মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননকে ঘিরে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের চেতনা লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরই তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। মাত্র কয়েকদিন আগেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আবার চালু করা হয়েছিল। ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের পক্ষ থেকে নেওয়া ‘প্রথম পদক্ষেপ’। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দক্ষিণ লেবাননে অভিযানরত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বর্তমানে দখলে থাকা এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে প্রণালি বন্ধের ঘোষণার পর জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারাতেই লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে গত বুধবার চুক্তি স্বাক্ষরের পরও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ তেল খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি আগামী কয়েকদিনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিবৃতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে পূর্ববর্তী সমঝোতা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ সেই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি ভঙ্গের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে কেবল প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। মূলত প্রতিপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইরানের এই ঘোষণার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে বিভিন্ন দেশ, পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিবৃতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে পূর্ববর্তী সমঝোতা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ সেই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি ভঙ্গের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে কেবল প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। মূলত প্রতিপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইরানের এই ঘোষণার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে বিভিন্ন দেশ, পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এই নগ্ন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এর প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বড় ধরণের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ শনিবার দেশটির শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স' আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত সামরিক কমান্ডের এক বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে সব ধরনের দেশী-বিদেশী নৌযান চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, শত্রুপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ এবং অন্যায় আগ্রাসনের জবাবে এটি তাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। ইরানের নীতি নির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক মহলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লেবাননে যদি এই ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। শত্রুপক্ষকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করতে বেইজিং বা অন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর তোয়াক্কা না করে সামনে আরও কঠোর এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও খনিজ তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি হঠাৎ বন্ধের ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরের এই হরমুজ প্রণালীটিকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন বা প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করেই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ফলে ইরানের এই নতুন অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিবৃতিতে খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স আরও উল্লেখ করেছে যে, ইরান চুক্তি মেনে চললেও পশ্চিমা জোট ও তাদের মিত্ররা বারবার আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিনষ্ট করছে। লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যেকোনো ধরণের চরম সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একবারে ভেঙে দিতে পারে। বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিগুলো ইরানের এই হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার পরাশক্তি চীন, যারা এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়া এবং ওমান সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিবিড় নজর রাখছিল, তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা সহযোগীরা লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের আগ্রাসী নীতি থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কৌশলগত নৌপথ উন্মুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই। সূত্র: রয়টার্স
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য আগামী ৬০ দিনের ফি মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে আগ্রহী জাহাজগুলোকে কোনো ধরনের চলাচল ফি দিতে হবে না। একই সঙ্গে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষকে আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ফি মওকুফ করা হলেও নিরাপত্তাজনিত কিছু শর্ত বহাল থাকবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং নৌপথে বিদ্যমান ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে জাহাজগুলোকে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে। পরিষদের মতে, এই নিয়ম মেনে চললে ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবহন আরও নিরাপদ হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সংক্রান্ত কারিগরি নির্দেশনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করবে। এতে জাহাজ মালিক, পরিবহন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে। এ ছাড়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের আওতায় নৌপথে সম্ভাব্য মাইন অপসারণসহ নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং নৌপথ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ ও পণ্য পরিবহন খাতের জন্য ফি মওকুফের এই উদ্যোগ ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুরোপুরি ফিরে আসার বিষয়টি।