যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার খরচ পৌঁছাল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ চূড়ায়। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে একটি বাড়ির গড় বা মধ্যবর্তী দাম (মিডিয়ান প্রাইস) প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে এই দাম বছরে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে।
আবাসন বাজারে এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে অবাক করা দিক হলো, বাজারে বিক্রয়যোগ্য বাড়ির সরবরাহ (ইনভেন্টরি) বৃদ্ধি সত্ত্বেও দাম কমেনি। তথ্যে দেখা যায়, নিউইয়র্কের বাজারে টানা ১৬ মাসের মতো বিক্রয়যোগ্য বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে যেখানে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল ৩১,১২৪টি বাড়ি, ২০২৬ সালের জুনে তা ৪.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২,৫০৮টিতে। এর পাশাপাশি মে ও জুন মাসের ব্যবধানে বন্ধকী ঋণের (মর্গেজ) সুদের হার সামান্য বেড়ে ৬.৪৯ শতাংশে পৌঁছালেও, তা গত বছরের সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশের চেয়ে এখনও কম রয়েছে।
তবে পুরো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে বাড়ি কেনার খরচে এক বিশাল আঞ্চলিক বৈষম্য লক্ষ করা গেছে। আপস্টেট অঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনো মাত্র ২ লাখ ডলারের সামান্য বেশি দামে বাড়ি পাওয়া গেলেও, ডাউনস্টেট কাউন্টিগুলোতে ছবিটা একদম ভিন্ন। জেনিসি কাউন্টিতে বাড়ির গড় মূল্য ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং প্রতিবেশী অরলিন্স কাউন্টিতে ২ লাখ ২১,৫০০ ডলার। কিন্তু এর বিপরীত চিত্রে ডাউনস্টেটের রিচমন্ড, রকল্যান্ড ও সাফোক কাউন্টিতে প্রতিটি বাড়ির গড় দাম ছাড়িয়ে গেছে ৭ লাখ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
জীবনের বেশিরভাগ সময় কাজ করার পর অবসর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ৬১ বছর বয়সী বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক মেরি নিকল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। কারণ, নিজের উচ্চশিক্ষার জন্য নেওয়া স্টুডেন্ট লোন এখনও শোধ করতে হচ্ছে তাকে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মেরি নিকলের মতো যুক্তরাষ্ট্রে লাখো প্রবীণ নাগরিক অবসরের বয়সে পৌঁছেও শিক্ষাঋণের বোঝা বইছেন। ফলে অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চাকরি ছাড়তে পারছেন না। মেরি নিকল বলেন, তিনি স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে, ভ্রমণে যেতে এবং অবসর জীবন উপভোগ করতে চান। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তাকে এখনও কর্মজীবনে আটকে রেখেছে। তিনি ৪৯ বছর বয়সে বিশেষ শিক্ষা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই সময় নেওয়া ঋণ এখনও পরিশোধ করছেন। সাধারণভাবে স্টুডেন্ট লোনকে তরুণদের সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য বলছে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ, যা ৩৫ বছরের কম বয়সী ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ২ কোটি ২ লাখের চেয়ে বেশি। ঋণের পরিমাণেও এগিয়ে বয়স্করা। ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের গড় শিক্ষাঋণ প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার, যেখানে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৭ হাজার ৩০০ ডলার। এছাড়া ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৯৫ লাখ আমেরিকানের মোট ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের পরিমাণ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৩০ লাখ আমেরিকানের নামে এখনও ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে। আট বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ। অর্থাৎ অবসরের বয়সে পৌঁছেও শিক্ষাঋণ বহনকারী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্টুডেন্ট লোন–সংক্রান্ত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দ্য ইনস্টিটিউট অব স্টুডেন্ট লোন অ্যাডভাইজরসের সভাপতি বেটসি মেওট বলেন, ঋণ পরিশোধে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে ক্রমেই বেশি মানুষ অবসরের বয়সেও শিক্ষাঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই কর্মজীবনের মাঝপথে আবার পড়াশোনায় ফিরে যাওয়া, সন্তানদের পড়াশোনার জন্য প্যারেন্ট প্লাস ঋণ নেওয়া কিংবা সুদ জমে মূল ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঋণের বোঝা বহন করছেন। এর ফলে অবসর পরিকল্পনা পিছিয়ে যাচ্ছে এবং স্থির আয়ের ওপর নির্ভরশীল অনেক প্রবীণ আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে চলতি সপ্তাহে প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর প্যাট্রিক মরিসির কার্যালয় থেকে এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গভর্নরের যোগাযোগ পরিচালক লার্স ডালসেইড এক ই-মেইল বিবৃতিতে মৃত্যুর খবরটি জানালেও, ঠিক কোথায় এবং কীভাবে এই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বা তাদের পরিচয় কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেননি। