২৫০ বছর পূর্তির আগে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বাড়ছে সংশয়, জরিপে উঠে এলো উদ্বেগজনক চিত্র
আগামী মাসে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঐতিহাসিক এই মাইলফলককে ঘিরে দেশজুড়ে নানা আয়োজন থাকলেও ঠিক তার আগেই প্রকাশিত এক জরিপে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র—দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।
বুধবার (১৭ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করেন, বর্তমান কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে নাও পারে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৮ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী ২৫০ বছর পরেও যুক্তরাষ্ট্র একক রাষ্ট্র হিসেবে বর্তমান অবস্থায় থাকবে—এমনটা তারা বিশ্বাস করেন না।
দলীয় বিভাজনের দিক থেকেও মতামতে পার্থক্য স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ৪০ শতাংশ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ২৬ শতাংশ। তবে এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ ৬২ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকবে।
জরিপে গণতন্ত্র নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই উদ্বেগের হার সবচেয়ে বেশি—৮৫ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশ।
গত বছরের আগস্টে পরিচালিত অনুরূপ এক জরিপে গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ ছিল ৫৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৭ শতাংশ মার্কিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে দেখার প্রবণতাও কমে এসেছে। বর্তমানে মাত্র ৩০ শতাংশ নাগরিক এমনটি মনে করেন, যা ২০১৭ সালের ৩৮ শতাংশ থেকে কম। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার আরও কমে ২৬ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশ বলে মনে করেন।
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়েও জনমনে অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব আয়োজন অতিরিক্ত রাজনৈতিক রঙে প্রভাবিত। ডেমোক্র্যাটদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং রিপাবলিকানদের অর্ধেকের বেশি এই মত পোষণ করেছেন।
উদযাপনের ধরনেও দুই দলের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। রিপাবলিকানদের ৫২ শতাংশ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকার রঙের পোশাক পরার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ। একইভাবে আতশবাজি উপভোগের আগ্রহও রিপাবলিকানদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি।
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ১,৫৩৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপের ফলাফল দেশটির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তে থাকা হতাশারই প্রতিফলন। স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রাক্কালে এমন চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreদক্ষিণ আফ্রিকার নির্দিষ্ট কিছু নাগরিকের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জাতিগত বৈষম্য, সহিংসতায় উসকানি এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের মতো নীতির সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। রুবিওর অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার গ্রামীণ এলাকায় অপরাধ, সহিংস ও অবমাননাকর বক্তব্য এবং আফ্রিকানারসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্যমূলক নীতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে এসব নীতি তৈরি বা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের নীতি, জাতিগত বৈষম্য এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আসন্ন সহিংসতায় উসকানির অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী বা এতে সহযোগী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি আইন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং কৃষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধের নির্দেশ এবং নির্যাতনের শিকার আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। দেশটির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, বৈষম্য ও ভূমি সংস্কারের বাস্তবতা যথাযথভাবে তুলে ধরে না। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে নিজেদের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে নতুন ভিসা নীতির আওতায় ঠিক কোন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাদের নাম প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূমি সংস্কার, জাতিগত নীতি, গ্রামীণ অপরাধ এবং রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন এই পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব, ঘণ্টায় ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক: মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন প্রতিশ্রুত অর্থ দেবেন তিনি
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির সুদের হার দ্রুত কমিয়ে ১ শতাংশ বা তারও নিচে নামানোর দাবি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, তাই দ্রুত সুদ কমানো উচিত। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরপরই। বুধবার ফেড শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যসীমা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ফেডের প্রথম সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি। মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে বুধবারের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে এবং দেশটির ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা শক্তিশালী। তাই তিনি দ্রুত সুদ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুদের হার দ্রুত কমান” - একই পোস্টে তিনি হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত বলে দাবি করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি ট্রাম্পের নিজস্ব দাবি; এ হিসাবের বিস্তারিত ভিত্তি তিনি পোস্টে দেননি। এদিকে ফেডের সেপ্টেম্বরের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার মধ্যম পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ২ শতাংশ। ফলে সুদের হার নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এবং ফেডের বর্তমান নীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ট্রাম্প দ্রুত সুদ কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আর ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদ বাড়িয়েছে। সোর্স: রয়টার্স, ফেডারেল রিজার্ভ
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের স্কুল বাছাইয়ে ভুল এড়াতে বাবা-মায়ের যে বিষয়গুলো দেখা উচিত
হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে ৯৭৭ ডলার দেনা, নিলামে বিক্রি সাড়ে চার লাখ ডলারের বাড়ি
আইনি ঝামেলায় পড়লে কাকে ফোন করবেন? প্রবাসীদের কাজে আসতে পারে যেসব অ্যাটর্নির ফোন নম্বর
আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে ২০২১ সালের ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় আইএসআইএস-কে-কে সহায়তার দায়ে আফগান নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। হামলায় প্রায় ১৬০ আফগান নিহত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাবি গেটের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। তখন আফগানিস্তান থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছিল। হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএসআইএসের আফগান শাখা আইএসআইএস-কে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার দিন শরিফুল্লাহ আইএসআইএস-কের নির্দেশে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার একটি সড়ক পর্যবেক্ষণ করেন। তালেবানের কোনো চেকপোস্ট আছে কি না, তা দেখে তিনি সংগঠনের নেতাদের তথ্য দেন। পরে আইএসআইএস-কের সদস্য আবদুল রহমান আল-লোগারি অ্যাবি গেটে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান। তবে আদালতে শরিফুল্লাহকে কাবুল বিমানবন্দরের হামলায় নিহতদের সরাসরি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। জুরি তাঁকে আইএসআইএস-কে-কে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করলেও ওই সহায়তার কারণে বিমানবন্দর হামলায় মৃত্যুগুলো ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে একমত হতে পারেনি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি ওই মৃত্যুর দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হয়নি। শরিফুল্লাহর আইনজীবীরা দাবি করেন, বিমানবন্দর হামলার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, এফবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া শরিফুল্লাহর বক্তব্যের ওপর প্রসিকিউশন অনেকটাই নির্ভর করেছে। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, শরিফুল্লাহ দীর্ঘদিন আইএসআইএস-কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সংগঠনটির একাধিক হামলায় সহায়তা করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তিনি একাধিক হামলায় নজরদারি, হামলাকারীদের পরিবহন ও অস্ত্রসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে তিন মাসে তিন ক্যাবচালকের মৃত্যু, প্রবাসী চালকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় ভর্তিতেও আসছে নিষেধাজ্ঞা