সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হত্যা মামলা

ম্যাসাচুসেটসের অ্যাকটনে মা ও ভাই হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোরকে নিয়ে তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
চ্যাটজিপিটি থেকে ধারণা নিয়ে মা ও ভাইকে খুন! যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাকটন শহরে এক মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আপন মা এবং ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের পরিবারকে হত্যার আগে ধারণা পেতে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) ব্যবহার করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সিবিএস বস্টনকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার দায়ে জোড়া খুনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অর্জুনের বাবা মার্থা লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে পুলিশকে ফোন করেন। কারণ তিনি অনেক চেষ্টা করেও কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর আগে ওই দিন সকালে একজন গৃহশিক্ষক পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অর্জুনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে মঙ্গলবার সকালে একটি বিনোদন কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল এবং সে দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরে। তদন্তকারীদের ধারণা, সকাল থেকে দুপুরের পর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নিচতলায় (ফার্স্ট ফ্লোর) সিদ্ধার্থের এবং বেসমেন্টে সুধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোড়া খুনের পর মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় অর্জুন। বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ডের একটি পার্কিং লটে একটি অ্যালার্ম বাজার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকেই ওই গাড়িসহ অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি।   অর্জুনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর এবং গাড়ি চুরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যার মূল অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, "অর্জুন সম্প্রতি কিছু উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পকাহিনি খোঁজার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।"   অ্যাকটনের পুলিশ প্রধান ডগ স্টুরনিওলো জানান, অর্জুন পুলিশের কাছে অপরিচিত ছিল না। গত বছর সে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার। এই ঘটনাকে একটি "বর্ণনাতীত ট্র্যাজেডি" ও "অত্যন্ত অন্ধকার দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকটন শহরের এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে।   মার্থা লেনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের কাছে এসে কিছু দেখেছে কি না জানতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিবেশী বলেন, "কৌতূহলবশত আমি উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তায় ফায়ার ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। অফিসাররা কাউকে বা কিছু খুঁজছিলেন। পরিবারটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, তবে ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক।"   ডেভন রিপ নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, "আমাদের রাস্তার পাশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এটি অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক এবং আতঙ্কজনক। আমি এখানে এমন জরুরি অবস্থা বা পুলিশের এত উপস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনে সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কস্টকো কর্মী টাইলার সোরেনসেন। ছবি: সংগৃহীত
পছন্দের নারীকে জড়িয়ে ধরায় সহকর্মীকে গাড়ির ধাক্কায় হত্যা করলেন কস্টকো কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কস্টকোর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা থেকে সহকর্মীকে মোটরসাইকেলসহ গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের সেডান গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দিলে চালক ছিটকে পাশের একটি ধাতব সাইনপোস্টে আঘাত করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী টাইলার সোরেনসেন ও নিহত ২০ বছর বয়সী জনাথন ল্যাংডন দুজনেই ওয়াশিংটনের ইসাকুয়ায় অবস্থিত কস্টকোতে কর্মরত ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সোরেনসেন তার সহকর্মী সামান্থা পিটারসনকে ল্যাংডনের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখেন। সামান্থার প্রতি তার একতরফা আকর্ষণ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পার্কিং এলাকা থেকে ল্যাংডন মোটরসাইকেলে বের হলে নিজের গাড়ি নিয়ে তার পিছু নেন।   তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পার্কিং লটেই প্রথমে গাড়ি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান সোরেনসেন। পরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ল্যাংডন বের হলে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে ল্যাংডন ছিটকে গিয়ে একটি সড়কচিহ্নের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করেন। মোটরসাইকেলটি চালক ছাড়াই সামনের দিকে কিছু দূর এগিয়ে যায়।   আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আঘাতের তীব্রতায় ল্যাংডনের শরীর ধাতব খুঁটির সঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা তাকে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পরা হেলমেটের সামনের অংশও আঘাতে খুলে গিয়েছিল। শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন সাইনপোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সোরেনসেন থেমে আহত সহকর্মীকে সাহায্য করেননি কিংবা জরুরি সেবায় ফোনও করেননি। বরং তিনি কিছু দূরে গিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে সেখান থেকে চলে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে জরিমানা করেন। তখন ওই কর্মকর্তা জানতেন না, কয়েক মাইল দূরেই একটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে।   