স্বাস্থ্য সচেতনতা

ছবি: সংগৃহীত
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা জরুরি: জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেই কমতে পারে ঝুঁকি

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার বর্তমানে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো জটিল রোগের অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।   বাংলাদেশে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ জানেন না যে তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি।   রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত সারা শরীরে প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্তনালীর দেয়ালে সৃষ্ট চাপের পরিমাপ। এটি সাধারণত দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়, যেমন ১২০/৮০। এর মধ্যে প্রথম সংখ্যা বা সিস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। দ্বিতীয় সংখ্যা বা ডায়াস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড শিথিল অবস্থায় থাকার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান এবং বংশগত কারণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।   অনেকেই মনে করেন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা উচ্চ রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপ কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, চোখের ক্ষতি এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতার কারণ হতে পারে।   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা রান্নায় লবণের পরিমাণ কমানো এবং খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি চিপস, চানাচুর, আচার, সস এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। ওজন নিয়ন্ত্রণেও রক্তচাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। এ কারণে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন জীবনে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করাও শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।   খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, বাদাম, দই এবং লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভাজাপোড়া খাবার, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার সীমিত রাখতে বলা হয়। গরু ও খাসির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও সংযমের পরামর্শ দেওয়া হয়।   ধূমপান ও মদ্যপান উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। একটি সিগারেট গ্রহণের পর কিছু সময়ের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে মদ্যপানও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ কারণে যোগব্যায়াম, ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পছন্দের কাজে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   চিকিৎসকরা নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত মাসে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য ডিজিটাল রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে ঘরেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তবে পরিমাপের আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া এবং ধূমপান বা ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।   যাদের জন্য চিকিৎসক ওষুধ নির্ধারণ করেছেন, তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   পটাসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু এবং মটরশুঁটিতে পর্যাপ্ত পটাসিয়াম পাওয়া যায়। তবে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পটাসিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা ও কফি পান কমানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই দৈনিক চা বা কফির পরিমাণ সীমিত রাখা উপকারী হতে পারে।   চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা। অল্প বয়স থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।  

তাবাস্সুম মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কুরবানির গোশত সংরক্ষণে অসচেতনতা বাড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু পশু কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা। কুরবানির সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বিধান, তেমনি রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দিকও। কিন্তু প্রতি বছর অসচেতনতা, তাড়াহুড়া এবং সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা কুরবানির গোশতের গুণগত মান নষ্ট করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ায়। এসব ভুল শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও ক্ষতিকর হতে পারে। কুরবানির সময় সাধারণ কিছু ভুল ও তার সঠিক দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।   জবাইয়ের সময় যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয় ও সঠিক পদ্ধতি: কুরবানির অন্যতম বড় ভুল হলো শরিয়তসম্মত জবাই পদ্ধতি অনুসরণ না করা, যেমন— ধারালো ছুরি ব্যবহার না করা, পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া কিংবা এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা। আরেকটি গুরুতর ভুল হলো, জবাইয়ের পর পশুর পুরোপুরি প্রাণ বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানো বা দ্রুত প্রাণ বের করার জন্য গলার স্থান বা মেরুদণ্ডে ধারালো ছুরির আগা দিয়ে আঘাত করা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে, এতে পশুর মেরুরজ্জুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পশু আকস্মিক শক বা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়ার ব্যাঘাতে মারা যেতে পারে। ফলে শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে রক্ত বের হতে পারে না এবং গোশতে জমাট রক্ত থেকে গোশতের গুণগত মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। সঠিক নিয়ম হলো প্রধান রগগুলো কেটে পশুর শরীর থেকে পর্যাপ্ত রক্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া।   গরম গোশত সংরক্ষণ ও ধোয়ার ভুল পদ্ধতি: কুরবানির পরপরই গরম গরম গোশত রান্না করে খাওয়া কিংবা তাড়াহুড়া করে পলিথিনে ভরে স্তূপ করে রাখা বড় ধরনের ভুল। বৈজ্ঞানিকভাবে, জবাইয়ের পর গোশত অন্তত ৬ ঘণ্টা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা বা ‘চিলিং’ করা উত্তম, যা গোশত নরম করে, স্বাদ উন্নত করে এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। গরম অবস্থায় গোশত প্যাকেট বা স্তূপ করে রাখলে ভেতরে তাপ আটকে দ্রুত জীবাণু বৃদ্ধি ও পচনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া গোশত কাটার পর অতিরিক্ত পানি দিয়ে বারবার ধোয়ার ফলে গোশতের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবং পানির ছিটা থেকে জীবাণু রান্নাঘরের সিঙ্ক বা অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে গোশতে দৃশ্যমান ময়লা, লোম বা জমাট রক্ত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে।   অতিরিক্ত গোশত খাওয়ার ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ: কুরবানির দিনে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত গোশত বেশি পরিমাণে খেলে বদহজম, গ্যাসট্রিক, অ্যাসিডিটি, উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা, রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা, ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া কিংবা রাস্তা দখল করার কারণে পরিবেশ দূষণ হয় এবং রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘ সময় রক্ত ও বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, মাছি ও সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তাই নির্দিষ্ট স্থানে পরিচ্ছন্নভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা জরুরি।   কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিফলন। তাই শরিয়তের বিধান, স্বাস্থ্যবিধি ও বৈজ্ঞানিক দিক মাথায় রেখে সঠিকভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা সবার দায়িত্ব। সচেতনতা ও সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানি করলে একদিকে যেমন ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজও থাকে নিরাপদ, সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত।

