- প্রচ্ছদ
- Topic
চাকরি
সন্তানের ভিডিও গেমের আসক্তি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব অভিভাবকই কমবেশি চিন্তিত থাকেন। সন্তানকে গেম থেকে দূরে রাখতে বাবা মায়েরা বকাঝকা থেকে শুরু করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার মতো অনেক কিছুই করে থাকেন। তবে চীনের এক বাবা তার বেকার ছেলেকে গেমের নেশা থেকে বের করে কাজে ফেরাতে এমন এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন, যা শুনে যে কেউ অবাক হবেন। ছেলেকে গেমের ভার্চুয়াল জগতে প্রতিনিয়ত হত্যা করার জন্য রীতিমতো পেশাদার গেমার বা খেলোয়াড় ভাড়া করেছিলেন তিনি। চীনের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণ জিয়াও ফেং। কিছুদিন আগে তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে সারাদিন ভিডিও গেম খেলাতেই মগ্ন থাকতেন তিনি। তার বাবার অভিযোগ ছিল, ছেলে সারাদিন অনলাইনে গেম খেলে সময় নষ্ট করছে এবং নতুন কোনো চাকরি খোঁজার ব্যাপারে তার কোনো তাগিদই নেই। ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে বুঝিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা করেন। তিনি ভেবেছিলেন, ছেলেকে যখন গেম থেকে বের করে আনা যাচ্ছে না, তখন তাকেই ওই গেমের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। তবে নিজে গেম খেলা শুরু করার বদলে তিনি অন্য পথ ধরেন। তিনি ছেলের চেয়েও অনেক বেশি দক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পেশাদার গেমারকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। তাদের কাজ ছিল একটাই, জিয়াও ফেং যখনই গেমে লগ ইন করবেন, তখনই তাকে খুঁজে বের করে গেমের ভেতরেই হত্যা করা। ওই বাবার মূল পরিকল্পনা ছিল, বারবার গেমে হেরে গিয়ে বা খুন হয়ে ছেলে হতাশ হয়ে পড়বে। এক পর্যায়ে গেমের প্রতি তার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে বাধ্য হয়ে আবারও কাজের প্রতি মনোযোগী হবে। তবে বাবার এই গোপন পরিকল্পনা খুব বেশিদিন চাপা থাকেনি। জিয়াও ফেং বুঝতে পারেন যে গেমের ভেতরে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছে। তিনি লক্ষ্য করেন, তিনি যখনই গেম খেলতে ঢুকছেন, তখনই নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় তাকে টার্গেট করে আক্রমণ করছে। এক পর্যায়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে এই ডিজিটাল গুপ্তঘাতকদের পেছনে আসলে তার নিজের বাবাই রয়েছেন। বাবার এই কাণ্ড জানার পর জিয়াও ফেং তাকে নিজের চাকরি ছাড়ার পেছনের আসল কারণটি বুঝিয়ে বলেন। তিনি বাবাকে জানান, সারাজীবন গেম খেলার জন্য তিনি চাকরি ছাড়েননি। মূলত নিজের মনের মতো কোনো কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি আপাতত বেকার বসে আছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন। তবে বাবার এই সুপরিকল্পিত এবং ব্যয়বহুল কৌশল শেষ পর্যন্ত খুব একটা কাজে আসেনি। পেশাদার গেমার লেলিয়ে দেওয়ার পরও জিয়াও ফেং স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় খুব একটা কমিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও ওই বাবা অন্তত এটুকু ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারেন যে ছেলের নেশা ছাড়ানোর জন্য তিনি সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছেন। ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় গেমের ভেতরেই ছেলের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার এই ঘটনাটি এখন নেট দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদসূত্র: দ্য এপক টাইমস, কেএসএল, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য সমসাময়িক প্রতিবেদন।
নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর সামনে রেখে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস। এসব পদের মধ্যে এমন কিছু স্কুলভিত্তিক চাকরি রয়েছে, যেখানে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ব্যাচেলর ডিগ্রি না থাকলেও যোগ্যতা অনুযায়ী কিছু পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের চাকরির তালিকায় স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী এবং বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কোন পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য শর্ত প্রয়োজন, তা পদভেদে আলাদা। ডিগ্রি ছাড়াই স্কুলে কাজের অন্যতম সুযোগ হলো বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল পদ। এই পদের জন্য চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন নেই। তবে আবেদনকারীর হাইস্কুল ডিপ্লোমা, জিইডি অথবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিও থাকতে হবে। বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল হিসেবে কাজ করতে আগ্রহীদের কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, প্রয়োজনীয় চাকরির কাগজপত্র, আই-৯ যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। নির্ধারিত যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়োগের পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায়। এ ছাড়া স্কুল সহকারী ও পরিবার সহায়তাকর্মীর মতো কিছু পদেও কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। তবে ডিগ্রি না লাগলেও এসব চাকরিতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই, এমন নয়। আবার স্কুলের সব ধরনের চাকরিতেও ডিগ্রি ছাড়া আবেদন করা যায় না। যেমন বিকল্প শিক্ষক পদে সাধারণত ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে যারা নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসে কাজের সুযোগ খুঁজছেন, তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে পারেন। বিশেষ করে যারা কলেজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্য স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী ও বিকল্প প্যারাপ্রফেশনালের মতো পদগুলো সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বোইস শহরে এক মায়ের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনা রিজ নামে এক মা সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে যাচ্ছেন, আর সেই বাড়তি আয় দিয়েই সন্তানদের ডে-কেয়ারের খরচ মেটাচ্ছেন। তবে ঘটনাটি বাস্তব সংবাদ নয়, এটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম বেবিলন বি -এর একটি রম্য প্রতিবেদন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনা তাঁর দুই ছোট সন্তানকে ‘Mountains of Fun Daycare’-এ রেখে দ্বিতীয় চাকরির শিফটে যান। সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে যাওয়ার সময় তিনি মজা করে বলেন, তারা যেন ভালোভাবে থাকে, কারণ তাদের সেখানে রাখার খরচ জোগাতে তাঁকে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। পরে তাদের বাবা কর্মস্থল থেকে ছুটি পাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে যাবেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ব্যঙ্গাত্মক লেখাটিতে আরও বলা হয়, জেনা সন্ধ্যায় একটি সুপারমার্কেটের বেকারি বিভাগে পার্টটাইম কাজ করেন। তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে ডে-কেয়ারের বাড়তি খরচের কারণে দ্বিতীয় চাকরি নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে না পারার বিষয়টিও হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ডে-কেয়ারের ব্যয় মেটাতে অনেক পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপকে ব্যঙ্গ করে তুলে ধরা। তবে এতে বর্ণিত চরিত্র ও ঘটনাগুলোকে বাস্তব সংবাদ বা যাচাই করা ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। Babylon Bee নিজেই একটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম, যেখানে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে রম্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রির বদলে প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্সের (এনএসিই) ২০২৬ সালের চাকরির বাজারবিষয়ক জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, তারা এন্ট্রি লেভেলের নিয়োগে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এক বছর আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। এই পরিবর্তনের ফলে নতুন অভিবাসী, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও পেশাভিত্তিক সনদের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে কোনো একটি সনদই চাকরি বা নির্দিষ্ট বেতন নিশ্চিত করে না। নিয়োগদাতারা সনদের পাশাপাশি প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতে কম্পটিআইএ সিকিউরিটি প্লাস, এডব্লিউএস ক্লাউড প্র্যাকটিশনার এবং গুগলের ক্লাউডভিত্তিক বিভিন্ন