আমেরিকা

টিকিট কাটতে লাগবে না ৪০ ডলার, ফ্রিতে নিউ ইয়র্ক শহর দেখতে খুলে গেল ৫৮০ ফুট উঁচুর ছাদ!

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১০:৫০
১০০ বছর পর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হলো নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিংয়ের ছাদ | ছবি: সংগৃহীত
১০০ বছর পর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হলো নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিংয়ের ছাদ | ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ঐতিহাসিক বহুতল ভবনের ছাদ, যা দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, অবশেষে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় খবর হলো, এই ছাদ থেকে পুরো নিউ ইয়র্ক শহরের চোখজুড়ানো ‘৩৬০ ডিগ্রি’ দৃশ্য দেখার জন্য দর্শকদের কোনো টাকা বা ফি দিতে হবে না।

 

চলতি সপ্তাহের ১১ই জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত বিখ্যাত ‘ডেভিড এন ডিনকিন্স ম্যানহাটন মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং’-এর চূড়া বা ছাদটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। ‘সেন্টার ৩৬০’ (Centre 360) নামের এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা প্রায় ৫৮০ ফুট উঁচুতে উঠে পুরো শহরের চমৎকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত এই ছাদে যাওয়ার অনুমতি ছিল কেবল শহরের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের।

 

নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যান্য আধুনিক ওয়াচ টাওয়ার বা ভিউয়িং ডেকে ঢোকার জন্য যেখানে ৪০ ডলারেরও বেশি খরচ করতে হয়, সেখানে এই ঐতিহাসিক স্থানটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। প্রায় ৬ মিলিয়ন (৬০ লাখ) ডলার ব্যয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই ছাদটি সংস্কার করার পর এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

 

১৯১৪ সালে নির্মিত এই রাজকীয় ভবনের ৩৬তম তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ব্রুকলিন ব্রিজের মতো বিখ্যাত ১০টি দর্শনীয় স্থান দেখতে পাবেন। এছাড়াও দর্শকদের জন্য একটি ডিজিটাল গেমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ছাদ থেকে এই দর্শনীয় স্থানগুলো খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।

 

ঐতিহাসিক এই ভবনটি নিউ ইয়র্কের অন্যতম বড় সরকারি কার্যালয় এবং এটিই শহরের প্রথম ভবন যার নিচে সাবওয়ে স্টেশন যুক্ত করা হয়েছিল। ভবনটির একদম চূড়ায় রয়েছে ২৫ ফুটের একটি বিখ্যাত সোনালী মূর্তি, যার ঠিক নিচেই এই উন্মুক্ত বারান্দাটি অবস্থিত। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র ডেভিড এন ডিনকিন্সের সম্মানে ভবনটির নামকরণ করা হয়।

 

নিরাপত্তার স্বার্থে এই ফ্রি ট্যুরটি অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালনা করা হবে। প্রতিবারে সর্বোচ্চ ৫ জনের একটি ছোট দলকে গাইডসহ উপরে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিদিন এমন ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং পুরো ট্যুরটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টা। তবে এই সুযোগ পেতে হলে দর্শকদের আগে থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং বা রিজার্ভেশন করতে হবে এবং সাথে একটি বৈধ পরিচয়পত্র (আইডি) থাকতে হবে। প্রতি মাসের প্রথম দিন এই ফ্রি ট্যুরের বুকিং পোর্টাল খুলে দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও র‍্যাপ তারকা নিকি মিনাজ | ছবি: হোয়াইট হাউস
ট্রাম্পের পাশে নিকি মিনাজ, হোয়াইট হাউসের ক্যাপশনেই শুরু মিমের বন্যা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বখ্যাত র‍্যাপ তারকা নিকি মিনাজের একটি ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ছবির সঙ্গে মাত্র দুটি শব্দের একটি ক্যাপশন—“The Barbz Know”—পোস্ট করতেই সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নানা ধরনের মিম, মন্তব্য ও ব্যাখ্যায় ভরে ওঠে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো।   ছবিতে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিকি মিনাজকে। পোস্টে ‘Trump Accounts’ কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটেরও উল্লেখ করা হয়। তবে “The Barbz Know” ক্যাপশনের নির্দিষ্ট অর্থ নিয়ে হোয়াইট হাউস আলাদাভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।   ‘Barbz’ নামে পরিচিত নিকি মিনাজের ভক্তরা। তাই অনেকেই মনে করছেন, তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতেই জনপ্রিয় পপ-কালচারের এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে এ ধরনের মিমধর্মী ভাষা ব্যবহার অস্বাভাবিক।   সাম্প্রতিক সময়ে নিকি মিনাজ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘Trump Accounts’ উদ্যোগের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নবজাতকদের জন্য সরকার নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগসহ একটি বিশেষ সঞ্চয় হিসাব চালুর পরিকল্পনা করেছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা বা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে ব্যবহার করা যাবে।   হোয়াইট হাউসের পোস্ট প্রকাশের পর এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে মিম তৈরি করেন। কেউ এটিকে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সরকারি যোগাযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করছেন।   যদিও পোস্টটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ক্যাপশনের উদ্দেশ্য বা এর পেছনের ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে “The Barbz Know” ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১১:২৬
কলেজ পার্ক শহরে দেয়ালচিত্রকে জীবন্ত করতে ‘এআর ট্রেইল’ প্রকল্পের মাধ্যমে অগমেন্টেড রিয়ালিটি প্রযুক্তির ব্যবহার | ছবি: সংগৃহীত

