- প্রচ্ছদ
- Topic
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সমুদ্রপথের এই অবরোধ এড়াতে স্থলপথে তেল ও পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তাড়াহুড়ো করে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলে তুরস্ক ও পাকিস্তান সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩,৭০০ কার্গো ট্রাক আটকে আছে। 'ইউনিয়ন অব ট্রাকার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স অর্গানাইজেশনস অ্যাক্রস ইরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এক চালক অভিযোগ করেছেন, ইরান এই পরিস্থিতির দায় নিচ্ছে না, আবার পাকিস্তানও তাদের কার্গো খালাস করতে দিচ্ছে না। নিজেদের তৈরি করা এই সংকটের কারণে লোহা, সিমেন্ট এবং গ্যাস বহনকারী ট্রাক চালকদের সীমান্তে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রেকর্ড উচ্চমূল্যের জ্বালানির পাশাপাশি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত থেকেও সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার কারণে সাময়িকভাবে টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরানি চালকরা। অবরোধের প্রভাব ইরানের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও কাস্টমস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি ইরানি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির নন-অয়েল বা তেল-বহির্ভূত পণ্য রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ভরটেক্সার মতে, আগস্ট মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইরানের আমদানিও প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ২.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে। বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম, ভুট্টা এবং ভোজ্যতেল আমদানির জন্য গত পাঁচ মাসে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ট্রানজিট প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়েছে তারা। তেহরান টাইমসের মতে, চীনের সাথে রেল যোগাযোগও আগের সাপ্তাহিক সূচির বদলে এখন প্রতি তিন-চার দিন অন্তর চলছে। তা সত্ত্বেও আমদানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রেল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ স্থলপথের এই বাধাগুলোর কারণে ইরানে আসা পণ্যের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাচ্ছে। এত কিছুর পরও ইরানের কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই তাদের প্রক্সি বাহিনী তেল ও কার্গো পরিবহনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার মাধ্যমে তারা যেকোনো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সমুদ্রপথের এই অবরোধ এড়াতে স্থলপথে তেল ও পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তাড়াহুড়ো করে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলে তুরস্ক ও পাকিস্তান সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩,৭০০ কার্গো ট্রাক আটকে আছে। 'ইউনিয়ন অব ট্রাকার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স অর্গানাইজেশনস অ্যাক্রস ইরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এক চালক অভিযোগ করেছেন, ইরান এই পরিস্থিতির দায় নিচ্ছে না, আবার পাকিস্তানও তাদের কার্গো খালাস করতে দিচ্ছে না। নিজেদের তৈরি করা এই সংকটের কারণে লোহা, সিমেন্ট এবং গ্যাস বহনকারী ট্রাক চালকদের সীমান্তে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রেকর্ড উচ্চমূল্যের জ্বালানির পাশাপাশি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত থেকেও সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার কারণে সাময়িকভাবে টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরানি চালকরা। অবরোধের প্রভাব ইরানের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও কাস্টমস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি ইরানি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির নন-অয়েল বা তেল-বহির্ভূত পণ্য রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ভরটেক্সার মতে, আগস্ট মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইরানের আমদানিও প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ২.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে। বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম, ভুট্টা এবং ভোজ্যতেল আমদানির জন্য গত পাঁচ মাসে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ট্রানজিট প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়েছে তারা। তেহরান টাইমসের মতে, চীনের সাথে রেল যোগাযোগও আগের সাপ্তাহিক সূচির বদলে এখন প্রতি তিন-চার দিন অন্তর চলছে। তা সত্ত্বেও আমদানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রেল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ স্থলপথের এই বাধাগুলোর কারণে ইরানে আসা পণ্যের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাচ্ছে। এত কিছুর পরও ইরানের কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই তাদের প্রক্সি বাহিনী তেল ও কার্গো পরিবহনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার মাধ্যমে তারা যেকোনো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে একই ধরনের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। জুনে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বেড়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত হয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক শান্তি ঘোষণা হয়নি। বরং একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো চুক্তি হলে তার শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোজাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ দাবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওই ডুবোযানটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সরঞ্জাম ছিল না। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক চালকবিহীন ডুবোজাহাজ আটক করেছে। ইরানের দাবি, ডুবোযানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডুবোযানটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই যানটি মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারে। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি একবার ঘাঁটি থেকে বের হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে সক্ষম এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় নামার জন্য নকশা করা হয়েছে। তবে ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের বক্তব্য ভিন্ন। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি ডুবো ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। সেটি আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি পুরোনো একটি মডেল ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। একই সঙ্গে এতে শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। তবে পেন্টাগনের বক্তব্যে ডুবোযানটি কীভাবে ইরানের হাতে পৌঁছেছে বা ইরান সেটি জব্দ করেছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি। রয়টার্সও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অ্যান্ডুরিলের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করত। সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, আগের দিন যা ছিল আটটি। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুধু জ্বালানি পরিবহনের জন্য নয়। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এটি। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। মার্কিন সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চালকবিহীন নৌযান ও ডুবোযানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা। এসব প্রযুক্তি প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে। ডাইভ-এলডি সেই নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানগুলোর একটি। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপ জানিয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ-এলডির মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ডলার। ইরানের হাতে এমন একটি মার্কিন ডুবোযান চলে যাওয়ার দাবি সত্য হলে ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান কী ধরনের সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা ও নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তা প্রতিপক্ষের হাতে গেলে সেগুলো বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় ইরান আসলে কী ধরনের ডুবোযান জব্দ করেছে এবং সেটির ভেতরের প্রযুক্তি কতটা অক্ষত রয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব হরমুজ প্রণালির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ ও তেল পরিবহনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপও হয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডুবোযান নিয়ে ইরানের দাবি কেবল একটি সামরিক সরঞ্জাম আটকের ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের চলমান সংঘাতে পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তারও একটি উদাহরণ। তবে ডুবোযানটির প্রকৃত অবস্থা এবং এটি কীভাবে ইরানের হাতে এসেছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন ও ইরানের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। সূত্র: রয়টার্স
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ খুঁজছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এসব দেশ এখন দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্কের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরাম ২০২৬-এ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ও আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শক্তির উৎস হিসেবে থাকবে। নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখা পরস্পরবিরোধী নয় বলেও তিনি জানান। গারগাশ বলেন, ইরান তাদের প্রতিবেশী দেশ এবং কোনো এক পর্যায়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সম্পর্ক পুনর্গঠন করা এবং ভেঙে যাওয়া আস্থা পুনর্গঠন করা এক বিষয় নয়। তার মতে, সম্পর্ক পুনর্গঠন প্রয়োজনীয় হলেও আস্থা ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি কঠিন হবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনগণের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় মার্কিন চাপের প্রভাব যেন তাদের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর একটি ছিল দেশটির প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে। এর আগে ইরান দুটি মার্কিন নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। এর পরিবর্তে নৌ অবরোধ ও একাধিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতিতে চাপের কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু আলোচনায় আগ্রহ বাড়ানোর পরিবর্তে দেশটি হামলা ও কঠোর বক্তব্য আরও বাড়িয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির উপদেষ্টা মাজেদ আল-আনসারি বলেন, সংকটটি ধীরে ধীরে নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাই এখন বড় হুমকি। তার মতে, পরিস্থিতিকে আর শুরু ও শেষের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা সাময়িক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ইরানের ওপর কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারণ ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে আসছে এবং নতুন চাপ উল্টো দেশটির মানুষের মধ্যে ঐক্য বাড়াতে পারে। যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রেও বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন আল-আনসারি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিংবা ইরান, কোনো পক্ষই যুদ্ধে নিজেদের ব্যর্থ হিসেবে দেখাতে চায় না। ফলে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য ফল নির্ধারণ করে যুদ্ধ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন। যুদ্ধের প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও সার পণ্যের দাম বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমান হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা বন্দর ব্যবহার করে তেল রপ্তানি এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি চালিয়ে যেতে পারছে। অন্যদিকে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে, কারণ তাদের এমন স্থলসীমান্ত নেই, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সহজে পণ্য পরিবহন করা যায়। কাতারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। আল-আনসারি বলেন, একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরান কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ অচল করে দিতে সক্ষম হয়েছিল। কাতারের এই গ্যাস সরবরাহ বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। যুদ্ধ থেকে সামুদ্রিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল জন ডব্লিউ. মিলার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ও পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী স্থল ও সমুদ্রে ইরানের উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সাফল্য পেলেও ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনও হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছাতে পারছে। মিলার বলেন, সামরিক সাফল্য থাকলেও এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি সোমালিয়ার জলদস্যুদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছোট নৌযান ব্যবহার করেও তারা বড় পণ্যবাহী জাহাজ দখল করে জিম্মি করতে এবং মুক্তিপণ দাবি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার মতে, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখন কী করা সম্ভব, তা নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। হুমকি শুধু হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও রয়েছে। ওই এলাকাতেও হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো ইরানে তৈরি নতুন একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয় এবং এর পর জাহাজটি সরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের তৈরি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল এবং জাহাজটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তিনি অবশ্য কোন জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বা ঠিক কোথায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা জানাননি। ইরানের এই দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এর