সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

গ্রেপ্তার

ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে আলোচিত মামলা
ফেসিয়াল রিকগনিশনের ভুলে গ্রে প্তার নারী, মুক্তির পর ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক নারী ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণের কারণে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় গ্রে প্তার ও কয়েক মাস আটক থাকার অভিযোগে একটি শহর ও এক পুলিশ গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন।   অ্যাঞ্জেলা লিপস নামের ওই নারী মঙ্গলবার নর্থ ডাকোটার ফেডারেল আদালতে ফার্গো শহর ও ফার্গো পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা লুকাস হেকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার তাকে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সম্ভাব্য মিল হিসেবে শনাক্ত করেছিল।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে এক নারী চুরি করা পরিচয় ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ফার্গো এলাকার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সময় ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ ও নর্থ ডাকোটার একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফেসিয়াল রিকগনিশন ফলাফল লিপসকে সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখায়।   লিপসের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গোয়েন্দা হেক জানতেন যে তিনি টেনেসিতে থাকেন এবং কখনো নর্থ ডাকোটায় যাননি। এ ছাড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে থাকা সন্দেহভাজনের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গেও লিপসের মিল ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলার আরও অভিযোগ, ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলটি মূলত নজরদারি ভিডিও থেকে নয়, বরং সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছিল—এই বিষয়টি গোয়েন্দা হেক আদালতকে জানাননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ফলাফলকে শুধু তদন্তের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল; নিশ্চিত পরিচয় হিসেবে নয়।   এরপর লিপসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কার্যকর একটি গ্রে প্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লিপস তখন টেনেসিতে এক প্রতিবেশীর শিশুর দেখাশোনা করছিলেন। সেখানেই ইউএস মার্শালসের একটি পলাতক আসামি ধরার বিশেষ টাস্কফোর্স তাকে বন্দুকের মুখে গ্রে প্তার করে।   পরে তাকে টেনেসির একটি কারাগারে রাখা হয় এবং নর্থ ডাকোটায় নিয়ে গিয়ে ক্যাস কাউন্টি জেলে আটক করা হয়। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ডলার। মামলায় লিপস দাবি করেছেন, থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত এবং নিজের ৫০তম জন্মদিনও তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেনচার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লিপসের আইনজীবী ব্যাংকের নথি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান যে, যেসব সময়ে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, তখন লিপস টেনেসিতেই ছিলেন।   কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লিপসের কাছে মাত্র ৪ সেন্ট ছিল এবং তার কাছে শীতের পোশাকও ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তখন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি ছিল। পরে স্থানীয় একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও এক প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি টেনেসিতে নিজের বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ফার্গো পুলিশ বিভাগের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত নীতি, প্রশিক্ষণ বা তদারকি ছিল না। বিপরীতে ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ছিল এবং শুধু ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রে প্তার না করার নীতি ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   ফার্গো পুলিশের প্রধান ডেভ জিবোলস্কি মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিভাগটিতে তদন্তসংক্রান্ত কিছু ভুল হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে পুলিশ বিভাগ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নীতি ও প্রশিক্ষণ চালু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।   লিপসের মামলায় বেআইনি আটক ও গ্রে প্তার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন, পুলিশের নীতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, মিথ্যা গ্রে প্তার ও আটক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা চালানোর অভিযোগসহ মোট পাঁচটি দাবি করা হয়েছে।   লিপস ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গোয়েন্দা হেকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর খরচ এবং জুরি বিচারের আবেদন করেছেন।   তবে এগুলো লিপসের করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগ। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী
মেয়ে হয়ে একা একা ঘোরা! সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

আফগানিস্তানের বামিয়ানে একা ভ্রমণ করায় গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েছেন ভারতের কেরালার ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমা আইপি, যিনি ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত। ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চেয়ে বার্তা দেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে তিনি জানান, তাকে কোনো পুলিশ স্টেশন বা কারাগারে নেওয়া হয়নি এবং তিনি নিরাপদে আছেন।    অরুণিমা কেরালার পালাক্কাড জেলার অট্টাপালাম এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি একা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন। আফগানিস্তানে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। চলতি সফরে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাই ঘুরছিলেন।    বামিয়ানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অরুণিমা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে তিনি বামিয়ানে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেখতে চান। এরপর তাকে বলা হয়, একজন পুরুষ সঙ্গী বা গাইড ছাড়া একা ভ্রমণ করা নিয়ে স্থানীয় নিয়মের সঙ্গে তার অবস্থান সাংঘর্ষিক।    এর আগে জালালাবাদে ভ্রমণের অনুমতি নিতে গিয়েও একই সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অরুণিমা জানিয়েছেন। তার দাবি, একা ভ্রমণ করায় তাকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি। বামিয়ানে তাকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াত করাও নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।    