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ থেকে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি বঞ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণে অন্তত এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুখবর হিসেবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারে প্রায় ১১৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত গত ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুললেও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবহন অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ট্যাংকার চলাচল পুনরায় সক্রিয় করতে সময় লাগবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত পূর্ববর্তী অতিরিক্ত সরবরাহের ফল, যা এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তেল মজুত প্রায় ১৯ কোটি ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তেল হাব ওকলাহোমার কাশিং এলাকাতেও মজুত ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রায় সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার পরও পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়ে বাজারকে বিদ্যমান মজুতের ওপর নির্ভর করতে হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দৈনিক চাহিদার তুলনায় পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদন থাকলেও হারানো বিপুল সরবরাহ পুনরুদ্ধারে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে কিছু বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন, উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদন প্রবণতা এবং ওপেকভুক্ত দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে বাজার দ্রুত ভারসাম্যে ফিরতে পারে। তবে অন্যদিকে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে থাকায় ভবিষ্যতে দাম আবারও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন সরবরাহ পুনর্গঠন ও মজুত পুনরায় পূরণের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের মধ্যে এই প্রথম প্রতি গ্যালন পেট্রোলের খুচরা দাম ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। মূলত ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল আমেরিকার স্থানীয় বাজারগুলোতে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম কমে ৩ ডলার ৯৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন। যদিও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো গ্যালনপ্রতি ১ ডলারের বেশি রয়েছে, তবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির আভাসের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ ছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অন্তত ১০টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমেছে এবং মার্কিন বেঞ্চমার্ক (ডব্লিউটিআই) ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তেল বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক ডি হান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি আকস্মিক কোনো মোড় না নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে মোড়াতে থাকে, তবে তেলের দাম আরও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৩ ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি জাহাজ লোহিত সাগরের দিকে মোতায়েন করছে জার্মানি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক চলাকালীন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতার পর জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নৌপরিবহন ও বীমা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে জরুরি ভিত্তিতে মাইন অপসারণকারী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জোরালো আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মাইনসুইপার ‘ফুলদা’ এবং অন্য একটি জাহাজ ‘মোজেল’ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এই সামরিক মিশন সফল করতে এবং মাইন অপসারণ অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের আগে ইরান ও ওমানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জাহাজ মোতায়েনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের যেকোনো মিশনের ভবিষ্যৎ মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করা সম্ভব না হলে ওই অঞ্চলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় জার্মানি এই বিশেষ মিশনের জন্য পানির নিচে নিখুঁতভাবে পরিচালিত ড্রোন, মাইন অপসারণে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর ডুবুরি এবং শক্তিশালী জাহাজ সুরক্ষা দলও পাঠাচ্ছে। এদিকে জলপথটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বহুজাতিক নৌ-মিশনের পরিকল্পনা করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এই জলপথে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে বরাবরই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে আসছে। অন্যদিকে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে গ্রিস সরকার। তবে দেশটির সরকারি মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানান, এই সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়ে গ্রিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি সুপারট্যাংকার সফলভাবে অতিক্রম করেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারগুলোতে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সৌদি বন্দর থেকে হরমুজ হয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় তেল চালানগুলোর একটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর এই বড় আকারের তেল পরিবহন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতির খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি ট্যাংকারগুলোর যাত্রা শুরু হয়। ফলে এই ঘটনা শুধু বাণিজ্যিক নয়, ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখে। এর মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়। তবে সর্বশেষ এই সুপারট্যাংকার চলাচল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে। জাহাজ-পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনটি সুপারট্যাংকারে মোট প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের বিশাল আকারের ট্যাংকার আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহৎ পরিসরের জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপ, এশিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু দেশ তাদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়লেও কূটনৈতিক তৎপরতা সমান্তরালভাবে চলেছে। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে আস্থা ফিরবে এবং বাজারে অস্থিরতা কমতে পারে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি আরবের এই বৃহৎ তেল পরিবহনকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। এদিকে তেলবাহী সুপারট্যাংকারগুলোর নির্বিঘ্ন যাত্রা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে কিছুটা আশাবাদ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য ও তেলের দামে প্রতিফলিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কৌশলগত তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযানে দ্রুত অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত জার্মান নৌবাহিনীর মাইন অপসারণকারী জাহাজ ‘ফুলদা’ এবং সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোজেল’ ইতোমধ্যে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এটি মূলত একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক কোনো অভিযান শুরু হলে যাতে জার্মানি দ্রুত সাড়া দিতে পারে, সে লক্ষ্যেই জাহাজ দুটি কৌশলগতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “প্রয়োজন দেখা দিলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনো অভিযান শুরু হলে আমরা দ্রুত অংশ নিতে প্রস্তুত থাকব। আমাদের লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য সবচেয়ে কম সময়ে হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা।” বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে এই নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে যেকোনো সামরিক বা নৌ অভিযান পরিচালনার আগে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো এবং জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, সম্ভাব্য কোনো আন্তর্জাতিক মিশনে অংশ নিতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতা হতে হবে। এরপর জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট জারি করা হলে জার্মান সরকার পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আবেদন করবে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন দেশ বিকল্প নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই পদক্ষেপ শুধু সামরিক প্রস্তুতির অংশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলেরও অংশ। কারণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগেরও ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক অভিযান শুরু হয়নি, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে বার্লিন। এদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় জার্মানির এই পদক্ষেপকে একটি কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলাচল করা জাহাজগুলোর মধ্যে আটটি পণ্যবাহী জাহাজ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি হয়ে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে। নতুন সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানকে লক্ষ্য করে আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ ও শুল্কমুক্ত যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত বহুল আলোচিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) খুব শিগগিরই কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা কার্যকর করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এই জলপথে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা স্মারকটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।” তিনি বলেন, এই চুক্তিকে সামনে রেখে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। পাকিস্তানের উদ্যোগে এবং কাতারের সহায়তায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে। শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তার ভাষায়, “এই সমঝোতা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এই জলপথ স্বাভাবিকভাবে চালু হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত পরিস্থিতি প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতেও ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এক অভিনব উদ্যোগ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ মালিকদের জন্য নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা স্কোয়াড বা এসকর্ট দেওয়ার একটি ‘ভিআইপি পাস’ ব্যবস্থা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চলছে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বর্তমানে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বীমা সুবিধা পাচ্ছে না। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং জাহাজ মালিকদের প্রণালীটি ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী করতেই এই বিশেষ পাস চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। জ্বালানি খাতের দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে পলিটিকো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় জাহাজ মালিকরা নির্দিষ্ট ফি বা টোল পরিশোধের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়সহ দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এক কর্মকর্তার ভাষায়, ‘এটি হবে মূলত একটি ভিআইপি পাসের মতো, যেখানে অর্থের বিনিময়ে শতভাগ নিরাপদ ও দ্রুত ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’ সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই কৌশলী প্রস্তাবের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি মূলত ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা দায়িত্বের একটি অংশ চাপিয়ে দিতে চান। তার মতে, হরমুজ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পুরো দায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একা নেওয়া উচিত নয়। চলমান জি-৭ সম্মেলনের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনা সামনে এনেছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই থাকা উচিত, ইরানের নয়। তবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান মুখপাত্র টেলর রজার্স এই ফি আদায়ের আলোচনাকে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের জোরালো উদ্যোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত থাকবে এবং খুব দ্রুতই জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। বর্তমানে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় অনেক জাহাজ মালিক এখনো পারস্য উপসাগরে অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছেন। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর বাইরে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ২২০টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ইতিবাচক খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৪ দফার একটি খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে। খসড়ায় দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হাতে আসা খসড়া নথি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা, জি-৭ সম্মেলনে উপস্থিত এক কূটনীতিক এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি সূত্র নথির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে। খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করবে। এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননের চলমান সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করবে। চুক্তিতে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। খসড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করবে। চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার দায়িত্ব নেবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাইন অপসারণ ও অন্যান্য