আগে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই দুটি যুদ্ধজাহাজ হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তারা তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে রেজায়ীর নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। রেজায়ী একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান শিগগিরই প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ বা সীমিত’ নৌ চলাচল অঞ্চল ঘোষণা করবে। ওই এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এতে বিমা পাওয়া ও পরবর্তী সময়ে সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এই জলপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে এমন একটি খসড়া প্রস্তাব তুলেছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পথ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও তথ্য দিতে এবং আইএইএ পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চাপ দেওয়া। আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান এখনো সংস্থাটিকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক উপাদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পূর্ণ নজরদারি পুনরায় চালু করা জরুরি। তবে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে আইএইএর পরিদর্শন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আইএইএর পারমাণবিক ইস্যুকে ব্যবহার করছে। বাঘাই আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব পাস হলে তেহরান প্রয়োজনীয় পালটা পদক্ষেপ নেবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর তৈরি পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে পরিদর্শন পুনরায় চালুর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের তেল রপ্তানি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজকেন্দ্রিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে কি না, কিংবা কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবি স্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি আপাতত ইরানের পক্ষ থেকে করা একটি সামরিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন বা পুনঃনামকরণের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার পর এবার হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের সবগুলো একই ধরনের নয় - কিছু ইতোমধ্যে ফেডারেল পর্যায়ে কার্যকর হয়েছে, আবার কিছু এখনো প্রস্তাব বা রাজনৈতিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নাম দেওয়া। ২৭ আগস্ট জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন ফেডারেল নথি ও জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস)-এ নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে লেকটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় কানাডা এই নাম গ্রহণ করেনি এবং দেশটি এখনো ‘লেক অন্টারিও’ নামই ব্যবহার করছে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প গালফ অব মেক্সিকোকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে অভিহিত করার উদ্যোগ নেন। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত ডেনালির ফেডারেল নাম আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ডেনালি ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড প্রিজার্ভের নাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সামরিক স্থাপনাতেও নাম পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন নয়টি আর্মি ঘাঁটির নাম পরিবর্তন বা আগের নাম ফিরিয়ে আনে। এর মধ্যে ফোর্ট লিবার্টিকে আবার ফোর্ট ব্র্যাগ এবং ফোর্ট মুরকে ফোর্ট বেনিং করা হয়। এগুলো ট্রাম্পের নিজের নামে করা হয়নি; বরং আগের নাম ফিরিয়ে দেওয়া বা নতুন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে। সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেনেডি সেন্টারের বোর্ডে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর নাম যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত। এদিকে ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এর ওয়াশিংটন সদর দপ্তরকেও ট্রাম্পের নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই এই নাম ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে। ২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথের নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা বলেন। পরে ওভাল অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুধু ‘উত্থাপন’ করেছিলেন। ফলে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়। এ ছাড়া নিউইয়র্কের পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রাম্পের নামে করার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলোও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর নাম পরিবর্তন নয়। ট্রাম্পের নাম যুক্ত হয়েছে এমন আরও কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ, ২০২৬ সালের একটি ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা এবং আর্মেনিয়ার একটি প্রস্তাবিত পরিবহন করিডোরের নাম ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’। ফ্লোরিডায় পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ট্রাম্পের নামে পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও সেটি রাজ্য পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ফেডারেল অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেডারেল সরকার তার নিজস্ব নথি, মানচিত্র ও সরকারি যোগাযোগে নতুন নাম ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোনো নির্বাহী আদেশ অন্য দেশ, অঙ্গরাজ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়। লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রে কানাডা এখনো পুরোনো নাম ব্যবহার করছে - যা এই সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। নাম পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো নিয়ে জনমতও বিভক্ত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরোধিতার চিত্র পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের ২৮-৩০ আগস্টের জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন, বিপরীতে সমর্থন করেছেন ১৪ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। শনিবার ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি মার্কিন জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো ইরানের এই দাবি নিশ্চিত করেনি। এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এমটি ডাউনি, জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ এবং ওমান উপসাগরে থাকা এমটি কাইলো, যেটি নক্সেন নামেও পরিচিত। সেন্টকম জানিয়েছে, প্রথম দুটি ট্যাংকারকে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয়টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ট্যাংকারগুলো ইরানের একটি বৃহৎ গোপন তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই নেটওয়ার্ক থেকে বিপ্লবী গার্ড ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়। তবে ইরান এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এরপর ইরানের বিপ্লবী গার্ড পাল্টা হামলার দাবি করে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল করা তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজকে অন্য এলাকায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, উপসাগর ও হরমুজের আশপাশে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পথ ব্যবহার না করলে সেগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিওও শনিবার উত্তর আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব হামলায় এমন শক্তিশালী আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে, যা জাহাজগুলোকে অচল করে দিতে সক্ষম। তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেবে।. হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর বহর খুবই অরক্ষিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন এসব জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। তাঁর বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি দুটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে তিনটি ইরানি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজের বহরের বিরুদ্ধেও আরও অভিযান চালানো হবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত নয়, আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবারের ঘটনাগুলো এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত সমুদ্র সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, তাই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করা উচিত কি না, তা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতোই এই জলপথটি এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পোস্টের শেষে সবাইকে বিষয়টি নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’ হিসেবে নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করেন। ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক জলপথের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে আসায় তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রস্তাবের কথা জানান। পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, নাম পরিবর্তন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মতোই এই প্রণালিও ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পোস্টের শেষে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প’।
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সোমবার রাতে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজ দুটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ট্যাংকারে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, একই এলাকায় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের ওপর পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে একই সঙ্গে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ওই প্রশ্নকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। এরপর ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও এলএনজি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের অবস্থান এখন স্পষ্ট, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, কিন্তু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতেও দেওয়া হবে না। সূত্র: গালফ নিউজ।
ইরান যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালীটি পুনরায় খুলতে নিজেদের শর্তের তালিকা তৈরিতে সম্মত হয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরান ও ওমান একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা থেকে সরে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কাতার ও পাকিস্তান এর আগে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে মধ্যস্থতা করেছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান পথ ছিল। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে প্রণালী পুনরায় খোলার শর্ত নির্ধারণ করতে বলার পর ইরান সেই তালিকা প্রস্তুত করছে। তিনি জানান, ইরান ও ওমান প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে একমত হয়েছে। এর কিছু অংশ ওমানের জলসীমায় এবং কিছু অংশ ইরানের জলসীমায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ করলে জাহাজগুলো নির্ধারিত একটি কেন্দ্রীয় পথ ব্যবহার করতে পারবে। অতীতে ইরানের শর্তের মধ্যে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। এবার এসব শর্তের কোনগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বা পরিবর্তন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল পরিচালনা ও রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও ইরান ও ওমান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে পরে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে দুই দেশ এখনো কাজ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ইরান এখনো জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। তবে ওই সমঝোতা স্বাক্ষরের পর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের কর্তৃত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হওয়ায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতাটি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালীতে যে সমুদ্র মাইন পেতেছিল, মার্কিন বাহিনী সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালী পার হতে সহায়তা করেছে। তবে ইরানের হুমকির কারণে অনেক জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে ৭০টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যাতে ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স
ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি কমেছে। বুধবারের দরপতনে দুই ধরনের বেঞ্চমার্ক তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সৌদি সময় সকাল ৭টা ৪৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৩০ ডলার বা ২.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬.২৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.০৮ ডলার বা ২.৫৩ শতাংশ কমে ৮০.২৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে ব্রেন্ট ১৩ আগস্টের পর এবং ডব্লিউটিআই ১০ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবারও দুই বেঞ্চমার্কের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। তেলের বাজারে এই দরপতনের প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার তেহরানে বৈঠকে বসেন ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ চলাচল করিডর চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার জন্য যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ওমান ও ইরানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য ধাপে ধাপে একটি কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী নৌ চলাচল করিডর, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, তথ্য আদান প্রদান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আরও কারিগরি আলোচনা হবে। তবে এখনো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি এলপিজি ট্যাংকার ও একটি বিটুমিন ট্যাংকার ছিল, পাশাপাশি দুটি খালি প্রোডাক্ট ট্যাংকারও চলাচল করেছে। যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৫টি জাহাজ। ফুজিতোমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিৎসুরু মুরাইশি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে তেল কিনছেন, ফলে দরপতন সীমিত থাকছে। এদিকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন সোমবার ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে এবং তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকেও শাস্তির হুমকি দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বেড়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির ক্রুড অয়েল ইনভেন্টরি প্রায় ৪২ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা গড়ে প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের অবসান নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনায় সংঘাতের অবসান ও শান্তির পথ নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর বড় নীল বৃত্ত এঁকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ লেখা হয়। একই পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটি এখন খোলা ও সচল এবং সেখানকার সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেওয়া অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পানিতে থাকা সব মাইন অপসারণ বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে সব মাইন অপসারণের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা করলেও এর মাধ্যমে প্রণালিটির আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে - এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হরমুজ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত প্রণালিতে ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার বাধাগ্রস্ত, অস্বীকার বা স্থগিত করা উচিত নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘হরমুজ খোলা ও সচল’ থাকার দাবির বিপরীতে বাস্তব জাহাজ চলাচলের চিত্রও এখনো স্বাভাবিক নয়। কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। সোমবার এই সংখ্যা ছিল নয়টি, আর সাম্প্রতিক ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ১১টি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বড় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কোনো কোনো দিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করেছিল, আর পরদিন রোববার কেপলারের হিসাবে কোনো পণ্যবাহী জাহাজই হরমুজ অতিক্রম করেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ মালিক গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন। ইরানও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চায় তেহরান। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং সব ফ্রন্টে সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করা। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। এদিকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত নতুন কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই। ফলে একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ খুলে দেওয়ার দাবি করছেন, অন্যদিকে তেহরান বলছে প্রণালিটি বন্ধ থাকবে - দুই পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনেও। যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেই প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে চীনের দুটি বড় রাষ্ট্রীয় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের জলপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি আগে চীনের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থায় তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে তারা। তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত পরিসরে তেল পরিবহন শুরু করার চেষ্টা চলছে। সৌদি আরামকো হরমুজের ভেতরে থাকা টার্মিনাল থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোড করা শুরু করেছে। ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে তিনটি বড় তেলবাহী জাহাজ জুয়াইমাহ ও রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে তেল নিয়েছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম। হরমুজের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও উদ্বিগ্ন। আইএমও এর আগে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত কোনো প্রণালিতে জাহাজের ট্রানজিট প্যাসেজ বাধাগ্রস্ত বা স্থগিত করা উচিত নয়।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে। দেশজুড়ে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও আবার বাড়ছে, যা পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ১৮ আগস্টের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। সোমবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কোনো বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বা এলএনজি ট্যাংকার ছিল না। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলবে না। তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনা করছে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট প্রায় ৯১ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই প্রায় ৮৫ ডলারের আশপাশে লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে সরাসরি চাপ পড়ছে ডিজেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণকাজ এবং পণ্য পরিবহনে ব্যাপকভাবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে শুধু ট্রাকচালক বা পরিবহন কোম্পানির খরচই বাড়ে না, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রোসারি, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়তে পারে। ডিজেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার রিফাইনারিগুলোতেও সমস্যার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সহজলভ্যতা কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলসহ ডিস্টিলেট ফুয়েলের মজুত বছরের এই সময়ের হিসাবে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ নয়। সৌদি আরামকো সম্প্রতি প্রণালীর ভেতরের বন্দরগুলো থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। কয়েকটি বড় ট্যাংকারে লাখ লাখ ব্যারেল তেল তোলা হয়েছে। তারপরও সামগ্রিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থার ধারেকাছেও ফেরেনি। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে তেল, ডিজেল এবং পণ্য পরিবহনের খরচে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা ওই মানচিত্রে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে বড় একটি বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে ‘ইউএস টেরিটরি’ লেখা হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই পোস্ট এমন সময়ে এসেছে যখন হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ পুনরায় পুরোপুরি খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের আত্মসমর্পণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি আবারও স্পষ্ট করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক অংশীদার ওমান ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। ট্রাম্প বলেছেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে তার সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান ও ওমান হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি কাঠামো নিয়ে অগ্রগতি করলেও বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র ইরান শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। ইরানের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে দেশটি হরমুজ এলাকায় পুরোপুরি আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানে যেতে পারে। কাতারও হরমুজ নিয়ে ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে হরমুজ নিয়ে চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা আবার শুরু করা অনেক সহজ হবে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে। সেই প্রভাব ইতোমধ্যে তেলের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত সমঝোতার আশা কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে। তবে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মানচিত্র প্রকাশের অর্থ এই নয় যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রণালীটির সার্বভৌম মর্যাদা পরিবর্তিত হয়েছে। হরমুজের জলসীমা ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত এবং এটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রণালী। ট্রাম্পের পোস্টকে ঘিরে তাই চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ইরানি সেনারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সুযোগ পেলে তারা ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে’ দিতেও পিছপা হবেন না। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা দেন, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে। মেজর জেনারেল হাতামি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে নিছক ঠাট্টা বা তামাশা হিসেবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার দাবি, আরব উপসাগর, ওমান সাগর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ইতোমধ্যে মার্কিন সেনাদের বিতাড়িত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তাদের আর কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টাও ইরান কঠোরভাবে প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান। উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যের জেরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের কথা পুনরায় নিশ্চিত করেছে ইরান। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাপ্রধানের এমন কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে ওমানের সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা করছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সাথে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের কারণে এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তার কথায়, "এখনকার পরিস্থিতিতে সেটা বাস্তবসম্মত নয়।" এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে এবং খুব শিগগিরই তিনি এই প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ওই মন্তব্য 'মজা করেই' করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, "হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে। এই জলপথ কখন খোলা বা বন্ধ হবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার তেহরানের।" বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় এই ৩৩ কিলোমিটার চওড়া প্রণালী দিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সাথে এই সমঝোতার উদ্যোগকে ইরানের একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে—যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার একটি বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এই উদ্যোগকে কতটা সহ্য করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ ও জাহাজ চলাচল বন্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বাড়ার মধ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়লে সেটি জনগণকে মেনে নিতে হবে। এ কারণে তিনি কোনো ক্ষমা চাইবেন না বলেও জানিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার তুলনায় জ্বালানির বাড়তি দাম একটি ছোট মূল্য। তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের তুলনায় গ্যাসোলিনের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যেও জ্বালানির দামের ওপর ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে এবং কোনো অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের প্রভাব অপরিশোধিত তেলের বাজারেও পড়ছে। ১৪ আগস্ট ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৫ ডলার বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫২ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ১৫ ডলার বেড়ে ৮২ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছায়। তবে জ্বালানির দাম কমানো নিয়েও মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে জোর দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা প্রশাসনের প্রথম অগ্রাধিকার। অর্থাৎ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর পাশাপাশি মার্কিন ভোক্তাদের ওপর জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ কমানোও এখন ওয়াশিংটনের বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়েও ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কৌশলগত এই নৌপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পে জ্বালানির দাম—সবকিছুই একই সংকটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রণালীটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং শিগগিরই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করবে, তা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করছে। এর দুই দিন আগেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে একই ধরনের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধকে তিনি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইরান এটি ঠেকাতে পারবে না বলেও দাবি করেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালীর অবস্থান বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তেহরানের বক্তব্য, প্রণালীটি কোনো ঘোষণা, সামরিক শক্তি বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবারও মাত্র কয়েকটি তেলবহির্ভূত জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে গ্যাসের দামে। রয়টার্সের হিসাবে, দেশটিতে গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিনিদের কিছুটা বেশি গ্যাসের দাম দিতে হচ্ছে। তবে তার দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য এই মূল্য দিতে হচ্ছে। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শান্তি আলোচনারও অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা চললেও প্রণালীটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে এখনো সমঝোতা হয়নি। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের মতো একাধিক দাবি তুলেছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ পর্যায়ক্রমে বদল করে এই অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানাননি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সামুদ্রিক সীমানা ও সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের কারণে শুধু প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে এমন একটি আন্তর্জাতিক নৌপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পরিবর্তন করেনি। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।