জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া–এর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য, লেনদেন বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথি বিএফআইইউতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসিফ মাহমুদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠকদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। তবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন আসিফ মাহমুদ। নিজ জেলা কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি। বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দেয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অভিযোগটি দাখিল করেন বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের একদল ভক্ত। দুদক সূত্র জানায়, দুপুরে ২০-৩০ জনের একটি দল সাকিব আল হাসানের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অভিযোগটি গ্রহণ করে। দুদকের কর্মকর্তা জানান, বেনামে দাখিল করা অভিযোগ সরাসরি তদন্ত বা মামলার পর্যায়ে যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যথাযথ তথ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে তা বাতিল করা হবে। পরবর্তী প্রক্রিয়া অভিযোগের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রহণ করা হবে।
ইন্টেরিম সরকারকে ‘বিনাভোটের সরকার’ বলে সমালোচনা করা বিএনপি এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিনাভোটে মেয়র দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শহরগুলোতে ভোটের অঙ্ক দেখে নির্বাচন দিতে সাহস পাচ্ছে না সরকারি দল। ইন্টেরিমকে সকাল-বিকেল বিনাভোটের সরকার বলে গালি দেওয়া দলটি এখন বিনাভোটের মেয়র দিচ্ছে সব জায়গায়।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপকামিং: বিনাভোটের উপজেলা চেয়ারম্যান, বিনাভোটের ইউপি চেয়ারম্যান, বিনাভোটের মেম্বার, বিনাভোটের ওয়ার্ড কাউন্সিলর।’ সম্প্রতি ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় সরকার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলে জানা গেছে। রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক মেয়রদের সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। পরে বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর আবার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এসব পদে বসানো হলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তার আগেই এসব প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্রীড়া খাতে কাজ করার সময়ে কিছু নেতার পক্ষ থেকে তার কার্যক্রমে অবাধ্যতা, বাধা ও অপপ্রচারের চেষ্টা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে পরাজিত এক প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন, গত দেড় বছরে ফুটবল ও ক্রিকেট বোর্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, সার্চ কমিটির সদস্য ব্যবহার করে ফেডারেশন কার্যালয় দখলের প্রচেষ্টা, এবং পরবর্তীতে তার নামে মামলা করার ঘটনা ঘটেছে। আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের ‘মাফিয়া চক্র’ সরিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। তবে কিছু স্পোর্টস মিডিয়া অংশকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, দেড় বছর ভদ্রতা ও নীরবতার সঙ্গে কাজ করেছি। আপনাদের নোংরামিতে নিজেকে জড়াতে চাই না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যালয় দখলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সেই ব্যক্তিকে অপসারণ করা হয়, এরপর তার নামে মামলা করা হয়। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়া এই ব্যক্তি ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসহযোগিতা এবং বাধা সৃষ্টি করছেন। আসিফ মাহমুদের পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে এবং ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক ও প্রভাবসংক্রান্ত বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
নির্বাচন মানেই জনগণের ম্যান্ডেট, আর সেই ম্যান্ডেট রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক বিস্ফোরক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে ব্যবহার করে প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে অনেকটা 'কিংস পার্টি'র মতো ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে একটি 'দায়সারা' নির্বাচনের নীল নকশা করা হচ্ছে। এই অনিয়মের দায়ভার শুধু কমিশনের নয়, বরং ইউনূস সরকারের ওপরও বর্তাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় বিএনপি-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দলটি 'মুনাফিকি' আচরণ করছে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন আসলেই কিছু রাজনৈতিক দল বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করে দেশে ‘অতিথি পাখি’র রাজনীতি শুরু করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শীতকালে যেমন সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি আসে, তেমনি ভোটের মৌসুমে কিছু মানুষ বিদেশ থেকে এসে প্রার্থী হয় এবং ভোট শেষ হলে আবারও বিদেশে পাড়ি জমায়। এদের বর্জন করার সময় এসেছে। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক তাঁতশিল্পের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, "ব্রিটিশ আমল থেকে শাহজাদপুরের তাঁতশিল্পের খ্যাতি থাকলেও বুর্জোয়া শাসনের কারণে প্রান্তিক শ্রমিকরা এর সুফল পাননি। মধ্যস্বত্বভোগীরা আপনাদের পরিশ্রমের ফসল লুটে নিয়েছে। এনসিপি ক্ষমতায় আসলে শোষণের এই ধারা বন্ধ করে যার পরিশ্রম তাকেই ন্যায্য মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।" প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের মান বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করা হবে। সীমান্তে ফেলানী হত্যার মতো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বড় বড় দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ এখন আর ব্যক্তিগত হিসাব করে না, বরং দেশের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা চায়। আপনারা ঋণ খেলাফিদের টাকা নিলেও ভোট দিবেন দেশপ্রেমিক ও আগ্রাসনবিরোধীদের।" সাবেক এই উপদেষ্টা আসন্ন গণভোট বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "হাসিনার মতো আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসক যেন বাংলাদেশে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য আপনাদের অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।" তিনি একটি বিশেষ দলের দ্বিচারিতার