সনদ এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এসব সনদ কাজে আসতে পারে। তবে চাকরির চাহিদা, বেতন ও নিয়োগের সুযোগ পদ এবং অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। আরও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য এডব্লিউএস সার্টিফায়েড সলিউশনস আর্কিটেক্ট, সিআইএসএসপি এবং পিএমপির মতো পেশাগত সনদ ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা খাতে পিএমপি দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত একটি পেশাগত সনদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের বেতন জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিএমপি সনদধারী পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। একই জরিপে পিএমপি না থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ দুই দলের বেতনের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ। অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। ওই জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পিএমপি সনদ থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার। বিপরীতে পাঁচ বছরের কম সময় ধরে পিএমপি সনদধারীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার। তবে শুধু পরীক্ষায় পাস করে সনদ অর্জন করাই চাকরি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এনএসিইর তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগদাতারা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং দক্ষতার বাস্তব প্রমাণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই জীবনবৃত্তান্তে শুধু সনদের নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে সেই সনদ থেকে অর্জিত দক্ষতা কীভাবে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা তুলে ধরা বেশি কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, সব চাকরির জন্য চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের পেশাগত প্রয়োজনীয়তা জরিপ অনুযায়ী, সব পেশা মিলিয়ে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়নি। ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে হাইস্কুল ডিপ্লোমা ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত শর্ত। আর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে পেশাগত সনদকে ডিগ্রির সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে নির্দিষ্ট চাকরির প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে সঠিক সনদের সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে পারলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা সহজ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী হিসেবে আসার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু চাকরি খোঁজা বা বাসা গোছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ড্রাইভার লাইসেন্স থেকে শুরু করে ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো বেশ কিছু কাজ শুরুতেই গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। তবে কোন কাজটি কখন করতে হবে, তা ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রথম ৩০ দিনে অগ্রাধিকার দিয়ে যে ১০টি কাজ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো: ১. সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের ব্যবস্থা করুন: চাকরি, কর প্রদান, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন কাজে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন প্রয়োজন হতে পারে। অভিবাসী ভিসার আবেদন করার সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করলে আলাদাভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে যেতে নাও হতে পারে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে আবেদন করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়। যারা ভিসা আবেদনের সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করেননি, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে আবেদন করতে হতে পারে। তাই প্রথম মাসেই নিজের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন ও কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ২. একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন: দৈনন্দিন খরচ, বেতন জমা, বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি চেকিং অ্যাকাউন্ট কাজে লাগে। তাই সম্ভব হলে প্রথম দিকেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়নে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তুতি নিন। অ্যাকাউন্ট খোলার আগে ব্যাংক কী ধরনের পরিচয়পত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কাগজপত্র গ্রহণ করে এবং ঠিকানার কী প্রমাণ প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া ভালো। নতুনদের ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। ৩. একটি মোবাইল নম্বর নিন: যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর দ্রুত একটি কার্যকর মোবাইল নম্বর নেওয়া জরুরি। ব্যাংক, চাকরির আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, স্কুলসহ নানা কাজে এই নম্বর ব্যবহার করতে হবে। শুরুতে প্রিপেইড সিম বা কম খরচের মোবাইল প্ল্যান নেওয়া যেতে পারে। পরে প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী প্ল্যান পরিবর্তন করা সম্ভব। ৪. ঠিকানার কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন: যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় বর্তমান ঠিকানা যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে। বাসার লিজ, ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন। নতুন ঠিকানায় আসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠিপত্র অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থাও করা ভালো। ভবিষ্যতে ব্যাংক, ড্রাইভার লাইসেন্স, স্কুল বা অন্যান্য সেবায় ঠিকানা আপডেট করতে এসব কাগজ কাজে লাগতে পারে। ৫. স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রস্তুতি নিন: যুক্তরাষ্ট্রে ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র হিসেবে স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন কাগজপত্র লাগবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। যারা গাড়ি চালাবেন, তারা নিজের অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগ বা ডিএমভির নিয়ম দেখে ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। আর গাড়ি চালানোর প্রয়োজন না থাকলে স্টেট আইডি নেওয়া যেতে পারে। ৬. হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করুন: যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হতে পারে। তাই নতুন দেশে আসার পর হেলথ ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অনেক অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে কভারেজ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। আয় অনুযায়ী প্রিমিয়ামে ছাড় বা অন্যান্য আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। তবে যোগ্যতার নিয়ম ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও আয়ের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করাও কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা সারা বছর মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারেন। ৭. আমেরিকান ফরম্যাটে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করুন: বাংলাদেশে ব্যবহৃত দীর্ঘ সিভি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ব্যবহার না করে পদের সঙ্গে মিল রেখে একটি সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার ও চাকরির আবেদন বাছাইয়ের সফটওয়্যার উপযোগী জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা ভালো। নিজের আগের কাজের অভিজ্ঞতাকে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে প্রচলিত দায়িত্ব ও দক্ষতার ভাষায় উপস্থাপন করুন। পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগের অনলাইন প্রোফাইলও হালনাগাদ করে রাখা যেতে পারে। ৮. চাকরি খোঁজা শুরু করুন: পছন্দের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় লাগলেও শুরুতেই চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সাময়িক কাজের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। চাকরির ওয়েবসাইট ও পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা চাকরি খুঁজুন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও পরিচিতদের মাধ্যমেও চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে কাজের অনুমতি ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে। তাই বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়া উচিত নয়। ৯. ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির দিকে নজর দিন: যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্রেডিট হিস্ট্রি ও ক্রেডিট স্কোর পরবর্তীতে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ, বাসা ভাড়া বা অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যারা যোগ্য, তারা ব্যাংক বা কার্ড কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী জামানতভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করতে পারেন। কার্ড ব্যবহার করলে সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা গুরুত্বপূর্ণ। ১০. স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হন: নতুন দেশে পরিচিত মানুষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের নেটওয়ার্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার বা পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ইমিগ্রেশন, ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা সরকারি সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। প্রথম মাসে এসব কাজ গুছিয়ে নিতে পারলে নতুন পরিবেশে দৈনন্দিন জীবন, চাকরি, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে। তবে সব অভিবাসীর পরিস্থিতি এক নয়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, অঙ্গরাজ্য, আয় ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও আলাদা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ও পরিচিত চাকরির খোঁজে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএস হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মক্ষেত্র। শুধু মেইল ডেলিভারি নয়, ড্রাইভার, মেইল প্রসেসিং, কাস্টমার সার্ভিস, মেইনটেন্যান্সসহ বিভিন্ন ধরনের পদে প্রতিষ্ঠানটি সারা বছর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ফুল টাইম, পার্ট টাইম ও সিজনাল চাকরির সুযোগও রয়েছে। ইউএসপিএসের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে নিয়োগের সময় সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। তবে হাইস্কুল ডিপ্লোমা থাকলে ১৬ বছর বয়সেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া যায়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী অথবা আমেরিকান সামোয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য থাকা কোনো টেরিটরির নাগরিক হতে হবে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি স্ট্যাটাস থাকলেই ইউএসপিএসের চাকরির যোগ্যতা পূরণ হয় না। ইউএসপিএসের বর্তমান নিয়োগ নীতিতে শুধুমাত্র অ্যাসাইলাম, রিফিউজি বা কন্ডিশনাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস থাকা ব্যক্তিদের চাকরির জন্য অযোগ্য বলা হয়েছে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর সাম্প্রতিক চাকরির ইতিহাস যাচাই করা হতে পারে। ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, ড্রাগ স্ক্রিনিং ও মেডিকেল অ্যাসেসমেন্টও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। যেসব পদের সঙ্গে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স ও গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড প্রয়োজন হতে পারে। প্রযোজ্য ব্যক্তিদের সিলেক্টিভ সার্ভিস রেজিস্ট্রেশনের শর্তও পূরণ করতে হয়। ইউএসপিএসে বহুল নিয়োগ পাওয়া পদের মধ্যে রয়েছে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, রুরাল ক্যারিয়ার অ্যাসোসিয়েট, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক, পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েট, মোটর ভেহিকল অপারেটর, অটোমোটিভ টেকনিশিয়ান এবং বিভিন্ন মেইনটেন্যান্স ও কাস্টডিয়াল পদ। বেতন পদ, লোকেশন এবং চাকরির ক্যাটাগরি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২১ ডলারের বেশি, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রায় ১৯ ডলার এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের বেতন ঘণ্টায় ২১ ডলারের বেশি ছিল। তবে এটিকে দেশজুড়ে সব পদের নির্দিষ্ট বেতন হিসেবে ধরা যাবে না। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ করা বেতনই চূড়ান্ত হিসেবে দেখতে হবে। অনেকের কাছে ইউএসপিএস চাকরির বড় আকর্ষণ বেতনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বেনিফিট। বিশেষ করে ক্যারিয়ার কর্মীরা যোগ্যতা অনুযায়ী হেলথ বেনিফিট, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রিটায়ারমেন্ট সুবিধা, থ্রিফট সেভিংস প্ল্যান বা টিএসপি, অ্যানুয়াল লিভ এবং সিক লিভের মতো সুবিধা পেতে পারেন। টিএসপি ফেডারেল কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থার মতো একটি পরিকল্পনা। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে ইউএসপিএস বেসিক পের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রিবিউট করে এবং নির্দিষ্ট নিয়মে কর্মীর নিজের কন্ট্রিবিউশনের বিপরীতেও অর্থ যোগ হতে পারে। তবে সব নন-ক্যারিয়ার বা অস্থায়ী পদের বেনিফিট ক্যারিয়ার পদের মতো নয়। তাই চাকরির অফার গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পদের বেনিফিট আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করতে ইউএসপিএসের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে গিয়ে প্রথমে পছন্দের পদের নাম ও লোকেশন দিয়ে চাকরি খুঁজতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নতুন অনলাইন জব অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম চালু করছে। ফলে কিছু চাকরির আবেদন নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেমে নেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু পদ এখনো পুরোনো ই-ক্যারিয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেম ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। কোন সিস্টেমে আবেদন করতে হবে তা সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ থাকে। কিছু এন্ট্রি লেভেল পদের জন্য ভার্চুয়াল এন্ট্রি অ্যাসেসমেন্ট বা ভিইএ দিতে হয়। এর মধ্যে মেইল ক্যারিয়ার পদের জন্য ভিইএ ৪৭৪, মেইল হ্যান্ডলার পদের জন্য ৪৭৫, মেইল প্রসেসিং পদের জন্য ৪৭৬ এবং কাস্টমার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট পদের জন্য ৪৭৭ ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউএসপিএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী নির্দিষ্ট একটি ভিইএ পরীক্ষায় পাস না করলে সাধারণভাবে একই পরীক্ষাটি আবার দিতে ১২ মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অন্য ধরনের পদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিন্ন ভিইএ পরীক্ষায় আবেদন করা যেতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অ্যাসেসমেন্ট, বিভিন্ন প্রি-এমপ্লয়মেন্ট চেক এবং পদের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যোগ্য প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে চাকরির অফার ও প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা অন্যান্য যাচাই প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, ইউএসপিএসের চাকরির জন্য আবেদন করতে কোনো আবেদন ফি লাগে না। ইউএসপিএস নিজেও স্পষ্টভাবে সতর্ক করে যে পোস্টাল চাকরির আবেদন করার জন্য টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা নিয়ে ইউএসপিএসের চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রস্তাব এলে তা থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষ করে নতুন ইমিগ্র্যান্ট ও গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিদের জন্য ইউএসপিএসের অনেক এন্ট্রি লেভেল পদ ভালো একটি চাকরির পথ হতে পারে। তবে একই নামের চাকরিতেও লোকেশনভেদে বেতন, কাজের সময়, ড্রাইভিংয়ের প্রয়োজন, অ্যাসেসমেন্ট এবং বেনিফিট আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় শুধু পদের নাম নয়, পুরো জব পোস্টিং এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে পড়েই অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনভিত্তিক একটি স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ (এক মিলিয়ন) মার্কিন ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 'নালানে গ্রিন সলিউশনস' নামক ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাথাটা "মো" এমপেলার বিরুদ্ধে এ নিয়ে একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার মহান উদ্দেশ্যের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের চরমভাবে শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এমপেলা তার 'গ্রিন অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম'-এর জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক (CUNY) এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ২০ জনেরও বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইস্ট নিউইয়র্কের ট্রানজিট টেক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বা গ্রিন টেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদের ঘণ্টায় ২২ থেকে ৪০ ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে কাজ করতে অনেক শিক্ষার্থী দেশের অন্য প্রান্ত থেকে নিউইয়র্কে ছুটে আসেন এবং অন্যান্য লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও তাদের কাউকেই এক সেন্টও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী জিওভান্নি লুটি জানান, এই প্রকল্পে কাজ করার জন্য তিনি 'কলিন্স অ্যারোস্পেস'-এর একটি বড় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে টেক্সাস থেকে ব্রঙ্কসের একটি ইঁদুর উপদ্রুত অ্যাপার্টমেন্টে চলে এসেছিলেন। তাকে দিয়ে একটি হাই স্কুলের বেসমেন্টে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জার তৈরির অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা লেখানো হয়েছিল। সিইউএনওয়াই-এর স্নাতক শিক্ষার্থী জুলি লিউ জানান, মানুষের সেবা করার প্রতি তাদের যে অকৃত্রিম আগ্রহ ছিল, এমপেলা সেটাকে স্রেফ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আরেক শিক্ষার্থী আলানা মার্শিয়াল জানান, তিনি ৬৩৬ ঘণ্টা কাজ করেও কোনো বেতন পাননি। নিজেকে চরম শোষিত দাবি করে ক্ষুব্ধ এই শিক্ষার্থী বলেন, "এই প্রতারণা আর চলতে দেওয়া যায় না, এর শেষ এখানেই হতে হবে।" এদিকে অভিযুক্ত এমপেলা মজুরি না দেওয়ার পেছনে নিউইয়র্ক স্টেটের অনুদান পেতে দেরি হওয়াকে দায়ী করেছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষার্থীদের কাছে তার দেনার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ নয়, বরং মাত্র ৫৩ হাজার ডলার। তবে বাদীদের আইনজীবীরা তার এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর সিইউএনওয়াই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে নালানে গ্রিন সলিউশনসকে তাদের নিয়োগ ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গত এপ্রিলে প্রথমবার মামলা হওয়ার পরও এমপেলা চলতি গ্রীষ্মে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে নতুন করে আবারও শিক্ষার্থী নিয়োগ দিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে গেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে, যেখানে অর্থনীতিবিদেরা বরং নতুন চাকরি বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ চাকরি কমলেও বেকারত্বের হার বেড়ে যায়নি। কর্মসংস্থানের দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার শিক্ষা, খুচরা ব্যবসা ও অবসর-আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পতন কিছুটা সামাল দেওয়া হয়েছে। এদিকে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও আগের তুলনায় নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে আসার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ কর্মী এমন চাকরিতে থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেটি তারা আর করতে চান না। কারণ চাকরি ছাড়লে হারাতে পারেন স্বাস্থ্যবিমা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী এই পরিস্থিতিতে রয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। ওয়েস্ট হেলথ–গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকা-এর গবেষণায় এই প্রবণতাকে ‘জব লক’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় কর্মীরা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়তে বা নতুন চাকরিতে যেতে পারছেন না। ২০২১ সালের তুলনায় এ ধরনের কর্মীর হার ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। গবেষণাটি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমাকে প্রধান স্বাস্থ্যসুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা ২ হাজার ৩২২ জন কর্মীর তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ নিয়মিতভাবে বহন করতে তাদের সমস্যা হয়। একই সঙ্গে ৫১ শতাংশ মানুষ আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ হার। চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঋণে থাকা কর্মীদের মধ্যে ‘জব লক’-এর হার আরও বেশি। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক চিকিৎসা ঋণ রয়েছে এমন কর্মীদের ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা এমন চাকরিতে থেকে যাচ্ছেন, যেটি তারা ছাড়তে চান। চিকিৎসা ঋণ নেই এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ২১ শতাংশ। স্বাস্থ্য ব্যয়কে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা মনে করেন এমন কর্মীদের মধ্যেও প্রায় ৪৮ শতাংশ চাকরি ছাড়তে পারছেন না স্বাস্থ্যবিমার কারণে। আর যাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে তীব্র মানসিক চাপ রয়েছে, তাদের মধ্যে এই হার ৫৩ শতাংশ। নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। জরিপে ৩০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়ছেন না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এক বা একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যবিমার কারণে চাকরি ছাড়তে পারছেন না। এমন কোনো রোগ নেই—এমন কর্মীদের মধ্যে এই হার ১৭ শতাংশ। তিন বা তার বেশি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা অনেক ক্ষেত্রে চাকরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এর প্রভাব শুধু চিকিৎসা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চাকরি পরিবর্তন, বেতন বৃদ্ধি, পেশাগত উন্নতি এমনকি নতুন ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্তেও স্বাস্থ্যবিমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখন এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ পছন্দের চাকরি ছেড়ে ভালো সুযোগ নেওয়ার বদলে বর্তমান চাকরিটিই ধরে রাখছেন—শুধু স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি এড়াতে। আর স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় যত বাড়ছে, এই ‘জব লক’ প্রবণতাও তত বেশি কর্মীর পেশাগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন নিয়োগের গতি ধীর হয়ে পড়লেও কর্মরত মানুষের মধ্যে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা এখনো দেখা দেয়নি। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটিতে বেকার ভাতার জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ। অর্থনীতিবিদেরা ২ লাখ ৫ হাজার আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে নতুন আবেদনের সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়েও কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় ধরনের দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। গত চার সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদনের গড় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ হাজার কমে প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজারে নেমেছে। শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদেরা অনেকটা এমন একটি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকলেও বিদ্যমান কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করছে না। এর ফলে যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। গত বছর এই গড় ছিল মাত্র ৯ হাজার ৭০০। তবে মহামারি পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে যে দ্রুতগতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক দুর্বল। ওই দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ চাকরির হিসাবেও শ্রমবাজারের ধীরগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণে বেকারত্বের হার কমলেও সেটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী চাকরির বাজারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। উচ্চ সুদের হার, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক অবস্থান নতুন নিয়োগের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মী বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের ঢেউ দেখা যায়নি। গত এক বছরে প্রতি সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদন সাধারণত ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে ছিল, যা ঐতিহাসিক বিবেচনায় তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে চাকরিতে থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের জন্য মূল উদ্বেগ তাই বর্তমানে শুধু কত মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন, তা নয়; বরং নতুন চাকরি কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিও। নিয়োগের গতি দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল থাকলে চাকরি পরিবর্তন করতে চাওয়া এবং নতুন করে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানের সামগ্রিক চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো ভেঙে পড়েনি। তবে দ্রুতগতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সময়ও আর নেই। কম নিয়োগ এবং কম ছাঁটাইয়ের এই ভারসাম্য কতদিন বজায় থাকবে, সেটিই আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।
