জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে আংশিক আমদানি সীমিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গালফ নিউজ–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক রোগ পরিস্থিতি ও হালনাগাদ এপিডেমিওলজিক্যাল তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল থেকে বলবৎ রয়েছে, আবার কিছু দেশ ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের আলোকে পরে যুক্ত হয়েছে। উচ্চমাত্রার এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, কোট দিভোয়ার ও মন্টেনিগ্রো। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইনস, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে আংশিক আমদানিতে বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত স্বাস্থ্যমান পূরণ সাপেক্ষে তাপপ্রক্রিয়াজাত (হিট-ট্রিটেড) মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। সেক্ষেত্রে সরকারি প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং পণ্য অনুমোদিত স্থাপনা থেকে রপ্তানি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম Truth Social–এ দেওয়া পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় Supreme Court of the United States। আদালত জানায়, জাতীয় জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপ করেছিলেন। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী প্রায় সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্ক আরোপে Trade Act of 1974–এর ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করেছে। এই আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে শুল্ক কার্যকর রাখার মেয়াদ ১৫০ দিনের বেশি বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প জানান, এই সময়কে তিনি এমন কিছু শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহার করবেন, যা আইনগতভাবে অনুমোদিত। প্রশাসন আরও দুটি আইনের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করছে, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা এবং অসাধু বাণিজ্য চর্চার তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি অবিলম্বে বিশ্বজুড়ে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করছি। অনেক দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যে ক্ষতির মধ্যে রেখেছে।” শুক্রবারের রায়ে ছয়জন বিচারপতি শুল্ক আরোপের বিপক্ষে অবস্থান নেন, আর তিনজন সমর্থন করেন। রায়ের পরও ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি বিচার বিভাগের কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানি খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক : রোজায় ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার এ বছর বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করা হয়েছে এবং রোজাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ মজুত। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কম থাকায় দেশের বাজারেও জোগান ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এর প্রভাবে শবেবরাতের পর থেকে রোজার নিত্যপণ্যের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রোজায় বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। পেঁয়াজ, খেজুর, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে দুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিকেজি দুধ কিনতে ক্রেতাকে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এসব কারণে রমজানে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোক্তারা। রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা। ভরা মৌসুমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়, যেখানে গত বছর একই সময়ে দাম ছিল প্রায় ৫৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ছিল ১৭৬ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকায়। সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা কেজিতে, যা গত বছর ছিল ১৪০ টাকা। মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। অন্যদিকে, চিনির দাম কিছুটা কমেছে। খুচরা বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১২৫ টাকা। তবে গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের দাম বেড়েছে। ডিপ্লোমা ব্র্যান্ডের দুধ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯২০ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ছিল ৮৪০ টাকা। কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “এবার শবেবরাতের আগে ও পরে বাজারে হঠাৎ করে দাম বাড়েনি। সরবরাহও ভালো। তবে গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম বেশি থাকায় সামনে কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।” কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “রমজানে পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের দুর্বল আইন প্রয়োগ। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকা সত্ত্বেও যদি দাম বাড়ে, তাহলে তদারকি বাড়াতে হবে এবং অনিয়মকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এ বছর রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের গড় আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। এই সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এবারের রমজান ভোক্তাদের জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫-২০২৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হলো আমদানি প্রক্রিয়াকে এমনভাবে প্রণয়ন করা যাতে রপ্তানিমুখী কার্যক্রমকে উৎসাহ দেওয়া যায় এবং দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীল অবদান রাখা যায়। শফিকুল আলম বলেন, রপ্তানি সক্ষমতা নির্ভর করছে আমদানি নীতি কতটা কার্যকরভাবে প্রণীত হচ্ছে তার ওপর। নতুন নীতি আমদানি প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়াবে। এবার কাস্টমস শুল্ক ও অন্যান্য কর ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে, যা মোট রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। এছাড়া ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের দ্বিতীয়বার যাচাই-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকবে, যা আগে সম্ভব ছিল না। তিনি আরও জানান, নতুন নীতি বাস্তবায়নের ফলে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ হবে। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে বিদ্যমান পরিবেশ পুরোপুরি বাণিজ্য-সহায়ক নয়। নতুন নীতির মাধ্যমে তা আরও সহায়ক হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রেস সচিব বলেন, নতুন বিধান অনুযায়ী রপ্তানিমুখী শিল্প যেমন—তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ, আসবাবপত্র ও ফার্নিশিং খাতের কারখানা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে। এতে এসব খাতের রপ্তানির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। নতুন আমদানি নীতি দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস