- প্রচ্ছদ
- Topic
ইহুদি
লন্ডনের একটি ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ নারী খলিলা লিস্টার জীবনের এক পর্যায়ে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ধর্মটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির পর ১৯ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন পাবলিক স্পিকার, যোগাযোগ প্রশিক্ষক এবং পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা। নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খলিলা। তার বক্তব্য ও একাধিক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার আগে তিনি বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেডিও উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং হিপহপ ঘরানার বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করতেন তিনি। বিভিন্ন তারকার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। পেশাগতভাবে এগিয়ে গেলেও জীবনের অর্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ইসলাম গ্রহণ করেন। বন্ধুর জীবনে পরিবর্তন দেখেই ইসলাম সম্পর্কে তার আগ্রহ আরও বাড়ে। এক সাক্ষাৎকারে খলিলা জানিয়েছেন, শুরুতে ইসলামকে নিজের জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি তার। মুসলিম নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন থেকে শুরু করে ধর্মটির বিভিন্ন বিষয় তার কাছে অপরিচিত ছিল। তবে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের বন্ধুর আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং জীবনবোধে পরিবর্তন তাকে ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে। খলিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বন্ধু প্রায় এক বছর ধরে তার সঙ্গে ইসলাম, হাদিস ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এক স্রষ্টার উপাসনা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তার। শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন খলিলা। নিজের পুরোনো জীবনধারার সঙ্গে নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয় করতে না পেরে সে সময় বিনোদন জগতের ক্যারিয়ার থেকেও সরে আসেন তিনি। খলিলা নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে মুসলিম হওয়ার পর তার জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। যে মূল্যবোধের সঙ্গে তিনি আগে যুক্ত ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর সেগুলোর অনেক কিছুর সঙ্গে আর নিজেকে মেলাতে পারছিলেন না। ফলে সে সময়ের পেশাগত জীবন ছেড়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন। তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ধর্মীয় এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। খলিলা জানিয়েছেন, তার বাবা ছিলেন ইহুদি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার বাবা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও পেশাগতভাবে সক্রিয় হন খলিলা। বর্তমানে তিনি পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম নারী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পাবলিক স্পিকিং এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি ইসলাম চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও অনুষ্ঠানে নিজের ধর্মীয় যাত্রা, মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত নিজের যাত্রাকে খলিলা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মঅনুসন্ধানের ফল হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জীবনে ইসলামের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা তাকে ধর্মটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছিল। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক ইউএস সিনেট প্রাইমারিতে জয়ের পর আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে জনপ্রিয় কিন্তু বিতর্কিত রাজনৈতিক স্ট্রিমার হাসান পাইকারের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাইকারের অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও তার কাছ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানে সাড়া দেননি এল-সায়েদ। এর মধ্যেই মিশিগানের কিছু ইহুদি ভোটার ও কমিউনিটি নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এল-সায়েদ। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মিশিগানে এই নির্বাচন ইউএস সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন নয়। গত এপ্রিলে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে আয়োজিত প্রচারণা অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ঠিক আগেও এল-সায়েদের প্রচারণায় অংশ নেন পাইকার। হাসান পাইকার যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় বামপন্থী রাজনৈতিক স্ট্রিমার। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার বিপুল অনুসারী রয়েছে। তবে ইসরায়েল, হামাস, ৯/১১ হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অতীতে দেওয়া তার বক্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তার কিছু বক্তব্যকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতা। পাইকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তার বক্তব্যকে অনেক ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এল-সায়েদকে এর আগেও পাইকারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এপ্রিলে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, অন্য কারও সব মতামত থেকে নিজেকে প্রকাশ্যে বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করা তার কাজ নয়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পাইকারের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ তার প্রতিটি বক্তব্যকে সমর্থন করা নয়। পরবর্তীতে ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারেও পাইকারের অতীতের বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এল-সায়েদকে। তিনি আবারও বলেন, কারও সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হওয়া মানেই সেই ব্যক্তির প্রতিটি মন্তব্য বা বিশ্বাসকে নিজের বলে গ্রহণ করা নয়। তবে প্রাইমারি জয়ের পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এল-সায়েদ এখন শুধু ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের প্রার্থী নন, মিশিগানের সাধারণ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক সিনেট প্রার্থী। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ইহুদি ভোটার এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের সম্পর্ক এবং ইসরায়েল নিয়ে তার নিজের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এর আগে এপ্রিলে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির হিলেল পাইকারের ক্যাম্পাস সফর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। মিশিগানের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতাও তখন এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের যৌথ অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে এল-সায়েদের সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, পাইকারের বিপুল তরুণ অনুসারী রয়েছে এবং তার মতো অনলাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথা বলা এমন ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর একটি উপায়, যারা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে খুব বেশি সম্পৃক্ত নন। এপ্রিলে তাদের যৌথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নিয়েছিলেন। এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি ডেট্রয়েটের হেলথ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো। ইসরায়েল ও গাজা প্রশ্নেও তার অবস্থান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূলধারার অনেক নেতার তুলনায় কঠোর। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থান তাকে প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সমর্থন এনে দিলেও মিশিগানের কিছু ইহুদি ভোটারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এল-সায়েদের প্রাইমারি জয়ের পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা তার পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার এবং প্রাইমারিতে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্সও সাধারণ নির্বাচনে তাকে সমর্থন করেছেন। এখন এল-সায়েদের সামনে বড় পরীক্ষা নভেম্বরে। প্রাইমারিতে প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয়ী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র এবং মধ্যপন্থী ভোটারদের আরও বড় অংশের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। হাসান পাইকারকে ঘিরে চলমান বিতর্ক সেই প্রচারণায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখন মিশিগানের সিনেট নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার বিচারিক বাছাই কমিটিতে কোনো ইহুদি ব্যক্তিকে নিয়োগ দেননি। উল্টো ১৮ সদস্যের এই কমিটিতে তিনি এমন ব্যক্তিদের জায়গা দিয়েছেন, যারা দেশীয় সন্ত্রাসী ও বিতর্কিত খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। এমনকি এই তালিকায় একজন সাবেক যৌনকর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বাহীর সন্দেহভাজন খুনির প্রশংসাকারীও রয়েছেন। ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত সমাজতান্ত্রিক এই মেয়র বিতর্কিত জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের আইনি দলে কাজ করার অজুহাতে অবসরপ্রাপ্ত ইহুদি বিচারক জন লেভেনথালকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ অন্যান্য সদস্যদের চরম বিতর্কিত মক্কেল থাকা সত্ত্বেও তাদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামদানির এই 'অ্যাডভাইজরি কমিটি অন দ্য জুডিশিয়ারি'-তে জায়গা পেয়েছেন কারাগার সংস্কারকর্মী সুফিয়াহ এলাইজা। তিনি 'ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড' সন্ত্রাসী মেরিলিন বাক এবং কুখ্যাত পুলিশ খুনি মুমিয়া আবু-জামালের মতো চরমপন্থী ও স্বঘোষিত রাজনৈতিক বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। কমিটিতে থাকা আরেক সদস্য এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সাবেক আইনজীবী জ্যারেড ট্রুজিলো নিজে একসময় যৌনকর্মী ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে লবিং করার পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের ক্ষমতা ও পরিধি কমানোর জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন। বর্তমানে কিউনি (CUNY) ল স্কুলের এই অধ্যাপক নিউইয়র্কের বিতর্কিত 'ক্যাশলেস বেইল' বা