অনলাইনে চাকরি খুঁজতে বা আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন? কম্পিউটার ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, কিংবা নতুন করে চাকরি খোঁজা শুরু করেছেন? নিউইয়র্কে এমন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি গিয়ে চাকরি খোঁজা, আবেদন প্রস্তুত করা এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টার। এখানকার সেবাগুলো বিনামূল্যে। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো বা এলাকায় মোট ১৮টি ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টার রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি রয়েছে এমন ব্যক্তিরা এসব সেন্টারের সেবা নিতে পারেন। সেখানে গিয়ে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পর্কে জানিয়ে উপযুক্ত চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি ক্যারিয়ার পরামর্শ, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। যারা অনলাইনে চাকরির আবেদন করতে জানেন না, তাদের জন্যও এই সেন্টারগুলো কাজে আসতে পারে। ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারে বায়োডাটা তৈরি বা আপডেট করা, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং চাকরি খোঁজার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কর্মশালা আয়োজন করা হয়। সেন্টারভেদে কর্মশালার সময়সূচি আলাদা হতে পারে। ইংরেজির পাশাপাশি আরও ২৫টি ভাষায় সেবা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন হলে ফোনে অনুবাদ সেবাও রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো নিউইয়র্ক সিটি জবস। নিউইয়র্ক সিটির এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চাকরির মেলা, নিয়োগ আয়োজন এবং তথ্য সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলা, বিভিন্ন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং ক্যারিয়ার ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। জবস এনওয়াইসির (jobs NYC) ওয়েবসাইটে গিয়ে এসব আয়োজনের সময়সূচিও দেখা যায়। সেখানে কোন দিন, কোন এলাকায়, কখন চাকরির মেলা বা নিয়োগ আয়োজন হবে, তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে। সরকারি চাকরিতে আগ্রহীদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তথ্য সেশনও তালিকাভুক্ত থাকে। ফলে যারা অনলাইনে নিয়মিত চাকরির খবর খুঁজে পান না, তারাও ওয়েবসাইটটি দেখে নিজেদের সুবিধামতো আয়োজন বেছে নিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে, আগস্ট ২০২৬-এর তালিকায় কুইন্সে ২৫ আগস্ট একটি জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল এবং ২৬ আগস্ট ফার রকাওয়েতে একটি নিয়োগ আয়োজন রয়েছে। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কিছু অনুষ্ঠানে আগাম নিবন্ধন করা ভালো হলেও, আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও ওয়াক-ইন করার সুযোগ রাখা হয়। তবে ওয়াক-ইন সুবিধা প্রতিটি অনুষ্ঠানে এক রকম নয়, তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আয়োজনের তথ্য দেখে নেওয়া জরুরি। এসব চাকরির মেলা বা নিয়োগ আয়োজনে গেলে সঙ্গে কয়েক কপি বায়োডাটা এবং একটি ফটো আইডি রাখা ভালো। অনেক অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে এবং কোনো কোনো নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ নিতে পারেন। তবে সেখানে গেলেই চাকরি বা ইন্টারভিউ নিশ্চিত হবে না। শুধু বেসরকারি চাকরি নয়, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির বিষয়েও জবস এনওয়াইসির মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায়। সিভিল সার্ভিস ১০১ ধরনের তথ্য সেশনে সিটি সরকারের চাকরি, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। তাই নিউইয়র্কে যারা নতুন এসেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজ শুরু করতে চান, কিংবা অনলাইনে চাকরির আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাদের শুধু অনলাইনে চাকরি খোঁজার ওপর নির্ভর করতে হবে না। কাছের ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারে গিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেওয়া যায়। পাশাপাশি জবস এনওয়াইসির ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখলে নিজের এলাকার কাছাকাছি চাকরির মেলা, নিয়োগ আয়োজন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য সেশনের সময়সূচিও জানা যাবে।
নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য আসছে নতুন সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের উদ্যোগে আগামী ২৫ আগস্ট কুইন্সে আয়োজন করা হয়েছে একটি বড় হায়ারিং হল। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ‘জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল: কুইন্স’ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটি হবে কুইন্সের ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ডে অবস্থিত দ্য গ্রেটার অ্যালেন এএমই ক্যাথেড্রাল অব নিউইয়র্কে। এটি নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নিয়মিত হায়ারিং হলগুলোর একটি। এসব আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন বা কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হতে পারে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে চাকরিপ্রার্থীদের আগেই একটি সময়ের জন্য নিবন্ধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অনলাইনে নির্ধারিত স্লট শেষ হয়ে গেলেও সরাসরি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আপডেটেড জীবনবৃত্তান্ত বা সিভির কয়েকটি কপি রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। এতে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় নিজের যোগ্যতা সহজে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তবে হায়ারিং হলে অংশ নিলেই চাকরি নিশ্চিত হবে এমন নয়। কোন নিয়োগকর্তা কোন পদে নিয়োগ দেবে এবং আবেদনকারীর যোগ্যতা কী হতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ২৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে যেতে না পারলেও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বছরজুড়েই নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত নতুন চাকরির সুযোগ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত আয়োজনের তথ্যও সেখানে প্রকাশ করা হয়। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কুইন্সের এই হায়ারিং হল তাই সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, নিজের যোগ্যতা তুলে ধরা এবং নতুন চাকরির সুযোগ খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীদের নতুন চাকরি খোঁজার জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এবং নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মী চাকরি হারালে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ভিসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ ৬০ দিনের আগেই শেষ হলে, সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর এই গ্রেস পিরিয়ড আর নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন চাকরি বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বর্তমানে ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টি-এনসহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসা শ্রেণির নির্দিষ্ট কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলরা একই ধরনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পান। চাকরি হারানোর পর বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ দিতে ২০১৭ সালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু করা হয়। এর ফলে কোনো কর্মী চাকরি হারালে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে না হয়ে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় পান। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে চাকরি পরিবর্তন বা নতুন চাকরির ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়ে গেছে এমনটি বলা যাবে না। প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হতে আরও কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।
