মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি দ্বীপ—আবু মুসা, বৃহত্তর তুনব, ক্ষুদ্রতর তুনব, হেঙ্গাম, কেশম, লারাক এবং হরমুজ—এখন পেন্টাগনের মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার 'হরমুজ প্রণালী'র নিয়ন্ত্রণ নিতে এই দ্বীপগুলো দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সময়সীমা আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ালেও, রণপ্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র "বোমার মাধ্যমেই আলোচনা" চালিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪,০০০ মেরিন সেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ১,০০০ সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চীনা ও ইরানি গবেষকদের মতে, এই দ্বীপগুলো একত্রে ইরানের একটি "আর্চ ডিফেন্স" বা ধনুকাকৃতি প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে। বিশেষ করে আবু মুসা ও দুই তুনব দ্বীপের অবস্থান এমন জায়গায়, যেখানে পানির গভীরতা কম হওয়ায় বড় যুদ্ধজাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারগুলো এই দ্বীপগুলোর খুব কাছ দিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এখান থেকেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ড্রোন বা দ্রুতগামী বোটের সাহায্যে যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। আইআরজিসি কমান্ডাররা এই দ্বীপগুলোকে "অজেয় বিমানবাহী রণতরী" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষক কার্ল শুস্টার সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই দ্বীপগুলো দখল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশ ও জলপথ—উভয় দিক থেকেই আক্রমণ চালাতে হতে পারে। তবে এটি মোটেও সহজ হবে না। লারাক দ্বীপ থেকে ইরানের মিসাইল হামলা মার্কিন নৌবহরের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া, দ্বীপগুলো দখল করার পর সেখানে প্রায় ২,০০০ সৈন্যের স্থায়ী অবস্থান প্রয়োজন হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে যুক্ত হয়েছে মালিকানা বিতর্ক। ১৯৭১ সাল থেকে ইরান এই দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এগুলোকে নিজেদের দাবি করে আসছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপগুলো দখল করে আমিরাতকে দিয়ে দেয়, তবে ইরানের ভবিষ্যৎ সরকারের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক চিরতরে বিষিয়ে উঠতে পারে। আর যদি ইরানের কাছেই রাখা হয়, তবে দীর্ঘদিনের মিত্র আমিরাত ক্ষুব্ধ হবে। সব মিলিয়ে, পারস্য উপসাগরের এই ক্ষুদ্র দ্বীপগুলোই এখন বিশ্ব রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর স্থিতিশীলতা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল নাগাদ থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপের কাছে সমুদ্রে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ‘লায়েম প্রোমথেপ’ উপকূল থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে বাংলাদেশ অভিমুখী ‘সিলয়েড আর্ক’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ হঠাৎই ডুবে যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় থাই কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার ৩৩৯ টন ওজনের জাহাজটি ২৯৭টি কন্টেইনার বহন করছিল এবং সেগুলো নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝ সমুদ্রে আচমকা জাহাজে পানি ঢুকতে শুরু করলে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং একপর্যায়ে জাহাজটি নিমজ্জিত হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই থাইল্যান্ডের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌ ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় জাহাজে থাকা সব ক্রু সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও যাচাই চলছে। জাহাজডুবির ফলে সমুদ্রজুড়ে বড় ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৪ দশমিক ৫ মাইল দীর্ঘ ও ১ মাইল প্রশস্ত এলাকাজুড়ে তেলের স্তর ভেসে থাকতে দেখা গেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—জাহাজে থাকা কন্টেইনারগুলোর মধ্যে অন্তত ১৪টিতে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ ছিল। এই পরিস্থিতিকে থাই কর্তৃপক্ষ একটি বড় ধরনের সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় রোববার একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে থাইল্যান্ড। আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে তেলের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফুকেটের মূল উপকূলীয় এলাকায় তেল পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক বোঝাই কন্টেইনার সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। এদিকে বাংলাদেশগামী এই জাহাজে আমদানিকৃত পণ্য থাকায় দেশের বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও সমুদ্র পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।