পরে সোরেনসেনের বাবা ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন তদন্তকারীদের কাছে বলেন, "এটি বোকামি ছিল, কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই করেছি।" তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের আলিঙ্গন করতে দেখে তিনি আতঙ্কিত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন।   তবে সামান্থা পিটারসন তদন্তকারীদের জানান, তার সঙ্গে সোরেনসেনের কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি একাধিকবার সোরেনসেনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছেন এবং তার থেকে দূরে থাকতে হবে।   এদিকে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তার জামিন ২০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ আগস্ট মামলার প্রাক-বিচার শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।   প্রকাশিত ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
ওহাইওতে আলোচিত হত্যা মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত স্যামুয়েল হকস্টেটলার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, এরপর পরিবারকে শেষকৃত্যের সহায়তার প্রস্তাব আমিস যুবকের

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে যৌন সহিংসতার সময় হত্যা করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার বিচার শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।   পিপল ম্যাগাজিন, মেইগস কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস এবং কোর্ট টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওহাইওর রাটল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা স্যামুয়েল হকস্টেটলার ২০২৫ সালে ২৮ বছর বয়সী রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যুর ঘটনায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার বিচার ২৭ জুলাই জুরি বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, তার সম্মতি ছাড়া যৌন নির্যাতনের সময় এমনভাবে তাকে চেপে ধরা হয়েছিল যে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। কোর্ট টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন হকস্টেটলার ও কিনসিঙ্গার অন্য কয়েকজনের সঙ্গে একটি গ্রিনহাউস নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হকস্টেটলার আগে কয়েকবার কিনসিঙ্গারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি।   প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে জানান, তদন্তে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার সময় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরদিন ১৩ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মরদেহ তার ট্রেলারবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কর্মস্থলে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় পরিচিতজনেরা খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।   মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ। প্রসিকিউটরদের দাবি, রোজানার মৃত্যুর খবর তিনিই প্রথম তার বাবাকে জানান। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে সহায়তার প্রস্তাবও দেন। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে বলেন, রোজানার বাবা-মা ও ভাইবোন জানতেই পারেননি যে যাকে তারা ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং শোকের মুহূর্তে পাশে পেয়েছিলেন, তিনিই তাদের স্বজন হত্যার জন্য দায়ী।   রায়ের পর আদালত স্যামুয়েল হকস্টেটলারকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে সহিংস অপরাধী এবং তৃতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে আদালতে অভিযুক্ত নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান। তার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এটি একটি দুর্ঘটনা। এছাড়া মামলার শুরুতে আদালত তার দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে দোষ স্বীকারের পথ তৈরি করে।   আদালতে হকস্টেটলার বলেন, "আমি যা করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত। যদি অতীতে ফিরে গিয়ে অন্যভাবে জীবন গড়তে পারতাম। আমি কতটা অনুতপ্ত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার, তদন্ত শুরু

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অরেঞ্জ শহরের একটি বাড়িতে রাখা কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ৩২ বছর বয়সী এক নারী ওই বাড়িতে সন্তান জন্ম দেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বাড়িতে থাকা কিছু সন্দেহজনক বিষয় সম্পর্কে চিকিৎসকদের জানান।   ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানান, নারীর গর্ভধারণের বিষয়টি তিনি অনেক দেরিতে জানতে পারেন। পরে বিষয়টি জানার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করার সময় তিনি মানুষের দেহাবশেষের মতো কিছু দেখতে পান।   তথ্য পাওয়ার পর সোমবার রাতে বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হাড় পরীক্ষা করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, সেগুলো পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ হতে পারে।   তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই নারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে এখনো তার সঙ্গে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। ওই নারীর পরিবারে ৮ ও ৯ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান রয়েছে।   মঙ্গলবারও ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। দুইতলা বাড়িটির প্রবেশপথ নিরাপত্তা টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং দেহাবশেষের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পুরো পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।   ফ্রান্সে নবজাতকের দেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে একটি বাড়ির ফ্রিজ থেকে দুই নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির আদালত।   পুলিশ জানিয়েছে, অরেঞ্জের ঘটনার ক্ষেত্রে ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে দেহাবশেষের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্চ মাসের আলোচিত গুলির ঘটনায় তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্দেহভাজনকে।
