হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরছে, অবরোধ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: শাহবাজ শরিফ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত বহুল আলোচিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) খুব শিগগিরই কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা কার্যকর করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এই জলপথে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা স্মারকটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।” তিনি বলেন, এই চুক্তিকে সামনে রেখে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।
পাকিস্তানের উদ্যোগে এবং কাতারের সহায়তায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তার ভাষায়, “এই সমঝোতা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এই জলপথ স্বাভাবিকভাবে চালু হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত পরিস্থিতি প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতেও ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এক বহুল আলোচিত বিতর্কে ইসলামবিরোধী একটি প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সদস্যদের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষ্যকার লরেন্স ফক্স। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি, গাজার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম শিক্ষার্থী আরওয়া এলরায়েস এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগ। গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামের প্রতি সন্দিহান হওয়া উচিত।’ দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে সদস্যদের ভোটে ৩৩–৩০ এবং চেম্বারের ভোটে ৫৭–৪১ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। বিতর্কে টমি রবিনসন ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় উদ্ধৃতি তুলে ধরে দাবি করেন, ইসলাম অন্য ধর্মের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে না। এর জবাবে আরওয়া এলরায়েস বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া উদ্ধৃত করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আচরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখানো ন্যায়সঙ্গত নয়। তিনি বলেন, সন্দেহের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই সব উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সহিংসতা ছড়ায়—কোনো ধর্ম বা তার অনুসারীরা নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মুসলমানরাও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে থাকেন এবং অনেক মুসলিম নারীও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও সমর্থন দেখা যায়। অন্যদিকে লরেন্স ফক্স বিতর্কে দাবি করেন, ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি ‘যুদ্ধযন্ত্রের’ মতো। এর প্রতিবাদ করে আরওয়া এলরায়েস কোরআনের ধর্মীয় সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি ধর্মকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে মূল ধর্মীয় শিক্ষা ও বৃহত্তর অনুসারীদের বাস্তব অবস্থান বিবেচনা করা উচিত। বিতর্কে সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগও ইসলামবিরোধী প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কিছু চরমপন্থীর কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। তার মতে, যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং একটি ধর্মকে সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা শরিয়া আইন ব্রিটিশ আইনের বিকল্প হয়ে উঠবে—এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক এই বিতর্কের ভিডিও ও বিশেষ করে আরওয়া এলরায়েসের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপস্থাপিত যুক্তি, পাল্টা প্রশ্ন এবং বিতর্ক পরিচালনার ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন
যুদ্ধে বাবা-মা হারানো ১০০ শিশুর দৌড়, গাজায় অনাথদের পাশে থাকার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
হামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুরস্কের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে হামাসের জন্য অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহে কাজ করতেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার হবে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটির জন্য অর্থ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি হামাসের জন্য সহায়তা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই মামলাটিও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
স্পেন সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল: কেন হঠাৎ সিউতার পথে হাজারো মানুষের ছুটে চলা?
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া, কম আয়ের পরিবার সবচেয়ে চাপে
গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে ভিডিও বার্তা দিলেন মোদি
উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের পর স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত মুক্ত ভ্রমণব্যবস্থার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেন এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করছে। তবে স্পেন সরকার ইতালির এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। মাদ্রিদের দাবি, শেনজেন চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। এ কাজে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ইতালির অভিযোগ, স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ মানবপাচারকারী চক্রকে আরও উৎসাহিত করেছে। তবে স্পেন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংকট মোকাবিলায় সেউতা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সঙ্গে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্ত এলাকায় টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সময় পদদলিত হওয়া এবং পানিতে ডুবে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সেউতা ও মেলিলা আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি অঞ্চল অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় সীমান্ত সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেনজেন চুক্তির আওতায় সাধারণভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পাসপোর্ট পরীক্ষা বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে জননিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সুযোগ পায়। ইতালির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও ইউরোপীয় মহলে আলোচনা চলছে।
পুতিনের পর্নবিরোধী অভিযানে কারাদণ্ড এড়ালেও ৩ বছর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না রুশ মডেল
ইতালিতে ৪.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ট্রেন চলাচল বন্ধ