কারিগরি বাধা দূর করার কথাও বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে খসড়াটি ইরানের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনে কাজ করবে। এই তহবিলের কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ৬০ দিনের আলোচনার মধ্যে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান পুনরায় ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং অন্যান্য পারমাণবিক ইস্যুর ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। আলোচনার সময় বর্তমান অবস্থা বজায় থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করবে না। খসড়া অনুযায়ী, সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড়পত্র দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে স্থগিত বা জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে অবমুক্ত করা হবে এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি যৌথ প্রক্রিয়াও গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। খসড়ার শেষ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিএনএনের হাতে আসা নথিটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের হুবহু প্রতিফলন নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাও ফাঁস হওয়া খসড়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু ভাষা বা শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এখন কার্যত প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনটি সূত্রের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই কৌশলগত জলপথ নিয়ে ইরানের প্রভাব ও সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলমান সংঘাত চলাকালীন ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পদক্ষেপ আবারও নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ। একজন সূত্র সিএনএনকে বলেন, “আমরা এখন কার্যত ইরানকে এই প্রণালীর ওপর প্রভাবশালী অবস্থানে বসিয়ে দিয়েছি, যা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।” আরেকটি সূত্র জানায়, যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে ‘অসামরিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা’ও অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত না মানে, তবে তারা কোনো সুবিধা পাবে না। তার ভাষায়, “প্রণালী খোলা থাকলেই কেবল সুবিধা দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, যা নির্ভর করবে ইরানের বাস্তব অগ্রগতির ওপর। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী আবার পুরোপুরি চালু হলেও অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে, যার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, দ্রুতগামী নৌযান এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এই প্রণালীকে ভবিষ্যতেও ঝুঁকিপূর্ণ রাখতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে চাপ তৈরির বিকল্প কৌশল নিয়েও ভাবছে, যা কার্যকর হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও বড় বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ উভয় পক্ষই এখন কৌশলগত এই জলপথকে ভবিষ্যৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল জানিয়েছেন, হরমোজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে তার দেশ ইচ্ছুক। তবে সেখানে যেকোনো ধরনের নৌযান বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ক্ষেত্রে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষের পূর্বসম্মতি থাকতে হবে। জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম 'এন-টিভি'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাদেফুল এ কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানির মাইনসুইপার (মাইন অপসারণকারী) জাহাজ 'ফুলদা' এবং সরবরাহকারী জাহাজ 'মোসেল'কে ইতোমধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এই দুটি নৌযান হরমোজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা তুলে ধরে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, উভয় পক্ষই এ ধরনের একটি অভিযান চাইছে। যদি কোনো একটি পক্ষ, বিশেষ করে ইরান এতে রাজি না থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের ওপর গুলি চালায়, তবে আমরা এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারি না। নিশ্চিতভাবেই সেটি কোনো আদর্শ পরিস্থিতি হবে না।" মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে নিজেদের বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাত এড়াতেই বার্লিন এই কৌশলগত ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ রাখার ঘোষণা দিলেও তার পরদিনই ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। দেশটি জানিয়েছে, সরাসরি টোল আরোপ না করলেও নির্দিষ্ট কিছু ‘সেবার’ বিনিময়ে জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “ইরান ট্রানজিট টোল আরোপ করতে চায় না; তবে আমরা যে সেবা প্রদান করব, তার জন্য ফি নেওয়া হবে।” যদিও ঠিক কী ধরনের সেবা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে ইরানের কিছু কর্মকর্তার ধারণা, পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপত্তা বা নৌপথ ব্যবস্থাপনার মতো খাতে ব্যয় মেটাতে এই ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন করে খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই প্রণালির মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক নৌ-আইন বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, টোল এবং সেবামূলক ফি—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, প্রাকৃতিক আন্তর্জাতিক জলপথে অর্থ আদায়ের প্রশ্নে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নৌ-আইন বিশ্লেষক জেমস আর. হোমস বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্রের জন্য প্রাকৃতিক জলপথ ব্যবহার বাবদ অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। আপনি এটিকে টোল বলুন বা ফি—দুই ক্ষেত্রেই বিষয়টি বিতর্কিত।” তিনি মালাক্কা প্রণালি ও তাইওয়ান প্রণালির উদাহরণ টেনে বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এ ধরনের কোনো অর্থ আদায়ের নজির নেই। তবে পানামা খাল বা সুয়েজ খালের মতো কৃত্রিম জলপথে সেবা ও অবকাঠামোর বিনিময়ে ফি নেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। পরিস্থিতির পেছনে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরান আঞ্চলিক জলপথে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে ফি আরোপের পরিকল্পনা সামনে আসে। এর আগে মার্চ মাসে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের চিন্তা করছে তারা। পরে মে মাসে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়, যা এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল ও অনুমোদন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে বলে জানানো হয়। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থপ্রদানের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চালায় তেহরান। এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই এই প্রণালিতে টোল আরোপ করা উচিত নয়। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। যদিও অতীতে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ প্রণালি থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে মে মাসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা চাই এই পথ উন্মুক্ত থাকুক, কোনো ধরনের টোল না থাকাই উচিত।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও কড়া অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “এ ধরনের কোনো ফি আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য বৃহত্তর জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে ইরান ইস্যু এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘিরে। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা বা চুক্তিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ফ্রান্স আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে প্রস্তুত এবং এ ধরনের উদ্যোগে নিজেদের ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করবে। ম্যাক্রোঁর ভাষায়, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্বের অংশ হিসেবে আমাদের ন্যায্য ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।” অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অদূর ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রুট। এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা সৃষ্টি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলে। তাই এ প্রণালীকে ঘিরে যে কোনো ঘোষণা আন্তর্জাতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। জি-৭ সম্মেলনের আগে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এবারের জি-৭ সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের উপস্থিতিতে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। চুক্তি সইয়ের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিস্তারিত প্রকাশ করবেন। দুই দেশের এই সমঝোতা স্মারকে মূলত সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমত, সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ও লেবানন পরিস্থিতির বিষয়ে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির পর লেবাননে ইসরায়েলের আর কোনো হামলা হবে না এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে পাল্টা কোনো হামলা চালাবে না। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবানন, সিরিয়া ও গাজার দখলকৃত নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে আপাতত অবস্থান করবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার মতে, স্মারক সই হওয়ার পর সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দেওয়া হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফারস জানিয়েছে, চুক্তির অধীনে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। তৃতীয়ত, পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানতে ইরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং নতুন করে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না। এর বিনিময়ে ইরানে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি অবশ্যই মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে পর্যালোচনা ও অনুমোদিত হতে হবে। চতুর্থত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট দ্বিমত ও ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার দাবি, এই নগদ অর্থ আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা ও ফাইন্যান্সিয়াল ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ছাড় করা হবে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে এখনই কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হবে না, তবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্ভাব্যভাবে প্রত্যাহার করা হতে পারে। সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানের জন্য একটি বিশেষ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে এই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর, আগামী ৬০ দিন ধরে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞার মতো অপেক্ষাকৃত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলবে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়তার জন্য ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক মিশন প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা আসার পর সোমবার তিনি এ কথা জানান। ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স–যুক্তরাজ্যের এই যৌথ মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়াই সমুদ্রপথে নৌ চলাচল পুনরায় শুরু করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে নৌচলাচল বিঘ্নিত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা সামনে আসার আগেই ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় হিব্রু দৈনিক ‘ইয়েদিওত আহরোনত’-এর রোববার সংখ্যার প্রধান শিরোনামে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে দুই শব্দে আখ্যা দেওয়া হয়েছে—“বাজে চুক্তি”, যা ইসরায়েলের বর্তমান জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কাঠামোতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, মার্কিন অবরোধ শিথিল এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে। তবে এসব আলোচনায় ইসরায়েলের প্রত্যাশিত মূল নিরাপত্তা ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টি আলোচনার প্রাথমিক কাঠামোতে না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। ইসরায়েলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাকব নাগেল এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত যাই ঘটুক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে নিজের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করবেন। তিনি আরও বলেন, চুক্তির যেসব সম্ভাব্য বিষয় সামনে এসেছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে নেই। অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমান সরকারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করছেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি প্রশাসন। চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক মিত্রবাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে পর্যাপ্ত কাঠামো নেই বলে ইসরায়েল মনে করছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে চলমান আলোচনায় সেই অবস্থান কতটা প্রতিফলিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও এই বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলে সমালোচনা উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।