ঘটনার এক পর্যায়ে অরুণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চান। তার পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘মুজাহিদিন’ তাকে আটক করেছে এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল চিঠি নেই। ওই পোস্টের সত্যতা সে সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে অরুণিমা নিজেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তাকে থানায় বা কারাগারে নেওয়া হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।    অরুণিমার বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তার আগে বামিয়ানে পৌঁছাতে সহায়তা করা এক স্থানীয় ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করেন। তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কথা বলার পর অরুণিমাকে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন।    ঘটনার পর আফগানিস্তানে নারীদের চলাচল ও ভ্রমণ নিয়ে দেশটির কঠোর বিধিনিষেধ আবারও আলোচনায় এসেছে। অরুণিমার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, নারী একা ভ্রমণ করতে পারবেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী বা গাইড এবং অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব বিধিনিষেধের নির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং তার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে আফগান সরকারের কোনো স্বাধীন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।    অরুণিমা পরে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন এবং আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে উজবেকিস্তানের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রথমে ‘গ্রেপ্তার’ বললেও পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে মূলত আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্রেপ্তারের হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন
পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষক তাসিয়ার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জার্কুয়েস র‍্যাটলিফ। তাঁর বয়স ৫১ বছর। তাসিয়া ফরচুনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার আদালতে তাঁর প্রথম হাজিরা হওয়ার কথা রয়েছে।   গত ৩ আগস্ট জ্যাকসনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাসিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহে তখন পচন ধরার বিভিন্ন পর্যায়ের চিহ্ন ছিল।   জ্যাকসন পুলিশের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের রাতে রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তাসিয়ার মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপরই তদন্তে নতুন করে গতি আসে।   পুলিশ দুটি তল্লাশি পরোয়ানা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে র‍্যাটলিফকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে না পেয়ে সদর দপ্তরে ফিরছিল। এ সময় শহরের একটি রাস্তায় হাঁটারত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, তাসিয়ার সঙ্গে র‍্যাটলিফের কোনো ধরনের পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি পুলিশ প্রধান।   ব্র্যাকনি বলেন, তাসিয়াকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনই কোনো অনুমান করতে চায় না পুলিশ। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।   তিনি বলেন, “এই গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এটিই তদন্তের শেষ নয়।”   তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হয়েছে।   তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিসিসিপিতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।   এর মধ্যে ২১ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী ট্রে রিডকে ডেল্টা স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে এবং ভিক্সবার্গে ৩০-এর কোঠায় থাকা গৃহহীন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি কোরি জুকাটিসকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনের মৃত্যুকেই আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল।   তাসিয়ার ঘটনায় অবশ্য তদন্তের চিত্র ভিন্ন। ময়নাতদন্তে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   তবে পুলিশ প্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, র‍্যাটলিফের গ্রেপ্তারকে তদন্তের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলছে এবং সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরা
স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার জেড়ে প্রতিবেশী নারীর মুখে মল ছুরলেন স্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওপা-লকার এক নারীকে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর এবং মুখে মল ছোড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে তার স্বামীর যৌন সম্পর্ক রয়েছে - এমন সন্দেহ থেকেই তিনি ওই নারীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।   ঘটনাটি ঘটে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রয়্যাল কান্ট্রি মোবাইল হোমস এলাকায়। পুলিশি নথি অনুযায়ী, মাচাদো রিভেরা প্রতিবেশীর বাসার দরজায় গিয়ে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। দরজা খোলার পর তিনি ওই নারীকে তার স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মাচাদো রিভেরা জোর করে প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে তাকে ধাক্কা দেন। এরপর বেরিয়ে যাওয়ার আগে একটি বালতিতে থাকা মানবমল ওই নারীর দিকে ছুড়ে মারেন বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে।   পুলিশ আরও বলেছে, ঘটনার আগে মাচাদো রিভেরা এক প্রত্যক্ষদর্শীকে জানিয়েছিলেন যে তিনি একটি বালতিতে মল রেখে সেটি প্রতিবেশীর মুখে ছুড়ে মারার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।   তবে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মাচাদো রিভেরা ভিন্ন দাবি করেন। তার ভাষ্য, বাড়ির টয়লেট নষ্ট থাকায় তিনি বালতিটি ব্যবহার করছিলেন এবং সেটির মল ফেলার চেষ্টা করছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে তাদের মধ্যে বালতির মলের দুর্গন্ধ নিয়ে তর্ক হয়েছিল।   মাচাদো রিভেরা আরও অভিযোগ করেন, ওই নারী তাকে মাথায় ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছিলেন। তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢোকা এবং তার দিকে মল ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের নথিতে তার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে এই দাবির অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে।   এ ঘটনায় মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ব্যাটারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন না দেওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
নিহত তরুণীর  সোফিয়া ফারুক ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বাবা-ভাইয়ের ক্ষোভ, হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক ব্যর্থ