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রাণহানির খবর। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বন্যাপ্লাবিত এলাকাগুলোতে রেকর্ড ৭ ইঞ্চি (১৮ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। গভর্নর মরিসি জানান, কোনো কোনো এলাকায় মাত্র ৩৭ মিনিটের ব্যবধানে ৪ দশমিক ৫ ইঞ্চি (১১ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার) বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উত্তর-মধ্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কর্মকর্তারা এই বন্যাকে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও ব্যাপক ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, পার্কিং লটগুলোতে থাকা অসংখ্য গাড়ি পুরোপুরি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ওয়েস্টন শহরের একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের ভেতরে বন্যার কাদা-পানি তীব্র বেগে ঢুকে পড়ার দৃশ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া পাশের একটি হাইওয়ে সংলগ্ন একটি হোটেলের নিচতলাও পানিতে সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় পুরো অঞ্চল জুড়ে বহু মানুষ তাদের গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। প্রাথমিক অবস্থায় বন্যার পানির তীব্রতার কারণে উদ্ধারকর্মীদের কিছু এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে আটকা পড়া এসব মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে ও উদ্ধারকার্য পরিচালনা করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুদ্ধের হিসাব সাধারণত লেখা হয় নিহতের সংখ্যা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক সাফল্যের ভাষায়। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে থাকে একটি পরিবার, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন এবং এমন মানুষ, যাদের জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছিল প্রিয়জন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য হাইস্কুল পাস করা এক তরুণী, দুই সন্তানের বাবা, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা একজন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের কাছে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা আরও অনেক সৈনিক। সর্বশেষ নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। মাত্র কিছুদিন আগেই তিনি হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরিবার ও বন্ধুদের ভাষায়, তাঁর সামনে ছিল সম্ভাবনাময় একটি জীবন। কিন্তু জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সেই স্বপ্ন থেমে যায়। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন ছিলেন দুই সন্তানের বাবা। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সেনাসদস্য ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় প্রাণ হারান। সহকর্মীরা তাঁকে একজন সাহসী সৈনিক হিসেবে স্মরণ করছেন, আর পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী ও বাবা। ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান ছিলেন হাওয়াইয়ের বাসিন্দা। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং এমবিএ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। জর্ডানে একই হামলায় তাঁর জীবনও শেষ হয়ে যায়। ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল র্যাম্পারসাদ নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা। প্রতিবেশীরা তাঁকে শান্ত, বিনয়ী ও অন্যের পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ হিসেবে মনে রেখেছেন। তিনিও জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত হন। এই চারজনের গল্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এলেও, তাঁদের মতো আরও ১৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য গত কয়েক মাসে বিভিন্ন অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কুয়েতে ড্রোন হামলায়, কেউ ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায়, কেউ সৌদি আরব ও জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এবং কেউ সামরিক অভিযান চলাকালে নিহত হন। প্রত্যেকের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক বয়ে এনেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের সম্মানে ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র কিংবা ভূরাজনীতির আলোচনা যতই হোক, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্য চোকায় মানুষ। ইরান যুদ্ধে নিহত এই ১৮ মার্কিন সেনার গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি সামরিক সংঘাতের পেছনে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অসমাপ্ত স্বপ্ন, ভেঙে পড়া পরিবার এবং এমন শূন্যতা, যা কোনো পদক বা সামরিক সাফল্য দিয়ে পূরণ করা যায় না।