মোবাইলে কিউআর কোড স্ক্যান করলেই জীবন্ত হবে দেয়ালচিত্র, অনন্য প্রযুক্তি আনল আমেরিকা!

যুক্তরাষ্ট্রে ব্লুবেরি খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ; বাজার থেকে পণ্য তুলে নেওয়ার নির্দেশ এফডিএর | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার ৮ রাজ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াযুক্ত ব্লুবেরি বিক্রি, খেয়ে হাসপাতালে ৪ জন

১০০ বছর পর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হলো নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিংয়ের ছাদ | ছবি: সংগৃহীত

টিকিট কাটতে লাগবে না ৪০ ডলার, ফ্রিতে নিউ ইয়র্ক শহর দেখতে খুলে গেল ৫৮০ ফুট উঁচুর ছাদ!

ছবি: আবাসন নীতি নিয়ে বক্তব্য রাখছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি (সংগৃহীত)
নিউ ইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের হাতে ভবনের মালিকানা? মামদানির আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষিত ‘ব্লক বাই ব্লক’ আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, পরিকল্পনাটির আওতায় অবহেলিত ভাড়ার ভবনগুলো ব্যক্তিমালিকদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়া সংগঠন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (নন-প্রফিট) এবং কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্টের হাতে হস্তান্তরের পথ আরও সহজ করা হচ্ছে। তবে মামদানি প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নয়; বরং দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় থাকা ভবনগুলো রক্ষা এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ।   মে মাসে প্রকাশিত ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে আবাসন খাতে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর একটি অংশ অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়ার ভবন সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নতুন মালিকানা ব্যবস্থায় স্থানান্তরের জন্য ব্যয় করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর লক্ষ্য নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ এবং ভবনের মালিকদের অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।     বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে মেয়রের ‘মেয়রস অফিস টু প্রোটেক্ট টেন্যান্টস’-এর পরিচালক সিয়া উইভারের অতীতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে। পুরোনো এক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত বাড়ির মালিকানাকে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসসহ বিভিন্ন মহল এর সমালোচনা করেন। পরে উইভার বলেন, অতীতের কিছু মন্তব্যের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং সেগুলো তার বর্তমান অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।     এদিকে, নিউইয়র্কের আবাসন খাতের বিভিন্ন সংগঠন এবং সম্পত্তি মালিকদের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিকল্পনা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়াতে পারে। তাদের মতে, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়ার ভবন অন্য ব্যবস্থাপনায় স্থানান্তরের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি করতে পারে।     অন্যদিকে, মামদানি প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যেসব ভবনের মালিক বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে পারছেন না, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, নিউইয়র্কে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১০:২২
নর্থ ক্যারোলিনায় স্টপ সাইন অমান্য করে পিকআপের ধাক্কায় ৬ বছরের শিশু নিহত | ছবি: সংগৃহীত