সমালোচনা করে বলেন, "তাদের নেতারা মঞ্চে এক কথা বলে আর কর্মীরা মাঠে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালায়। যারা এমন মুনাফেকি করছে, তাদের চিনতে ভুল করবেন না।" পথসভায় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, "ঋণ খেলাফি আর বিদেশি নাগরিকরা সংসদে গেলে তারা সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং বিদেশের বেগম পাড়ার স্বার্থে আইন তৈরি করবে। তাই সচেতনভাবে আপনাদের সঠিক প্রতিনিধি বেছে নিতে হবে।" জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান এবং এনসিপির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সংস্কারের প্রশ্নে এতোদিন কিছু না বললেও দুই মাস পর এস একটা দলের প্রধান হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছে। নেতা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বললেও কর্মীরা না ভোট চাইতেছে। এখন কর্মীরা যদি না ভোট চায় তাহলে তাদেরকে বলবেন গুপ্ত গুপ্ত। এইভাবে না ভোট চাওয়াও গুপ্ত কাজ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাঁটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সাইফুল্লাহ হায়দারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিলাম। বিভিন্ন রাস্তাঘাটের উন্নয়নে বরাদ্দ দিয়েছি। আপনারা যদি তাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আপনাদের জন্য সে আরও বেশি করে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা দুই হাজার নয় সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শাপলা চত্বর হয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের হত্যার বিচার করব ইনশাআল্লাহ। আমরা সরকার গঠন করলে হিসাব দাও নামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের আয় ব্যায়ের হিসাব সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ। আমি উপদেষ্টা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সরকারি একটা বাড়ি, একটা খাট ও মেট্রিক্স ফেরত দিয়েছি। ভারতের বড় ভাই সুলভ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা তিন দিক দিয়ে একটা দেশ দ্বারা ঘেরাওয়ের মধ্যে আছি। তাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল ভালো প্রতিবেশি হওয়ার কিন্তু তারা আমাদের ছোট প্রতিবেশি হিসেবে ট্রিট করতে চায়। এগারো দলীয় ঐক্য জোট সরকার গঠন করলে, আমরা যুবকদের সামরিক ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করব। সামরিক বাহিনীর অধীনে সামরিক ট্রেনিং সদস্য দ্বিগুণ করা হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংস্কারের জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু শহীদ জিয়া জীবনে একটা ভুল করেছিলেন। বাকশাল গঠনের পরও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ফল হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়াসহ বিভিন্ন নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। দেশের মানুষ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। একটা দল আওয়ামীলীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আপনারা যদি নির্যাতিত হতে চান! দেশ ছেড়ে যেতে চান। তাহলে আমরা আর আপনাদের পাশে থাকব না। তারেক রহমানের কৃষক ঋণ মওকুফের বিষয়ে নাম ধরে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, একটি দল কৃষকদের ঋণ মওকুফ করার কথা বলছে। ২০০১ সালেও তারা কৃষকদের ঋণ মওকুফের কথা বলেছিল কিন্তু করে নাই। আবারও একই কথা বলছে কিন্তু ২৫ বছরেও মাফ করে নাই। এবার আবার বললে জিজ্ঞেস করবেন এইবার মাফ করবে কবে? টাঙ্গাইল তিন ঘাটাইল আসনের এগারো দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, আমি আমার নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন এক টাকার চাঁদাবাজি করলে আমি আপনাদের কাছে একটা ভোটও চাইব না। অথচ গত সতেরো মাসে একটা দলের নেতাকর্মীরা ঘাঁটাইলের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করেছে। আমাদের আগামীর আন্দোলন হবে চাঁদাবাজ, ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আমরা এই ঘাঁটাইলে উইড়া আইসা জুইড়া বসি নাই। পাহাড় কেটে কলকারখানা করা হচ্ছে। আমরা কলকারখানা করার বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু আমাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে এমন কলকারখানা স্থাপন করা হবে। আমরা সারাজীবন দুইটা পরিবারের কাছে বর্গা দিছি। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেন কৃষকের সন্তানও যেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। পাহাড়ে সাদিকের নামে ২৫ শয্যা হাসপাতাল তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। প্রতিটা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুর্নীতির বক্স স্থাপন করব। আপনারা অন্যায়ের স্বীকার হলে আপনারা সেই বিষয়ে তথ্য দিবেন। আমরা ব্যবস্থা নিব। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বেতনের বাহিরে এক টাকাও নিবনা ইনশাআল্লাহ। জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, যারা ভাবছেন ভোটকেন্দ্র দখল করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বন্ধ করে দিবে। তাদের স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এগারো দলীয় ঐক্য জোট সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একটি দলের চেয়ারম্যান বার বার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকেও দেখেছি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্র দখল করতে। আমরা তখন স্লোগান দিতাম তাহাজ্জুদের আউলিয়া দেশ করেছে দেউলিয়া। আপনাদের বিরুদ্ধেও একই স্লোগান দিতে বাধ্য করবেন না। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বলেন, ২০২৪ সালে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হাজার হাজার মানুষ মাঠে নেমেছিলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেখা গেল একটি দল চাঁদাবাজি, দখলবাজি শুরু করে দিয়েছে। আমরা চব্বিশের ছাত্র-জনতার সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে এগারো দলী ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট গড়ে তুলেছি। ৯৯৯ একটি নাম্বারের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজদের বিপক্ষে সেবা পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র ধনীদের জন্য নয় সাধারণ মানুষের জন্যও নিশ্চিত করব। পথসভায় আরও বক্তব্য , এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মাশরুর আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যক্ষ হোসনে মোবারক বাবুল প্রমুখ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস