যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরের ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার শপিং মলে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো শপিং মলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রেতারা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো এলোমেলো হামলা ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একে অপরের পরিচিত দুই তরুণ দলের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের কয়েকজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে পরিস্থিতি গোলাগুলিতে রূপ নেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আরেকজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গোলাগুলির পরপরই শপিং মলটি খালি করে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজন পথচারী একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। তবে এই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তে সহায়তা করছে মিশিগান স্টেট পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত কোনো হুমকি নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শপিং মলটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ১৪ মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে ডে-কেয়ারে নামিয়ে দিতে ভুলে সারাদিন গরম গাড়ির ভেতরে রেখে দেওয়ার ঘটনায় তার বাবাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি মারিজুয়ানার প্রভাবে ছিলেন। নর্থ্যাম্পটন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ড্যানিয়েল জেফরি মোইস্ট (৩৮)। তার বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি মার্ডার, শিশুর জীবন বিপন্ন করা, বেপরোয়া আচরণ এবং মোটরযানে শিশুকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি স্টিফেন জি. বারাটা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে ড্যানিয়েল মোইস্ট মারিজুয়ানার প্রভাবে ছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি নিজের দায়িত্বে মেয়েকে নিরাপদে ডে-কেয়ারে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। তদন্তে জানা যায়, গত ১১ জুন সকালে মোইস্ট তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি বড় সন্তানকে একটি সামার ক্যাম্পে নামিয়ে দিলেও ১৪ মাস বয়সী কন্যাশিশুটিকে ডে-কেয়ারে পৌঁছে দিতে ভুলে যান। ফলে শিশুটি পুরো কর্মদিবসজুড়ে গরম গাড়ির ভেতরেই আটকে ছিল। বিকেল প্রায় ৪টার দিকে শিশুটির মা ফোন করে জানান যে তাদের মেয়েকে ডে-কেয়ারে নেওয়া হয়নি। এরপর মোইস্ট গাড়িতে গিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ৯১১-এ ফোন করেন এবং শিশুটিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা বলছেন, গরমে দীর্ঘ সময় বন্ধ গাড়ির ভেতরে থাকায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও অন্যান্য বিষয় এখনও তদন্তাধীন। এ ঘটনায় স্থানীয় আদালতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘদিনের আলোচিত প্রেমের সম্পর্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমন্ত্রিত তারকাদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল ব্যক্তিগত, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। বিয়ের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর মুহূর্তেই তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো ভক্ত নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিয়ের খবর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রচলিত রীতির বাইরে কিছু ব্যতিক্রমী আয়োজনও ছিল। টেইলর সুইফটের ভাই বিশেষ সম্মানসূচক দায়িত্ব পালন করেন এবং ট্রাভিস কেলসির ভাই ছিলেন বরের প্রধান সহকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগীত, চলচ্চিত্র ও ক্রীড়া অঙ্গনের বহু পরিচিত তারকা। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। এরপর বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কনসার্ট এবং জনসমক্ষে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে তারা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তারকা জুটিতে পরিণত হন। সেই সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে ২০২৬ সালের ৩ জুলাই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বৈবাহিক জীবনে পা রাখলেন। বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে অতিথিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানের বেশিরভাগ অংশ গণমাধ্যমের বাইরে রাখা হলেও, বিয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বিনোদন ও ক্রীড়া অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় এই জুটির বিয়ে চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত তারকাবিষয়ক ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে ইতোমধ্যেই বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ১০০ ডলারের একটি নোটের ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তার স্বাক্ষর দেখা যায়। শুক্রবার প্রকাশিত ওই ছবি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। অনেকেই জানতে চান, এটি কি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কাগুজে মুদ্রা, নাকি কেবল পরিকল্পনার একটি নমুনা। ট্রাম্পের প্রকাশিত ছবিতে প্রচলিত ১০০ ডলারের নোটের নকশা অপরিবর্তিত থাকলেও স্বাক্ষরের স্থানে তার নাম দেখা যায়। ছবিটি প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাছে জানতে চায়, এই স্বাক্ষরযুক্ত নোটের মুদ্রণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে কি না। তবে এ বিষয়ে ট্রেজারি বিভাগ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন ঘোষণা দেয়নি। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছিল, দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে কাগুজে মুদ্রায় একটি বিশেষ পরিবর্তন আনা হবে। সেই সময় জানানো হয়, প্রথমবারের মতো দায়িত্বে থাকা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নতুনভাবে ছাপানো কাগুজে মুদ্রায় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনা শুরু হয়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মারকধর্মী বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন স্বাক্ষর ব্যবহার করা হবে। তবে সেই সময়ও কোন মূল্যমানের নোটে, কখন থেকে এবং কত পরিমাণে নতুন স্বাক্ষরযুক্ত মুদ্রা বাজারে আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। শুক্রবার ট্রাম্প যে ছবি প্রকাশ করেছেন, সেটি সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতার অংশ কি না, নাকি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা—এ বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ছবিটি প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কাগুজে মুদ্রা ছাপানোর দায়িত্ব পালন করে ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং। তবে মুদ্রার নকশা, স্বাক্ষর এবং অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ট্রেজারি বিভাগ। নতুন কোনো নোট প্রচলনে আনার আগে একাধিক প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তাই কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত কাগুজে মুদ্রায় সাধারণত ট্রেজারি সচিব এবং ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার পর এই প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলেও এর সঙ্গে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা বা সরকারি ঘোষণা যুক্ত করেননি। ফলে ছবিটি প্রতীকী বার্তা, নাকি আসন্ন নতুন নোটের নমুনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীকে ঘিরে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকার জাতীয় পর্যায়ে স্মারক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। কাগুজে মুদ্রায় পরিবর্তনের পরিকল্পনাও সেই বৃহত্তর কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে ভবিষ্যতের নতুন নোট বলে দাবি করলেও, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রদর্শনমূলক ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ ধরনের কোনো দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন নোটের মুদ্রণ, বাজারে ছাড়া বা প্রচলনের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কেও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ট্রাম্পের প্রকাশিত ছবির পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে মুদ্রায় এ ধরনের পরিবর্তন দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে নতুন নোট বাজারে না আসা পর্যন্ত ছবিটিকে আনুষ্ঠানিক প্রচলিত মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।