প্রত্যাশার বিপরীতে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বদলে উল্টো ২৩ হাজার চাকরি কমেছে। অর্থনীতিবিদেরা প্রায় ৮০ হাজার নতুন চাকরি যোগ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও বড় অঙ্কে কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে, যা মার্কিন শ্রমবাজারের গতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BLS) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে চাকরির সংখ্যা কমার পাশাপাশি আগের দুই মাসের হিসাব সংশোধন হওয়ায় শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্র আগের ধারণার তুলনায় দুর্বল হয়ে উঠেছে। মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাব মিলিয়ে আগের প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় ১ লাখ ৩ হাজার চাকরি কম যোগ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জুনের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব বড় ধরনের সংশোধনের মধ্য দিয়ে মাত্র ২০ হাজারে নেমে এসেছে। এই দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও নিয়োগের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জুলাইয়ে চাকরি কমার সরাসরি কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধ বা মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করার মতো নির্দিষ্ট প্রমাণ এই প্রতিবেদনে নেই। চাকরির এই দুর্বল পরিসংখ্যানের প্রভাব পড়েছে আর্থিক বাজারেও। বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের সিদ্ধান্তের দিকে আরও বেশি নজর রাখছেন। দুর্বল শ্রমবাজারের কারণে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে। জুলাইয়ের তথ্য প্রকাশের পর সোনার দামও বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়ায় শুক্রবার সোনার দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যাওয়াকে এককভাবে শ্রমবাজারের উন্নতির সংকেত হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদেরা। চাকরির বাজারের প্রকৃত শক্তি বোঝার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ এবং মজুরি বৃদ্ধির মতো একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান তাই মার্কিন অর্থনীতির সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হবে, নাকি দুর্বল হয়ে পড়া চাকরির বাজার বিবেচনায় ফেডারেল রিজার্ভকে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। সেপ্টেম্বরে ফেডের সিদ্ধান্তে পরবর্তী মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে সঠিক চাকরির ওয়েবসাইট বেছে নেওয়া চাকরি প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়োগ-সংক্রান্ত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান জবসয়েড প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এমন ১৫টি জনপ্রিয় জব সাইটের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো চাকরি খোঁজা ও নিয়োগ, উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চাকরির প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে রিমোট ও ফ্লেক্সিবল কাজের জন্য পরিচিত FlexJobs, পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ নিয়ে Indeed, প্রযুক্তি খাতের জন্য Dice, সরকারি চাকরির জন্য USAJobs এবং কোম্পানির রিভিউ ও বেতনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য Glassdoor বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া CareerBuilder, Snagajob, Monster, Nexxt, ZipRecruiter, SimplyHired, The Muse, America's Job Exchange, LiveCareer এবং TheLadders-ও তালিকায় রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ও ব্যবহারকারী ভিন্ন হওয়ায় চাকরি প্রার্থীদের একটি মাত্র ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি ও আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে চাকরির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে দ্রুত জানা সম্ভব হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাকরি খোঁজার ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন নিয়োগদাতারা শুধু জীবনবৃত্তান্ত নয়, প্রার্থীর অনলাইন প্রোফাইল, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্ককেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে LinkedIn-এর মতো পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মও চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাকরি বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন, আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, কর্মপরিবেশ, বেতন কাঠামো ও কর্মীদের অভিজ্ঞতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন এড়াতে কেবল বিশ্বস্ত ও পরিচিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বজুড়ে অনেকের মনেই চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির কারণে মানুষের পেশা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে, এমনটি মানতে নারাজ খোদ মাইক্রোসফটের একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর মতে, এআই কাজের গতি বাড়িয়ে ডেডলাইন বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দারুণভাবে সাহায্য করলেও, এটি কখনোই মানুষের সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না। সম্প্রতি ৩৪ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাহুল দেবিকর এআই নিয়ে তাঁর দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকার বাসিন্দা রাহুল ২০১৮ সাল থেকে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সফটওয়্যার তৈরির পুরো প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিয়েছে, তিনি তা একদম কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কাজের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো স্বীকার করে তিনি জানান, এআই টুলস মূলত উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু সফটওয়্যার আর্কিটেকচার বা সূক্ষ্ম সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা ও তদারকির কোনো বিকল্প নেই। এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর একটি বড় উদাহরণও দিয়েছেন রাহুল। তিনি সম্প্রতি ‘মাইক্রোসফট ৩৬৫ এজেন্টস এসডিকে’ নামক একটি ওপেন-সোর্স লাইব্রেরি তৈরির প্রজেক্টে কাজ করেছেন, যা মূলত এআই এজেন্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। মাইক্রোসফটে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ওপেন-সোর্স প্রজেক্ট। তিনি জানান, এআইয়ের সহায়তায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একটি সাধারণ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে প্রজেক্টটি পাবলিক প্রিভিউ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এআই মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং কর্মদক্ষতা বাড়ানোর এক অসাধারণ হাতিয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করার পর প্রথম তিন মাস সাধারণত বাসা, চাকরি, পরিবহন, ভাষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সামলাতেই কেটে যায়। অথচ এই সময়েই আশপাশে থাকা কয়েকটি বিনামূল্যের বা স্বল্প খরচের কমিউনিটি সেবা কাজে লাগালে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে। ‘প্রথম ৯০ দিন’ কোনো সরকারি সময়সীমা নয়। তবে নতুন অভিবাসীদের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সময়। এসব সেবা সরাসরি নগদ সহায়তা নয়; বরং চাকরি খোঁজা, ইংরেজি শেখা, ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার, স্থানীয় সহায়তার সন্ধান এবং ছোট ব্যবসা শুরু করার মতো বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়। ১. পাবলিক লাইব্রেরি: বইয়ের বাইরেও নানা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক লাইব্রেরিগুলো শুধু বই পড়া বা ধার নেওয়ার জায়গা নয়। বেশিরভাগ পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অনেক