নাথানিয়েল গথাম। রোববার তিনি প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যারিকোপা কাউন্টির প্রসিকিউটররা আদালতে জানান, ভুক্তভোগীর শরীরে অন্তত ২৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর বেশির ভাগই ছিল পিঠে। এছাড়া মাথা, ঘাড় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করার সময় তার দুই হাতেও গুরুতর জখম হয়েছে। আদালতে প্রসিকিউটররা আরও জানান, নাথানিয়েল গথাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্ত্রীকে আঘাত করতে চেয়েছিলেন এবং তার কথা বলা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। আদালত অভিযুক্তের জামিন ৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন। আগামী শুক্রবার তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে অভিযোগ গঠন হলেও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের স্কটসডেলে একটি সার্কেল কে স্টোরের সাবেক ম্যানেজার রবার্ট গাওলিটজা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার মূল্যের একটি লটারির টিকিটের মালিকানা দাবি করে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, টিকিট কেনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে এক নারী গ্রাহক ৮৫ ডলারের লটারির টিকিট কিনতে চাইলেও তার কাছে ছিল মাত্র ৬০ ডলার। ফলে অবিক্রিত কয়েকটি টিকিট দোকানেই থেকে যায়। পরদিন দায়িত্বে এসে গাওলিটজা জানতে পারেন, ফেলে যাওয়া টিকিটগুলোর একটি জ্যাকপট বিজয়ী হয়েছে। তার দাবি, কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রথমে ডিউটি শেষ করেন, ইউনিফর্ম খুলে অবিক্রিত টিকিটগুলো কিনে নেন, এরপর আবার কাজে যোগ দেন। গাওলিটজার আইনজীবী জশ কোলসরুড বলেন, কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী অবিক্রিত লটারির টিকিট স্টোর ম্যানেজার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী কিনতে পারতেন। তিনি দাবি করেন, গাওলিটজা প্রশিক্ষণ অনুযায়ীই সবকিছু করেছেন। গাওলিটজা জানান, টিকিটটি কেনার পর তিনি সেটিতে নিজের স্বাক্ষর করেন এবং আগের রাতে টিকিট প্রিন্ট করা সহকর্মীর সঙ্গে পুরস্কারের অর্থ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দেন। অন্যদিকে সার্কেল কে কর্তৃপক্ষ টিকিটটির দখলে রয়েছে এবং তাদের দাবি, টিকিটটির মালিকানা কোম্পানির। তবে চলমান মামলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত লটারির পুরস্কারের অর্থ স্থগিত রাখা হয়েছে। মামলার রায়ের পরই নির্ধারিত হবে, কোটি কোটি ডলারের জ্যাকপটের প্রকৃত মালিক কে।
জুয়ার রাজধানী খ্যাত লাস ভেগাসের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সর্বস্বান্ত হওয়া জুয়াড়িদের চিত্র। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি জুয়ায় অর্থ হারানো মানুষদের বসবাস এই শহরে বা এর অঙ্গরাজ্য নেভাদায় নয়। সম্প্রতি দুই হাজার জুয়াড়ির ওপর স্বাধীন পোকার এবং আইগেমিং অ্যাফিলিয়েট 'ভিআইপি গ্রাইন্ডার্স'-এর চালানো এক জরিপে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, জুয়ায় অর্থ হারানোর শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় নেভাদার নামই নেই, যার অবস্থান ১২ নম্বরে। মে মাসে প্রকাশিত এই জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এক আসরে জুয়ায় সর্বোচ্চ অর্থ হারানোর জাতীয় গড় প্রায় ৪ হাজার ৬৩২ ডলার। এই তালিকায় সবাইকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনা। এই অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এক আসরে গড়ে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৯৮৯ ডলার পর্যন্ত হারানোর কথা স্বীকার করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিপুল এই অর্থ হারানোর পর জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষই তাদের কাছের মানুষদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, ৯ হাজার ৭৪৪ ডলার লোকসান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিসিসিপি। তবে লোকসানের কথা গোপন রাখার দিক থেকে তারা দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। এই রাজ্যের ৫৯ শতাংশ জুয়াড়িই তাদের ক্ষতির কথা প্রিয়জনদের কাছে লুকিয়ে রাখেন বলে স্বীকার করেছেন। এই গোপনীয়তার তালিকায় মিসিসিপির পরই রয়েছে যথাক্রমে নেভাদা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, টেক্সাস এবং ভার্জিনিয়া। সবচেয়ে বেশি অর্থ হারানো অঙ্গরাজ্যের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইওয়া, যেখানে বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ ক্ষতির গড় প্রায় ৯ হাজার ৩৪৬ ডলার। গত বছর এই রাজ্যে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলারের জুয়া খেলা হয়েছে এবং এখানকার প্রায় ১২ শতাংশ জুয়াড়ি একদিন পরপরই বা এর চেয়েও বেশি বাজি ধরেন। এরপরেই ৯ হাজার ৩৪৬ ডলার ও ৯ হাজার ১৬৬ ডলার ক্ষতির গড় নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে অরেগন এবং মিশিগান। তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া (৬ হাজার ৬১৫ ডলার) এবং সপ্তম স্থানে জর্জিয়া (৬ হাজার ৫৬২ ডলার)। অষ্টম স্থানে থাকা নিউইয়র্কের জুয়াড়িদের সর্বোচ্চ লোকসানের গড় ৬ হাজার ২২১ ডলার। উল্লেখযোগ্য যে, কেবল গত মার্চ মাসেই নিউইয়র্কে ২৩০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) ডলারের খেলাধুলার বাজি বা স্পোর্টস বেটিং ধরা হয়েছে, যা দেশের যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ। জরিপে নারী ও পুরুষ জুয়াড়িদের মধ্যে লোকসানের বিশাল পার্থক্যও উঠে এসেছে। নারীদের সর্বোচ্চ ক্ষতির গড় যেখানে ৬ হাজার ৩২৫ ডলার, সেখানে পুরুষদের গড় প্রায় দ্বিগুণ—১২ হাজার ৩৫৯ ডলার। পুরুষদের মধ্যেই জুয়া খেলার অভ্যাস লুকিয়ে রাখার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ বিষয়ে ভিআইপি-গ্রাইন্ডার্সের আইগেমিং প্রডাক্ট প্রধান হোয়াও মোরাতো গণমাধ্যমকে বলেন, জুয়া শিল্পের কেবল বিজয়ীদের সামনে আনার এই প্রবণতা বন্ধ করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইনফ্লুয়েন্সাররা বছরের পর বছর ধরে জুয়াকে অর্থ উপার্জনের একটি সহজ উপায় হিসেবে প্রচার করে আসছে, যেখানে কেবল জয়টাই দেখানো হয় এবং ক্ষতিগুলো সচেতনভাবে আড়ালে রাখা হয়। ফলে যখন কেউ জুয়ায় হারে, তখন তারা বিষয়টিকে বিনোদনের সাধারণ অংশ হিসেবে মেনে না নিয়ে বরং লজ্জিত বোধ করে। জুয়ার বাস্তব আচরণ নিয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের পক্ষে এ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা অনেক সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।