সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অধীনস্থ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সংস্থাটি শুধুমাত্র জুলাই মাসেই ৫১ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যা ডিএইচএসের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড।   একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরেও ধরপাকড় বাড়িয়েছে আইসিই; সংস্থাটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিমানবন্দরগুলো থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এবিসি নিউজের সাথে আলাপকালে এক অভিবাসন আইনজীবী জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তাদের কাছে বৈধ কাজের অনুমতি বা প্যারোলের নথিপত্র রয়েছে।   সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত জুন মাসে ডিএইচএস জানিয়েছিল, আইসিই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্টেশন) হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সূত্রের মতে, আইসিই অত্যন্ত নীরবে দেশজুড়ে তাদের এই অভিযান জোরদার করছে।   অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্ররা মনে করছেন, প্রশাসনের উচিত সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা এবং তাদের মতে, বর্তমান ধরপাকড় অভিযান যথেষ্ট নয়। ট্রাম্প-সমর্থিত 'ওভারসাইট প্রজেক্ট'-এর প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল এবিসি নিউজকে বলেন, "বাইডেন আমলে যে পরিমাণ অবৈধ অভিবাসীকে দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান প্রশাসনের গণ-ডিপোর্টেশনের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার তুলনায় এই গ্রেপ্তারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।" কর্মস্থলে অভিযানকে মূল কৌশল হিসেবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই সংখ্যা নিচুই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রকৃত তথ্য আদায়ের জন্য তিনি ডিএইচএসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।   এদিকে, ডিএইচএসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাইডেন আমলের 'ভয়ংকর' নীতি বাতিল করা হয়েছে, যার কারণে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা দেশের ভেতরে অবাধে বিমান ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে ডিএইচএস এটি আর বরদাস্ত করবে না। অবৈধ অভিবাসীরা যেন নিজ দেশে ফেরত যাওয়া (সেলফ-ডিপোর্ট) ছাড়া আর কোনো কারণে উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে না পারেন, তা নিশ্চিতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
জুলাই মাসে আইসের হাতে আটক হয়েছেন ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসনে কড়াকড়ি আরও বেড়েছে, জুলাইয়ে আইস এর হাতে আটক ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জুলাই মাসে দেশজুড়ে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের আটকের সংখ্যা জুন মাসের তুলনায়ও বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইস এর হেফাজতে প্রায় ৬৮ হাজার ব্যক্তি রয়েছেন, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের নির্দেশনার পরই এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে আইস এর অভিযান শুধু কর্মস্থল বা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, অভিবাসন চেক-ইন অফিস, ট্রাফিক স্টপ, আদালত প্রাঙ্গণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বা অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা অনেক অভিবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।   বিশেষ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অভিবাসন যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাদের অভিবাসন মামলা চলমান বা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তারা ভ্রমণের আগে আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে এসব অভিবাসীর একটি বড় অংশ বহিষ্কারের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, যদি তারা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন সুবিধা অর্জন করতে না পারেন।   অভিযান জোরদারের মধ্যেই গত মাসে টেক্সাস ও মেইনে পৃথক ঘটনায় আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুটি ঘটনাই এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, বর্তমান প্রশাসনের অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। বিভাগের তথ্যমতে, এর মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। একই সময়ে ৯ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে বহিষ্কার এবং ১০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তবে এসব পরিসংখ্যান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিজস্ব তথ্য। এগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে যাদের অভিবাসন আবেদন বিচারাধীন, যাদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা অন্যান্য অস্থায়ী সুবিধা রয়েছে, কিংবা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে কোনো জটিলতা আছে, তাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