জামিনহীন আইন বাতিলের সরকারি উদ্যোগেরও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কমিটির আরেক সদস্য মিনা মালিক সম্প্রতি ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া লুইগি ম্যাঙ্গিওনের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কোচরান ল ফার্মের এই সিইও ম্যাঙ্গিওনকে 'স্মার্ট ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, কমিটিতে জননিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় পুলিশ ইউনিয়নগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পিবিএ প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেন্ড্রি অভিযোগ করেছেন যে, মেয়র জননিরাপত্তার চেয়ে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুলিশ খুনিদের রক্ষক এবং পুলিশ-বিরোধী কর্মীদের দিয়ে গঠিত প্যানেল কখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডিটেকটিভস এনডাউমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্কট মুনরোও এই প্যানেলে সাবেক পুলিশ বা প্রসিকিউটরদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইহুদি আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো কমিটিতে কোনো ইহুদি সদস্য না থাকায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রত্যাখ্যাত বিচারক লেভেনথাল এই পরিস্থিতিকে 'ভণ্ডামি' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য সদস্যদের বিতর্কিত মক্কেল থাকার পরও শুধু ম্যাক্সওয়েল মামলার অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে তার ইহুদি পরিচয় একটি বড় কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য, এই বিচারিক উপদেষ্টা কমিটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মামদানির প্রধান আইনি উপদেষ্টা রামজি কাসেম নিজেও একসময় গুয়ান্তানামো বে-তে আল-কায়েদা বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন। তবে যাবতীয় বিতর্কের পরও মেয়রের কার্যালয় দাবি করেছে, এই প্যানেলে থাকা সদস্যরা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় আইনি অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের পরও বিনা বাধায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার খবরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী অস্টিন ফ্রাঙ্কো নামের ওই শিক্ষার্থী গত জুনে নিউইয়র্কের একটি স্টার্টআপ কোম্পানির ইন্টারভিউ প্রত্যাখ্যান করে ভাইরাল হন। কারণ হিসেবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, কোনো "ইহুদির অধীনে কাজ করতে" তিনি একেবারেই আগ্রহী নন। এই মন্তব্যের জেরে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও ফ্রাঙ্কো সম্প্রতি দাবি করেছেন, আগামী ফল সেমিস্টারে তিনি কোনো ধরনের শাস্তি ছাড়াই পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরছেন। রক্ষণশীল অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যুরেসি ইন মিডিয়া’-এর এক ছদ্মবেশী তদন্তকারীর কাছে ফ্রাঙ্কো নিজেই তার এই নির্বিঘ্নে ফিরে আসার কথা স্বীকার করেছেন। ছদ্মবেশী ওই ব্যক্তি নিজেকে ফ্রাঙ্কোর মতোই সমমনা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার সাথে দেখা করেন। সেখানে ফ্রাঙ্কো জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সাথে যোগাযোগ করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, তার মন্তব্যটিকে সরাসরি 'ঘৃণাত্মক' বা 'হেইট স্পিচ' হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি। এমনকি, এই বিতর্কের পর নিজের উগ্র সমর্থকদের কাছ থেকে তিনি প্রায় ২৫ হাজার ডলার অনুদানও সংগ্রহ করেছেন বলে হাসিমুখে স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় কর্নেল ইউনিভার্সিটির নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ইহুদি নেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সিভিল রাইটস অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং তারা সব ধরনের বৈষম্য ও ঘৃণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তবে ফ্রাঙ্কোর ক্যাম্পাসে ফেরার দাবির বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দ্য হ্যাম্পটন সিনাগগের প্রতিষ্ঠাতা র্যাবাই মার্ক স্নাইয়ার এই ঘটনাকে চরম উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্বেষের পরও কোনো শিক্ষার্থীর বহাল তবিয়তে ক্লাস করার সুযোগ পাওয়াটা প্রমাণ করে যে, সমাজে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানে কতটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। ডেভিয়ান গেকমান নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, বাকস্বাধীনতা মানেই পরিণতির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া নয়; প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই এক অশনিসংকেত। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফ্রাঙ্কো তার মন্তব্যের স্বপক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইন্টারভিউ প্রত্যাখ্যানের ভাষাটি হয়তো খুব বেশি বুদ্ধিদীপ্ত ছিল না, তবে এর বিপরীতে মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল মাত্রারিক্ত। নিজের কর্মসংস্থান সংকটের পেছনেও তিনি ইহুদিদেরই দায়ী করেছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত অন্য শিক্ষার্থীদের মতে, ফ্রাঙ্কো একসময় নিজেই কর্নেল ইউনিভার্সিটির ডাইনিং হলের 'কোশার' (ইহুদিদের খাবার) স্টেশনে কাজ করতেন। সর্বশেষ, ছদ্মবেশী মিডিয়া গ্রুপটি তাকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বোকা বানানোয় তিনি উল্টো হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের আপার ওয়েস্ট সাইডে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ইহুদি ও এক এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে হেইট ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, ৫১ বছর বয়সী ওই হামলাকারী জোড়া হামলার সময় উন্মত্ত অবস্থায় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিলেন এবং রাস্তায় ঘোরাঘুরির সময় ‘ইসলাম’ শব্দটি বিড়বিড় করছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যমতে, এই আকস্মিক ও হিংস্র হামলার প্রথম শিকার হন এক এশীয় পথচারী। মোরালেস পেছন থেকে ওই ব্যক্তির পিঠে আচমকা ছুরিকাঘাত করেন। এরপর তিনি এক ইহুদি ব্যক্তির ওপর চড়াও হন। হামলার সময় ওই ইহুদি ব্যক্তি মাথায় তাদের ঐতিহ্যবাহী 'ইয়ারমুলকে' টুপি পরিহিত ছিলেন। মোরালেস একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে সরাসরি তার বুকে সজোরে আঘাত করেন। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ভয়ংকর জোড়া হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, ইহুদি ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে হেইট ক্রাইমের আওতায় হত্যাচেষ্টা ও বিদ্বেষমূলক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে, এশীয় পথচারীর ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, ফার্স্ট-ডিগ্রি বা প্রথম মাত্রার হামলা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে পৃথক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন পুলিশ বর্তমানে এই জোড়া হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিশদ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি পার্কের লেকের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত ৭৫ বছর বয়সী কোশের বেকারির সাবেক মালিক ও ধর্মীয় নেতা আলবার্ট ইটজকোভিটজকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় নিহতের পরিবার মনে করছে, তিনি ইহুদি পরিচয়ের কারণেই হামলার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ মে বিকেল ৫টার কিছু আগে কুইন্সের কিসেনা লেকের তীরে আলবার্ট ইটজকোভিটজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ঘাড় ও পিঠে গুলির চিহ্ন ছিল। পরে নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করে। ঘটনার পাঁচ সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার একই পার্কে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। সেখানে আবেগঘন বক্তব্যে আলবার্টের মেয়ে লিয়া লিভশিটজ বলেন, তার বাবা প্রকাশ্যেই একজন ধর্মপ্রাণ ইহুদি ছিলেন এবং নিয়মিত ওই পার্কে দুপুরের বিরতিতে সময় কাটাতে যেতেন। তার ভাষায়, “আমার বাবা কারও সঙ্গে কোনো বিরোধে জড়িত ছিলেন না। তিনি কোনো অপরাধও করছিলেন না। তার মানিব্যাগও অক্ষত অবস্থায় ছিল। তিনি শুধু একজন অর্থোডক্স ইহুদি হিসেবে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “পাঁচ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো গ্রেপ্তার নেই, কোনো সন্দেহভাজন নেই, এমনকি ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।” তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) এখনো ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। পুলিশের ভাষ্য, সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে আলবার্ট ইটজকোভিটজকে সৈকত চেয়ার, সানগ্লাস, একটি বেসবল ক্যাপ এবং ক্রসওয়ার্ড ধাঁধার বইসহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেখানে রোদ পোহাতে গিয়েছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি বাড়ি থেকে একটি সিনাগগে যান। পরে একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন এবং একটি ওষুধের দোকান থেকে কেনাকাটা করেন। এরপর পার্কে যান। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যদাতাদের খুঁজতে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করছে। এমনকি লেকে সম্ভাব্য আলামত উদ্ধারে ডুবুরি দলও অভিযান চালিয়েছে। নিহতের ছোট ছেলে জভি ইয়োনি ইটজকোভিটজ জানান, কোনো তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে তথ্যদাতাকে দেওয়া পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো হয়েছে। ক্রাইম স্টপার্সের ঘোষিত ১০ হাজার ডলারের সঙ্গে পরিবার আরও ১০ হাজার ডলার যোগ করেছে। ফলে মোট পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, “পুলিশ আমাদের জিজ্ঞেস করেছিল, বাবার কোনো শত্রু ছিল কি না। প্রশ্নটি শুনে আমরা কান্নার মধ্যেও হাসতে বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, সদয় ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তার শত্রু থাকতে পারে, এমনটা আমাদের কাছে অকল্পনীয়।” কিউ গার্ডেন্স হিলস এলাকার বাসিন্দা আলবার্ট ইটজকোভিটজ একসময় মেইন স্ট্রিটের পরিচিত জি অ্যান্ড আই কোশের বেকারি পরিচালনা করতেন। এছাড়া তিনি একটি নার্সিং হোমে রাব্বি হিসেবে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন এবং স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন। পরিবার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী মারা যান। ব্যক্তিগত সেই শোকের মধ্যেই তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছিলেন। এদিকে কুইন্সের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনাস্থলটি ব্যস্ত পার্ক হওয়ায় সেখানে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেখে থাকবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন লিউ বলেন, “এখনো একজন হত্যাকারী মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। কেউ যদি কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তাহলে অবশ্যই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।” এনওয়াইপিডির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে নিউইয়র্কে ইহুদিবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধের ৪১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এ ধরনের ১৫২টি ঘটনার অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সব ধরনের তথ্য ও সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর ও মিজোরামে বসবাসরত ‘ব্নেই মেনাশে’ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই সম্প্রদায়টি বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের ‘দশটি হারিয়ে যাওয়া গোত্র’ বা ‘লস্ট ট্রাইবস’-এর বংশধর। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী ওফির সোফার সম্প্রতি এই আবাসন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। ‘অপারেশন উইংস অফ ডন’ (Operation Wings of Dawn) বা 'কানফেই সাহার' নামক এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫,৮০০ জন ভারতীয় ইহুদিকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ১,২০০ জন ব্নেই মেনাশে সদস্যকে ইসরায়েলে আনা হবে। অবশিষ্ট ৪,৬০০ জনকে পরবর্তী ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ইসরায়েল সরকার প্রায় ৯০ মিলিয়ন শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) বরাদ্দ করেছে। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের লোকেরা কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। মণিপুরে সাম্প্রতিক জাতিগত সংঘাতের ফলে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাইকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গ্যালিলি (Galilee) ও নোফ হাগালিল এলাকায় পুনর্বাসিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারগুলোকে একত্রিত করা হবে, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে ইহুদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশলও নিয়েছে তেল আবিব। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের দাবি, খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ সালে আসিরীয়দের আক্রমণের পর তারা ইসরায়েল থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন। মধ্য এশিয়া ও চীন হয়ে একসময় তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থিতু হন। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের প্রধান রাবাই (ধর্মগুরু) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রদায়কে ‘ইসরায়েলের বংশধর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। গত দুই দশকে প্রায় ৪,০০০ ব্নেই মেনাশে সদস্য ইতোমধ্যে ইসরায়েলে পাড়ি জমিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
প্রবল জনরোষ এবং বিরোধী দলগুলোর বাধার মুখে ফ্রান্সে বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী বিলটির ওপর ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটি নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও 'ফিলিবাস্টার' বা দীর্ঘ বক্তৃতার মাধ্যমে অধিবেশন আটকে দেওয়ার আশঙ্কায় এর প্রস্তাবকরা সাময়িকভাবে বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নতুন এই বিলটির লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বা 'অ্যান্টি-সেমিটিজম'-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা। ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানেও একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে প্রস্তাবিত এই বিলটি সেই সংজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর করার কথা বলেছিল। বিলটির প্রস্তাবকরা জানিয়েছেন, এটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি বরং জুন মাসে পুনরায় আলোচনার টেবিলে পেশ করা হবে। মূলত বিরোধীদের রণকৌশলের কাছে নতিস্বীকার করেই আজ এটি আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিলটি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সমালোচকদের দাবি, এই বিলটি পাস হলে ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে। তাদের মতে, বিলটিতে 'ইসরায়েল রাষ্ট্র' এবং 'ইহুদি জনগোষ্ঠী'কে একই সূত্রে গেঁথে ফেলা হয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করা হলে তা উল্টো ইহুদিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং সমাজে বিভেদ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিলটি স্থগিত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এই বিলের বিপক্ষে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলেন। স্থগিতাদেশের পর প্যারিসের রাজপথে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অন্তত সাময়িকভাবে হলেও একটি বিতর্কিত আইন থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।