যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা দিতে নতুন একটি অর্থ সহায়তা পরিকল্পনার প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যোগ্য আমেরিকানদের প্রত্যেককে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রো খান্না। তাদের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ধনী বিলিয়নিয়ারদের ওপর অতিরিক্ত সম্পদ কর আরোপ করে সেই অর্থ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করা যেতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা এই সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ৩ হাজার ডলার এবং চার সদস্যের একটি পরিবার সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। তবে এই অর্থ সহায়তা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ প্রস্তাবটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আলোচনাধীন এবং এটি এখনো আইন হিসেবে পাস হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি কার্যকর হতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। এরপরই এটি আইন হিসেবে কার্যকর হতে পারে। প্রস্তাবদাতারা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের সময় সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা আনা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কার মুখে নিজেদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইসরায়েল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি নির্দেশনায় জানিয়েছে, যতদিন বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, তার মধ্যেই যেন নাগরিকরা ইসরায়েল ছেড়ে চলে যান। একইসঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের আপাতত ইসরায়েলে ভ্রমণে না যাওয়ার জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রণতরীসহ এক ডজন যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কূটনৈতিক আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হলে যেকোনো সময় হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দূতাবাসের কর্মীদের জরুরি ইমেইল পাঠিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, গন্তব্য যাই হোক না কেন, দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করে ইসরায়েল ত্যাগ করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম ও প্রধান তিনটি কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে ইরান শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার পক্ষে অনড় থাকায় এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রতিযোগিতামূলক আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে মানুষের মৌলিক চাহিদার ধারণা বদলেছে, তেমনি বদলেছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং নাগরিকদের ন্যূনতম দারিদ্র্য নিশ্চিত করা—যা বিশেষভাবে বেকারত্ব কার্যকরভাবে হ্রাস করার মাধ্যমে অর্জন সম্ভব। ১. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব সরাসরি নাগরিকের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করাই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মূল উদ্দেশ্য। এই মৌলিক চাহিদাগুলো হলো— (১) বিশুদ্ধ বাতাসের নিশ্চয়তা (২) স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা (৩) সুষম ও পর্যাপ্ত খাদ্যের নিশ্চয়তা (৪) রুচিসম্মত ও পরিমিত পোশাকের নিশ্চয়তা (৫) সাশ্রয়ী সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা (৬) নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা (৭) ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষার নিশ্চয়তা (৮) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির নিশ্চয়তা (৯) মাদকমুক্ত জনগোষ্ঠী তৈরিতে সহায়তা করা এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের মূলনীতি হলো— “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সমন্বয়।” রাষ্ট্রকে প্রচলিত সীমাবদ্ধতার বাইরে এসে নীতিগত সংস্কার ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় অগ্রাগামী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রবন্ধে একটি সামগ্রিক ধারণার পাশাপাশি কিছু বাস্তব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হলো—কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংস্কার করা যেতে পারে। ২. ফ্রিল্যান্সারদের কাঠামোগত উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা বর্তমানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বছরে প্রায় ১.৩–১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। এই আয়ের বড় অংশই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্জিত। তবে উন্নত বহির্বিশ্বে এখনও বহু পেশাগত খাত রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ বৈদেশিক বাজারে পর্যাপ্তভাবে প্রবেশ করতে পারেনি—যার পেছনে রয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘাটতি। ভবিষ্যতে এই খাত রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে। ২.১ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন (ক) কম মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: (১ক) বিশেষ বিদ্যুৎ ট্যারিফ (২ক) লোডশেডিং-মুক্ত সংযোগ (৩ক) সৌরশক্তি ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (খ) নির্দিষ্ট কম দামে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট: (১খ) বিশেষ ফ্রিল্যান্সার ইন্টারনেট প্যাকেজ (হ্রাসকৃত, কর-মুক্ত/কর-ছাড়যুক্ত) (২খ) সহজ ব্যাংকিং ও বৈদেশিক আয়ের কাগজপত্র (৩খ) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সরকারি এবং বেসরকারি (JV) সহায়তা ২.২ নতুন সম্ভাবনাময় খাতসমূহ * শিক্ষা * স্বাস্থ্যসেবা * হিসাবরক্ষণ * ডিজিটাল মার্কেটিং * কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা * অনুবাদ * কাস্টমার সাপোর্ট * ডেটা অ্যানালিটিক্স/ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক-অফিস সার্ভিস * গ্রাফিক্স/ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ও ভিডিও এডিটিং * ই-কমার্স অপারেশনস * সাইবার সিকিউরিটি বেসিক সার্ভিস ও QA টেস্টিং এখানে সরকারের ভূমিকা নিয়ন্ত্রকের নয়; বরং হবে সহায়ক (Facilitator)। ৩. Trainer of Trainers (ToT): স্থানীয় প্রশিক্ষণ থেকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রতিটি জেলা সদরে Trainer of Trainers (ToT) কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। কার্যপদ্ধতি: * আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ * কোর কারিকুলাম, মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন * দক্ষ কর্মী তৈরি— ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী, IT কর্মী, কনস্ট্রাকশন টেকনিশিয়ান, প্রজেক্ট অফিসার সার্টিফিকেশন ও মাননিয়ন্ত্রণ এই কর্মসূচির মূল শর্ত হওয়া উচিত। লক্ষ্য: * রেমিট্যান্স বৃদ্ধি * দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান * দারিদ্র্য হ্রাস * মানবসম্পদ রপ্তানি ৪. পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতা আজকের কর্মসংস্থান হচ্ছে— রিমোট নির্ভর, স্কিলভিত্তিক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্ভর, গ্লোবাল বাজারভিত্তিক এবং AI নির্ভর। ডিগ্রির চেয়ে এখন স্কিল + সার্টিফিকেশন + আউটপুট গুরুত্বপূর্ণ। ৫. ভূমিপুত্র (Son of the Soil) নীতি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানে দেশের সন্তানদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা। Local first, Global ready নীতিতে আধুনিক সংস্করণ প্রয়োজন। ৬. সমন্বিত ভূমিপুত্র মডেল জাতীয় পর্যায়ে: * চাকরিতে কোটা * বিদেশি নিয়োগ সীমিত * Knowledge Transfer * Skill Database স্থানীয় পর্যায়ে: * স্থানীয় রেজিস্ট্রি * স্থানীয় নিয়োগ * প্রশিক্ষণ কেন্দ্র * উদ্যোক্তা সহায়তা ৭. গ্রামীণ SME শিল্পায়ন গৃহস্থালি পণ্য, কৃষি উপকরণ, পোশাক, হালকা শিল্প—স্থানীয় উৎপাদন। উপকারিতা: কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ। ৮. বিকেন্দ্রীকরণ ও কর সংস্কার গ্রামে কর ছাড়, শহরে নিয়ন্ত্রণমূলক করনীতি। ফলাফল: ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন। ৯. উপসংহার ফ্রিল্যান্সিং সহায়তা, ToT কর্মসূচি, ভূমিপুত্র নীতি, গ্রামীণ শিল্পায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ—এই পাঁচ স্তম্ভ বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব হ্রাস, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। এটি একটি জাতীয় উন্নয়ন দর্শন—যেখানে দেশের সন্তানই হবে উন্নয়নের মূল শক্তি। লেখক: প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ইমেইল: usaaisf@gmail.com ফোন: (303) 718-3144 (WhatsApp)
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।