ওমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র সালালাহ বন্দরে আকস্মিক ড্রোন হামলার পর থমকে গেছে সব ধরনের কার্যক্রম। হামলার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো এলাকা দ্রুত খালি করে ফেলা হয়। ওমানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বন্দরের একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং স্থাপনার আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, এই হামলার দায় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ইরান। দেশটির আইআরজিসি-র খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী সালালাহ বন্দর থেকে কিছুটা দূরে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রদানকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইন মায়েরস্ক তাদের কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ কিছুটা দূরে গভীর সমুদ্রে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজে সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুখপাত্র জানান, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিবৃতিতে ইরান পুনরায় স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা ওমানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওমানকে একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুপ্রতীম’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তেহরান জানায়, এই অভিযান কোনোভাবেই ওমানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে বিঘ্নিত করেনি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরান বা তার মিত্র বাহিনী তুরস্ক বা ওমানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের কোনো কর্মকাণ্ড নয়। তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাজানো হামলা অন্যান্য দেশে ঘটতে পারে। এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন খামেনি। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তায় প্রস্তুত। খামেনি আরও বলেন, “এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে।” সূত্র: আল-জাজিরা।
দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতাকারী এই কূটনীতিক বর্তমান ইরান যুদ্ধকে ট্রাম্প প্রশাসনের "চরম ভুল হিসাব-নিকাশ" বা "গ্রেটেস্ট মিসক্যালকুলেশন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। আলবুসাইদি মার্কিন মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই "অবৈধ যুদ্ধ" বন্ধে এখন তাদেরই এগিয়ে আসার সময়। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন অস্ত্র ক্রয় এবং নিজেদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে কেবল আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে। কিন্তু বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যা সমগ্র অঞ্চলের সমৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইসরায়েলের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে ওমানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মার্কিন প্রশাসনকে সম্ভবত বোঝানো হয়েছিল যে এই যুদ্ধে জয় পাওয়া খুব সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েলের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় সেই দীর্ঘমেয়াদী এবং অন্তহীন স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হবে, যা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিলেন। তার মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকা বা ইরান কারোই কোনো স্বার্থ নেই এবং দ্রুত শত্রুতা অবসান ঘটানোই এখন একমাত্র সমাধান।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ওমানের সোহর প্রদেশে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় দুই প্রবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সোহরের আল-আওয়াহি শিল্পাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত হলে এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। এতে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই প্রদেশে আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত হলেও সেটি উন্মুক্ত এলাকায় পড়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওমানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও সমুদ্রপথে ধারাবাহিক হামলার পর এই নতুন ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুটি ঘটনাই সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। ওমান সরকার নাগরিকদের গুজব বা ছবি ছড়িয়ে না দিয়ে কেবল সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এর আগেও ওমানে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ মার্চ একটি বন্দর এলাকার জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগে যায় এবং ৩ মার্চ দুকম বাণিজ্যিক বন্দরে ড্রোন আঘাত হানে। এছাড়া ১ মার্চ শ্রমিকদের আবাসন ও মাস্কাট উপকূলে একটি পণ্যবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট উত্তেজনার অংশ হিসেবেই এসব ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালীতে একটি থাই বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটি মারাত্মক সংকটে পড়লে ওমানের রাজকীয় নৌবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে ২০ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (ওএনএ) জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সকল নাবিকই থাইল্যান্ডের নাগরিক। হামলার ফলে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ওমান নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় রয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রসীমায় এমন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপে মিলিত হয়েছে মালয়েশিয়া, কুয়েত ও ওমান। সম্প্রতি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আব্দুল্লাহ আল-আহমাদ আল-সাবাহ এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদির সাথে পৃথক ফোনালাপে এই সংহতি প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কুয়েত ও ওমানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়ে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও সহানুভূতি ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা বজায় রাখতে ওমানের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। উভয় দেশের সরকার সেখানে অবস্থানরত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় কুয়েত ও ওমানের প্রতিশ্রুতিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয় এবং পবিত্র রমজানের বরকতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শেষ হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ধীরে ধীরে কিছু রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইটগুলো নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। এতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে, যদিও কিছু ফ্লাইট সচল ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোর হিসাবে দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমানের উদ্দেশে ১টি এবং সৌদি আরবের উদ্দেশে ৫টি বিমান ঢাকা ছেড়ে যায়। ১ মার্চ ওমানের উদ্দেশে ৪টি এবং সৌদির উদ্দেশে ১৬টি, ২ মার্চ ওমানে ৫টি ও সৌদির উদ্দেশে ১৩টি বিমান উড্ডয়ন করে। ৩ মার্চ ওমানের উদ্দেশে ৭টি ও সৌদির উদ্দেশে ১৫টি বিমান ঢাকা ছাড়ে। ৪ মার্চ ওমানের উদ্দেশে ৮টি, সৌদির উদ্দেশে ২১টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ৬টি বিমান পরিচালিত হয়। ৫ মার্চ ওমানগামী ১০টি, সৌদি আরবের উদ্দেশে ২২টি এবং আরব আমিরাতের উদ্দেশে ২টি বিমান উড্ডয়ন করে। ৬ মার্চ ওমানের উদ্দেশে ৬টি, সৌদির উদ্দেশে ১৫টি এবং আরব আমিরাতের উদ্দেশে ১৩টি বিমান ঢাকা ছাড়ে। সবশেষ শনিবার (৭ মার্চ) ওমানের উদ্দেশে ৬টি, সৌদির উদ্দেশে ১৮টি এবং আরব আমিরাতের উদ্দেশে ১৭টি বিমান ঢাকা ছেড়েছে বা ছাড়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর অনেক ফ্লাইট বাতিল হলেও এই সময়ের মধ্যে ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী মোট ২১৪টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ধীরে ধীরে কিছু রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপে একটি তেলের ট্যাঙ্কারকে হামলা চালিয়েছে ইরান। ওমান মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মুসান্দাম গভর্নরেটের খাসাব বন্দরের ৫ নটিক্যাল মাইল উত্তরে নোঙ্গর করা পালাউ প্রজাতন্ত্রের পতাকাবাহী ‘স্কাইলাইট’ ট্যাঙ্কারটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ট্যাঙ্কারটিকে কীভাবে আঘাত করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানায়, ২০ জন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং ৫ জন ইরানি নাগরিক। আহতদের জাতীয়তা জানা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি গেলে ইরানের সামরিক বাহিনী এই হামলা চালায়। বর্তমানে ট্যাঙ্কারটি ডুবন্ত অবস্থায় রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্কাইলাইট-এর মালিক রেড সি শিপ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনের জন্য এ কোম্পানি ও তাদের জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্যেই ট্যাঙ্কারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানে এটি তেহরানের প্রথম হামলা হিসেবে ধরা হচ্ছে। খাসাব বন্দর হরমুজ প্রণালীর পাশে অবস্থিত।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল সমুদ্রসীমায় আবারো বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানের মুসানদাম উপকূল থেকে মাত্র পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউ-এর পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার 'স্কাইলাইট' (Skylight) ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছে। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় জাহাজের চারজন ক্রু গুরুত্বর আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজে থাকা ২০ জন ক্রুকেই দ্রুততার সাথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার ধরন বা কারা এই ঘটনার পেছনে দায়ী, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন এর আগে ওমানের ডুকম (Duqm) বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ওই হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হন। একের পর এক এই হামলাগুলো ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আশঙ্কার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ওমানের মাস্কাটে এক টেবিলে বসছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হামলার হুমকির মুখে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে ‘শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক চেষ্টা’ হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই আলোচনা কি আসলেও কোনো সমাধান আনবে, নাকি সংঘাতের নতুন কোনো মোড়? বিগত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখন সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভে টালমাটাল দেশ, অন্যদিকে ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক জোটের প্রবল চাপ। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে মাস্কাটে বসছে এই উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক। আলোচনার টেবিলে কী থাকছে? যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট দাবি—ইরানকে কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করলেই হবে না, বরং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়াও বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের পঙ্গু হয়ে যাওয়া অর্থনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বেশ কড়া; তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না মার্কিন 'আর্মাডা'। যাঁদের দিকে নজর থাকবে: ইরানের পক্ষে এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আর ওয়াশিংটনের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ আন্দোলনে প্রায় সাত হাজার মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষের গ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক চাপে আছে তেহরান। এখন দেখার বিষয়, এই বৈঠক কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কোনো নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারবে, নাকি এটি শুধুই ঝড়ের আগের প্রশান্তি?
শুক্রবার ওমানের মাস্কাটে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ আমেরিকা ও ইরান। দীর্ঘ টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে এই আলোচনার চূড়ান্ত সময় ও স্থান নির্ধারিত হয়েছে। তবে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় বা ‘এজেন্ডা’ নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে চরম মতভেদ বিরাজ করছে। ওমান সরকারের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবার রাজধানী মাস্কাটে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে আলোচনার স্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বৈঠকটি বাতিলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিশ্চিত করেছেন যে, শুক্রবারই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এই আয়োজনের জন্য ওমান সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও এই বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থান ও সময় ঠিক হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে দুই দেশ এখনো বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে:। ইরানের অবস্থান: ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের ঝুলে থাকা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মেটাতে আগ্রহী। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে তারা কথা বলবে না। আমেরিকার অবস্থান: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, পরমাণু আলোচনার পাশাপাশি ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল নীতি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের মদত দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ইস্যুগুলোকেও তারা আলোচনার টেবিলে রাখতে চান। ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পরমাণু বিষয়ের বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো প্রসঙ্গ তোলা হলে এই বৈঠক ভেস্তে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ওমানের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কোনো নতুন মোড় ঘুরাতে পারে কি না।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।