শাখায় প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, চাকরির আবেদন, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা এবং শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তার মতো সেবাও দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউট অব মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশের বেশি পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার লাইব্রেরিতে ইংরেজি কথোপকথন, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি, চাকরি অনুসন্ধান এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিও চালু থাকে। তবে সব শাখায় একই ধরনের সেবা পাওয়া যায় না। অনেক লাইব্রেরির সদস্যরা লিবির মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ই-বুক ও অডিওবুক ধার নিতে পারেন। লাইব্রেরি কার্ড করার নিয়ম শহর ও কাউন্টিভেদে আলাদা। সাধারণত পরিচয়পত্র ও স্থানীয় ঠিকানার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। কোথাও অস্থায়ী বাসিন্দা বা এলাকার বাইরের মানুষের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থাও থাকে। ২. আমেরিকান জব সেন্টার: চাকরি খোঁজার সরকারি সহায়তা ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের সমন্বয়ে পরিচালিত আমেরিকান জব সেন্টারগুলো চাকরিপ্রার্থীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন সহায়তা দেয়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি জব সেন্টার রয়েছে। তবে প্রতিটি কাউন্টিতে একটি করে সেন্টার আছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কাছের কেন্দ্রটি শহর, অঙ্গরাজ্য বা জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নিতে হয়। এসব কেন্দ্রে চাকরির তালিকা দেখা, কম্পিউটার ব্যবহার, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি বা পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, স্থানীয় শ্রমবাজার সম্পর্কে ধারণা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক সেন্টারে ক্যারিয়ার কাউন্সেলর চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে উপযুক্ত কাজ বা প্রশিক্ষণের পথ দেখান। তবে ওশা, ফর্কলিফট বা অন্য কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ সব জব সেন্টারে সরাসরি ও বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেন্টার শুধু অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেয়। প্রশিক্ষণের খরচ বহনের সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আবেদনকারীর যোগ্যতা, স্থানীয় কর্মসূচি ও তহবিলের ওপর নির্ভর করে। ৩. অ্যাডাল্ট এডুকেশন: ইংরেজি ও সমমানের সনদের প্রস্তুতি নতুন অভিবাসীদের জন্য কমিউনিটি কলেজ, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, লাইব্রেরি এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে। এসব কর্মসূচিতে ইংরেজি ভাষা, পড়া-লেখা, গণিত, কম্পিউটার দক্ষতা এবং হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হয়। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কর্মসূচি প্রাপ্তবয়স্কদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, মৌলিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। স্থানীয় কমিউনিটি কলেজ, লাইব্রেরি বা মানবসেবা দপ্তর থেকে এসব কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে। হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষাকে সব জায়গায় শুধু জিইডি বলা ঠিক নয়। অঙ্গরাজ্যভেদে জিইডি, হাইসেট বা অন্য কোনো অনুমোদিত পরীক্ষা থাকতে পারে। ক্লাস বিনামূল্যে হবে নাকি স্বল্প ফি দিতে হবে, সেটিও প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিভেদে ভিন্ন। কিছু প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা, সপ্তাহান্ত বা অনলাইন ক্লাস থাকলেও তা সর্বত্র নিশ্চিত নয়। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের অনলাইন ব্যবস্থায় জিপ কোড দিয়ে স্থানীয় ইংরেজি ও নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ক্লাস খোঁজার সুযোগ রয়েছে। ৪. ২১১ হেল্পলাইন: স্থানীয় সহায়তার তথ্য এক জায়গায় বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন বা শিশুদের কর্মসূচি নিয়ে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে বুঝতে না পারলে ২১১ নম্বরটি কাজে আসতে পারে। ফোনে ২১১ ডায়াল করলে সাধারণত স্থানীয় প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যায়। অনলাইনেও ঠিকানা বা জিপ কোড দিয়ে এলাকার সেবা খোঁজা যায়। ইউনাইটেড ওয়ে পরিচালিত ২১১ নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। এই সেবা স্থানীয় ফুড প্যান্ট্রি, আবাসন সহায়তা, কম খরচের চিকিৎসা, পরিবহন, ইউটিলিটি সহায়তা এবং অন্যান্য কমিউনিটি কর্মসূচির তথ্য দিতে পারে। কল সাধারণত গোপনীয় রাখা হয় এবং পরিচয় না জানিয়েও সহায়তা চাওয়া যেতে পারে। তবে ২১১ কোনো সুবিধা অনুমোদনকারী সরকারি সংস্থা নয়। তারা মূলত আবেদনকারীকে সম্ভাব্য স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করে। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা, বয়স এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। ৫. স্কোর মেন্টরশিপ: ছোট ব্যবসার জন্য বিনামূল্যের পরামর্শ ছোট ব্যবসা, অনলাইন স্টোর বা সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা থাকলে স্কোরের স্বেচ্ছাসেবী ব্যবসা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। স্কোর ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি রিসোর্স পার্টনার। স্কোরের মেন্টররা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, অর্থায়ন, বিপণন, মানবসম্পদ, পরিচালনা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো বিষয়ে পরামর্শ দেন। সরাসরি সাক্ষাৎ ছাড়াও ফোন, ই-মেইল ও ভিডিও কলের মাধ্যমে মেন্টরশিপ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মেন্টররা শুধু অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী নন; তারা বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী বিশেষজ্ঞ। স্কোরের ব্যক্তিগত মেন্টরশিপ বিনামূল্যের হলেও সব কর্মশালা বা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান বিনামূল্যে হবে—এমন নয়। কোনো অনুষ্ঠানে নিবন্ধন ফি থাকতে পারে। তাই নাম লেখানোর আগে আয়োজনটির খরচ ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। প্রথম ৯০ দিনে যে তিনটি কাজ করবেন প্রথমত, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কাগজ, শিক্ষাগত সনদ এবং চাকরির নথির কপি একটি আলাদা ফোল্ডারে রাখুন। ডিজিটাল কপিগুলো নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোনো কর্মসূচির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে চূড়ান্ত ধরে নেবেন না। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, লাইব্রেরি, কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফোন নম্বর দিয়ে নিয়ম, ফি ও যোগ্যতা যাচাই করুন। তৃতীয়ত, কোনো সরকারি বা চাকরির ফর্ম বুঝতে সমস্যা হলে আন্দাজ করে তথ্য দেবেন না। লাইব্রেরি, আমেরিকান জব সেন্টার বা অনুমোদিত সহায়তা প্রতিষ্ঠানে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মীকে আইনজীবী ধরে নিয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এই সেবাগুলোর অনেকটাই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হলেও সব সুবিধা সবার জন্য বিনামূল্যে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্য নয়। সেবার ধরন, নিবন্ধনের নিয়ম এবং যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও প্রতিষ্ঠানভেদে বদলে যেতে পারে। আপনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোন সালে এসেছেন? কমেন্টে শুধু সালটি লিখতে পারেন—যেমন ২০১৮, ২০২২ বা ২০২৪। কোন সময়ের অভিবাসীরা বেশি সাড়া দেন, তার ভিত্তিতে তাদের সাধারণ সমস্যা ও করণীয় নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করা যেতে পারে। দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্য ও কমিউনিটি সচেতনতার জন্য তৈরি। এটি কোনো আইনি, অভিবাসন বা আর্থিক পরামর্শ নয়। কোনো কর্মসূচিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করুন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন চাকরিতে আটকে আছেন, যা তারা ছেড়ে দিতে চান। তবে চাকরি হারালে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও হারানোর আশঙ্কায় তারা সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার প্রয়োজনই লাখো মার্কিন কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী—সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ—শুধু নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে অপছন্দের চাকরিতে রয়ে গেছেন। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘জব লক’ নামে অভিহিত করেছেন। ২০২১ সালে এ হার ছিল ১৬ শতাংশ, অর্থাৎ পাঁচ বছরে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বেশি, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় তারা চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না। আর যাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে তীব্র আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেকই একই কারণে বর্তমান চাকরিতে আটকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যবিমা সরাসরি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, নতুন ব্যবসা শুরু করা, ভালো চাকরির সুযোগ গ্রহণ কিংবা শ্রমবাজারে স্বাভাবিক গতিশীলতাও বাধাগ্রস্ত হয়। ওয়েস্ট হেলথ পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট টিম ল্যাশ বলেন, শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য মানুষকে এমন চাকরিতে থাকতে বাধ্য হওয়া, যা তারা আর করতে চান না, তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রাপ্যতা নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্যসেবার খরচ এখন শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করছে। জরিপটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগকর্তার স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
সুদীর্ঘ তিন দশকের পেশাগত সাফল্য, বিশাল অভিজ্ঞতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দক্ষতা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই যা হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত শ্রমবাজারে সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন যোগাযোগের মাধ্যম ও বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) বিশেষজ্ঞ লেসলি সোনেনক্লারের জন্য। গত বছরের মার্চ মাসে চাকরি হারানোর পর টানা ১৪ মাসে তিনি ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজের এই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের বাসিন্দা লেসলি। পেশাগত জীবনে এত বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি তিনি এর আগে কখনো হননি। ১৯৯৪ সালে একজন বিপণন সমন্বয়ক (মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেসলি। পরবর্তীতে তিনি টানা ১১ বছর নিজস্ব ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেন এবং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রবাহে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন। চাকরি হারানোর পর থেকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ নারী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ‘জীবনবৃত্তান্ত’ (রিজিউমি) তৈরি করেছেন। পেশাদার নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পদ মর্যাদার চাকরির জন্যও আবেদন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবুও বারবার তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন। নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেসলি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, “চাকরির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শত শত মানুষ আবেদন করছেন। লিংকডইনে যখন দেখি এক একটি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে, তখন ভাইভা বা সাক্ষাতকারের আগেই মনে হয় আমার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তারা এমন এক অদ্ভুত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী খোঁজে যিনি একই সাথে কৌশল তৈরি করবেন, লেখালেখি করবেন, এসইও সামলাবেন, আবার ডিজাইনও করবেন। একজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ে একসাথে সর্বগুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।” লেসলির ধারণা, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তার বয়সই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নিয়োগকারী সংস্থাই তাকে জীবনবৃত্তান্তে পুরো ৩২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা না লিখে কেবল শেষ ১০ বছরের কাজের বিবরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য (এজইজম) এখন স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বয়স কম এমন তরুণ কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের মতো গড়ে নিতে পছন্দ করে, যা জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে। প্রথমে শুধুমাত্র ঘরে বসে বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে (রিমোট জব) কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, দীর্ঘ ৯ মাস পর বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের আবেদন শুরু করেন লেসলি। অনলাইনে সরাসরি আবেদনের চেয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে বা রেফারেন্সে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর মেসেজের জবাব দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে ফেলছে। তবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও আগাম আর্থিক পরিকল্পনার কারণে লেসলির অবসরকালীন ফান্ড বা বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। তিনি আগে থেকেই সঞ্চয়মুখী হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা এক বছর ধরে অবসরকালীন তহবিলে জমা করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিকটা চিন্তা থেকে যাচ্ছে। এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন এই প্রবীণ পেশাজীবী। তার বিশ্বাস, এটি একটি সাময়িক বিপর্যয় মাত্র এবং দ্রুতই তিনি তার যোগ্যতার মর্যাদা পাবেন। এই ঘটনাটি শুধু লেসলির একার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে 'এআই ডিভিডেন্ড' নামের ১২ মাস মেয়াদি একটি নতুন কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় এআইয়ের কারণে কাজ হারানো কর্মীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আপাতত ২৫ থেকে ৫০ জন কর্মীকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ‘এআই কমন্স প্রজেক্ট’ এবং ‘হোয়াট উই উইল’ নামের দুটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, এআই যুগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। নিজেদের ধরনের প্রথম এই উদ্যোগটি যোগ্য প্রার্থীদের ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত মাসিক ১ হাজার ডলার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করবে। চাকরি হারানো এসব কর্মীকে নতুন করে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং প্রোগ্রাম, এআই ট্রেনিং সার্টিফিকেশন, জব কোচিং এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করার মতো সহায়তা দেওয়া হবে। এই আর্থিক সহায়তা পেতে আগ্রহীদের ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ফর্মে নিজেদের পদবি এবং এআই কীভাবে তাদের কাজে প্রভাব ফেলেছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্ত অর্থ তারা কীভাবে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণীও জমা দিতে হবে। এআই কমন্স প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা নিক সালাজারের মতে, সামাজিক নিরাপত্তার জালকে এআইয়ের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, যা বর্তমানে বেশ পিছিয়ে আছে। তিনি জানান, মানুষ এখনই কাজ হারাচ্ছে, তাই এই সমস্যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কেবল গবেষণা করার মতো সময় নেই। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যদের অর্থ ও সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। শ্রমবাজারের পরিবর্তনের এই সময়ে এআই নীতিমালায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে কর্মসূচিটি চাকরি হারানো কর্মীদের বাস্তব তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে, সান ডিয়েগোর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ল্যারিক্যাল বা করণিক এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সেলফ-চেকআউট বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক টেলার ও ক্যাশিয়ার পদের চাহিদাও দ্রুত কমছে। গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কর্মীর নতুন করে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শুধু চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে; তাই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে এই পরিবর্তনগুলো বোঝা ও নতুন দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।