হরমুজ প্রণালী

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং উত্তেজনা কমাতে ইরানের হাতে এখন ‘শেষ সুযোগ’ রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, সমঝোতা হলে খুব শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবারও চালু হতে পারে।    তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং এ ধরনের দাবির বাস্তব ভিত্তি নেই। ইরান বলছে, তাদের বর্তমান যোগাযোগ কেবল ওমানের মাধ্যমে সামুদ্রিক চলাচল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সীমাবদ্ধ।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ বা অচল থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।    এদিকে সোমবার প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত উৎসের একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। কূটনৈতিক সমাধান হবে, নাকি নতুন করে সংঘাত বাড়বে— সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা
ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং চলমান সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না।    ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং সংকট নিরসনের সুযোগ এখনও রয়েছে। তিনি এটিকে তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলেও উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই এবং কোনো ইরানি প্রতিনিধি এ উদ্দেশ্যে বিদেশে যাননি। তার দাবি, ওমানের সঙ্গে কেবল নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়।    এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ঘটনাটি ওমান উপকূলের কাছে ঘটেছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল কমে গেলেও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।    বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজে জাহাজে আঘাত করলেই ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা
হরমুজে জাহাজে আঘাত করলেই ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে প্রতিবার দেশটির একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ঘোষণা এলো।    ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন কিংবা অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করবে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের অবকাঠামোও থাকতে পারে বলে তিনি জানান।   ইরান ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জবাব শক্তিশালী ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তিনি জানান, তেহরান এখন থেকে পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে।   ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর ইরানে টানা দ্বাদশ রাতের মতো হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুমকি দেওয়ার ইরানি সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ, রামশির ও আন্দিমেশক শহরের কাছে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরাক সীমান্তের কাছে শালামচেহ শহরে একটি হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   অন্যদিকে ইরানের হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। কুয়েতি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুপক্ষের ড্রোন মোকাবিলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি দেশ।   গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর সাময়িকভাবে সংঘাত কমেছিল। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে এ লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।   বুধবার (২২ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, কিন্তু এখনো আলোচনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে তার বিশ্বাস, তেহরান শিগগিরই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হবে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র আইআরজিসি নির্ধারিত পথ ব্যবহার করতে হবে।   সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি জাহাজ মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে এই জলপথ অতিক্রম করেছে।   ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আবারও হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর জবাবে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং যেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে।   অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি স্পষ্ট চোখের বদলে চোখ।" তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামোসহ দেশের যেকোনো স্থাপনায় হামলা হলে তার জবাব শক্ত ও দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ, রয়টার্স, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে একটি জাহাজে হামলা হলেই ইরানের একটি অবকাঠামো ধ্বংস হবে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এখন থেকে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।   তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে তেহরানের রাজধানীর আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর জবাবেই ট্রাম্প এই নতুন সতর্কবার্তা দিলেন।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এতদিন ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো থেকে বিরত ছিল। চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে “একটি পুরো সভ্যতাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”   নতুন এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে এখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নিজেদের জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে ওই জলপথে নতুন কোনো হামলা হলে ওয়াশিংটনের সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিহত সেনাদের প্রতিশোধ নিতে দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর নতুন দফার বিমান হামলা। ছবি সংগৃহীত
মার্কিন হামলার জবাবেই পাল্টা আগুন, একসঙ্গে তিন দেশে আঘাত হানল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের ঘটনার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের শিরাজ, কোনারাক ও চাবাহার এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানায়, তারা বাহরাইনে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত আবাসন এলাকাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির কারণে জাহাজটির নাবিকদের লাইফবোটে আশ্রয় নিতে হয়। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। তবে ঘটনাগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।   সংঘাতের এই নতুন পর্যায় শুরু হয় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর। এর ফলে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং হরমুজ প্রণালি—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথ—নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   তবে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি পাকিস্তানে গিয়ে মধ্যস্থতা পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা করছেন।   চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যার বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে নতুন দফার বিমান হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হতেই ইরানে মার্কিন বিমান হামলা শুরু

