সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নেপাল বন্যা

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে শোক পালন শুরু, ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে মৃত ভেবে তাঁর পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে।   ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারতলা বাড়িটি বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে। সেখানেই একটি ছোট বাতাসের জায়গার মধ্যে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন চন্দিকা।   ৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকাজ চালানোর সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের কাছে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শুনতে পান কেউ সাহায্যের জন্য ডাকছেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাঁকে চারতলা একটি ভবনের ওপরের অংশের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে নয় সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।   চন্দিকা ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময় বন্যার স্রোতে ভোতেকোশি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে একসময় স্বজনদের মধ্যে আশাও প্রায় শেষ হয়ে আসছিল।   চন্দিকার পরিবারও তাঁকে আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে জীবিত অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধারের ঘটনা স্বজনদের জন্য অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত হয়ে আসে।   বেত্রাবতী ছিল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় বাজারসহ বহু আবাসিক ভবন কয়েক ফুট পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। কোনো কোনো ভবন ছিল চারতলা পর্যন্ত উঁচু। উদ্ধারকারীরা এখনো সেখানে কোদাল দিয়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে কেউ আটকে থাকলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিয়মিত বাঁশি বাজানো হচ্ছে।   চন্দিকাকে উদ্ধারের পাঁচ দিন আগে বেত্রাবতীর বাজার এলাকার একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোই পচে গিয়েছিল। এ অবস্থায় উদ্ধারকাজে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছিল। তবু চন্দিকার উদ্ধার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ, কাদার স্তর ও বিভিন্ন স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা।   ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ভেসে অনেক মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু দূরে গিয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের গণদাফনও করা হয়েছে।   ত্রিশূলী নদীর আশপাশেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে কয়েকটি সুড়ঙ্গের মধ্যে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখান থেকে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি এক চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি সুড়ঙ্গে এখনো শত শত মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   চন্দিকার মতো আরও কয়েকজনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আট বছর বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো ক্ষীণ চিহ্ন পেলেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও কাদার স্রোত বসতি, বাজার এবং অবকাঠামোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।   চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠার উদ্ধার সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের বেঁচে থাকার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁকে হারিয়ে শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট বাতাসের জায়গায় টিকে ছিলেন তিনি। দশ দিন পর তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর জীবিত থাকার খবর।   সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন নেপালি সেনা সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পরও উদ্ধার অভিযানে মিলছে জীবনের সন্ধান। শনিবার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিক এবং কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর আগের দিন আরও দুই নেপালি শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে মোট চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।   শনিবার উদ্ধার হওয়া চীনা নাগরিকের নাম লু হাইতাও। নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল রাশুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে।   সুড়ঙ্গ থেকে লু হাইতাওকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি বাড়ির ওপরের তলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি দল। তিনি প্রায় ১০ দিন ওই বাড়ির ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধার করার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশুলি এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।   এর এক দিন আগে, শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজনকে। তাঁরা প্রায় নয় দিন ধরে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের প্রায় ৪০ মিটার ভেতরে গিয়ে তাঁদের সন্ধান পান। দীর্ঘ সময় ধরে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হয়।   ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বরফ, পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত ভুটেকোশি নদী দিয়ে নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। এতে বসতি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে থাকা বহু শ্রমিকের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।   নেপাল পুলিশের শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৮৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৫০১টি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মৃত ১ হাজার ২৬০ জন এবং তাঁদের ৯৭২ স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৬৫৫ জন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।   বন্যায় দেশটির ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনায় কর্মরতসহ মোট ৯৪২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে। রাশুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেই নিখোঁজ রয়েছেন ৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কর্মী, দৈনিক মজুরির শ্রমিক এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও রয়েছেন।   উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। ৫০০-র বেশি প্রকৌশলী একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্ধারকারীদের সুড়ঙ্গের নকশা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিন্যাস এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের তথ্য দিচ্ছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উচ্চক্ষমতার ড্রোন, ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান রাডার, পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হচ্ছে।   জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির হিসাবে, ছয় জেলার ১৭টি পৌরসভার প্রায় ৮৪ হাজার ২৭০ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো ও ঘরবাড়ির বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের ওপরও গুরুতর। ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশুর জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা প্রয়োজন। বন্যায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০৭ শিশু বাবা-মা বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।   দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে নেপাল সরকার ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দিন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।   দশ দিন পর ধ্বংসস্তূপ ও অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে একের পর এক মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, কাদা ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গ এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নেপাল সীমান্তে সড়ক পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ধ্বংস হওয়া নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহে পুনর্নির্মাণ করল চীন

ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া নেপাল ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। নেপাল ও চীনের মধ্যকার অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম জিরং বা গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের এই সড়কটি বুধবার পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সড়কটি দ্রুত মেরামত করার ফলে এখন দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো অনেক সহজ হবে।   গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সঙ্গে যুক্ত এই বিস্তীর্ণ সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে চীনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় নতুন গতি এসেছে।   এদিকে নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পথের বাধা পেরিয়ে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে আরও ১১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর থেকে এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালে সাম্প্রতিক এই বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্মরণকালের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার দুইশ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রতিবেশী দেশ চীন ইতোমধ্যে নিখোঁজদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ দল, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পানি পরিশোধন সরঞ্জামসহ অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে।   হিমালয় অঞ্চলে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও ভয়াবহ ঝুঁকিকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলেই এমন আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
নিজের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে হাজারো প্রাণ বাঁচানো প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় স্কুল ভেসে যাওয়ার আগে ঘণ্টা বাজিয়ে ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বাঁচালেন প্রধান শিক্ষক

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঠিক আগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পানি ও কাদার প্রবল স্রোত স্কুল ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেন। পরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনতলা স্কুল ভবনটি বন্যার স্রোতে ভেসে যায়।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ত্রিশূলী বাজার এলাকায়। সেখানে ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি ওই দিন ভয়াবহ বিপদের সতর্কবার্তা পান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদির কাছে উজানের বেত্রাবতী এলাকা থেকে এক বন্ধু ফোন করেন। তিনি জানান, নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে নিচের দিকে আসছে এবং উজানের একটি এলাকা ইতোমধ্যে পানির স্রোতে ভেসে গেছে। স্কুলের দিকে বন্যার পানি এগিয়ে আসতে পারে বুঝতে পেরে দাওয়াদি আর সময় নষ্ট করেননি।   সেই সময় স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বাসে করে স্কুলের দিকে আসছিল। পরিস্থিতি বুঝে প্রধান শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুধু স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিলেই তিনি থামেননি। তিনি মনে করেন, স্কুলবাসে করে যারা তখনও আসছিল, তারাও একই বিপদের মধ্যে পড়তে পারে। এরপর তিনি একে একে বাসচালকদের ফোন করে ফিরে যেতে বলেন। কয়েকটি বাসকে তিনি স্কুলের দিকে না এসে নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হন।   একটি বাসের চালকের সঙ্গে অবশ্য তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে সেটিকে স্কুলের কাছের একটি সেতু দিয়ে আসতে দেখে দাওয়াদি নিজেই চালককে থামার সংকেত দেন এবং ফিরে যেতে বলেন। বাসটি ফিরে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়ে বলে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত স্কুল এলাকায় পৌঁছে যায়।   ত্রিশূলী নদীর পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে তিনতলা স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। ভবনটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, পরে সেখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তর দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও সেতুসহ বিস্তীর্ণ এলাকার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষক দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বন্যার স্রোত আঘাত হানার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।   তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। অনলাইনখবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে প্রায় তিন দিন আটকে ছিলেন। পরে ২৮ আগস্ট দাওয়াদি ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলের দুই কর্মীর মৃত্যুর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর তথ্য এক নয়। তাই তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অতিরিক্ত দাবি করা হচ্ছে না।   নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। নেপালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রিশূলী উপত্যকার এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় স্কুলটির ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। যে ভবনে সেদিন সকালেও শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেটি আর ছিল না। কিন্তু ভবনটি ধ্বংস হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   রাজেন্দ্র দাওয়াদির ঘটনাটি তাই শুধু একজন প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তের গল্প নয়। এটি দুর্যোগের সময় কয়েক মিনিটের সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ। উজান থেকে পাওয়া একটি ফোনকলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি যদি অপেক্ষা করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। দুর্যোগের পর এখন স্কুলটি কোথায় এবং কীভাবে আবার চালু করা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।   প্রকৃতির এমন আকস্মিক দুর্যোগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানই কখনো কখনো জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে। ত্রিশূলী উপত্যকায় সেদিন রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্ত সেই কয়েক মিনিটকেই কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।   সংবাদসূত্র: দ্য টাইমস, বিডিনিউজ২৪

