আলাস্কার জঙ্গলে হঠাৎ পথ আটকাল ক্ষুধার্ত গ্রিজলি ভালুক, শান্ত থেকে বিপদ এড়ালেন তিন হাইকার
আলাস্কার একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকায় হাঁটার সময় হঠাৎই একটি গ্রিজলি ভালুকের মুখোমুখি হয়ে পড়েন তিনজন পর্যটক। কয়েক মুহূর্তের সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আতঙ্কিত হয়ে দৌড় না দিয়ে পার্ক রেঞ্জারদের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলায় শেষ পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হন তারা।
ঘटनাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আনান ক্রিক ওয়াইল্ডলাইফ অবজারভেটরিতে। এলাকাটি প্রতিবছর গোলাপি স্যামন মাছের প্রজনন মৌসুমে কালো ও বাদামি (গ্রিজলি) ভালুকের বিচরণের জন্য পরিচিত। পর্যটকরা সেখানে ভালুকের স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে যান।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. মিশেল লিন থ্যালার জানান, তারা প্রথমে নদীর ধারে কয়েকটি কালো ভালুক দেখছিলেন। পরে ফেরার পথে একটি বাঁক ঘুরতেই আচমকা 'স্কুবা সু' নামে পরিচিত একটি পূর্ণবয়স্ক গ্রিজলি ভালুকের মুখোমুখি হন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ভালুকটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। পথটি ছিল অত্যন্ত সরু এবং পাশ দিয়ে সরে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে ভালুকের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে পিছিয়ে গিয়ে তাকে চলার জন্য পথ ছেড়ে দেন।
পর্যটক তানিয়া থম্পসন বলেন, প্রথম মুহূর্তে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তবে রেঞ্জারদের দেওয়া পরামর্শ মনে পড়তেই তারা নিজেদের বড় দেখানোর চেষ্টা করেন, শান্ত কণ্ঠে কথা বলতে থাকেন এবং ভালুককে বিরক্ত না করে ধীরে ধীরে সরে যান।
আরেক পর্যটক টনি কুতরারো জানান, ভ্রমণ শুরুর আগে পার্ক রেঞ্জাররা তাদের ভালুকের এলাকায় চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিয়েছিলেন। পথে আগেই তারা ভালুকের উপস্থিতির বিভিন্ন চিহ্নও দেখেছিলেন। সেই প্রস্তুতিই সংকটময় মুহূর্তে কাজে এসেছে।
ড. থ্যালার আরও বলেন, এ বছর স্যামন মাছের আগমন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে হওয়ায় ভালুকগুলো খাবারের অপেক্ষায় ছিল। এতে তাদের আচরণ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত 'স্কুবা সু' কোনো আক্রমণ না করে নিজের পথেই চলে যায়।
মার্কিন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে ভালুকের মুখোমুখি হলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। শান্তভাবে কথা বলে ভালুককে বোঝাতে হবে যে সামনে মানুষ রয়েছে, স্থির থাকতে হবে এবং সুযোগ থাকলে ধীরে ধীরে তাকে পথ ছেড়ে দিতে হবে। হঠাৎ দৌড়ানো বা চিৎকার করলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আনান ক্রিক ওয়াইল্ডলাইফ অবজারভেটরি আলাস্কার অন্যতম জনপ্রিয় বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। প্রতি বছর জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল সংখ্যক স্যামন মাছ নদীতে ফিরে আসে, আর সেই মাছ ধরতেই সেখানে কালো ও গ্রিজলি উভয় প্রজাতির ভালুকের সমাগম ঘটে। এ কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশের আগে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ গ্রিন কার্ড একটি উল্লেখযোগ্য পথ। বিশেষ করে জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের মাধ্যমে কিছু যোগ্য আবেদনকারী চাকরিদাতার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজের নামে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের জন্য ইবি-২ বর্তমানে ‘কারেন্ট’। অর্থাৎ এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো কাট-অফ তারিখ নেই। ইবি-২ মূলত দুই ধরনের পেশাজীবীর জন্য। প্রথমত, উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী। সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স বা তার বেশি ডিগ্রি থাকলে, অথবা ব্যাচেলর ডিগ্রির পর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে এই যোগ্যতা অর্জন করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা বা অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দক্ষতার অধিকারীরাও নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ইবি-২-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত পথ হলো জাতীয় স্বার্থে ছাড়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে প্রথমে ইবি-২-এর মূল যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। এরপর দেখাতে হয়, তার প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভালো অবস্থানে আছেন এবং চাকরির অফার ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র উপকৃত হবে। এই কারণে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ, সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী, বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিক্ষা বা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারেন এমন উদ্যোক্তাদের জন্য এই পথ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে শুধু মাস্টার্স ডিগ্রি, ভালো চাকরি বা বেশি বেতন থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট কাজ এবং সেটির সম্ভাব্য জাতীয় গুরুত্বের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। সাধারণ ইবি-২ প্রক্রিয়ায় চাকরিদাতার স্পনসরশিপ এবং শ্রম সনদ প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে এসব শর্ত থেকে অব্যাহতি চাওয়া যায়। এরপর আবেদনকারী আই-১৪০ পিটিশন জমা দেন। সেটি অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর উপলব্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারী আই-৪৮৫-এর মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ইবি-২ ‘কারেন্ট’ থাকা একটি ইতিবাচক বিষয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে, চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের হার বাড়লে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ইবি-২-এর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে বা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ হতে পারে। ইবি-২ জাতীয় স্বার্থে ছাড় সম্পর্কে জানতে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষামূলক আয়োজনও রয়েছে। তবে কোনো কোর্স বা ওয়েবিনার ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শের বিকল্প নয়। নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত অর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লক্ষ ডলার বেতন! খরচ বাদে চারজনের পরিবারে মাস শেষে কত থাকে? হিসাব চমকে দেবে