গুজরাটের আহমেদাবাদে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এক তরুণের সঙ্গে ওই তরুণীর একটি ভিডিও কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া ফারুক। তিনি আহমেদাবাদের সারখেজ এলাকার বাসিন্দা এবং জুহাপুরার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ তার বাবা ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফারুক নওয়াবখান এবং ভাই ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাবিল ফারুককে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে।   ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বা হিট-অ্যান্ড-রান হিসেবে সামনে আসে। গত ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়া তার ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন এবং পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত যান তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় - এমন অভিযোগ করা হয়েছিল। গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে তাকে জিএমইআরএস সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    তবে তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়, কথিত দুর্ঘটনার ঘটনাটি সাজানো। যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ কোনো দুর্ঘটনার অস্তিত্ব পায়নি। ময়নাতদন্তেও মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কথা উঠে আসে। এরপর তদন্তের গতিপথ বদলে যায়।   পুলিশের দাবি, সোফিয়াকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত দুর্ঘটনার গল্প তৈরি করে তদন্তকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।   পুলিশ আরও বলছে, সোফিয়ার এক তরুণ বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রায় তিন মাস আগে ভাইরাল হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই বিষয়টি নিয়ে তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। এরপর তার অন্য তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক সম্মান রক্ষার ধারণা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।   এ ঘটনায় প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ তদন্ত করলেও পরে হত্যার সন্দেহ জোরালো হলে মামলা সারখেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা হাতুড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ
বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ, কলেজশিক্ষার্থী কারাগারে

গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার কলেজশিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।   সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার মো. সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তার বাসায় ৪ হাজার টাকা এবং আগের মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার অভিযোগ, এই বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।   পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর গাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।   গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   ওসি আরও বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে সিফাত আব্দুল্লাহর রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
টাম্পায় ৯৩ বছর বয়সী এক নারীর অ্যাপার্টমেন্টে অনুপ্রবেশের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রস। ছবি: সংগৃহীত
টাম্পায় ৯৩ বছরের নারীর বিছানার পাশে অচেনা যুবক, ৯১১ কলে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুমিয়ে থাকা ৯৩ বছর বয়সী এক নারী ঘুম থেকে উঠে বিছানার পায়ের কাছে এক অচেনা যুবককে দেখতে পান। ঘটনাটি ঘটে ৩০ আগস্ট সকালে। পরে অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রসকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের গোয়েন্দারা।   শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী ঘুম থেকে উঠে নরক্রসকে তার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি তাকে নিজের নাতি মনে করে কাছে ডাকেন। পরে বুঝতে পারেন, লোকটি তার পরিচিত কেউ নন।   ওই নারী জানান, তাকে উঠতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। তখন নরক্রস তার হাত ঘষতে শুরু করেন এবং তাকে ওষুধ এনে দেওয়ার কথা বলেন। নারীটি তাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চলে যেতে বললে তিনি পেছনের কাচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান।   তবে কিছুক্ষণ পর নরক্রস আবার ফিরে এসে সামনের দরজা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজাটি তখন লক করা ছিল। পরে তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নরক্রসকে শনাক্ত করেন।   ১ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বসবাসরত ব্যক্তিসহ বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনা ঘটলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নরক্রসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার
শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৪ নিখোঁজ শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০ দিনের এক যৌথ ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২৪ নিখোঁজ শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘অপারেশন নিউ ডন’ নামে এই অভিযানে ১১টি ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অংশ নেয়।    মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৪০টি নতুন ফেডারেল ফৌজদারি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ডাকাতি, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড, ফেন্টানিল ও অন্যান্য মাদক পাচার, অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং শিশুদের শোষণের মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে।    অভিযানটি শুরু হয় ১ মে এবং এতে এফবিআই, ডিইএ, এটিএফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা অংশ নেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পৃথক পরিচয়ের বদলে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।    অভিযানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলোর একটি হলো ২৪ শিশুকে খুঁজে বের করা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অনেককেই অপহৃত বা নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছিল। পরে শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।    অভিযানে মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিইএর কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে।    তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষণায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সবাইকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৩০৫ জনের মধ্যে ১৭৯ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে।    ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশন নিউ ডনের লক্ষ্য ছিল শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় সহিংস অপরাধ এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাহত করা। শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার ঘটনাটি অভিযানের মানবিক দিকটিকেও সামনে এনেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস
মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের মকেনায় আটটি মলোটভ ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৩১ বছর বয়সী জর্ডানীয় নাগরিক হ্যামেদ মোহাম্মদ হ্যামেদ আলসাইদিকে আদালত থেকে মুক্তি দেওয়ার পর আবার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইস। স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে এখন অস্ত্র, অভিবাসন ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তদন্ত চলছে।    ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট ভোরে। মকেনা পুলিশ ১৯১তম স্ট্রিট ও লা গ্রাঞ্জ রোড এলাকায় আলসাইদিকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে। পুলিশ তাকে থামালে তিনি নিজের নাম হাকমাত সাইদি বলে পরিচয় দেন বলে কর্মকর্তারা জানান। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার ব্যাকপ্যাক থেকে আটটি কাচের বোতল পাওয়া যায়। বোতলগুলোতে দাহ্য তরল এবং কাপড়ের অংশ ছিল, যা তদন্তকারীরা মলোটভ ককটেল হিসেবে চিহ্নিত করেন।    ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায় যখন পুলিশ তার ব্যাকপ্যাকে একটি এলাকার হাতে আঁকা মানচিত্র এবং ‘মসজিদ’ শব্দ লেখা একটি কাগজ পায়। পুলিশের দাবি, মানচিত্রে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার একটি মসজিদ বা প্রার্থনাকেন্দ্রের অবস্থানের ইঙ্গিত ছিল। এ কারণে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে আলসাইদি ওই স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন—এমন অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    পুলিশের পাশাপাশি অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী ফেডারেল সংস্থা—এটিএফ, এফবিআই এবং ইলিনয় স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় তদন্তে যুক্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলসাইদি এর আগে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছেও সন্দেহজনক অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে অন্য একটি খোলা গ্যাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।    প্রাথমিকভাবে আলসাইদির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকানাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুরক্ষা আদেশও ছিল। প্রসিকিউটররা তাকে পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।    তবে ৩ আগস্ট উইল কাউন্টির এক বিচারক তাকে কারাগারে না রেখে ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্তে মুক্তি দেন। এরপর ৪ আগস্ট আইস কর্মকর্তারা তাকে আবার আটক করেন। শিকাগো সান-টাইমসও জানিয়েছে, আদালত থেকে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়।    আইসের দাবি, আলসাইদির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেওয়ার পর আইস কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করে আটক করেন। তবে ‘অভয়-শহর নীতি’র কারণে তাকে ছাড়া হয়েছিল—এটি মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির বিষয়টিকে সরাসরি ওই নীতির ফল হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।    এরই মধ্যে মামলাটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলসাইদির বিরুদ্ধে নিবন্ধনহীন ধ্বংসাত্মক যন্ত্র রাখার আটটি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাজা ৮০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।    ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট মকেনায় আলসাইদির কাছে প্রায় আটটি কাচের বোতল ছিল, যেগুলোতে দাহ্য তরল ও আগুন ধরানোর উপযোগী উপাদান ছিল। প্রতিটি বোতলকে আলাদা একটি ধ্বংসাত্মক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে।    তদন্তে আরও জানা গেছে, আলসাইদি ইলিনয়ে বসবাস করতেন এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে জর্ডানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে তার অভিবাসন-ইতিহাস নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কিছু দাবি রয়েছে; এসব দাবিকে আলাদা করে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই নিরাপদ।   বর্তমানে আলসাইদি আইসের হেফাজতে রয়েছেন এবং ফেডারেল মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা। একই সঙ্গে মলোটভ ককটেলগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার, মানচিত্রে মসজিদের অবস্থান কেন ছিল এবং তিনি কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিলেন কি না—এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ভাড়া নেওয়া একটি ভিলায় বারবিকিউ করার পর সেখান থেকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় রেথিমনো অঞ্চলের সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কাছাকাছি কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নিতে হয়।   গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, পর্যটকদের দলটি যে ভিলায় অবস্থান করছিল, তার উঠান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, বারবিকিউ গ্রিল থেকে উড়ে যাওয়া আগুনের ফুলকি প্রবল বাতাসে পাশের শুকনো ঘাস ও গাছপালায় পড়ে আগুন ছড়িয়ে দেয়।    আগুনের সময় ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল বেশ বেশি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে আশপাশের কৃষিজমি ও জলপাই বাগান হুমকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, তিনটি বিশেষ দাবানল ইউনিট, একাধিক গাড়ি, হেলিকপ্টার, পানির ট্যাংকার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।   আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রিসের ১১২ জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে আশপাশের বাসিন্দাদের বার্তা পাঠানো হয়। ফোতিনারি ও সৌদা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ারফাইটাররা।    তদন্তে ভিলার মালিক দাবি করেছেন, তীব্র দাবানল ঝুঁকির কারণে অতিথিদের সেখানে বারবিকিউ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, অতিথিরা পৌঁছানোর পর মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি লিখিতভাবেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও পর্যটকদের দলটি গ্রিল ব্যবহার করে বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।    গ্রিসে উচ্চ দাবানল ঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ, শুকনো গাছপালা পোড়ানো এবং আগুনের ফুলকি তৈরি করতে পারে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ দাবানলের কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।    