বিশ্ব যখন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতেছিল, ঠিক সেই সময় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এটি ইরানে টানা নবম রাতের সামরিক অভিযান, যার লক্ষ্য দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।   সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন এই অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সংক্রান্ত সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, এমন অবকাঠামো ধ্বংস করাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাত বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে, ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে কুয়েত। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, আকাশসীমায় প্রবেশকারী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে। এক বিবৃতিতে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মার্কিন হামলার পাশাপাশি ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। যদিও এসব হামলার সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ওমান উপসাগর উপকূলের চাবাহার বন্দরে ধসে পড়া নজরদারি টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে মার্কিন হামলা, সেতু ও  টাওয়ার ধ্বংসে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলায় একাধিক সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওমান উপসাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের নজরদারি টাওয়ার ধসে পড়েছে। একই সময়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, অস্ত্র সংরক্ষণাগার, নজরদারি অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থাপনা। হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির সামরিক ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।    ইরানের চাবাহার বন্দরের একটি টাওয়ার ধসে পড়ার বিষয়টিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, টাওয়ারটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সামুদ্রিক নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তদারকির অবকাঠামোর অংশ ছিল।    এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সর্বশেষ হামলাকে সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে।    অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কাতারে সতর্কতা জারি করা হয় এবং কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কুয়েতেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।    গত মাসে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর টানা কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।    ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে সংঘাত দ্রুত প্রশমনের আহ্বান জানানো হলেও দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত, হরমুজে তেলের ট্যাংকারে আগুন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।   ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইনযুক্ত এলাকায় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে কোনও রাসায়নিক সার, এমনকি এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেয়া হবে না। রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী চারটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে থামিয়ে দেয়া হয়েছে।   গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় আমেরিকা। শনিবার, ১৮ জুলাই ভোরে হরমুজ প্রণালির উপকূলে ইরানের হরমুজগান প্রদেশেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, এসব হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো তেলের দাম বাড়ায় নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। এই পথ বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ।   মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অঞ্চল, যেখানে ইসলামী সংস্কৃতি, জ্বালানি সম্পদ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব একসঙ্গে বিদ্যমান । ইরান-আমেরিকা এই সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানালেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা নেই, হামলার জবাব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনায় যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বর্তমানে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়া।    বুধবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাঘাই বলেন, “এই মুহূর্তে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের মনোযোগ দেশের প্রতিরক্ষায়।” তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের সমঝোতার শর্ত পূরণ করেনি, তাই ইরানও সেই প্রতিশ্রুতির আওতায় আগের অবস্থানে থাকতে বাধ্য নয়।    ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক অভিযানগুলো মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে।    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, কোনো চুক্তি কার্যকর থাকতে হলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।    এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে হেঙ্গাম দ্বীপ এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।   হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তেলের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আলোচনার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন। তবে ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হওয়ার পথ এখনো কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বহাল থাকবে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত
শত্রুদের শায়েস্তা না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের আরোপ করা অবরোধ বহাল থাকবে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা ও দুর্বলতা আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাত তৈরি করাই ওই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।   আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপ করা অবরোধ ভেঙে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করেনি। তাদের ভাষ্য, কোনো জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে অবরোধ অমান্য করার দুঃসাহস দেখায়নি। ফলে জাহাজে হামলা চালানোর মতো কোনো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও আইআরজিসির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তাও তত বাড়বে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন অবস্থান তুলে ধরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কার্যকর কোনো কৌশল খুঁজে পাননি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তার অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন সেই মূল্যায়নকেই আরও জোরালো করেছে।   বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের সমন্বয়ে যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করলেও বাস্তবে ওয়াশিংটনের সামনে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের পথ তৈরি হয়নি।   মঙ্গলবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, ইরানি নৌপরিবহনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আবারও কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাব দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাহাজকেও ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে। তার যুক্তি ছিল, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে বিপুল ব্যয় বহন করছে, সেই খরচের একটি অংশ এভাবেই আদায় করা হবে।   তবে ওই ঘোষণার মাত্র একদিন পরই ট্রাম্প ভিন্ন অবস্থান নেন। নতুন প্রস্তাবে তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিনিময়ে ফি আদায়ের পরিবর্তে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেন তিনি।   এই অবস্থান পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে তা সংঘাত বন্ধ রাখতে পারেনি। বরং যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দফায় দফায় হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বড় পরিসরে যুদ্ধ সম্প্রসারণে অনাগ্রহী। এর অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সীমিত। পাশাপাশি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও মিত্রদের ওপর ইরানের হামলার ঝুঁকিও বাড়বে।   আবার কোনো নতুন সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোও ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। কারণ তিনি এমন একটি চুক্তি করতে চান, যা ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের করা ইরান পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে ভালো বলে উপস্থাপন করা যাবে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক মনে করেন, এই সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির সম্ভাবনা খুবই কম। তার ভাষায়, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী অমীমাংসিত সংঘাতে পরিণত হবে, যার সুস্পষ্ট শেষ দেখা যাচ্ছে না।   ট্রাম্পের নৌ অবরোধের ঘোষণার পরই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের তৎপরতা বেড়ে যায়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল আবারও ব্যাহত হতে শুরু করে।   সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু সামরিক স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামো দুর্বল করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো সামনে আসেনি।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র যদি এ অঞ্চলে আরও বড় সামরিক অভিযান না চালায়, তাহলে তেহরানকে সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা কঠিন হতে পারে।   কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতির ব্যয়কে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি প্রচেষ্টা। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা নয়। চলমান সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়েও তিনি অনুরূপ প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   মজার বিষয় হলো, মাত্র এক মাস আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না এবং আন্তর্জাতিক আইনও সে সুযোগ দেয় না।   সমঝোতা স্মারকটিতে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য বেশ কিছু বিষয় খোলা রাখা হয়েছিল। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে ইরানে কয়েকশ' কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।   ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও সম্ভাব্য পরিণতির সতর্কবার্তা মিলিয়ে তেহরানকে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই হিসাবের সঙ্গে মিলছে না।   বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের বারবার অবস্থান পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরান যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো ওয়াশিংটনের হাতে নেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে নিয়ে নতুন সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে’, ইরানকে সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।   মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, "আজ রাত, আগামী রাত এবং তার পরের রাতেও আমরা জোরালো হামলা চালাব। আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হবে। তখন বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পরে সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে।"   ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো ও সেতুগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষায়, "তারা যদি আলোচনার টেবিলে না আসে, তাহলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সব সেতু অচল করে দেব।" তিনি আরও জানান, জ্বালানি-সংক্রান্ত অন্যান্য স্থাপনাগুলোকে আপাতত শেষ পর্যায়ের লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে।   এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান চলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং সেই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করা।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি আনতে সামরিক শক্তিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তার দাবি, "এই মানুষের সঙ্গে শক্তির মাধ্যমেই আলোচনা করা যায়, আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি।"   ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে একজন বক্সারের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে আরও চাপ প্রয়োজন। তার ভাষায়, ইরানের এখনও কিছুটা সক্ষমতা রয়েছে, তবে সেটি দ্রুত কমে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তেহরানের ভেতরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।   সাক্ষাৎকারে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আপাতত এমন পরিকল্পনার সম্ভাবনা কম হলেও প্রয়োজনে সেই বিকল্প পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে ওই ধরনের কোনো অভিযানের জন্য মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। তার মতে, প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোর বাহিনী স্থল অভিযানে ভূমিকা রাখতে পারে।   এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা: ভারতীয় নাবিক নিহত, ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব দিল্লির

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর ইরানের কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভাদ হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পথ দিয়ে চলাচলের সময় ‘মমবাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মমবাসা’ জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া অন্তত আটজন নাবিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায় এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আমিরাত এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত আমিরাতের ওই ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে একাধিক দেশের নাবিক হতাহত হয়েছেন। কেবল ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যেই এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ জনে। এর আগে গত মাসে একটি জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   (সূত্র: এনডিটিভি)

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে আমিরাতের দুই তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ, নিহত ভারতীয় নাবিক

হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছে আবুধাবি। এ ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।    আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, আল বাহিয়া এবং মোমবাসা নামের দুটি জাতীয় তেলবাহী ট্যাংকার ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় মোমবাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই জাহাজেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ধার ও জরুরি সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। হামলায় জাহাজ দুটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।    আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে দেশটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং হরমুজ প্রণালীকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এই হামলার অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াল আরও, পাঁচ দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াল আরও, পাঁচ দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনীর দাবি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানায়, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি এই অভিযানকে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের তৃতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে একাধিক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদের গুদাম ও একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বাহরাইনেও যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   এ ছাড়া আইআরজিসির দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায়ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।   অন্যদিকে, হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা প্রজেক্টাইল প্রতিহত করা হয়েছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে।   নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। বাহরাইনেও সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।   তবে ইরানের দাবি করা হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে, কারণ এ ধরনের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ইরানের

একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেছে, যেকোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের জবাব ‘কঠোরভাবে’ দেওয়া হবে।   রোববার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজটির পরিচয় বা সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ‘অননুমোদিত রুটে’ চলাচলের চেষ্টা করেছিল। এ প্রেক্ষাপটে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং ‘অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অঞ্চলে নতুন করে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে প্রকাশ্যে অঙ্গীকার চেয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করা হবে এবং কোনো ধরনের শুল্ক বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত রাখা হবে। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।   বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন দেশে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য, পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের দামেও এর প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।   সূত্র: রয়টার্স  

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সামরিক হামলা

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং কৌশলগত এই নৌপথ বন্ধের ঘোষণার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেনি।   হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ বলেন, "ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার তাদের মূল্য দিতে হবে।"   সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোরের আগে (মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট) যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে এ সপ্তাহের তৃতীয় দফার হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইরান পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের শর্ত আবারও লঙ্ঘন করেছে। তাই বেসামরিক নাবিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এর আগে ইরান ঘোষণা দেয় যে, হরমুজ প্রণালি আপাতত বন্ধ থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সর্বশেষ সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছি’—ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযানে ইরানকে “খুব কঠোরভাবে” আঘাত করা হয়েছে এবং প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখাই ছিল এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।   ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা ও উপকূলীয় সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ওপর হুমকির জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তেলের দামেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা দিয়েছে।   এদিকে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগে তেহরান মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করে পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বিমান হামলা এবং উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে ভিডিওও প্রকাশ করে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। নতুন এই হামলা দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স
হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো উদ্যোগ নিলে ইরানকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে—এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।   ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। “এটাই চূড়ান্ত অবস্থান,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।   তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে একটি সমঝোতা হয়েছিল, যার মূল শর্ত ছিল—ইরান যদি জাহাজে হামলা বন্ধ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করবে। কিন্তু সেই শর্ত মানা না হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।   সাম্প্রতিক একটি হামলার প্রসঙ্গ টেনে ভ্যান্স বলেন, ইরান চাইলে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এই নিয়ম মেনে চলতে পারে। অন্যথায়, তারা সাম্প্রতিক ঘটনার মতোই কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। তার ভাষায়, যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হচ্ছে এবং জাহাজে হামলা বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।   বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজগুলোর বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুতই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে।   আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি ও শেখ ইসা বিমানঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু। একই সঙ্গে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর বাহরাইনজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।   কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, তার বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফল। এদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।   ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।   তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের তথ্য এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০