নিউইয়র্কের কুইন্সে স্ত্রীর সামনে গুলি করে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন জর্জিয়ায় আটক

নিউইয়র্কের কুইন্সে চলতি বছরের মার্চে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজনকে জর্জিয়ায় আটক করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী লুইস বেলিসকে জর্জিয়ার লরেন্সভিল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।   নিহত ব্যক্তির নাম জাইর হাভিয়ের ভিনসেস-কোবেনা, বয়স ৩৬ বছর। পুলিশ জানায়, গত ১৩ মার্চ সন্ধ্যার দিকে কুইন্সের করোনা এলাকার ৫৫তম অ্যাভিনিউতে নিজ বাসার কাছে অবস্থানকালে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালানো হয়। হামলার সময় তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।   গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভিনসেস-কোবেনাকে দ্রুত এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারীরা মোটরচালিত একটি মোপেডে করে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।   ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনকে শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় লুইস বেলিসকে জর্জিয়ায় আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।   তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসমক্ষে জানানো হবে।   নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটিতে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে হত্যা মামলার বিচারে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করেন মেলিনা ফ্রাত্তোলিনের মৃত্যুর কারণ। ছবি: সংগৃহীত
কাদামাটি ও জলজ উদ্ভিদে ভরে গিয়েছিল ফুসফুস, আদালতে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যুর ভয়াবহ বর্ণনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ৯ বছর বয়সী মন্ট্রিয়লের বাসিন্দা মেলিনা ফ্রাত্তোলিনের মৃত্যুর ঘটনায় চলমান হত্যা মামলার বিচারে আদালতে উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক ফরেনসিক তথ্য। চিকিৎসা পরীক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি ডুবে মারা যায় এবং তার ফুসফুস, শ্বাসনালি ও পাকস্থলীতে কাদামাটি ও জলজ উদ্ভিদের অংশ পাওয়া গেছে। এই তথ্য আদালতে উপস্থাপনের সময় অভিযুক্ত বাবা লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন মরদেহের ছবি দেখার পরিবর্তে মুখ ফিরিয়ে নেন।   মঙ্গলবার নিউইয়র্কের এলিজাবেথটাউনের এসেক্স কাউন্টি আদালতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. মাইকেল সিকিরিকা জুরিদের জানান, এটি "নিশ্চিতভাবেই ডুবে মৃত্যুর ঘটনা"। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে স্ফীত ছিল এবং ভেতরে গভীর পর্যন্ত কাদামাটি ও উদ্ভিদের কালো কণা পাওয়া যায়, যা জীবিত অবস্থায় পানিতে শ্বাস নেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।   আদালতে সাক্ষ্য চলাকালে জুরিদের সামনে মেলিনার মরদেহ উদ্ধারের সময় তোলা ছবি প্রদর্শন করা হয়। তবে হত্যা মামলার আসামি ও শিশুটির বাবা লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন সেদিকে না তাকিয়ে আদালতে বসেই একটি নোটপ্যাডে লিখতে থাকেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।   ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানান, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই নিউইয়র্কের এসেক্স কাউন্টির ইগল লেকের কাছে প্যারাগন ব্রুক নামের একটি অগভীর জলধারা থেকে মেলিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে প্রচুর কাদামাটি লেগে ছিল। তার শরীরে কিছু আঁচড় ও হালকা আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মরদেহটি পানির নিচে একটি বড় পাথর দিয়ে চাপা দেওয়া ছিল।   প্রসিকিউশনের অভিযোগ, লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন নিজের মেয়েকে হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অপহরণের গল্প সাজিয়েছিলেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, লেক জর্জ এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হলেও তদন্তে তার বক্তব্যের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরদিন বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা শিশুটির মরদেহ খুঁজে পান।   একই দিনে আদালতে সাক্ষ্য দেন মেলিনার মা কালি গ্যালানিসও। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক মাস আগে মেলিনা তার বাবার সঙ্গে ইথিওপিয়া সফরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিল। পরে সেই বিদেশ সফর বাতিল করে বাবা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যান। প্রসিকিউশন এই সাক্ষ্যকে মামলার প্রাসঙ্গিক অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছে।   ৪৬ বছর বয়সী লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মরদেহ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার বিচার এখনও চলমান এবং প্রসিকিউশন আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে বলে আদালতকে জানিয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কাউন্সিলর একরামুল হত্যা মামলায়, সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ
কাউন্সিলর একরামুল হত্যা মামলায়, সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তৎকালীন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক এবং বর্তমান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।    আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল অফিসার্স মেস থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেনা কাস্টডিতে রয়েছেন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।    জানা গেছে, তিনি বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঢাকা সেনানিবাসে আনার পর তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।    মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হন। সে সময় মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়েছে।    রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরামুল হত্যা মামলায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেই আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।    একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনা ২০১৮ সালে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরিবারের সঙ্গে তার শেষ ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়।    এদিকে, ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ র‌্যাব এবং বাহিনীটির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই তালিকায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও ছিল।    আইএসপিআর জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং পরবর্তী সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।  

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
লুমুম্বা সেয়ার্স সিনিয়রকে ৫১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কলোরাডোর আদালত। ছবি: সংগৃহীত
ছেলের হত্যার প্রতিশোধ নিতে, প্রকাশ্যে খুনিকে গুলি করে হত্যা করায় বাবার ৫১ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে নিজেকে সহিংসতা-বিরোধী কর্মী হিসেবে পরিচিত করা লুমুম্বা সেয়ার্স সিনিয়র শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৫১ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। নিজের ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার আদালত এই সাজা ঘোষণা করেন।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ডেনভারে একটি শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর সেয়ার্স কলোরাডোর কমার্স সিটির প্যারাডাইস আইল্যান্ড ওয়াটার পার্কে যান। সেখানে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ২৮ বছর বয়সী ম্যালকম ওয়াটসনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই ওয়াটসনের মৃত্যু হয়। হামলার সময় তার ছোট ছেলে এবং আরও অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।    তদন্তে উঠে আসে, সেয়ার্স বিশ্বাস করতেন ওয়াটসনের সঙ্গে তার ছেলে লুমুম্বা সেয়ার্স জুনিয়রের ২০২৩ সালের হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক ছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। তবে প্রসিকিউটররা জানান, ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার কারও নেই।   মামলার বিচার শেষে জুরি তাকে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা, আলামত নষ্ট করা এবং আলামত নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত হত্যা মামলায় ৪৮ বছর এবং বাকি দুটি অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে আরও তিন বছর কারাদণ্ড দিয়ে মোট ৫১ বছরের সাজা ঘোষণা করেন।    আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, সেয়ার্স হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে সরিয়ে ফেলেন এবং ঘটনাস্থলে ভিন্ন একটি আগ্নেয়াস্ত্র রেখে তদন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন।    লুমুম্বা সেয়ার্স একজন সাবেক মিশ্র মার্শাল আর্টস (এমএমএ) ফাইটার এবং ‘হেভি হ্যান্ডস, হেভি হার্টস’ নামে একটি যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের অস্ত্র ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কাজ করার দাবি করতেন। তবে প্রসিকিউটরদের ভাষায়, শেষ পর্যন্ত তার নিজের কর্মকাণ্ডই সেই বার্তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে ইতালিতে প্রবেশের সময় আটক হন টেক্সাসের এই হত্যা মামলার আসামি। ছবি: সংগৃহীত
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলার আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাতে আপাতত বাধা ইতালির আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে বিচার শুরুর আগেই দেশ ছেড়ে ইতালিতে পালিয়ে যাওয়া লি গিলিকে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো হচ্ছে না। ইতালির একটি আপিল আদালত তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত আইনি নিশ্চয়তা চেয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইতালির বিচারকরা জানতে চেয়েছেন, লি গিলিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করা হবে না, এ বিষয়ে মার্কিন সরকার কী ধরনের নিশ্চয়তা দিতে পারে। ইতালির আইনে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়ায় এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।   ৩৯ বছর বয়সী লি গিলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেক্সাসের হিউস্টনে নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ক্রিস্টা বাউয়ার গিলিকে হত্যা করেন তিনি। ওই সময় ক্রিস্টা নয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।   ঘটনার রাতে লি গিলি পুলিশকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তার মৃত্যু অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে নয়; বরং গলায় চাপ প্রয়োগের কারণে শ্বাসরোধে হয়েছে। এরপরই ঘটনাটি হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই গিলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারের পর ১০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্তি পান গিলি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং ইলেকট্রনিক গোড়ালির নজরদারি যন্ত্র (অ্যাঙ্কল মনিটর) পরতে হয়েছিল।   