আমেরিকা

নিউইয়র্কে খুনের ঘটনা ২৫ শতাংশ কমে ইতিহাসের সর্বনিম্নে, ভেঙে গেল আগের সব রেকর্ড

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১৭:৫৮
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে কম খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর পুরো শহরজুড়ে বড় ধরনের অপরাধের হারে নজিরবিহীন পতন ঘটেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের পাঁচটি বরো বা প্রশাসনিক অঞ্চলে মোট ১২২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৬২, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খুনের ঘটনা কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে রেকর্ড হওয়া ১৩৬টি খুনের পূর্ববর্তী সর্বনিম্ন রেকর্ডটিও এবার ভেঙে গেছে।

 

শহরজুড়ে গোলাগুলি, ট্রানজিট অপরাধ এবং ছিনতাইয়ের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সার্বিকভাবে বড় অপরাধ কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, যেকোনো সাধারণ বছরেই এমন পরিসংখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এ বছরের প্রেক্ষাপটটি আরও বেশি স্পেশাল। কারণ, নিকস-এর এনবিএ শিরোপা জয় ও বিজয় মিছিল, ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং আমেরিকা২৫০ উদযাপনের মতো বিশাল সব ইভেন্টের কারণে নিউইয়র্ক শহর বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ত সময় পার করছে। এত মানুষের ভিড় এবং জটিল পরিস্থিতি সামলেও অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশাল সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

 

পরিসংখ্যানের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পুলিশ ৩২২টি গোলাগুলির ঘটনা রেকর্ড করেছে, যা ২০১৮ ও ২০২৫ সালের ৩৩৭টি ঘটনার আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গোলাগুলিতে আহত হয়েছেন ৩৮১ জন, যা ২০২৫ সালের সর্বনিম্ন ৩৮৭ জনের চেয়েও কম। কোভিড মহামারির সময়ের তুলনায় বর্তমানে গোলাগুলির ঘটনা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।

 

অন্যান্য বড় অপরাধের মধ্যে গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এ বছর চুরির ঘটনা ১৬ শতাংশ এবং ডাকাতি বা ছিনতাই ১২ শতাংশ কমেছে। পাবলিক হাউজিংগুলোতেও অপরাধের হার ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং পাতালপথে ট্রানজিট অপরাধ নেমে এসেছে ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্নে। অপরাধ দমনে এবার সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে ব্রঙ্কস অঞ্চল, যেখানে সার্বিক অপরাধ ১২ শতাংশ কমেছে। কমিশনার টিশের বিশেষ উদ্যোগে এই অঞ্চলে টহল কমান্ডকে ঢেলে সাজানো এবং অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ মোতায়েনের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।

 

তবে সব খবরের মধ্যে নিউইয়র্ক প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্ষণ এবং বিদ্বেষমূলক বা হেট ক্রাইমের ক্রমবর্ধমান ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬৬টি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি।

 

পুলিশ কমিশনার টিশ অবশ্য জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজ্য আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কারণেই খাতায়-কলমে এই সংখ্যাটি বেশি দেখাচ্ছে, যদিও বাস্তবে এখনও অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন না। অন্যদিকে, পুলিশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শহরটিতে বিদ্বেষমূলক অপরাধ বা হেট ক্রাইম গত বছরের ২৯৯টি থেকে বেড়ে এ বছর ৩২২টিতে দাঁড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি হলো ইহুদিবিদ্বেষী বা অ্যান্টিসেমিটিক ঘটনা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মসজিদ অবস্থানর অবস্থায় নারীর। ছবি:সংগৃহীত
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে শিক্ষা সফর ঘিরে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত ওই সফরে শিক্ষার্থীদের ইসলামি পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোরআন দেওয়া হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারি স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সীমা অতিক্রম করে এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছিল।   গত ৭ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়। এতে পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পালো অল্টো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রেন্ট ক্লাইনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের শরৎকালে সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে শিক্ষার্থীদের একটি সফর। এটি পালো অল্টো হাই স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ ছিল।   স্কুলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে তিন বছরের একটি শিক্ষা কর্মসূচি। এতে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কমিউনিটির সঙ্গে কাজ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে মসজিদ সফরের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষামূলক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।   সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদীরা ‘কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রী পরিবারের অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সফরের সময় শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি দেওয়া হয়েছিল এবং মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা মসজিদে দুপুরের নামাজও প্রত্যক্ষ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে বাদীপক্ষ সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে।   তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মসজিদ সফরের সঙ্গে যুক্ত নাগরিক অধিকারকর্মী জাহরা বিলু অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেওয়া। ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না এবং সফরটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   এই পার্থক্যটিই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্ম সম্পর্কে ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারে। তবে সরকারি স্কুল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন, প্রচার বা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের অভিযোগ, মসজিদ সফরের কিছু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণমূলক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে সফরের আয়োজকদের অবস্থান হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও চর্চা তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক।   মামলায় শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কিছু শিক্ষার্থীর ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছ থেকে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি চাইছেন।   পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার কাগজপত্র হাতে পায়নি। তবে তিনি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ডিস্ট্রিক্টের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   এখন ফেডারেল কোর্টে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, মসজিদ সফরটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল, নাকি সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৫:২৯
সাত বছর বকশিশ না দিয়ে  বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার

সাত বছর বকশিশ না দিয়ে বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার, মৃত্যুর পর ওয়েট্রেসকে দিয়ে গেলেন ৫০ হাজার ডলার ও গাড়ি

রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী

রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী, অ্যাকাউন্টে ৫ ঋণ ৫ হাজার কোটি ডলার!

দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা

যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা: আপনার গাড়ির নম্বর পুলিশ খুঁজেছে কি না জানবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য গাড়ির লাইসেন্স প্লেট এখন শুধু পরিচয় নম্বর নয়, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থারও অংশ। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর ও সড়কে বসানো ফ্লক সেফটির লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গাড়ির তথ্য ধারণ করছে। আর এখন নতুন একটি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির মালিকেরা জানতে পারছেন, তাদের লাইসেন্স প্লেট নম্বর ফ্লকের ডেটাবেজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ব্যবহারকারী খুঁজেছেন কি না।   ‘হ্যাভ আই বিন ফ্লকড’ নামের ওয়েবসাইটটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে সংগ্রহ করা অডিট লগ এক জায়গায় এনে এই সুবিধা দিচ্ছে। ফলে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি গাড়ির মালিকদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ফ্লক সেফটির স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা সাধারণ ট্রাফিক ক্যামেরার মতো শুধু ভিডিও ধারণ করে না। গাড়ি ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় লাইসেন্স প্লেট, সময়, অবস্থান এবং গাড়ির কিছু দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরে নির্দিষ্ট গাড়ি শনাক্ত বা তদন্তের প্রয়োজনে এই তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে।   নতুন ওয়েবসাইটে নিজের লাইসেন্স প্লেট নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে সেটি ফ্লকের অডিট লগে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা জানা যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো পুলিশ বিভাগ বা অনুমোদিত ব্যবহারকারী ওই প্লেট নম্বর দিয়ে ফ্লকের ব্যবস্থায় অনুসন্ধান চালিয়েছেন কি না, তার রেকর্ড থাকলে সেটি সামনে আসতে পারে।   তবে বাংলাদেশি কমিউনিটির গাড়ির মালিকদের এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। ওয়েবসাইটে নিজের লাইসেন্স প্লেট পাওয়া মানেই পুলিশ আপনাকে অপরাধী মনে করছে বা আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এমন নয়। চুরি যাওয়া গাড়ি খোঁজা, কোনো ঘটনার সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট গাড়ি শনাক্ত করা, নিখোঁজ ব্যক্তির অনুসন্ধান কিংবা অন্য বৈধ আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেও একটি প্লেট নম্বর খোঁজা হতে পারে।   আবার ওয়েবসাইটে নিজের প্লেট নম্বর না পাওয়া গেলেও ধরে নেওয়া যাবে না যে সেটি কখনো ফ্লকের ব্যবস্থায় অনুসন্ধান করা হয়নি। ‘হ্যাভ আই বিন ফ্লকড’ মূলত সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া অডিট লগ ব্যবহার করছে। সব পুলিশ বিভাগ বা সরকারি সংস্থার তথ্য তাদের হাতে নেই। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ফ্লক নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ নয়।   এ কারণেই বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো অনলাইন ফলাফল দেখেই পুলিশ নজরদারি করছে, মামলা হয়েছে বা গ্রেফতারের ঝুঁকি রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।   