অভিযুক্ত পর্যটক অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, প্রবল বাতাসের মধ্যে বারবিকিউ ব্যবহার করা যাবে না, এমন কোনো স্পষ্ট মৌখিক বা দৃশ্যমান লিখিত সতর্কতা তিনি পাননি। তার আইনজীবী ইভ্যানজেলোস ফানোরগাকিস দাবি করেছেন, ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে দেখা যায়, আগুনের সূচনা গ্রিলের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে এবং মাঝখানে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক চিহ্ন ছিল না।    আটকের পর ওই ব্যক্তিকে রেথিমনোর বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে ১০ হাজার ইউরো জামানতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলবে এবং চূড়ান্তভাবে আগুনের জন্য কে দায়ী তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।    ভিলার মালিক স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি অতিথিদের আগেই বারবিকিউ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের আইনজীবী বলছেন, ঘটনার প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে তাদের হাতে থাকা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গ্রিসে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। শুষ্ক আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় বৃষ্টির অভাব এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ১৬ আগস্ট সালামিনা দ্বীপে আরেকটি ভয়াবহ দাবানলে এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।    চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগুন লাগানোর ঘটনায় গ্রিসে ২৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।    কর্তৃপক্ষ বলছে, দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির সময়ে খোলা জায়গায় আগুন ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা ও ফায়ার সেফটি নির্দেশনা অমান্য করলে ফৌজদারি তদন্ত এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ফিফা বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫০ জনের বেশি
ফিফা বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫০ জনের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণ ঠেকাতে চালানো বড় ধরনের আন্ডারকভার অভিযানে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামের এই অভিযানে ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।   সোমবার অভিযানের ফলাফল প্রকাশ করে ট্যারান্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। ট্যারান্ট কাউন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশ্বকাপ চলাকালে কয়েক দফায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৫৬ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা অনলাইনে শিশু সেজে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযুক্তরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের বয়স ৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   অভিযানের অংশ হিসেবে আন্ডারকভার অফিসাররা যৌনকর্মী সেজে অনলাইনে যোগাযোগ করেন, অনলাইনে প্রকাশিত যৌনসেবার বিজ্ঞাপনের জবাব দেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক পরিচয়ে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কথোপকথন চালান। এরপর নির্ধারিত স্থানে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   অভিযানটি একদিনে পরিচালিত হয়নি। আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ১৫, ১৬ ও ১৮ জুন, ফোর্ট ওর্থ পুলিশের সঙ্গে ২৯ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এবং ট্যারান্ট কাউন্টি শেরিফের অফিস ও আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালানো হয়।   জুনের মাঝামাঝি আর্লিংটনে পরিচালিত একটি অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, আন্ডারকভার অফিসারদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগের পর তারা অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে টেক্সাস আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত যৌনসেবা কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে।   জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুতে আরও চারটি সরাসরি আন্ডারকভার অভিযানে একই ধরনের অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও আগে থেকে থাকা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে।   শিশুদের লক্ষ্য করে অনলাইনে যোগাযোগের অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অংশের তদন্তে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ডালাস ফিল্ড অফিস আন্ডারকভার অনলাইন কর্মী, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশ্লেষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, তাদের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটররাও অভিযানের কয়েকটি মামলা পর্যালোচনা করছেন। এরই মধ্যে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ করার চেষ্টার অভিযোগে ফেডারেল চার্জ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তারা এমন একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, যাকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর বলে মনে করেছিলেন। বাস্তবে সেটি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্ডারকভার অপারেশন।   অভিযানে শুধু গ্রেপ্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ইউএস অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে বিভিন্ন সহায়তা সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা আনবাউন্ড নাও জানিয়েছে, বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এসব অভিযানে শনাক্ত ১৫ জনকে তারা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জরুরি পোশাক, যাতায়াত, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, কাউন্সেলিং, শিক্ষা সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এসব সেবার অন্তর্ভুক্ত।   তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। আরও ১৪টি তদন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং কয়েকটি অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট এখনো কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে সামনে আরও গ্রেপ্তার ও নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ট্যারান্ট কাউন্টির এই অভিযানে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, ইউএস অ্যাটর্নির অফিস, এফবিআইয়ের ডালাস ডিভিশন, আর্লিংটন পুলিশ ও ফোর্ট ওর্থ পুলিশসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো বিপুল মানুষের সমাগমের বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনকে মানবপাচারকারীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, আর সে কারণেই বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।   বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ঘিরে উত্তর টেক্সাসে এর আগেও ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এবারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানের তদন্তও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল সিনাগগ যেখানে শাবাতের প্রার্থনার সময় হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের সিনাগগে প্রার্থনার সময় হামলা, বিদ্বেষমূলক অপরাধে গ্রেপ্তার ব্যক্তি

নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে শাবাতের প্রার্থনা চলাকালে সেন্ট্রাল সিনাগগে ঢুকে হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় তাকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ৪৬ বছর বয়সী ল্যারি মন্টেস, যিনি ব্রঙ্কসের বাসিন্দা। তিনি লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের সেন্ট্রাল সিনাগগে শাবাতের প্রার্থনা চলার সময় প্রবেশ করে অনুষ্ঠান ব্যাহত করেন।   নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সিনাগগ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মন্টেস ৬৩ বছর বয়সী এক নারী উপাসককে আঘাত করেন। পরে তিনি এক নিরাপত্তাকর্মীকে মাথা দিয়ে আঘাত ও থুতু দেওয়ার পাশাপাশি উপাসনালয়ের কিছু সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করেন।   ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত এক নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তাই তাকে আটক করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের কেউ গুরুতর আহত হননি এবং ঘটনাস্থলেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। মন্টেসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে দুটি হামলার অভিযোগ এবং একটি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই সিনাগগ বা সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো অতিরিক্ত হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শহরের প্রতিটি মানুষ যেন ভয় ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় উপাসনা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

Unknown আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নোংরা ডায়াপারে দম বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু
নোংরা ডায়াপারে দম বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু, আবর্জনায় ভরা গ্যারেজে রাখার অভিযোগে বাবা-মা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে মাত্র এক বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আবর্জনা, ময়লা ডায়াপার, পশুর মলমূত্র ও অন্যান্য বিপজ্জনক বর্জ্যে ভরা একটি অপরিচ্ছন্ন গ্যারেজে শিশুটিকে রাখা হতো। গত ২৭ জুলাই মলমূত্রে নোংরা একটি ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনায় ২২ বছর বয়সী ডিভান উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা এবং শিশুটির মা ২২ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা প্রাইসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে অ্যালেন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আগামী ১২ আগস্ট অ্যালেন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন উইলিয়ামস। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, শিশুটি মলমূত্রযুক্ত ডায়াপারের অংশ খাওয়ার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি আরও জানান, এর আগেও শিশুটি নোংরা ডায়াপার মুখে নিয়েছিল।   শিশুটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মুখে রক্তপাত ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এসব আঘাতকে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে।   তদন্তে শিশুটির থাকার পরিবেশ নিয়েও ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন গ্যারেজে বসবাস করত। সেখানে প্রচুর আবর্জনা, বিয়ার ক্যান, ব্যবহৃত ডায়াপার এবং বিড়ালের মূত্র ছিল। শিশুটির খেলার খাঁচাটিও দূষিত মেঝের ওপর রাখা ছিল।   পুলিশের পরিদর্শনে ওই এলাকায় পশুর মূত্র ও মল, কাঁচা পয়ঃবর্জ্য, পচনশীল প্রাণীর দেহাবশেষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘরটিতে মাছি ও মাকড়সার উপস্থিতি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবও ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে বাইরে ব্যবহারের পানির পাইপ দিয়ে গোসল করানো হতো। এমনকি উইলিয়ামস শিশুটিকে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়াতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির মা তাকে এ ধরনের খাবার না দিতে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি নিয়মিত ডায়াপার, সোফার কুশনসহ অনিরাপদ বিভিন্ন জিনিস মুখে নিত। পরিবারের সদস্যরাও শিশুটির চারপাশের পরিবেশ যে অত্যন্ত নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যা তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত নোংরা ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।   অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আগামী শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের সম্পত্তির দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার হিডেন হিলস এলাকায় তারকা কিম কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।   রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে খবর আসে, ওই সম্পত্তিতে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঢুকে পড়েছেন এবং পরে সেখান থেকে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। সম্পত্তিটির নিরাপত্তাকর্মী সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের পর সম্পত্তি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে একটি গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। পরে তিনি ওই গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যবহৃত গাড়িটি কার্দাশিয়ানের একজন কর্মীর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির মালিকানা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশি সূত্রের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি কার্দাশিয়ানের এক কর্মীর। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং সম্পত্তি থেকে ঠিক কী কী নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।   কার্দাশিয়ান বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করেন না। সম্পত্তিটি সংস্কারের কাজ চলায় তিনি ও তার সন্তানরা সেখানে ছিলেন না। ফলে ঘটনার সময় বাড়িতে কার্দাশিয়ান বা তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস জানিয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীর নজরে সন্দেহজনক তৎপরতা আসার পর দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।   এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সন্দেহভাজনকে আটক করে।এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন সম্পত্তিতে সন্দেহভাজনের প্রবেশ, গাড়ি ব্যবহারের ঘটনা এবং সম্ভাব্য চুরির বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   হিডেন হিলস লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার একটি সুরক্ষিত ও অভিজাত আবাসিক সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। সেখানে তারকা ও ধনী ব্যক্তিদের একাধিক বাড়ি রয়েছে। ফলে কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে এমন ঘটনা স্থানীয়ভাবে বিশেষ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।   এটি কিম কার্দাশিয়ানের জন্য নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নয়। ২০১৬ সালে প্যারিসে অবস্থানের সময় তিনি সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন। তবে এবারের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়ায় তার মালিকানাধীন একটি সংস্কারাধীন সম্পত্তিতে ঘটেছে এবং সে সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

