আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোন খেলাপিতে নতুন রেকর্ড, বিপাকে ৯৫ লাখ ঋণগ্রহীতা

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১০:০
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে কিস্তি শুরু হতেই রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে শিক্ষার্থী ঋণ খেলাপি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে কিস্তি শুরু হতেই রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে শিক্ষার্থী ঋণ খেলাপি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থীদের লোন বা ঋণ খেলাপির সংখ্যা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। করোনা মহামারীর সময় দেওয়া দীর্ঘদিনের বিরতি শেষে কিস্তির মেয়াদ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ঋণগ্রহীতারা তা পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ (যা মোট সরকারি স্টুডেন্ট লোন গ্রহীতার ৫ জনের মধ্যে ১ জন) খেলাপি হয়েছেন। অর্থাৎ তারা নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে আছেন।

 

কয়েক মাস কিস্তি বাকি থাকলে ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে খেলাপি হলে বেতন বা সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কেটে নেওয়ার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে। আপাতত ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের বাধ্যতামূলক অর্থ আদায় প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। প্রোটেক্ট বরোয়ার্স সংস্থার পলিসি ডিরেক্টর আইসা কানচোলা বানিয়েন জানান, অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্টুডেন্ট লোনের বোঝা যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিস্তি মেটাতে পারছেন না।

 

শিক্ষা বিভাগ মহামারীর সময় কিস্তি স্থগিতের সুযোগ দিয়েছিল। এরপর বাইডেন প্রশাসন ২০২৪ সালের শরৎ পর্যন্ত এক বছরের অতিরিক্ত সময় দেয়, যার ফলে ওই সময়ে কেউ খেলাপি হননি। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ৯ মাস পর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুন থেকে আবারও খেলাপি হওয়া শুরু হয়। অফিস অব ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর তথ্য অনুযায়ী, খেলাপির সংখ্যা ৫৩ লাখ থেকে বেড়ে ৯৫ লাখে পৌঁছেছে। সারাদেশে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সরকারি স্টুডেন্ট লোনের মধ্যে ২৩৩.৩ বিলিয়ন ডলারই এখন খেলাপি।

 

সামনে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন তাদের লোন ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে সেভ নামক আয়-ভিত্তিক সহজ কিস্তি পরিকল্পনাটি বাতিল করেছে। এতে যুক্ত থাকা লাখ লাখ ঋণগ্রহীতাকে প্রতি মাসে আরও বেশি টাকা গুনতে হবে। চলতি মাস থেকে নতুন গ্রহীতাদের জন্য বিকল্প পদ্ধতি কমিয়ে একটি সাধারণ এবং একটি আয়-ভিত্তিক অপশন রাখা হয়েছে।

 

এপি-র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে। মিসিসিপিতে এই হার সবচেয়ে বেশি (২৮.৩%)। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে রয়েছে লুইসিয়ানা, অ্যালাবামা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ওকলাহোমা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, নিউ মেক্সিকো ও নেভাদা। এর মধ্যে নিউ মেক্সিকো ছাড়া বাকি সবকটি রাজ্যেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া পুয়ের্তো রিকো অঞ্চলে খেলাপির হার ৩০.৯%, যা যেকোনো রাজ্যের চেয়ে বেশি।

 

বাণিজ্যিক বা লাভজনক কলেজে পড়া শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের ৩৩% শিক্ষার্থী কিস্তি পরিশোধে ৯০ দিন বা তার বেশি পিছিয়ে আছেন, যা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যারিয়ার এডুকেশন কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিস-এর প্রধান জেসন অল্টমায়ার জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের লোন পরিশোধের গুরুত্ব বোঝাতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
মিনেসোটা যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুটের অভিযোগ, তাদেরই আইনজীবীর খরচ দিচ্ছেন করদাতারা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি নিজেদের পক্ষে লড়তে এখন সরকারি খরচে আইনজীবীর সহায়তা পাচ্ছেন। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত আইনি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    কেএসটিপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি সামাজিক সেবা কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই অভিযোগ ওঠার আগে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছিলেন।  মিনেসোটার আইন অনুযায়ী, কোনো আসামি নিজ খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিতে অক্ষম বলে আদালত মনে করলে তার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক অভিযুক্ত যেন ন্যায্য বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারেন। তবে আদালত প্রয়োজনে অভিযুক্তের আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি ব্যয়ের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে।    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক আলোচিত মামলা সামনে এসেছে। এর মধ্যে শিশুদের খাবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে বহু ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়েছেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সরকারি অর্থ জালিয়াতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।     এদিকে, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য আবারও করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন এবং ন্যায্য আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২৩:৫৪
মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ট্রপিক্যাল স্টর্ম ‘বার্থা’র সর্বশেষ অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের দিকে ধেয়ে আসছে মৌসুমের দ্বিতীয় ঝড় ‘বার্থা’, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সতর্কতা

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারের পর আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারে গিয়ে আটক নারী, যেকোনো মুহূর্তে হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত

১৪ বছর পর ইরাসেমা চাভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক নারীকে। ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছর পর ধরা পড়লো, ১০০ ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার রহস্য

ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে ইতালিতে প্রবেশের সময় আটক হন টেক্সাসের এই হত্যা মামলার আসামি। ছবি: সংগৃহীত
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলার আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাতে আপাতত বাধা ইতালির আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে বিচার শুরুর আগেই দেশ ছেড়ে ইতালিতে পালিয়ে যাওয়া লি গিলিকে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো হচ্ছে না। ইতালির একটি আপিল আদালত তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত আইনি নিশ্চয়তা চেয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইতালির বিচারকরা জানতে চেয়েছেন, লি গিলিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করা হবে না, এ বিষয়ে মার্কিন সরকার কী ধরনের নিশ্চয়তা দিতে পারে। ইতালির আইনে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়ায় এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।   ৩৯ বছর বয়সী লি গিলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেক্সাসের হিউস্টনে নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ক্রিস্টা বাউয়ার গিলিকে হত্যা করেন তিনি। ওই সময় ক্রিস্টা নয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।   ঘটনার রাতে লি গিলি পুলিশকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তার মৃত্যু অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে নয়; বরং গলায় চাপ প্রয়োগের কারণে শ্বাসরোধে হয়েছে। এরপরই ঘটনাটি হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই গিলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারের পর ১০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্তি পান গিলি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং ইলেকট্রনিক গোড়ালির নজরদারি যন্ত্র (অ্যাঙ্কল মনিটর) পরতে হয়েছিল।   তবে চলতি বছরের ১ মে তিনি সেই নজরদারি যন্ত্র কেটে ফেলেন এবং হিউস্টন থেকে প্রথমে কানাডা, পরে ইতালির মিলানে যান। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইতালিতে প্রবেশের সময় তিনি ভুয়া বেলজিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং নিজের পরিচয় গোপন করতে অন্য একটি নাম ব্যবহার করেন। সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে আটক করে। পরে তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যা মামলার বিচার এড়িয়ে তিনি ইতালিতে এসেছেন।   ইতালির আদালতে শুনানির সময় গিলি রাজনৈতিক আশ্রয়ও চান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কায় তিনি ইতালিতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর এখন পর্যন্ত জানায়নি যে তারা এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইবে। তবে ইতালির আদালতের মতে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   আদালতে গিলি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি কাউকে হত্যা করিনি। আমি নির্দোষ। আমি যে অপরাধ করেছি, তা হলো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া।" এদিকে, ক্রিস্টা বাউয়ার গিলির পরিবারের আইনজীবী টিম ব্যালেঞ্জি বলেন, অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে হতাশ। তাদের প্রত্যাশা ছিল আদালতে বিচার হবে এবং ক্রিস্টা ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা যাবে।   হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গিলিকে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতালির আদালত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তা দিতে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এরপরই তার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: পিপল, কেপিআরসি ২ নিউজ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২১:৫৮
অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার সমঝোতার আওতায় ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে আজ থেকে জমা হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ডলার

অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে পরিচয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্টিফেন হাকিম। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর ধর্ষণের অভিযোগ, ফ্লোরিডার যুবকের আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারে

যানবাহন তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যানবাহন তল্লাশিতে এবার বাধ্যতামূলক বডি ক্যামেরা পরবেন আইসিই কর্মকর্তারা

ওহাইওর সিওটো নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন জরুরি সেবা কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে ডুবন্ত সাঁতারুকে বাঁচাতে গিয়ে ৫ জনের মৃত্যু, এতিম হলো দুই শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ডুবন্ত এক সাঁতারুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) ডেলাওয়্যার কাউন্টির সিওটো (Scioto) নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশু তাদের অভিভাবকদের হারিয়ে বর্তমানে পারিবারিক সেবা সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।   ডেলাওয়্যার কাউন্টির শেরিফ জেফরি বালজার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ছুটির দিন উপলক্ষে কলম্বাস শহরের উপশহর পাওয়েলের কাছে সিওটো নদীর তীরে একটি দল সময় কাটাতে জড়ো হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন নদীতে সাঁতার কাটতে নামার পর প্রবল স্রোতে বিপদে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে দলের অন্য সদস্যরা একে একে নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও পানির স্রোতে আটকা পড়েন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।   ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা একটি ছোট শিশু আতঙ্কিত হয়ে কাছের সড়কের দিকে দৌড়ে গিয়ে সাহায্য চাইতে থাকে। ওই পথ দিয়ে যাওয়া এক গাড়িচালক শিশুটিকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। উদ্ধারকারী সদস্যরা রোববার রাতেই নদী থেকে দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সোমবার সারাদিনের অনুসন্ধান শেষে নদী থেকে আরও তিনজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ডেলাওয়্যার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের মুখপাত্র ট্রেসি হোয়াইটড।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশুকে বর্তমানে পারিবারিক সেবা সংস্থার নিরাপদ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজও চলছিল। কিছু ভাষাগত জটিলতার কারণে পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্তকারীদের অতিরিক্ত সময় লাগছে বলেও জানানো হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় নদীর পানির স্রোত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে ওই এলাকায় নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা সাঁতার কাটাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিল।   ঘটনার পর শেরিফ জেফরি বালজার সবাইকে নদী বা হ্রদে নামার আগে নিজের সাঁতারের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পানিতে নামার আগে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, প্রয়োজনে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে দক্ষিণ ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক বন্যায় হাইকিং করতে গিয়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই ওহাইওর এই ট্র্যাজেডি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২১:৩
মূল্য, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং কেনাকাটার সুবিধা বিবেচনায় হোলসেল ক্লাব নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করছেন ভোক্তা বিশ্লেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের জন্য কোনটি সেরা? স্যামস ক্লাব, কোস্টকো নাকি বিজেএস: বিশেষ বিশ্লেষণে যা জানা গেল

কৃষি জমিতে আধুনিক হাইপারস্কেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার। ছবি:সংগৃহীত

পেনসিলভানিয়ায় এআই ডেটা সেন্টারের জন্য কৃষিজমি বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি ৯৬ মার্কিন পরিবার

ওয়েস্ট হলিউডের সানসেট বুলেভার্ডে ১১০ বছরের পুরোনো একটি পানির প্রধান পাইপ বিস্ফোরণ। ছবি:সংগৃহীত

ওয়েস্ট হলিউডে পানির প্রধান পাইপ বিস্ফোরণ: পাঁচ দিন পরও শেষ নয় মেরামত, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

0 Comments