ফ্লক সেফটির প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। পুলিশ বিভাগগুলোর বক্তব্য, গাড়ি চুরি, অপহরণ, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং গুরুতর অপরাধের তদন্তে স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। একটি গাড়ি কখন এবং কোন এলাকায় দেখা গেছে, সেই তথ্য দ্রুত পাওয়ায় তদন্তকারীদের অনুসন্ধানের পরিধি সংকুচিত করা সম্ভব হয়।   তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি ছাড়া বিপুলসংখ্যক ক্যামেরা এবং অনুসন্ধানযোগ্য লাইসেন্স প্লেটের তথ্য সাধারণ মানুষের চলাচলের ইতিহাস অনুসরণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লক ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু ঘটনায় ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে লাইসেন্স প্লেটের তথ্য অনুসন্ধানের অভিযোগ ওঠার পর কে, কখন এবং কী কারণে এই ডেটাবেজ ব্যবহার করছেন, তার ওপর আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।   বিতর্কের মধ্যে ফ্লক সেফটিও তাদের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক অনুসন্ধান শনাক্ত করা, অনুসন্ধানের সঙ্গে মামলা নম্বর যুক্ত করার নিয়ম শক্ত করা এবং সাধারণভাবে তথ্য সংরক্ষণের সময় কমানোর মতো পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো নিজের লাইসেন্স প্লেট নম্বর কোথায় শেয়ার করছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা। লাইসেন্স প্লেট কোনো পাসওয়ার্ড বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নয়, রাস্তায় এটি প্রকাশ্যেই থাকে। তারপরও অপরিচিত বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে গাড়ির নম্বরসহ অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেই সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গোপনীয়তার নীতি যাচাই করা ভালো।   কোনো ব্যক্তি নিজের গাড়ির প্লেট অনুসন্ধানের রেকর্ড দেখে উদ্বিগ্ন হলে প্রথমেই সেটিকে অপরাধ তদন্তের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। রেকর্ডে কোন সংস্থার নাম, সময় বা অন্য তথ্য রয়েছে তা ভালোভাবে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ বা প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়া যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য মূল বার্তাটি তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা। রাস্তায় চলাচলের সময় আপনার গাড়ির লাইসেন্স প্লেট স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সেই তথ্য অনুসন্ধানও করতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা সেই অনুসন্ধানের অন্তত কিছু অংশ সাধারণ মানুষের সামনে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে।   তবে একটি রেকর্ড পাওয়া মানেই আপনি পুলিশের টার্গেট নন, আর কোনো রেকর্ড না পাওয়া মানেই আপনার গাড়ির তথ্য কখনো সংগ্রহ বা অনুসন্ধান করা হয়নি, সেটিও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার এই সময়ে বাংলাদেশি গাড়ির মালিকদের জন্য নিজেদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার হচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২:৫৪
আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড

ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, দিতে হতে পারে ১,৩৩০ ডলার

বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ
বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ! কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের গণিতের ঘাটতি, হতাশায় প্রফেসর