Unknown আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়, ইন্ডিয়ানায় গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কান্না থামানোর চেষ্টা হিসেবে মাত্র ৯ দিনের এক নবজাতকের মুখে বারবার কামড় দেওয়ার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর তার পুরো বাঁ গালে গুরুতর কালশিটে ও কামড়ের দাগ দেখা গেলে ঘটনাটি সামনে আসে।   আদালতের নথির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম কেডেন শ্রাম। গত ১৫ জুলাই শিশুটিকে ব্লুমিংটনের এক শিশু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক আঘাতগুলো দেখে ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব চাইল্ড সার্ভিসেস এবং পুলিশকে জানান। শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    তদন্তকারীদের কাছে শ্রাম দাবি করেন, ভোর প্রায় চারটার দিকে শিশুটি তার তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় কান্না শুরু করে। কান্না থামাতে প্রথমে তিনি শিশুটির গালে হালকা কামড় দিতে শুরু করেন। পরে সেটি আরও সহিংস হয়ে ওঠে এবং তিনি শিশুটির গালের চামড়ে বারবার জোরে কামড় দেন বলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর শিশুটির মুখের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রাম একটি অত্যন্ত অমানবিক মন্তব্য করেন। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যও মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   হাসপাতালে থাকা অবস্থায় শ্রাম পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটির আঘাতের জন্য নিজেকে দায়ী করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তের সঙ্গে নবজাতকের সম্পর্ক কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।   কেডেন শ্রামের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে আঘাত করার অভিযোগে ফেলোনি ব্যাটারি চার্জ আনা হয়েছে। পৃথক কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাটারি, ক্রিমিনাল রেকলেসনেস এবং মিসডিমিনর ব্যাটারির অভিযোগও রয়েছে বলে কোর্ট রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুর ওপর নির্যাতনের মামলায় ২১ জুলাই তিনি ৫ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছিলেন। পরে অন্য মামলার বন্ড বাতিলসংক্রান্ত ওয়ারেন্টে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।   ঘটনাটি শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ এবং নবজাতকের কান্নার সময় নিরাপদভাবে পরিস্থিতি সামলানোর গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইন্ডিয়ানায় শিশু নির্যাতন বা অবহেলার সন্দেহ হলে রাজ্যের চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট হটলাইনে পরিচয় গোপন রেখেও রিপোর্ট করা যায়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানে এক থানার সব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
তরুণীকে ধর্ষণ, পাকিস্তানে এক থানার সব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

পাকিস্তানের লাহোরের গাজীবাদ থানায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, তদারকিতে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগে থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও)সহ মোট ৭৮ জন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।   লাহোর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তদন্ত শাখার এএসআই ইমরান। অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তরুণীর পরিবারকে জানিয়ে তিনি তাকে মোটরসাইকেলে করে গাজীবাদ থানা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান। পরে থানার ভেতরের একটি কক্ষে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন।   ঘটনার পর অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।   মঙ্গলবার ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরানের নির্দেশে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনার রাতে তিনি নিজে গাজীবাদ থানা পরিদর্শন করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করার কারণে থানার এসএইচওসহ পুরো স্টাফকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।   বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন একজন এসএইচও, দুইজন সাব-ইনস্পেক্টর, আটজন এএসআই, ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মচারীসহ মোট ৭৮ জন।   ডিআইজি ফয়সাল কামরান বলেন, থানার ভেতরে কী ঘটছে সে বিষয়ে এসএইচওর পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা উচিত। দুর্বল তদারকি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   লাহোর পুলিশের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, থানায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এবং পেশাদার কর্মপরিবেশ বজায় রাখা এসএইচও ও সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।   এদিকে বরখাস্তের পর গাজীবাদ থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আলী জেব দস্তগীরকে নতুন স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
‘পিস্তল’ দেখিয়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি
‘পিস্তল’ দেখিয়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি, গ্রেপ্তারের পর দেখা গেল সেটি ‘লাইটার’

