ইরানে স্থল অভিযান চালানোর আহ্বান বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস। তিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক চুক্তিকে 'অসাধারণ সাফল্য' বলে উল্লেখ করে বলেছেন, সামরিক সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনীতিই বেশি কার্যকর পথ হতে পারে। স্থানীয় সময় শনিবার 'অল-ইন পডকাস্ট'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যাকস বলেন, ইরানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের কারণে এ ধরনের অভিযানে প্রায় ১০ লাখ সেনার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন সামরিক অভিযান হবে 'একটি আত্মঘাতী মিশন'। তাই চলমান চুক্তিকে সফল হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন। ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির প্রসঙ্গ টেনে স্যাকস প্রশ্ন তোলেন, যারা ইরানে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেন, তারা নিজেরা অস্ত্র হাতে নিতে কতটা প্রস্তুত। তিনি বলেন, 'রেজা পাহলভি যদি বেভারলি হিলসে গিয়ে তার সমর্থকদের নিয়ে একটি বাহিনী গঠন করতে চান, তাহলে তিনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।' কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি জোর দিয়ে স্যাকস বলেন, 'আসুন, শান্তিকে একটি সুযোগ দিই।' তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন আবারও ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক ও অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, যা শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপের সময় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কাতার গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি পাকিস্তান এবং অন্যান্য ইসলামি দেশগুলোর সহযোগিতাও এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি কাতারের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। সাম্প্রতিক এই সমঝোতা স্মারককে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও বিরোধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার নতুন পথ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফোনালাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনীতি, আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। কাতারের আমির আরও বলেন, অঞ্চলের বিভিন্ন সংকট নিরসনে সংলাপভিত্তিক উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক এই সমঝোতা ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে কাতার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। আফগানিস্তান, গাজা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটের পাশাপাশি এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের ক্ষেত্রেও দেশটির সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। এদিকে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি নির্দিষ্ট আলোচনাকালে প্রবেশ করেছে। এই সময়ে উভয় পক্ষ আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভবিষ্যৎ আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তে রাজি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। ট্রাম্প জানান, আগে যেসব বিষয়ে ইরান অনড় অবস্থানে ছিল, এখন তারা সেসব দাবি মানতে রাজি হয়েছে। যদি এই চুক্তি চূড়ান্ত হয় এবং তা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই সপ্তাহান্তেই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। তবে নতুন চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তবে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে। প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ বাহিনীর অবরোধ অত্যন্ত কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক চাপ ও অবরোধের কারণেই ইরান আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বাস্তবসম্মত একমাত্র পথ হয়ে উঠছে একটি সমঝোতা চুক্তি। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে। একই সময়ে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান-এর জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। টানা বোমাবর্ষণ, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক চাপ দেশটিকে দ্রুত একটি সমঝোতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও বাহ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করা হচ্ছে, বাস্তবে দেশটির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্যও একটি সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মূল বিরোধ বড় কোনো নীতিগত প্রশ্নে নয়, বরং সময়সীমা ও শর্ত নিয়ে। ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দীর্ঘমেয়াদি—প্রায় ২০ বছরের—নিয়ন্ত্রণ। এই বিরোধের মধ্যেও উভয় পক্ষ অন্তত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখার বিষয়ে একমত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মার্কিন অবরোধ ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইসরাইল এবং লেবানন সীমান্তে সক্রিয় হিজবুল্লাহ। ইরান চায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ কমানো হোক, অন্যদিকে ইসরাইল নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনায় এসব ইস্যু আলাদা করে বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে মূল চুক্তির পথে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত না হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মূল চ্যালেঞ্জ হলো—দুই পক্ষই যেন নিজেদের জনগণের কাছে এটিকে ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চাইবে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার সাফল্য দেখাতে ইরান চাইবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট আছে—এ বার্তা দিতে সব মিলিয়ে, বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথই এখন বেশি সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই সম্ভাব্য চুক্তি কি ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়েও কার্যকর হবে, নাকি নতুন করে আরও জটিল বাস্তবতার জন্ম দেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবিতে জানিয়েছেন, ইরান 'সম্মানের নিদর্শন' হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০টি বিশাল তেলবাহী জাহাজ পাঠাচ্ছে। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য দেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে এই তেলের বহর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, “আজ তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে। ঠিক কীভাবে এটি সংজ্ঞায়িত করব জানি না, তবে সম্মানের নিদর্শন হিসেবে ২০টি বড় তেলের জাহাজ পাঠাচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের বর্তমান 'নতুন নেতৃত্ব' অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে এবং তাদের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের বিশ্বাস, দুই দেশের মধ্যে খুব দ্রুতই একটি বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। যদিও এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, তবে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী তেহরান এখন প্রস্তাবের বেশিরভাগ পয়েন্ট মেনে নিয়েছে। নিজের আন্তরিকতা প্রমাণের জন্যই ইরান এই বিশাল তেলের চালান পাঠাচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই নাটকীয় বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।