ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার নিয়ে তদন্তে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারকে ঘিরে একটি বিমান চলাচল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। ঘটনাটি ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে ঘটেছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউস থেকে উড্ডয়ন করার সময় প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার চলাচলের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুযায়ী রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের উড্ডয়ন তখনও বন্ধ করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে এফএএ খতিয়ে দেখছে, এতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিধিতে উল্লেখ থাকা ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না। এ নিয়ম অনুযায়ী, দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত ১ দশমিক ৫ মাইল অনুভূমিক এবং ৫০০ ফুট উল্লম্ব দূরত্ব থাকতে হয়।
তবে এফএএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার এবং বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি আসেনি এবং তারা একই গতিপথেও ছিল না। ফলে ঘটনাটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পরিণত হয়নি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, মেরিন ওয়ান বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বৈমানিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং পুরো ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন না।
২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি আঞ্চলিক উড়োজাহাজের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হওয়ার পর থেকে ওই এলাকার হেলিকপ্টার ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ঘণ্টায় ১৫ ডলার হবে। এই পরিবর্তনের ফলে রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীদের বেতন বাড়বে। ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যূনতম মজুরি ১০ ডলারে পৌঁছানোর পর প্রতি বছর এক ডলার করে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তা ১৪ ডলারে উন্নীত হয়। এবার ৩০ সেপ্টেম্বর ১৫ ডলারে পৌঁছাবে। তবে যেসব কর্মী টিপস পান, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। টিপস পাওয়া কর্মীদের নিয়োগকর্তাকে সরাসরি ঘণ্টায় ১১.৯৮ ডলার দিতে হবে। বাকি ৩.০২ ডলার টিপস থেকে পূরণ হওয়ার কথা। এই মজুরি বৃদ্ধির প্রভাব রেস্তোরাঁ ব্যবসাতেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শ্রমিকদের বেতন বাড়ার সঙ্গে ব্যবসার পরিচালন ব্যয়, ওভারটাইম খরচ এবং কর্মী ব্যবস্থাপনার ব্যয়ও বাড়বে। ফ্লোরিডা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের সরকারি সম্পর্কবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সামান্থা প্যাডেট বলেন, শ্রম ব্যয় বাড়লে ব্যবসাগুলোকে কর্মীসংখ্যা, কাজের সময় এবং অটোমেশন ব্যবহারের মতো বিষয় নতুন করে ভাবতে হতে পারে। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার বিভিন্ন রেস্তোরাঁর শ্রম ও পরিচালন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ওশানভিউ ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান জোহান গুতিয়েরেজের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়লে ওভারটাইমের খরচও বাড়বে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ওভারটাইম কমানোর পাশাপাশি কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য, এতে নিম্ন আয়ের কর্মীদের আয় বাড়বে এবং তাদের অতিরিক্ত ব্যয় স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ৩০ সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধি ফ্লোরিডার বর্তমান বহু বছরের মজুরি বৃদ্ধির পরিকল্পনার শেষ নির্ধারিত এক ডলারের ধাপ। ২০২৭ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করে সমন্বয় করা হবে।
‘কী ছোট মনের, কী আত্মমগ্ন!’ ট্রাম্পের নাম বসানোর উদ্যোগে কেনেডি পরিবারের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম লাগামছাড়া, সামনে আরও বাড়ার শঙ্কা
বন্ধুকে বাঁচাতে রেললাইনে নেমেছিলেন তরুণী, নিউইয়র্কে ট্রেনের নিচে দুজনের মৃ ত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড, শিক্ষা সহায়তা কিংবা বিনামূল্যে স্কুলের খাবারের মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় প্রভাব ফেলতে পারে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় এসব সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন অথবা এসব সুবিধায় নতুন করে আবেদন করা এড়িয়ে যেতে পারেন। DHS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা যেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা তৈরি না করে, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক—দুই ধরনের সদস্য রয়েছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। নতুন নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘পাবলিক চার্জ’ ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্করণ। আগে সাধারণত নগদ সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়নে হাসপাতালে থাকার মতো বিষয়গুলো গ্রিন কার্ডের আবেদনে বেশি গুরুত্ব পেত। নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো আরও কিছু সুবিধাও কর্মকর্তাদের বিবেচনার আওতায় এসেছে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসীকে নতুন নীতির বাইরে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি আটকে যায়। ওই সময় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়া নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার হারও কমে গিয়েছিল বলে আরবান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে জ্যাকসন হাইটস
স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা বা মেডিকেড নিলে ঝুঁকিতে গ্রিন কার্ড, নতুন নিয়ম কার্যকর
ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আরও এক বছর বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই নিয়ম চালু করা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়। তবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন ঘোষণাটি এসেছে যখন এই ফি নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত এই অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাকে বেআইনি বলে রায় দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলমান রয়েছে। ফলে নীতিটি আগামী এক বছর বহাল রাখার পাশাপাশি এর আইনি বৈধতাও আদালতে পর্যালোচনার মধ্যে থাকছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই নীতির লক্ষ্য এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি বন্ধ করা। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর বড় আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এই নীতির প্রভাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, অতিরিক্ত ব্যয় দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাধা তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি খাতসহ যেসব শিল্প এইচ-১বি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে নিয়োগ পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। নতুন ঘোষণায় বর্তমান এইচ-১বি ভিসাধারীদের সব ক্ষেত্রকে একইভাবে এই ১ লাখ ডলারের অর্থের আওতায় আনা হয়নি। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে এই অর্থ পরিশোধের শর্ত প্রযোজ্য। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথকভাবে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় কাজের সুযোগ পান। তাই নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে এইচ-১বি ভিসায় যেতে আগ্রহী বিদেশি কর্মী এবং তাঁদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। তবে আদালতের চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতিটির ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারে।
ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প
পরিশ্রমে স্বপ্নজয়, নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