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন করে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো মৌলিক গণিত শেখাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গণিত বিভাগের অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস শেষ করে ভালো ফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও কলেজ পর্যায়ের গণিতের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তাদের নেই।   বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্কলের অধ্যাপকেরা এমন শিক্ষার্থীদের পাচ্ছেন, যাদের কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাস শুরু করার আগে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো স্কুল পর্যায়ের বিষয়ও ঝালিয়ে নিতে হচ্ছে।   বার্কলের নিজস্ব তথ্যও সমস্যাটির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ম্যাথ ১এ বা প্রথম ক্যালকুলাস কোর্স শুরু করা শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে প্রায় অর্ধেককে কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাসের জন্য প্রস্তুত নয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ অবশ্য প্রি ক্যালকুলাস বা কলেজ অ্যালজেব্রার পর্যায়ে প্রস্তুত ছিল।   তবে কিছু শিক্ষার্থীর ঘাটতি আরও মৌলিক জায়গায় ছিল। বার্কলে জানিয়েছে, তাদের মধ্যে এমন শিক্ষার্থীও ছিলেন যাদের ভগ্নাংশ ও সূচকের নিয়ম নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে।   অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের মতে, সমস্যাটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস কোর্স শেষ করলেও বাস্তবে সেই বিষয়গুলোতে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা চালানোর মতো দক্ষতা অর্জন করেননি।   এর ফল অনেক সময় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাতেই সামনে আসে। শিক্ষার্থীরা হাইস্কুলে ভালো গ্রেড নিয়ে বার্কলের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন, কিন্তু কলেজের প্রথম গণিত পরীক্ষায় গিয়ে বুঝতে পারছেন তাদের ভিত্তিতে বড় ঘাটতি রয়েছে।   সমস্যা মোকাবিলায় বার্কলে কয়েক বছর ধরেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২০ সালে পলিন এবং তৎকালীন লেকচারার কেলি তালাস্কা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্রি ক্যালকুলাস প্রস্তুতি কোর্স চালু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ শুরু করার আগেই গণিতের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করার সুযোগ দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। শুরুতেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এতে নাম লেখান।   পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে ‘সলিড ফাউন্ডেশনস প্রোগ্রাম’-এ রূপ নেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ফাউন্ডেশনস অব লোয়ার ডিভিশন ম্যাথমেটিকস’ নামে একটি কোর্সও চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে বার্কলেতে আসা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচের স্তরের গণিত কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় মানে নিয়ে আসা।   বার্কলের গণিত বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডায়াগনস্টিক টেস্টও রেখেছে। এর মাধ্যমে প্রথম গণিত কোর্স নেওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থী নিজের প্রস্তুতির অবস্থা যাচাই করতে পারেন এবং কোন পর্যায় থেকে শুরু করা উচিত সে সম্পর্কে ধারণা পান।   বিতর্কটি আরও বড় হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় এসএটি ও এসিটির মতো স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট বাদ দেওয়ার পর। বার্কলের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিনা আগানাজিক সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   তবে শিক্ষার্থীদের গণিতের দুর্বলতার জন্য শুধু টেস্ট অপশনাল বা টেস্ট ফ্রি ভর্তি নীতিকেই দায়ী করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্কুলের মানের পার্থক্য, কোভিড মহামারির সময় শেখার ক্ষতি, গ্রেড ইনফ্লেশন এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ একাধিক কারণ কলেজ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।   বার্কলের পরিস্থিতি অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রতিবেদনে পলিন বলেছেন, ইউসি সান ডিয়েগোতে যে মাত্রার সমস্যা ধরা পড়েছে, বার্কলের পরিস্থিতি ততটা গুরুতর নয়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কলেজে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের গণিত প্রস্তুতি কমে যাওয়ার বৃহত্তর সমস্যার অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।   বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ বার্কলের প্রায় ৮০ শতাংশ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোনো না কোনো সময়ে গণিতের কোর্স নেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মলিকিউলার ও সেল বায়োলজিসহ বহু জনপ্রিয় বিষয়ে গণিত বাধ্যতামূলক।   ফলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু একজন শিক্ষার্থী ভগ্নাংশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন নেই। বরং হাইস্কুলের ভালো গ্রেড একজন শিক্ষার্থীর কলেজ প্রস্তুতির প্রকৃত চিত্র কতটা তুলে ধরছে এবং দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কেন মৌলিক গণিতের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ০:২১
নিউ জার্সির সি আইল সৈকতে উদ্ধার হওয়া ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডনের বিশাল দাঁত। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির সৈকতে মিলল ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডন হাঙরের বিশাল দাঁত

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মতপার্থক্যের মধ্যে নিজের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন হাকিম জেফরিস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব থেকে সরে এলেন হাকিম জেফ্রিস

১৫ বছর বয়সী কিশোরীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওবেদ রেয়েস। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক

0 Comments