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়াকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি করে। পরে তা নদীপথ আটকে দিয়ে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই বিপর্যয় শুরু হয়। প্রথম দিকে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিল। পরে আরও বিশ্লেষণ, ভূকম্পন তরঙ্গের ধরন এবং উপগ্রহের ছবি পরীক্ষা করে ইউএসজিএস সিদ্ধান্তে আসে, এটি কোনো টেকটোনিক ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহ ধস ও তার সঙ্গে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল।   ইউএসজিএসের হিসাবে, হিমবাহ ধসের শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। অর্থাৎ ভূগর্ভে কোনো বড় ধরনের ভূত্বকীয় নড়াচড়া হয়নি, বরং বরফ, পাথর ও অন্যান্য উপাদান পাহাড় থেকে প্রচণ্ড শক্তিতে নিচে নেমে আসার কারণেই এত শক্তিশালী ভূকম্পন সংকেত তৈরি হয়। ঘটনাটির প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই অঞ্চলে আরও একটি ভূমিধসের মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার শক্তি ছিল ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।   উপগ্রহের প্রাথমিক ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সেটি প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে আসার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে এই বরফ-পাথরের স্রোত তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে এবং নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে দেয়।   প্রাকৃতিক সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে যায়। প্রবল স্রোত ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করে এবং পরে নেপালের ত্রিশূলী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টায় প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। এই বন্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচলিত অর্থে এটি বৃষ্টির বন্যা ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে বৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। বর্ষাকালে বন্যার সঙ্গে অভ্যস্ত স্থানীয়দের কাছে হঠাৎ করে পাহাড়ি নদীর পানি এভাবে বেড়ে যাওয়া ছিল অস্বাভাবিক।   নেপালের রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বন্যার স্রোত পরে নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ আরও নিচের এলাকাগুলোতে পৌঁছে যায়। সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।   হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই ধরনের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা হিমবাহজনিত হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যা বা জিএলওএফের সঙ্গে তুলনা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান ম্যাককলাম ব্যাখ্যা করেছেন, হিমবাহ গলে পেছনে পানি জমতে পারে এবং সেই পানি প্রাকৃতিক পাথর ও মাটির বাঁধের পেছনে আটকে থাকে। কোনো কারণে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে গিয়ে পথের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিতে পারে।   লাট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল এই বন্যার গতিকে একটি স্থলভাগের সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রবল পানির স্রোত ভোতে কোশি উপত্যকা দিয়ে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্য নেপালের দিকে ছুটে যায়। যে পথটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে বিপর্যয় এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা। নেপাল ও চীন সীমান্তের দুই পাশে বন্যার পর তৈরি হওয়া বা পানি জমে থাকা দুটি হ্রদ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব জলাধারের কোনো একটি প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে। নেপালের ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টবিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, আইসিমোড জানিয়েছে, বন্যার সঙ্গে আসা ধ্বংসাবশেষ ত্রিশূলী নদীর একটি সরু অংশে সাময়িক বাধা তৈরি করেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাধার পেছনে পানি জমে গেলে সেটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে।   আইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং সতর্ক করে বলেছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে যদি কোনো বাধা থেকে থাকে, সেটি নতুন ঢলের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তের জিরং বন্দরের কাছাকাছি এলাকাতেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢলের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   চীনা কর্তৃপক্ষও সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের হিসাবে, পরবর্তী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি ইতোমধ্যে বাধাগ্রস্ত হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পরিমাণটি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। পানির চাপ বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও জানানো হয়েছিল। এর সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষক ঝু জিনফেং বলেছেন, পানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।   তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি ধীরে ধীরে কমেছে এবং উপগ্রহের ছবিতে হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তারপরও সেখানে আরও একটি বড় হ্রদ শনাক্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।   এদিকে এই হিমবাহ ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা বৃদ্ধি হিমবাহ গলন, পাথরের অস্থিতিশীলতা এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ধস, আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য বিপদের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।   গবেষকেরা বলছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, শুধু বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে সব ধরনের পাহাড়ি বন্যার আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকা অবস্থাতেও হিমবাহ ধসের মতো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা তৈরি করতে পারে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান নাদের নাদেরপাজুহ বলেছেন, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর যেভাবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছিল, হিমবাহ ও পাহাড়ি জলাধার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পানি জমে ওঠার বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত সতর্কতা ও প্রস্তুতি মানুষের জীবন রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   নেপালের এবারের বিপর্যয় তাই শুধু একটি আকস্মিক বন্যার ঘটনা নয়। হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদী অববাহিকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   সূত্র: ইউএসজিএস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের নুয়াকোটে বন্যার পর কাদায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। এর মধ্যেই ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারালের বেঁচে ফেরার গল্পটি সামনে এসেছে আরও এক করুণ বাস্তবতা নিয়ে। নিজের চোখের সামনে কাদার স্রোতে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হলেও এখনো স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি এই বৃদ্ধ।   নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কেশব গত বুধবার বাড়িতে ছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রবল গতিতে কাদা, পানি ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই স্রোত ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। কেশব তখন স্ত্রীকে নিয়ে ঘরের উঁচু অংশে ওঠার চেষ্টা করেন। রয়টার্সকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি বলেন, কাদার স্রোত যখন বাড়ির ভেতরে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি স্ত্রীর হাত ধরে তাকে বারান্দার দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্রোতের শক্তি তাদের আলাদা করে দেয়। স্ত্রী তার হাত থেকে ছিটকে কাদার নিচে হারিয়ে যান।   চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার কেশবকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেশবের ভাষায়, তিনি এখনো কাদার নিচেই কোথাও আছেন এবং তার বেঁচে থাকার আশা নেই। কেশবের এই বর্ণনা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ধসের সঙ্গে প্রবল বন্যা শুরু হয়। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার স্রোত বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি পর্যটন ও তীর্থযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের কারণ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও হিমবাহ ধসের কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহের একটি অংশ ধসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচের দিকে নেমে আসায় এই ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে রেডিও নেপাল। একই সময়ে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ৫৭৯ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে নেপালি ও বিদেশি পর্যটক উভয়েই রয়েছেন।   নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটকদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায়ও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর কারণে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।   এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ আহত স্বজনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ নিখোঁজ স্বজনের কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় সরকারি তালিকা ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ করছেন। কেশব প্রসাদ বারালের গল্প তাই শুধু একজন মানুষের বেঁচে ফেরার কাহিনি নয়। এটি কয়েক মুহূর্তের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে একটি পরিবারের জীবন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, তারও নির্মম উদাহরণ। স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেও তাকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। নিজে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে পৌঁছালেও এখনো অপেক্ষা করছেন এমন একটি খবরের জন্য, যা হয়তো আর কখনো আসবে না।   সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, রেডিও নেপাল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
প্রবল জল ও কাদার স্রোতে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ৩৪ অস্ট্রেলীয় নাগরিক, তাদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছরের দুই শিশুও রয়েছে

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৪ অস্ট্রেলীয় নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। বুধবারের এই দুর্যোগে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক শ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে ১৫ জন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান গ্লেসিয়ার অ্যাডভেঞ্চার্সের একটি দলে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সাগর পান্ডে জানিয়েছেন, দলটির সঙ্গে বুধবার সকালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। সবচেয়ে কম বয়সী দুইজনের বয়স ১১ ও ১৪ বছর এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী নিখোঁজ নারীটির বয়স ৬৪ বছর। তারা কাঠমান্ডু থেকে কৈলাস পর্বত পর্যন্ত ১৪ দিনের একটি তীর্থভ্রমণে গিয়েছিলেন।   ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কার্যালয়ের সঙ্গে সফরের দলনেতাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর দলটির কোনো সদস্য বা অতিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দেখতে এবং সহায়তা দিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী একটি ছোট দল নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হলেও পরিস্থিতির কারণে তাদের সেখানে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আকস্মিক বন্যার পর ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।   বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভোতে কোশি নদীর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। এর সঙ্গে কাদা, পাথর ও বরফ মিশে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে যেতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে দৌড়ে পালাচ্ছেন এবং বিশাল জল ও কাদার স্রোত বসতিতে ঢুকে পড়ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা বরফধস সৃষ্টি হয়ে এই বন্যা হয়েছে। পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, বড় ধরনের ভূমিধস বা বরফ ও পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রধান কারণ। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার পর নদীতে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও পানি নেমে এসে এই আকস্মিক বন্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্যার সময় নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। এত দ্রুত পানির উচ্চতা বাড়ায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ এবং পর্যটকদের সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগও খুব কম ছিল। দুর্যোগের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে নেপালের রাসুয়া জেলায়। জেলার স্যাপ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকায় প্রবল স্রোতে বহু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকাতেও বন্যার পানি ও কাদার স্রোত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের নেপাল প্রতিনিধি ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, পুরো গ্রাম ও বাজার এলাকা বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।   উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। নেপাল সেনাবাহিনী ১৪টি হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। তবে রাসুয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় পানির উচ্চতা বেশি থাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। পানি কমে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চীনের তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে গিরং এলাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ নিখোঁজ নাগরিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দুর্যোগে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলীয়দের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দুর্যোগের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং বরফ ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যা, হিমবাহধস ও বরফ-পাথরের ধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।   উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে স্থল ও আকাশপথে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং হতাহতের চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও সময় লাগতে পারে।   সূত্র: এবিসি নিউজ অস্ট্রেলিয়া, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা ও নেপাল পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০