হাসপাতালের বেডে শিকলবন্দী আইসিই আটক অভিবাসী, অস্ত্রোপচারের পরও স্বজনদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় তুরস্কের নাগরিক অনুর সিমসেককে যুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের সরকারি চুক্তিতে জালিয়াতির অভিযোগে তাকে খুঁজছে এফবিআই। তার অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিমসেক ও তার সহযোগীরা একটি ফ্রন্ট কোম্পানি ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। এসব যন্ত্রাংশ মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও সাবমেরিন, মেরিন কোরের সাঁজোয়া যান এবং সেনাবাহিনীর ট্যাংকসহ বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রস্তুতকারক হিসেবে একটি কোম্পানিকে উপস্থাপন করা হলেও যন্ত্রাংশগুলো তুরস্কে তৈরি করা হতো। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় প্যাকেজিং থেকে তুরস্কে উৎপাদনের পরিচয় সরিয়ে ফেলা হতো এবং যন্ত্রাংশের উৎপত্তি সম্পর্কে মার্কিন সরকার ও সরকারি ঠিকাদারদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হতো। মামলায় আরও অভিযোগ রয়েছে, সামরিক প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কিছু নকশা সংগ্রহ করে তুরস্কে যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এসব নকশা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের মাধ্যমে অর্জিত কয়েক লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তুরস্কে পাঠানো হয়। মামলার আরেক আসামি ইয়ুকসেল সেনবল ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচার ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ ২৫টি ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। একই বছরের অক্টোবরে তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ ডলার ৯০ সেন্ট বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিমসেকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলাটি এফবিআইসহ একাধিক মার্কিন তদন্ত সংস্থা তদন্ত করেছে। এফবিআই জানিয়েছে, সিমসেকের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা সংস্থাটিকে জানানো যেতে পারে। তার গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সিমসেক আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে পলাতক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে এই ট্যাক্সের হিসাব না জানলে বাড়বে মানসিক চাপ
চাকরি নেই স্বামীর, বন্ধ খাদ্য সহায়তা, এরপর উচ্ছেদ, দুই শিশুসহ অভিবাসী পরিবারের পাশে কমিউনিটি
মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেই টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে ৫০ হাজার ৯২৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, এক মাসে গ্রেপ্তারের হিসাবে এটি সংস্থাটির নতুন রেকর্ড। এর আগে জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুলাইয়ের আগের রেকর্ডকে ৭১৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। জুনে আইসিই ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে জুন, জুলাই ও আগস্ট, টানা তিন মাসে সংস্থাটির মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ৫০ হাজার ৯২৫ জনের সংখ্যা ৫১ হাজারের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তা প্রায় ৫১ হাজার হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে সরকারি হিসাবে সঠিক সংখ্যা ৫০ হাজার ৯২৫ জন। জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জন এবং জুনের ৪৩ হাজার ৯০০ জনের তুলনায় আগস্টে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগস্টের গ্রেপ্তারের পরিমাণ সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। জুনে ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনে পৌঁছায়। এরপর আগস্টে আরও ৭১৭ জন বেশি গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাসের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের এই সংখ্যা এক মাসে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জনই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের সংখ্যা। আগস্টে সেই রেকর্ড আবারও অতিক্রম করা হয়েছে। আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনকারী একটি সংস্থা। সংস্থাটির আগস্টের কার্যক্রমের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০ হাজারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা টানা তৃতীয় মাসে বেড়েছে। আগস্টের ৫০ হাজার ৯২৫ জনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুনের তুলনায় ৭ হাজারেরও বেশি বেশি। একই সময়ে জুলাইয়ের তুলনায়ও আগস্টে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পরিমাণ তুলে ধরছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যে আগস্টের গ্রেপ্তারকে সংস্থাটির মাসিক কার্যক্রমের নতুন সর্বোচ্চ হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে রেকর্ড গড়ার এক মাস পরই সেই সংখ্যা আবার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টানা তিন মাসের প্রতিটিতেই আগের মাসের তুলনায় বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। সরকারি হিসাবে, জুনে ৪৩ হাজার ৯০০, জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ এবং আগস্টে ৫০ হাজার ৯২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্টেই সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। নতুন এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইসিইর সাম্প্রতিক তৎপরতার পরিমাণকে সামনে এনেছে।
সিকিউরিটি গার্ড থেকে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী, অসম্ভবকে সম্ভব করলেন রাসেল
২৯৬ বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স রিফান্ড, মার্কিন অর্থনীতি এখনো শক্তিশালী- বলছেন বিশ্লেষকরা