তাবাস্সুম মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নীরব ঘাতক রোগ ‘এসএলই’ বা লুপাস; লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন

সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথিমেটোসাস (SLE) বা সংক্ষেপে ‘লুপাস’ একটি অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন বাতরোগ। এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের সুস্থ টিস্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে। এটি মূলত একটি 'মাল্টিসিস্টেম ডিজিজ', যা ত্বক থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক, ফুসফুস, লিভার ও কিডনির মতো অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিউম্যাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিব ইমতিয়াজ আহমাদ জানান, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এই রোগ অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে।   কেন হয় এই রোগ? এসএলই হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন: হরমোন ও জিনগত কারণ: ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে নারীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বেশি। সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীরা বেশি আক্রান্ত হন। পরিবেশগত কারণ: দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলোতে থাকা, বায়ুদূষণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাসের (যেমন: এপস্টেইন-বার ভাইরাস) সংক্রমণ এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।   লক্ষণসমূহ: দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, ক্লান্তি, তীব্র গাঁট বা গিরা ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ (বিশেষ করে সূর্যের আলোতে গেলে যা বেড়ে যায়), এবং অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়া লুপাসের প্রাথমিক লক্ষণ। এছাড়া জটিল পর্যায়ে অল্প বয়সে স্ট্রোক, ফুসফুসে পানি জমা, দীর্ঘমেয়াদি কাশি এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নেতিবাচক, যা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।   রোগের তীব্রতা ও চিকিৎসা: লুপাস মূলত মৃদু, মাঝারি ও তীব্র—এই তিনভাবে শরীরে প্রকাশ পায়। ডা. হাবিব ইমতিয়াজ আহমাদ স্পষ্ট করেন যে, এসএলই পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য রোগ নয়, তবে সঠিক চিকিৎসায় এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কাউন্সেলিং ও ফলোআপ: রোগীকে নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। জীবনযাত্রা: ধূমপান ত্যাগ করা, রোদে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করা জরুরি। ওষুধ: রোগের ধরন অনুযায়ী হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, স্টেরয়েড বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।   লুপাস বা এসএলই সন্দেহে দ্রুত একজন রিউমাটোলজিস্ট বা বাতরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং সমন্বিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০