- প্রচ্ছদ
- Topic
গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কান্না থামানোর চেষ্টা হিসেবে মাত্র ৯ দিনের এক নবজাতকের মুখে বারবার কামড় দেওয়ার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর তার পুরো বাঁ গালে গুরুতর কালশিটে ও কামড়ের দাগ দেখা গেলে ঘটনাটি সামনে আসে। আদালতের নথির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম কেডেন শ্রাম। গত ১৫ জুলাই শিশুটিকে ব্লুমিংটনের এক শিশু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক আঘাতগুলো দেখে ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব চাইল্ড সার্ভিসেস এবং পুলিশকে জানান। শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের কাছে শ্রাম দাবি করেন, ভোর প্রায় চারটার দিকে শিশুটি তার তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় কান্না শুরু করে। কান্না থামাতে প্রথমে তিনি শিশুটির গালে হালকা কামড় দিতে শুরু করেন। পরে সেটি আরও সহিংস হয়ে ওঠে এবং তিনি শিশুটির গালের চামড়ে বারবার জোরে কামড় দেন বলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর শিশুটির মুখের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রাম একটি অত্যন্ত অমানবিক মন্তব্য করেন। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যও মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় শ্রাম পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটির আঘাতের জন্য নিজেকে দায়ী করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তের সঙ্গে নবজাতকের সম্পর্ক কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। কেডেন শ্রামের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে আঘাত করার অভিযোগে ফেলোনি ব্যাটারি চার্জ আনা হয়েছে। পৃথক কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাটারি, ক্রিমিনাল রেকলেসনেস এবং মিসডিমিনর ব্যাটারির অভিযোগও রয়েছে বলে কোর্ট রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুর ওপর নির্যাতনের মামলায় ২১ জুলাই তিনি ৫ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছিলেন। পরে অন্য মামলার বন্ড বাতিলসংক্রান্ত ওয়ারেন্টে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ এবং নবজাতকের কান্নার সময় নিরাপদভাবে পরিস্থিতি সামলানোর গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইন্ডিয়ানায় শিশু নির্যাতন বা অবহেলার সন্দেহ হলে রাজ্যের চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট হটলাইনে পরিচয় গোপন রেখেও রিপোর্ট করা যায়।
পাকিস্তানের লাহোরের গাজীবাদ থানায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, তদারকিতে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগে থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও)সহ মোট ৭৮ জন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। লাহোর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তদন্ত শাখার এএসআই ইমরান। অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তরুণীর পরিবারকে জানিয়ে তিনি তাকে মোটরসাইকেলে করে গাজীবাদ থানা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান। পরে থানার ভেতরের একটি কক্ষে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরানের নির্দেশে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনার রাতে তিনি নিজে গাজীবাদ থানা পরিদর্শন করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করার কারণে থানার এসএইচওসহ পুরো স্টাফকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন একজন এসএইচও, দুইজন সাব-ইনস্পেক্টর, আটজন এএসআই, ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মচারীসহ মোট ৭৮ জন। ডিআইজি ফয়সাল কামরান বলেন, থানার ভেতরে কী ঘটছে সে বিষয়ে এসএইচওর পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা উচিত। দুর্বল তদারকি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লাহোর পুলিশের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, থানায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এবং পেশাদার কর্মপরিবেশ বজায় রাখা এসএইচও ও সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এদিকে বরখাস্তের পর গাজীবাদ থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আলী জেব দস্তগীরকে নতুন স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
গাজীপুরের শ্রীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পিস্তল প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই পিস্তলসদৃশ বস্তু দেখিয়ে স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং যৌতুক দাবির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর জেলা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের দয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রিপন মিয়া ও শামীমা দম্পতির ছেলে। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ইমন তার টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে এলে সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ভিডিওতে প্রদর্শিত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, সেটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়; বরং পিস্তল আকৃতির একটি লাইটার। তদন্তে আরও জানা যায়, ইমন ওই লাইটারটি ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন। এছাড়া একই বস্তু দেখিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়মিত ভয় দেখিয়ে যৌতুক দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা (২২) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, টিকটকে অস্ত্রসদৃশ লাইটার প্রদর্শন করে ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টির নিউবেরি পার্ক এলাকায় কয়েক মাস ধরে চলা বহুধাপের অপরাধ তদন্তের পর তিন বাসিন্দাকে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চালানো হচ্ছিল। তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি, তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। জব্দ করা সামগ্রীর ফরেনসিক পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই নিউবেরি পার্কের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে মাদক রাখার, বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক সংরক্ষণের, অবৈধ অস্ত্র রাখার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় অতিরিক্ত অভিযোগ যুক্ত হতে পারে। ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
হামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুরস্কের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে হামাসের জন্য অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহে কাজ করতেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার হবে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটির জন্য অর্থ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি হামাসের জন্য সহায়তা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই মামলাটিও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে আটক করেছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গবেষকের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গবেষক একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে আইস কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে তাকে অভিবাসন হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তাকে আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি তার আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আইনি সহায়তা দিচ্ছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর, কর্মস্থল ও অন্যান্য স্থানে আইসের অভিযান বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এসব অভিযানে বৈধ কাগজপত্রধারী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও গবেষকদেরও আটকের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বিদেশি গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকায় এ ধরনের গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ১৬৭.৩ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল লটারি জিতে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া জেমস ফার্দিং আবারও খবরের শিরোনাম হয়েছেন। তবে এবার কোনো দাতব্য কাজ বা ইতিবাচক অর্জনের জন্য নয়, লটারি জেতার এক বছরের মাথায় চতুর্থবারের মতো পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি সংবাদের শিরোনামে এসেছেন। পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর অভিযোগে রোববার তাকে স্কট কাউন্টি জেল হাজতে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫১ বছর বয়সী জেমস ফার্দিং একটি বোট ভ্রমণ শেষে ফেরার পর এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং ওই নারীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগী নারীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির স্ট্র্যাঙ্গুলেশন (শ্বাসরোধ) এবং পারিবারিক নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে জেমস নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে বিচারক ১৫ হাজার ডলারের মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করে তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরানোর নির্দেশ দেন। অথচ ২০২৫ সালের এপ্রিলে জ্যাকপট জেতার পর নিজের মায়ের সমস্ত ঋণ পরিশোধ ও অর্থ ভাগ করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। বিশাল অঙ্কের এই লটারি জেতার পর থেকেই একের পর এক আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন জেমস। জ্যাকপট পাওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ২০২৫ সালের মে মাসে ফ্লোরিডার এক রিসোর্টে পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মেরে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র-মাদক রাখার অভিযোগে দ্বিতীয়বার এবং মার্চ মাসে ১২ হাজার ডলার চুরির অভিযোগে তৃতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হন তিনি। ১৯৯৪ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকের পুরোনো অপরাধের রেকর্ড থাকলেও, লটারি বিজয়ী হওয়ার পরও তার জীবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো লাগাম টানা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে এবং তার আরও পাঁচ সহযোগীকে পৃথক অভিযানে আটক করা হয়। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী নজরদারির সফল পরিণতি হিসেবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম নিজেই ফোর্সের সঙ্গে এই অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রায় সাত দিন ধরে ডেভিড ইমনের গতিবিধির ওপর নিবিড় নজরদারি চালানোর পর বুধবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই যশোর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে এই সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হানকে ধরার জন্য একই সময়ে অভিযান চালানো হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। পলাতক রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ডেভিড ইমনকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি গত ১৩ জুলাই দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনায় তার নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, হামলার মাত্র দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয়ে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়েছিল, চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। সেই অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করার জের ধরেই কার্যালয়ে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে বিয়ের ঠিক এক দিন আগে একটি চার্চে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের দাবি, ওই নারী নিজেই তার বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল এমন একটি এলডিএস চার্চে অগ্নিসংযোগ করেন। ঘটনাটি ডেভিস কাউন্টির একটি চার্চে ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার পর তদন্তে সন্দেহের তীর যায় ২৬ বছর বয়সী ওই কনের দিকে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করছেন, বিয়ের আগের দিন পরিকল্পিতভাবে চার্চের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের কারণে চার্চ ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি। তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্ত নারী কেন এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তার কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পুলিশ তার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। গ্রেপ্তারের পর ওই নারীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আদালতে চলবে। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, কারণ একটি বিয়ের আয়োজনের ঠিক আগে ধর্মীয় স্থাপনায় এমন ঘটনা ঘটায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
নিউইয়র্কের কুইন্সে চলতি বছরের মার্চে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজনকে জর্জিয়ায় আটক করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী লুইস বেলিসকে জর্জিয়ার লরেন্সভিল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম জাইর হাভিয়ের ভিনসেস-কোবেনা, বয়স ৩৬ বছর। পুলিশ জানায়, গত ১৩ মার্চ সন্ধ্যার দিকে কুইন্সের করোনা এলাকার ৫৫তম অ্যাভিনিউতে নিজ বাসার কাছে অবস্থানকালে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালানো হয়। হামলার সময় তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভিনসেস-কোবেনাকে দ্রুত এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারীরা মোটরচালিত একটি মোপেডে করে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনকে শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় লুইস বেলিসকে জর্জিয়ায় আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসমক্ষে জানানো হবে। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটিতে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আইনজীবী হওয়ার কোনো বৈধ অনুমতি বা সনদ না থাকলেও আদালতে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি সফলভাবে ২৬টি মামলা পরিচালনা করে জয় পেয়েছিলেন। পরে তার পরিচয় ফাঁস হয়ে গ্রেপ্তার হলে ঘটে আরও অবাক করা ঘটনা—নিজের মামলাতেই তিনি নিজেই নিজের পক্ষে সওয়াল করেন এবং সেখানেও জয় পান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রচারিত এই গল্পের বিস্তারিত তথ্য, ব্যক্তির পরিচয়, স্থান ও আদালতের নথি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে একটি আলোচিত আইন-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও এর সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন প্রয়োজন। ভুয়া পরিচয়ে আইন পেশায় যুক্ত হওয়া অনেক দেশে প্রতারণা ও আদালত অবমাননার মতো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত আদালত ওই ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা যাচাই করে এবং পূর্বে পরিচালিত মামলাগুলোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আদালতের নির্দেশনার ওপর। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে সঠিক তথ্য ও যোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ মিথ্যা পরিচয়ে আইনজীবীর ভূমিকা নিলে তা শুধু আদালতের নিয়ম ভঙ্গ নয়, বরং বিচারপ্রার্থীদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—যদি দাবিটি সত্য হয়, তাহলে একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করলেন এবং একাধিক মামলায় সাফল্য পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে এটি আইন পেশায় যাচাই-বাছাই ব্যবস্থার গুরুত্বও সামনে নিয়ে এসেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে ১২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ফিলিস্তিন সেন্টার ফর প্রিজনারস অ্যাডভোকেসি’ (সামিদুন) এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীরের নাবলুস, তুলকারেম ও হেবরন এলাকায় সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা। সম্প্রতি একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের জমিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সামিদুনের অভিযোগ, অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং আটকদের মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি অভিযানে ইসরায়েলি সেনাদের পাশাপাশি সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও অংশ নিয়েছে। এসব অভিযান সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামিদুন ইসরায়েলি বাহিনীর এই অভিযানকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংগঠনটি বলেছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান চাপ ও সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ভারতের মহারাষ্ট্র শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬) প্রশ্নফাঁস মামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়। পরে পুনে বিমানবন্দরে আনা হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) এর আগে উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই গোপনে সেটির কপি বাইরে পাচার করা হয়। বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ছাপাখানার কর্মী নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর ছাপার সময় গোপনে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে সেটি ছাপাখানার সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তের হাতে যায় এবং তিনিই পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেন। পুলিশের ভাষ্য, সঞ্জয় কুমার শর্মা আগে ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং সোনু কুমারও একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় তারা প্রশ্নপত্রে অবৈধভাবে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের যোগাযোগ, প্রশ্নফাঁসের বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা জানতে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে রিমান্ডের অনুমতি দেন। এদিকে তদন্তের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে জানান, কার্তুজগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো নিজের কাছে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র টিইটি পরীক্ষা রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তদন্তকারীরা এখন পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং প্রশ্নপত্র কতজনের কাছে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে সেন্ট্রাল পার্কের কাছাকাছি প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পথচারীর ওপর পৃথক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সম্ভাব্য বিদ্বেষপ্রসূত (হেট ক্রাইম) হামলা কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার কিছু পর প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে ওয়েস্ট ৮৪তম স্ট্রিট ও সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্ট এলাকায়। ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। কয়েক মিনিট পর ওয়েস্ট ৮৬তম স্ট্রিট ও আমস্টারডাম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৫০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির ওপর হামলা চালানো হয়। দুই আহতকেই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ৫১ বছর বয়সী রাউল মোরালেসকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, হামলাকারীর সঙ্গে দুই ভুক্তভোগীর কারও পূর্বপরিচয়ের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী হামলার সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি “আল্লাহু আকবার” বলে চিৎকার করেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তদন্তে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের সম্ভাবনার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘৃণাপ্রসূত সহিংসতার কোনো স্থান শহরে নেই। একই সঙ্গে তিনি আহত দুজনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পর সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
