১৭ বছর বয়সী মার্কিন স্কুলছাত্র এডওয়ার্ড ক্যাং 'রেটিনামাইন্ড' (RetinaMind) নামের একটি অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল উদ্ভাবন করেছেন, যা কেবল চোখের রেটিনা স্ক্যান করেই অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) শনাক্ত করতে সক্ষম। নিউজার্সির বার্গেন কাউন্টি অ্যাকাডেমির এই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে কোডিং শিখে এই ডিপ-লার্নিং কনভোল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। হংকংয়ের একটি গবেষণায় চোখের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশের যোগসূত্র আবিষ্কারের বিষয়টি মূলত তাকে এই কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল।
মানুষের সাধারণ দৃষ্টিতে রেটিনার ম্যাকুলা এবং নার্ভ স্তরের দৈর্ঘ্য, পুরুত্ব ও গভীরতার যে সূক্ষ্ম ও জটিল পার্থক্যগুলো ধরা পড়ে না, রেটিনামাইন্ড টুলটি সেটিই নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। একাধিক প্রেডিকটিভ মডেলের সমন্বয়ে তৈরি এই সিস্টেমটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯ থেকে ৯০ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তকরণে একটি যুগান্তকারী, ব্যথামুক্ত এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী স্ক্রিনিং পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে।
অটিজম এবং এডিএইচডির ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রচলিত আচরণগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। নিজের এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মজবুত করতে এডওয়ার্ড ক্যাং রেটিনার বিকাশ এবং স্নায়বিক ভিন্নতার জেনেটিক যোগসূত্র নিয়েও কাজ করেছেন। সেখানে তিনি রেটিনার কোষে পার্থক্যের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে 'এবিসিএ৪' (ABCA4) জিনকে চিহ্নিত করেন।
এই যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ 'রিজেনেরন সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ' প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছেন এই কিশোর। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে রেটিনার এই সূক্ষ্ম কাঠামোগত পার্থক্য অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে ক্যাংয়ের এই এআই মডেলটি প্রমাণ করেছে যে, প্রযুক্তির সহায়তায় লুকানো বায়োমার্কারগুলো খুঁজে বের করে আগামী দিনে আরও দ্রুত, নিখুঁত ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে কম খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর পুরো শহরজুড়ে বড় ধরনের অপরাধের হারে নজিরবিহীন পতন ঘটেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের পাঁচটি বরো বা প্রশাসনিক অঞ্চলে মোট ১২২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৬২, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খুনের ঘটনা কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে রেকর্ড হওয়া ১৩৬টি খুনের পূর্ববর্তী সর্বনিম্ন রেকর্ডটিও এবার ভেঙে গেছে। শহরজুড়ে গোলাগুলি, ট্রানজিট অপরাধ এবং ছিনতাইয়ের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সার্বিকভাবে বড় অপরাধ কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, যেকোনো সাধারণ বছরেই এমন পরিসংখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এ বছরের প্রেক্ষাপটটি আরও বেশি স্পেশাল। কারণ, নিকস-এর এনবিএ শিরোপা জয় ও বিজয় মিছিল, ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং আমেরিকা২৫০ উদযাপনের মতো বিশাল সব ইভেন্টের কারণে নিউইয়র্ক শহর বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ত সময় পার করছে। এত মানুষের ভিড় এবং জটিল পরিস্থিতি সামলেও অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশাল সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পরিসংখ্যানের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পুলিশ ৩২২টি গোলাগুলির ঘটনা রেকর্ড করেছে, যা ২০১৮ ও ২০২৫ সালের ৩৩৭টি ঘটনার আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গোলাগুলিতে আহত হয়েছেন ৩৮১ জন, যা ২০২৫ সালের সর্বনিম্ন ৩৮৭ জনের চেয়েও কম। কোভিড মহামারির সময়ের তুলনায় বর্তমানে গোলাগুলির ঘটনা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। অন্যান্য বড় অপরাধের মধ্যে গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এ বছর চুরির ঘটনা ১৬ শতাংশ এবং ডাকাতি বা ছিনতাই ১২ শতাংশ কমেছে। পাবলিক হাউজিংগুলোতেও অপরাধের হার ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং পাতালপথে ট্রানজিট অপরাধ নেমে এসেছে ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্নে। অপরাধ দমনে এবার সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে ব্রঙ্কস অঞ্চল, যেখানে সার্বিক অপরাধ ১২ শতাংশ কমেছে। কমিশনার টিশের বিশেষ উদ্যোগে এই অঞ্চলে টহল কমান্ডকে ঢেলে সাজানো এবং অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ মোতায়েনের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তবে সব খবরের মধ্যে নিউইয়র্ক প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্ষণ এবং বিদ্বেষমূলক বা হেট ক্রাইমের ক্রমবর্ধমান ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬৬টি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। পুলিশ কমিশনার টিশ অবশ্য জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজ্য আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কারণেই খাতায়-কলমে এই সংখ্যাটি বেশি দেখাচ্ছে, যদিও বাস্তবে এখনও অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন না। অন্যদিকে, পুলিশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শহরটিতে বিদ্বেষমূলক অপরাধ বা হেট ক্রাইম গত বছরের ২৯৯টি থেকে বেড়ে এ বছর ৩২২টিতে দাঁড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি হলো ইহুদিবিদ্বেষী বা অ্যান্টিসেমিটিক ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি কর্মীরা ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত ও চরম হয়রানিমূলক জটিলতার মুখে পড়ছেন। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান এবং কাজ করার আইনি অধিকার বহাল থাকলেও, পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ (ডিপিএস)-এর অনেক কার্যালয় কর্মীদের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। মূলত একটি সাধারণ 'ভিসার সিল' এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ 'অভিবাসন মর্যাদা'র মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, পাসপোর্টের ভিসার সিল হলো মূলত একটি ভ্রমণ নথি, যা কেবল দেশে প্রবেশের সময় ব্যবহৃত হয়। দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ অবস্থান নির্ধারিত হয় ‘আই-৯৪’ ফর্ম এবং ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামূকন সেথুরজোথি ও এমিলি নিউম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈধ ‘আই-৭৯৭’ অনুমোদনপত্র এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া ‘আই-৯৪’ ফর্ম থাকলে একজন ব্যক্তি আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পূর্ণ যোগ্য। এমনকি টেক্সাসের নিজস্ব নিয়মেও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার সিলসহ বৈধ আই-৯৪ গ্রহণ করার কথা বলা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ের ডিপিএস কর্মীদের অভিবাসন আইন সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকেই এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই সমস্যা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগামী ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত সরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয়ভাবেও ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং লটারি ব্যবস্থার বদলে উচ্চ বেতনের ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলস্বরূপ, কঠোর নিয়ম ও ব্যয়ের কারণে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে গেছে। লাইসেন্স নবায়নে এই বিলম্ব বা আবেদন বাতিলের কারণে গাড়ি-নির্ভর টেক্সাসের বিদেশি কর্মীরা চরম বিপাকে পড়ছেন। বৈধ কাগজপত্র ও কর্মানুমতি থাকার পরও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তারা দৈনন্দিন কাজ ও কর্মস্থলে যাতায়াতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ডিপিএস কর্মকর্তারা সাধারণত কেন্দ্রীয় 'সেইভ' (SAVE) সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদনকারীদের অভিবাসন মর্যাদা যাচাই করে থাকেন। কিন্তু সিস্টেমে তথ্য আপডেট হতে দেরি হলে লাইসেন্স নবায়নেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। অভিবাসন আইনজীবীরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের মতো জটিল বিষয় সাধারণ ফ্রন্টলাইন কর্মীদের মাধ্যমে ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়ার ফলেই এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসছে, যা প্রবাসী কর্মীদের কাছে নিজেদের অবাঞ্ছিত মনে হওয়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিডলি শহরের এক কৃষকের বিনামূল্যে ফল বিতরণের বিশাল আয়োজন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেছে। সিজার মোরা নামের ওই কৃষক নিজের বাগানের উৎপাদিত ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড নেকটারিন (এক ধরনের রসালো ফল) বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষিজাত পণ্য বিপণনকারী একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মালিকানা নিয়ে তিক্ত আইনি লড়াইয়ের জেরে নিজের বাগানের ফসল যেন টানা দ্বিতীয় বছরের মতো গাছেই পচে না যায়, সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি এই অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিনামূল্যে ফল সংগ্রহ করতে হাজার হাজার মানুষ তার বাগানে ভিড় জমালে খামারমুখী রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এর ফলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল সাময়িকভাবে এই বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সিজার মোরার দাবি, গত এক দশক ধরে তিনি কঠোর পরিশ্রমে এই ফলগুলো চাষ করলেও কৃষিজাত পণ্য বিপণনকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গিউমারা (Giumarra) মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে এই ফল প্যাকেটজাত ও বিক্রি করতে বাধা দিচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে আদালতে তাদের এই আইনি লড়াই চলছে। গিউমারার দাবি, মোরা যে জাতের ফল চাষ করেন তার মালিকানা তাদের এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে তারা মোরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অন্যদিকে, সিজার মোরা তাদের মালিকানার দাবি ও চুক্তির বৈধতা অস্বীকার করে জালিয়াতি এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গিউমারার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। টিকটকে দেওয়া এক কড়া বার্তায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন একচেটিয়া আধিপত্যের সমালোচনা করে মোরা বলেন, "আমি তাদের মুকুট পরাইনি এবং তাদের সামনে মাথাও নত করব না। কোনো ভুয়া রাজার কাছে আমি মাথা নোয়াব না।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনামূল্যে ফল বিতরণের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর গিউমারা কর্পোরেশন থেকে সিজার মোরাকে দুটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। একটি নোটিশে অবিলম্বে ফল বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অপরটিতে অধিকার সংরক্ষণের নামে বিনামূল্যে দেওয়া প্রতিটি ফলের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দাবি করা হয়। কর্পোরেট লাইসেন্সিংয়ের মারপ্যাঁচে টানা দ্বিতীয় বছর নিজের শ্রমে ফলানো ফসল পচে যাওয়ার মতো ‘পুরোপুরি লোকসান’ মেনে নেওয়ার চেয়ে তিনি ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত মানুষকে এই মিষ্টি ফলগুলো বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে বিতরণ বন্ধ হয়ে গেলেও যেসব মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রাইভ করে ফল নিতে এসেছিলেন এবং তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের হাসিমুখ ও সমর্থনের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।