স্টপ সাইন অমান্য করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর; অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া

আমেরিকার বিমানবন্দরগুলোতে যুদ্ধাহত সামরিক সদস্যদের বিনামূল্যে দ্রুত সিকিউরিটি চেকিংয়ের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে সরকার | ছবি: শাটারস্টক

আমেরিকার বিমানবন্দরে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না যুদ্ধাহত সেনাদের, পাবেন ফ্রি সুবিধা

নিউ ইয়র্কের সাবওয়ে ‘ডি’ লাইনে ৪০ বছর পর নতুন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘আর২১১’ মডেলের ট্রেন চালু করল এমটিএ | ছবি: এমটিএ

৪০ বছর পর নিউ ইয়র্কের ডি লাইনে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক সাবওয়ে ট্রেন

ব্রঙ্কসে মাত্র ১১ হাজার ডলারে মধ্যবিত্তদের কো-অপ ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার অবিশ্বাস্য সুযোগ | ছবি: নিউ ইয়র্ক হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল
মাত্র ১১ হাজার ডলারে নিউ ইয়র্কে ফ্ল্যাট কেনার দারুণ সুযোগ!

নিউ ইয়র্ক সিটিতে হু হু করে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে নিজের একটি আবাসন গড়ে তোলা এখন আকাশকুসুম স্বপ্ন। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য মাত্র ১১ হাজার মার্কিন ডলারে সমবায় বা কো-অপ ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার এক বিরল ও অবিশ্বাস্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ব্রঙ্কসের পেলহাম বে এলাকার ১৭২০ মেফ্লাওয়ার অ্যাভিনিউতে অবস্থিত 'মেফ্লাওয়ার টেরেস' নামের একটি আবাসন প্রকল্পে নতুন করে এই ওয়েটলিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকা উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি মূলত নিউ ইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়ালের অধীনে পরিচালিত একটি বিশেষ আবাসন কর্মসূচি। এর লক্ষ্য হলো সাধারণ রিয়েল এস্টেট বাজারের আকাশচুম্বী দামের তুলনায় অত্যন্ত কম মূল্যে নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া।   এই প্রকল্পে বিভিন্ন আকারের এবং বিভিন্ন বাজেটের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একক বাসিন্দা থেকে শুরু করে বড় পরিবারের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দাম ও মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সুযোগ পেতে হলে আবাসন কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যার নিয়মাবলী পূরণ করতে হবে।   প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এখানে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ১১ হাজার ডলার থেকে, যার মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রায় ৬৯০ ডলার। এছাড়া এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের দাম ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৬০০ ডলার এবং দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটের দাম ১৭ হাজার থেকে ২১ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে রাখা হয়েছে। বড় পরিবারের জন্য তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটগুলো ২০ হাজার ১০০ থেকে ২৩ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে পাওয়া যাবে।   এই সাশ্রয়ী ফ্ল্যাটগুলোর জন্য যোগ্যতার সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। স্টুডিও এবং এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যথাক্রমে ১ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার এবং ১ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত বার্ষিক আয়সম্পন্ন পরিবারগুলো আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে বড় ফ্ল্যাটগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৬ সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার ১০০ ডলার পর্যন্ত শিথিলযোগ্য করা হয়েছে।   মধ্যম আয়ের নিউ ইয়র্কবাসীরা যাতে অতিরিক্ত দামের কারণে শহর ছেড়ে চলে না যান, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এই আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লোভনীয় সুযোগের ওয়েটলিস্টে নাম লেখাতে আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট নম্বরে কল করে কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে কাগজের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৯:১৮
আটককৃত আসামিকে আদালতে তুলা হচ্ছে ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

পুরোনো বহিষ্কার আদেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীকে আটক করল ICE, বহিষ্কার ঠেকাতে মরিয়া পরিবার

আমিরাকান পাসপোর্টপর ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই পাসপোর্ট আবেদন, নিউইয়র্কের আশপাশে জুলাইজুড়ে পাঁচ বিশেষ গ্রহণ মেলার আয়োজন

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ভাইরাল ‘নিডো’ খেলনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা, গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা

0 Comments