গাজীপুরের শ্রীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পিস্তল প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই পিস্তলসদৃশ বস্তু দেখিয়ে স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং যৌতুক দাবির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।   সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর জেলা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের দয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রিপন মিয়া ও শামীমা দম্পতির ছেলে।   পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ইমন তার টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে এলে সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়।   অভিযানের সময় ভিডিওতে প্রদর্শিত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, সেটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়; বরং পিস্তল আকৃতির একটি লাইটার।   তদন্তে আরও জানা যায়, ইমন ওই লাইটারটি ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন। এছাড়া একই বস্তু দেখিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়মিত ভয় দেখিয়ে যৌতুক দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা (২২) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।   শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, টিকটকে অস্ত্রসদৃশ লাইটার প্রদর্শন করে ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার নিউবেরি পার্কে কয়েক মাসব্যাপী তদন্তের পর তিন বাসিন্দাকে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। অভিযানে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ তদন্তের পর তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টির নিউবেরি পার্ক এলাকায় কয়েক মাস ধরে চলা বহুধাপের অপরাধ তদন্তের পর তিন বাসিন্দাকে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার ভেনচুরা কাউন্টি    শেরিফের দপ্তর জানায়, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চালানো হচ্ছিল। তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি, তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।   অভিযানের সময় কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। জব্দ করা সামগ্রীর ফরেনসিক পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ চলছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই নিউবেরি পার্কের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে মাদক রাখার, বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক সংরক্ষণের, অবৈধ অস্ত্র রাখার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় অতিরিক্ত অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।   ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

Unknown আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
হামাসকে অর্থ ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার
হামাসকে অর্থ ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি

হামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুরস্কের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে হামাসের জন্য অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহে কাজ করতেন।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার হবে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটির জন্য অর্থ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি হামাসের জন্য সহায়তা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।   মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই মামলাটিও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস
জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে আটক করেছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গবেষকের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গবেষক একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে আইস কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে তাকে অভিবাসন হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তাকে আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি।    জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি তার আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আইনি সহায়তা দিচ্ছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর, কর্মস্থল ও অন্যান্য স্থানে আইসের অভিযান বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এসব অভিযানে বৈধ কাগজপত্রধারী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও গবেষকদেরও আটকের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে।    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বিদেশি গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকায় এ ধরনের গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
১৬৭.৩ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল লটারি জিতে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া জেমস ফার্দিং
১৬৭ মিলিয়ন ডলারের লটারি জিতেও বদলায়নি স্বভাব, এক বছরে চারবার গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ১৬৭.৩ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল লটারি জিতে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া জেমস ফার্দিং আবারও খবরের শিরোনাম হয়েছেন। তবে এবার কোনো দাতব্য কাজ বা ইতিবাচক অর্জনের জন্য নয়, লটারি জেতার এক বছরের মাথায় চতুর্থবারের মতো পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি সংবাদের শিরোনামে এসেছেন। পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর অভিযোগে রোববার তাকে স্কট কাউন্টি জেল হাজতে পাঠানো হয়।   পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫১ বছর বয়সী জেমস ফার্দিং একটি বোট ভ্রমণ শেষে ফেরার পর এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং ওই নারীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগী নারীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির স্ট্র্যাঙ্গুলেশন (শ্বাসরোধ) এবং পারিবারিক নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে।   মঙ্গলবার আদালতে জেমস নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে বিচারক ১৫ হাজার ডলারের মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করে তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরানোর নির্দেশ দেন। অথচ ২০২৫ সালের এপ্রিলে জ্যাকপট জেতার পর নিজের মায়ের সমস্ত ঋণ পরিশোধ ও অর্থ ভাগ করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি।   বিশাল অঙ্কের এই লটারি জেতার পর থেকেই একের পর এক আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন জেমস। জ্যাকপট পাওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ২০২৫ সালের মে মাসে ফ্লোরিডার এক রিসোর্টে পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মেরে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র-মাদক রাখার অভিযোগে দ্বিতীয়বার এবং মার্চ মাসে ১২ হাজার ডলার চুরির অভিযোগে তৃতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হন তিনি। ১৯৯৪ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকের পুরোনো অপরাধের রেকর্ড থাকলেও, লটারি বিজয়ী হওয়ার পরও তার জীবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো লাগাম টানা সম্ভব হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০