তবে চলতি বছরের ১ মে তিনি সেই নজরদারি যন্ত্র কেটে ফেলেন এবং হিউস্টন থেকে প্রথমে কানাডা, পরে ইতালির মিলানে যান। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইতালিতে প্রবেশের সময় তিনি ভুয়া বেলজিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং নিজের পরিচয় গোপন করতে অন্য একটি নাম ব্যবহার করেন। সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে আটক করে। পরে তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যা মামলার বিচার এড়িয়ে তিনি ইতালিতে এসেছেন।   ইতালির আদালতে শুনানির সময় গিলি রাজনৈতিক আশ্রয়ও চান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কায় তিনি ইতালিতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর এখন পর্যন্ত জানায়নি যে তারা এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইবে। তবে ইতালির আদালতের মতে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   আদালতে গিলি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি কাউকে হত্যা করিনি। আমি নির্দোষ। আমি যে অপরাধ করেছি, তা হলো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া।" এদিকে, ক্রিস্টা বাউয়ার গিলির পরিবারের আইনজীবী টিম ব্যালেঞ্জি বলেন, অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে হতাশ। তাদের প্রত্যাশা ছিল আদালতে বিচার হবে এবং ক্রিস্টা ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা যাবে।   হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গিলিকে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতালির আদালত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তা দিতে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এরপরই তার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: পিপল, কেপিআরসি ২ নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্মোচিত হয় চার দশকের পুরোনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য। ছবি: সংগৃহীত
৪৪ বছর পর মিলল বিচার, ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ৪৪ বছর আগে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও বংশগত জিনগত বিশ্লেষণের (ফ্যামিলিয়াল জেনেটিক জিনিয়োলজি) মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়।   সোনোমা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী জেমস অলিভার ইউনিক (James Oliver Unick) শুক্রবার আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি কোনো ধরনের প্যারোল বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তির সুযোগ পাবেন না।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের ২৩ মে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লোভারডেলে ১৩ বছর বয়সী সারা গিয়ার (Sarah Geer) এক বন্ধুর বাড়ি থেকে শহরের দিকে হাঁটছিলেন। এ সময় ইউনিক তাকে একটি গলিতে টেনে নিয়ে গিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের পেছনে ধর্ষণ করেন এবং পরে তার পরনের শর্টস ব্যবহার করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।   ঘটনার পর ক্লোভারডেল পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও সে সময়ের সীমিত ফরেনসিক প্রযুক্তির কারণে মামলাটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। কয়েক দশক ধরে এটি অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে ছিল।   ২০০৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ সারার পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের ভিত্তিতে একটি ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করেন। তবে সেই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাটাবেজে থাকা কোনো ব্যক্তির ডিএনএর সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়নি।   পরবর্তীতে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বংশগত জিনগত তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে ডিএনএটির উৎস একটি পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে একজনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে শনাক্ত করে। তদন্তের অংশ হিসেবে এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা গোপনে নজরদারি চালিয়ে ইউনিকের ফেলে দেওয়া একটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করেন।   ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই সিগারেট থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে ২০০৩ সালে তৈরি ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নিহত কিশোরীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা আরও কয়েকটি আলামতের ডিএনএর সঙ্গেও ইউনিকের ডিএনএ মিলে যায় বলে জানান তদন্তকারীরা।   এরপর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ক্লোভারডেল পুলিশ ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেন কাউন্টির উইলোজ শহর থেকে ইউনিককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি দাবি করেছিলেন, সারা গিয়ারকে তিনি কখনো চিনতেন না এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও ছিল না।   তবে বিচার চলাকালে ইউনিক ভিন্ন দাবি করেন। তিনি আদালতে বলেন, ওই কিশোরী নাকি তার কাছে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে সম্মতিতেই সম্পর্ক হয়েছিল। পরে তিনি সারাকে একটি বিনোদনকেন্দ্রের কাছে নামিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তবে আদালত এই বক্তব্য গ্রহণ করেননি।   রায় ঘোষণার সময় বিচারক লরা পাসাগলিয়া বলেন, অভিযুক্ত একজন শিশুর জীবন, ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাবনাকে নির্মমভাবে কেড়ে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইউনিক নিজের কোনো দায় স্বীকার করেননি, বরং ঘটনার জন্য নিহত শিশুকেই দায়ী করার চেষ্টা করেছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।   দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ায় নিহত কিশোরীর পরিবার ও তদন্তসংশ্লিষ্টরা এটিকে ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মেয়ের শোবার ঘরে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার কেন্দ্রা স্কট। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ের শোবার ঘরে অপরিচিত যুবককে দেখে গুলি করে হত্যা করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে নিজের মেয়ের শোবার ঘরে এক যুবককে দেখতে পেয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত নারীর নাম কেন্দ্রা স্কট (৩৬)। তদন্তকারীদের কাছে তিনি বলেছেন, "যা করার ছিল, তাই করেছি।" তবে ঘটনার তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএমসি (WMC) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে মেমফিসের ওয়াকার হোমস এলাকায় গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে একটি বাড়ির সামনের উঠানে মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই কেন্দ্রা স্কটকে আটক করে। আদালতে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, স্কট তদন্তকারীদের জানান যে তিনি নিজের সন্তানের কক্ষের বিছানার নিচে ওই যুবককে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। এরপরই তিনি গুলি চালান। ঘটনার পর তিনি পুলিশকে বলেন, "আমি যা করার ছিল, তাই করেছি।"   তদন্তে পরে পুলিশ জানতে পারে, ওই যুবককে বাড়িতে ডেকেছিল স্কটের মেয়েই। তদন্তকারীদের কাছে কিশোরীটি জানায়, তার মা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, যদি সে কখনো কোনো ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসে, তাহলে তিনি তাকে গুলি করবেন। এই বক্তব্যও মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ঘটনার সবদিক পর্যালোচনা করে পুলিশ কেন্দ্রা স্কটের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, নিহত যুবকের সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক এবং ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।   আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার কেন্দ্রা স্কটকে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দোকানকর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাইতিয়ান অভিবাসীর মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে এক গ্যাস স্টেশনের দোকানকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হাইতিয়ান নাগরিক রলবার্ট জোয়াচিনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।   ফ্লোরিডার লি কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স জানান, ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল গ্যাস স্টেশনের বাইরে ৫১ বছর বয়সী নিলুফা ইসমিনকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করা হয়।   নিহত নিলুফা ইসমিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর গাড়ির জানালা ভেঙে দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তিনি দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালান। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষ “অত্যন্ত নৃশংস ও ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছে।   ঘটনার পর জোয়াচিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।   স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স বলেন, “এই ঘটনা ছিল অত্যন্ত সহিংস, অপ্রয়োজনীয় ও ভয়াবহ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কর্মরত এক মায়ের জীবন নির্মমভাবে শেষ করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছি, মৃত্যুদণ্ডসহ।”   স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ভিডিও প্রমাণ ও তদন্তে হামলার নির্মমতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।   নিরাপত্তা সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে তার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আইনি জটিলতায় ছিলেন।   ফ্লোরিডায় গ্যাস স্টেশনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দোকানকর্মী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন |

Unknown মে ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি গুদামে বিস্ফোরণ: ৭ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি অবৈধ আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ জুলাই এসপার্টো এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গুদামটিতে আইনবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছিল।   প্রধান অভিযুক্ত স্যামুয়েল মাচাডো, যিনি ওই গুদামের মালিক এবং ইয়োলো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের সাবেক লেফটেন্যান্ট ছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করে আসছিলেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ১৩টি কনটেইনার ছিল, তা বেড়ে গত বছর ৫০টিতে পৌঁছায়।   এই ঘটনায় আরও যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে তারা হলেন—কেনেথ চি, জ্যাক লি, গ্যারি চ্যান জুনিয়র এবং ডগলাস টোলেফসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আতশবাজি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গুদামটি ব্যবহার করতেন সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ বিস্ফোরক রাখা, বীমা জালিয়াতি, শিশু বিপন্ন করা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা।   এ ঘটনায় স্যামুয়েল মাচাডোর স্ত্রী ট্যামি মাচাডোকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, বন্ধক জালিয়াতি এবং পরিবারের পাশে অবৈধ বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।   ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুদামের কর্মী ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ীদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অপহৃত নার্স এমিলিয়ানে তামারা নুনেস কারভালহো

সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে, সাবেক স্বামীর হাতে পাঁচ দিন শেকলবন্দি তরুণী নার্স

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০