একই নির্যাতনের গল্পে ডজন ডজন অ্যাসাইলাম আবেদন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীকে ৪.৭ লাখ ডলার জরিমানা
একই নির্যাতনের গল্পে ডজন ডজন অ্যাসাইলাম আবেদন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীকে ৪.৭ লাখ ডলার জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (DHS) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) ক্লায়েন্টদের অ্যাসাইলাম বা আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগে সুরজ রাজ সিং নামের এক অভিবাসন আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বহু ক্লায়েন্টের—বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের—আবেদনে নির্যাতনের একই ‘কপি-পেস্ট’ গল্প ব্যবহার করেছেন। এই প্রতারণার দায়ে তাকে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ ডলারের বিশাল অঙ্কের সিভিল পেনাল্টি বা জরিমানা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইসিই (ICE)-এর জারি করা ‘নোটিশ অফ ইনটেন্ট টু ফাইন’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন মামলা পরিচালনাকারী এই আইনজীবী ৫৪টি মামলায় মোট ১১৮টি ভুয়া নথিপত্র তৈরি ও জমা দিয়েছেন।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সুরজ রাজ সিং বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য জমা দেওয়া অ্যাসাইলাম আবেদনগুলোতে প্রায় হুবহু একই ভাষা, বিবরণ এবং নির্যাতনের গল্প ব্যবহার করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের মতে, আবেদনকারীদের নিজস্ব বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার পরিবর্তে এসব নথির বেশিরভাগই কেবল কপি করে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে।   সরকারের অভিযোগ, এই কর্মকাণ্ড ফেডারেল ইমিগ্রেশন নথিপত্র জালিয়াতি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণেই অভিবাসন সংক্রান্ত জালিয়াতির জন্য নির্ধারিত আইনের অধীনে সর্বোচ্চ জরিমানার দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন আইনজীবীদের ভুয়া অ্যাসাইলাম আবেদনের বিরুদ্ধে যে বিস্তৃত ক্র্যাকডাউন শুরু হয়েছে, এটি তার অন্যতম বড় একটি পদক্ষেপ। এর আগে গত মে মাসে, সন্দেহভাজন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইসিই-কে নির্দেশ দিয়েছিল ডিএইচএস।   সুরজ রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের ঠিক এক মাস আগেই বিনোদ দোদামানি নামের আরেক অভিবাসন আইনজীবীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ৩২টি অ্যাসাইলাম মামলায় ৬৪টি ভুয়া নথি জমার অভিযোগ ওঠে, যে ঘটনায় আড়াই লাখ ডলারের বেশি জরিমানা দাবি করেছে ডিএইচএস। তবে সুরজ রাজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া। এই নোটিশের মাধ্যমে এখনই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে না, বরং তিনি একজন প্রশাসনিক বিচারকের কাছে এই অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পাবেন।   তাছাড়া চূড়ান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদন করার অধিকারও তার রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিং তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বড় পরিসরে পরিচালিত অভিবাসন মামলাগুলোতে এই ধরনের কঠোর নজরদারি গোটা আইনজীবী মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা আগামীতে অ্যাসাইলাম আবেদনের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য প্রচলিত ভিসা নীতিতে বড় ধরনের সংশোধনী আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সাম্প্রতিক একটি নোটিশের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই নতুন নীতিমালার ফলে এতদিন ধরে চালু থাকা অনির্দিষ্ট মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ বাতিল হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় একটি বড় কড়াকড়ি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।   প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ‘এফ’ ভিসা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনিময় কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পাওয়া দর্শনার্থীদের ‘জে’ ভিসা এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ‘আই’ ভিসার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।   এতদিন ধরে এই ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মসূচি, গবেষণা বা কর্মসংস্থানের মেয়াদকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ বা 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' বহাল থাকত। অর্থাৎ, কাজ বা পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই তারা সেখানে থাকতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে এই সুবিধা আর থাকছে না। এর পরিবর্তে প্রতিটি ভিসার বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।   নতুন এই নীতিমালার ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাজ বা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নোটিশে জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে কার্যকরের তারিখ নির্ধারণের আগে তা মার্কিন কংগ্রেসে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য উত্থাপন করা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০