ফ্লোরিডার পিনেলাস পার্কে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী সন্তান প্রসবের পর তার চাচা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী নিজের গর্ভধারণের বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগ গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে হেলেন হাওয়ার্থ পার্ক থেকে এক নবজাতক উদ্ধারের পর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, নবজাতক ও ১২ বছর বয়সী মা উভয়কেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁরা সুস্থ আছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিজের গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানতেন না। তবে তিনি পিনেলাস পার্কের একটি বাসায় গত এক বছর ধরে তার চাচার দ্বারা একাধিকবার যৌন নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সী ডেলফিন ব্যাক নামে ওই চাচাকে গ্রেপ্তার করে পিনেলাস কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নিপীড়নের (ক্যাপিটাল সেক্সুয়াল ব্যাটারি) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও তথ্য জানতে পারে এমন যে কাউকে পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মার্টিন কাউন্টিতে একটি বাড়ি থেকে ৭০ থেকে ৮০টি বিড়াল ও কুকুরকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখার অভিযোগে ৭৭ বছর বয়সী গেইল জিউস্তিনোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আদালতের তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে অভিযোগ আসে যে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের একজন কর্মী তার দায়িত্ব পালনের সময় পথের বিড়াল সংগ্রহ করছেন। তদন্তে গেইল জিউস্তিনোর নাম সামনে আসে। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, প্রচণ্ড গরম এবং বাতাস চলাচলের প্রায় কোনো ব্যবস্থা না থাকার চিত্র দেখতে পান। শেরিফ জন বাডেনসিয়েক জানান, বাড়ির কিছু অংশে প্রায় এক ফুট পর্যন্ত প্রাণীর মল জমে ছিল। সেখানে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল না। বাড়ির ভেতরের পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর ছিল যে উদ্ধারকাজ সহজ করতে ফায়ার রেসকিউ সদস্যদের দিয়ে ঘরটি বাতাস চলাচলের উপযোগী করা হয়। গেইল জিউস্তিনো কর্তৃপক্ষকে জানান, তার বাড়িতে অন্তত ৭০টি খাঁচাবন্দি বিড়াল রয়েছে। তবে অভিযানের সময় বিড়াল ও কুকুর মিলিয়ে মোট কতটি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্যগত অবস্থাও এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে আরও জানা যায়, প্রাণী নিয়ন্ত্রণ বিভাগ অতীতেও একাধিকবার জিউস্তিনোর বাড়িতে গিয়েছিল এবং বিভিন্ন অনিয়মের জন্য তাকে প্রায় ৬৫টি নোটিশ দিয়েছিল। প্রায় এক দশক আগে বাড়ির বায়ু চলাচল ও প্রাণীর পরিচর্যাসংক্রান্ত সমস্যাও সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি কর্মকর্তারা আবারও পরিদর্শনে গেলে তিনি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, জিউস্তিনোর বিরুদ্ধে দুটি মিসডিমিনার বা লঘু অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়েছে, যাতে তাদের চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায় এবং তিনি আবার নতুন প্রাণী সংগ্রহ করতে না পারেন। শেরিফ বাডেনসিয়েক বলেন, জিউস্তিনো প্রাণীগুলোকে খাবার দিতেন। তবে মাছি ও পোকা দমনের স্প্রে ভুলভাবে ব্যবহারের কারণে অন্তত একটি প্রাণী আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে আপাতত স্থানীয় হিউম্যান সোসাইটির তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। তাদের পরিচর্যার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও অস্থায়ী আশ্রয়দাতাদের সহায়তা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জিউস্তিনো অতীতে কোনো প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাণী জমা দিয়ে থাকলে সে তথ্য জানাতে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে গেইল জিউস্তিনোর জন্যও উপযুক্ত সহায়তার ব্যবস্থা করা।
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা ভারতীয় নাগরিক নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত ভারতীয় নাগরিক নিতিশ কৌশলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে কানাডা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় তাকে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ দমনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তারকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই ভারমন্টের অ্যালবার্গ এলাকায় একটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে সীমান্ত টহল বাহিনীর সদস্যরা ২৬ বছর বয়সী নিতিশ কৌশলকে আটক করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র এক দিন আগেই তার নাম এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। এফবিআই জানিয়েছে, নিতিশ কৌশল ওরফে ‘লালা’ ভারতের পাঞ্জাবভিত্তিক জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই অপরাধচক্র হত্যা, অপহরণ, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, অর্থপাচার এবং মানবপাচারের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধে জড়িত। কৌশল সংগঠনটির হয়ে অপহরণ ও হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালত নিতিশ কৌশলের বিরুদ্ধে ‘র্যাকেটিয়ার ইনফ্লুয়েন্সড অ্যান্ড করাপ্ট অর্গানাইজেশনস (রিকো) কনস্পিরেসি’ আইনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপরই তাকে খুঁজতে এফবিআই ব্যাপক অভিযান শুরু করে এবং পরে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এফবিআই আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, নিতিশ কৌশলকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং তার পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান ‘অপারেশন হার্ড বল’-এর ধারাবাহিকতার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমন্বিতভাবে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। নিতিশ কৌশলের গ্রেপ্তার সেই আন্তর্জাতিক অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান হোসেতে এক সহকারী পুলিশ প্রধানের ব্যক্তিগত বাসার বাইরে রাখা চিহ্নবিহীন পুলিশ গাড়ি থেকে একটি রাইফেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি যাওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি বলে জানিয়েছে সান হোসে পুলিশ বিভাগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে সহকারী পুলিশ প্রধান লক্ষ্য করেন যে তাঁর চিহ্নবিহীন গাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে। পরে বিষয়টি সান হোসে পুলিশ বিভাগকে জানানো হলে তদন্ত শুরু করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অস্ত্রটি একটি রাইফেল। এটি কীভাবে গাড়ি থেকে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। পুলিশ আশপাশের এলাকার তথ্য ও সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে। সান হোসে পুলিশ বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অস্ত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। বর্তমানে অস্ত্রটি জননিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অস্ত্র উদ্ধারে কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি থেকে অস্ত্র চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়ি ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সান হোসে পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ফার রকঅ্যাওয়ে এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত নারী কারা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে তাঁর ২৬ বছর বয়সী ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেমোক অ্যাভিনিউর একটি বাড়িতে গিয়ে তারা ৬১ বছর বয়সী জোয়ান ক্রফোর্ডকে একাধিক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর ছেলে আর্মেল ক্রফোর্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে নিহতের এক স্বজন জানান, মা–ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। তাঁর দাবি, মায়ের পেশাগত ব্যস্ততা নিয়ে ছেলের ক্ষোভ ছিল এবং সম্প্রতি দাদির দেখভাল নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়েছিল। তবে এসব তথ্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ নয়। প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, জোয়ান ক্রফোর্ড এলাকায় একজন সহৃদয় ও পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে পারিবারিক সহিংসতার একাধিক ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহিংসতা রোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সংকটকালীন সহায়তা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর ধারাবাহিকতায় হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় এক তরুণীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ও স্বামীর প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর দুজনই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পরে ভারতে ফিরে আসার পর তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে মানেসর থানায় নিহত তরুণীর মা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী অঙ্কিত নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। কিন্তু ২১ মে থেকে মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তারা সন্দেহের বশে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরদিন মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত অঙ্কিত ও তার ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। রজনী হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলার বাসিন্দা এবং মানেসরের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। অন্যদিকে অঙ্কিত স্থানীয়ভাবে একটি তামাকের দোকান পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা একটি কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান এবং দুজনে মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই এই অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। ঘটনার পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে যান। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ। তবে গত ৩০ জুন ভারতে ফিরে আসার পর মানেসরের অপরাধ দমন শাখা তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত দুজনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লেক ইরিতে নৌভ্রমণে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক প্রতিবেশী নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই নৌকায় থাকা আরেক ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশুটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, New York Post এবং ১৩ Action News–এর খবরে বলা হয়, গত ১ জুলাই ওহাইওর জেরুজালেম টাউনশিপের মেইঙ্কে মেরিনা থেকে ছোট একটি মোটরচালিত নৌকায় বেড়াতে বের হয় ১১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিক কানিংহাম। তার সঙ্গে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী প্রতিবেশী ক্রিস্টেন গেরি এবং ৩৮ বছর বয়সী জনাথন সিহা। কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌযাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরপরের দিন লেক ইরির পানিতে জনাথন সিহার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, ক্রিস্টেন গেরি সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে (Child Endangerment) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, কয়েক দিনের টানা অনুসন্ধানের পর লেক ইরির তীরবর্তী এলাকায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেটি নিখোঁজ অ্যাঞ্জেলিক কানিংহামের কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, নৌকায় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং এতে কারও অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং একই নৌযাত্রায় একজনের মৃত্যু—দুই ঘটনাই তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।