মেলানিয়া ট্রাম্প

এপ্রিল মাসে এপস্টেইন ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
এপস্টেইন নিয়ে কেন প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, জানালেন তার উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত এপ্রিলে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা সে সময় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে খুব কম দেখা যাওয়া মেলানিয়ার এমন অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এবার সেই বক্তব্যের নেপথ্যের কারণ প্রকাশ করেছেন তার একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলানিয়ার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান বলেন, ওই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বিষয় স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে। তার ভাষায়, "মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানাতে চেয়েছিলেন যে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং কখনোই ছিল না। একই সঙ্গে তিনি এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের পক্ষে একজন সমর্থক ও নেতৃত্বদানকারী কণ্ঠ হতে চেয়েছিলেন।"   বেকম্যান আরও জানান, মেলানিয়া কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্য শুনানিতে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সরাসরি আইনপ্রণেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।   কী বলেছিলেন মেলানিয়া?   এপ্রিলের সেই বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি কখনো জেফরি এপস্টেইনের বন্ধু ছিলেন না, তার কোনো অপরাধের শিকারও হননি এবং এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কখনো উপস্থিত ছিলেন না বা অংশ নেননি। তিনি আরও অস্বীকার করেন যে এপস্টেইনই তার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। একই বক্তব্যে তিনি কংগ্রেসকে উদ্দেশ করে বলেন, এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। মেলানিয়ার ভাষায়, "এই নারীদের কংগ্রেসের সামনে শপথ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিন। প্রত্যেক নারীরই প্রকাশ্যে নিজের গল্প বলার অধিকার রয়েছে।"   বক্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া   মেলানিয়া ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। কেউ তার বক্তব্যকে সাহসী উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানান, আবার কেউ সমালোচনা করেন। এপস্টেইনের কয়েকজন জীবিত ভুক্তভোগীর একটি সংগঠন সে সময় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, মেলানিয়ার বক্তব্যে বিচার নিশ্চিত করার দায়ভার ভুক্তভোগীদের ওপরই বেশি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুযায়ী সব নথি প্রকাশে পুরোপুরি সহযোগিতা করেনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস, যিনি নিজেও অতীতে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন, মেলানিয়ার বক্তব্যের প্রশংসা করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, "এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি যখন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন, তখন সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।"   ট্রাম্প কী জানতেন?   এপ্রিলের ওই বক্তব্যের পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি জানতেন যে মেলানিয়া একটি বিবৃতি দিতে যাচ্ছেন। তবে বক্তব্যে কী থাকবে, তা আগে থেকে জানতেন না। তার ভাষায়, "এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি জানতাম তিনি বক্তব্য দেবেন, কিন্তু তিনি কী বলবেন, তা জানতাম না।" এখনও পুরোপুরি প্রকাশ হয়নি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তদন্তের কিছু নথি প্রকাশ নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে কিছু সম্পাদিত (রেডাক্টেড) নথি প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও একটি ফেডারেল আদালত বিচার বিভাগকে ওই নথি প্রকাশ অথবা তা গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে। এসব নথির মধ্যে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের নোটও রয়েছে, যেখানে এক নারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   এ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জেফরি এপস্টেইন-সম্পর্কিত কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হয়নি। সূত্র: Politico, The New York Times

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেলানিয়া–এপস্টিনের ভাইরাল ছবি ‘ভুয়া’, ম্যাক্রোঁ জড়িত নন—জানাল ফ্রান্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মেলানিয়া ট্রাম্প ও জেফ্রি এপস্টিনের কথিত ঘনিষ্ঠ একটি ছবিকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে ছবিটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শেয়ার করেছেন—এমন দাবিও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে দেশটি।   সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেটিজেন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে মন্তব্য করায় প্রতিশোধ হিসেবে ম্যাক্রোঁ এই ছবি প্রকাশ করেছেন।   তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা ডিজিটালি বিকৃত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪ এক প্রতিবেদনে জানায়, ম্যাক্রোঁ নয়—কিছু ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভুয়া ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরীয় সাংবাদিক নাবিল ওমরান প্রথমদিকে ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেন, ‘ম্যাক্রোঁ প্রতিশোধ নিয়েছেন।’ পরে এই দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর একটি ব্যঙ্গাত্মক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটিকে ‘ডিজিটালি পরিবর্তিত’ বলে সতর্কবার্তাও যুক্ত করা হয়।   এদিকে সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি কখনো তার কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ভুয়া তথ্য ও বিকৃত ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতা বাড়ছে, যা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।

Unknown এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার মেলানিয়া ট্রাম্পের

 জেফ্রি এপস্টেইন ও তার সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-এর সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে জড়িত করে ছড়ানো এসব মিথ্যা আজই বন্ধ হওয়া উচিত। যারা এসব মিথ্যা প্রচার করছে, তাদের নৈতিকতা ও সম্মানবোধের অভাব রয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, তিনি কখনোই জেফ্রি এপস্টেইন-এর বন্ধু ছিলেন না, কেবল নিউ ইয়র্ক ও পাম বিচের একই সামাজিক পরিমণ্ডলে তাদের চলাফেরা ছিল। তিনি আরও বলেন, এপস্টেইন তাকে তার স্বামীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেনএমন দাবিও সঠিক নয়। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ইমেইল যোগাযোগের বিষয়টি তিনি 'তুচ্ছ একটি বার্তা” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে কোনোভাবেই এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি বা তার বিমানে ভ্রমণ করেননি, এবং কোনো যৌন পাচার কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তা সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০