প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর হুমকির মাত্রা ‘সর্বকালের সর্বোচ্চ’, সতর্ক করল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা সুরক্ষায় থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শুধু হুমকির সংখ্যা নয়, সেগুলোর ধরন ও জটিলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সিক্রেট সার্ভিসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখন যে ধরনের পরিস্থিতি দেখছি, আমার কর্মজীবনে এর আগে এমন দেখিনি।” একই ব্রিফিংয়ে সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারানও বলেন, তাঁর ২৪ বছরের কর্মজীবনে বর্তমান হুমকির পরিবেশ সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
সিক্রেট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হুমকিসংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকিও রয়েছে। একই সময়ে গত বছরের তুলনায় এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চরমপন্থা, ড্রোন প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগতভাবে হামলার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তে সিক্রেট সার্ভিস এখন আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত নজরদারি ও তদন্ত চালাচ্ছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির (WHCA) পুনঃনির্ধারিত নৈশভোজকে ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত এপ্রিলে একই অনুষ্ঠানে এক বন্দুকধারীর হামলার ঘটনায় অনুষ্ঠানটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংগঠনটি জানায়, নতুন আয়োজনে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নতুন প্রবেশপদ্ধতি রাখা হয়েছে।
সেই অনুষ্ঠানের আগে ও পরে শত শত সাবেক সাংবাদিক এবং আটটি সংবাদমাধ্যম-স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে।
সিক্রেট সার্ভিস আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি নিরাপত্তা-সুরক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নজরদারিতে রয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির মতে, এই প্রবণতা বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা আরও স্পষ্ট করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ, অনলাইন উগ্রবাদ এবং উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শেয়ারবাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘শত শত বিলিয়ন ডলার’ আয় করেছেন। নিজের জন্য নয়, দেশের স্বার্থেই এসব করেছেন বলে দাবি তার। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো বিস্তারিত হিসাব বা প্রমাণ দেননি তিনি। রোববার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট করেন ট্রাম্প। এর মধ্যে একটি পোস্টে তাকে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসে শেয়ারবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। সামনে থাকা কয়েকটি মনিটরে বিভিন্ন শেয়ারের তথ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে ইন্টেলের শেয়ারের দাম বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ছবিটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি এসব করছেন ‘দেশের জন্য, নিজের জন্য নয়’। একই সঙ্গে তার সমালোচনার জন্য ডেমোক্র্যাটদেরও আক্রমণ করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে তার প্রকাশ্য আর্থিক তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এদিকে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে তার বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৩ হাজার ৬০০টিরও বেশি শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ট্রাম্পের পোস্টে ইন্টেলকে বিশেষভাবে তুলে ধরার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইন্টেলের ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের শেয়ার কেনেন। মার্চেও কয়েক দফায় কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও ইন্টেলে প্রায় ১০ শতাংশ মালিকানা নেয়। তবে ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারের কোম্পানিটির পরিচালনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়নি। নিজের বিপুল সম্পদ নিয়ে এর আগেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই তার অর্থ বিনিয়োগ করে। তিনি তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন না এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেও হস্তক্ষেপ করেন না। ট্রাম্পের সম্পদ বৃদ্ধিকে ঘিরে তার রাজনৈতিক বিরোধীরা অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেয়ারবাজারের পোস্টের পাশাপাশি সপ্তাহান্তে ট্রাম্প আরও বেশ কিছু মিম ও এআই-তৈরি ছবি প্রকাশ করেন। কয়েকটিতে তাকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দেখা যায়। আবার কিছু ছবিতে তাকে বিশাল রোবটের পাশে এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে কল্পিত দৃশ্যে দেখানো হয়। এ ছাড়া অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোকে নিয়ে ট্রাম্পের পুরোনো বিরোধও তার পোস্টে উঠে আসে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে হকি খেলছেন—এমন একটি কল্পিত ছবিও শেয়ার করেন তিনি। এমনকি নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ করার কথাও মজার ছলে তুলে ধরেন। সপ্তাহান্তের পোস্টের শেষদিকে ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিনের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে লেখক ভিক্টর ডেভিস হ্যানসনের নতুন বই দ্য কাউন্টার রেভল্যুশন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বইটির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, লেখক তাকে সম্ভবত তার নিজের চেয়েও ভালো বোঝেন।
সন্তান জন্মের পর প্রবাসী বাংলাদেশির ৪০ হাজার ডলারের বিল, ইনস্যুরেন্স না থাকলে যা জানা জরুরি
পরিচিত দুই ব্যক্তিকে গুলি, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ২৭ বছরের যুবক
বিমানে বর্ণবাদী গালাগাল, চাকরি হারালেন ডাক্ট টেপে বাঁধা যাত্রী
নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, আইন ও অন্যান্য বিভাগে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য স্টেটের অফিসিয়াল জব পোর্টালে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। স্টেটজবস নিউইয়র্কের বর্তমান তালিকায় অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, নার্স, সোশ্যাল ওয়ার্কার, আইটি স্পেশালিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাটর্নি, ডেটা অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পদ দেখা যাচ্ছে। অনেক পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই, আবার কিছু পদের ডেডলাইন অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে আইটি স্পেশালিস্ট, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পদ এবং অন্যান্য স্টেট এজেন্সিতে অফিস ও পেশাদার পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক ৮০০টি নতুন পদে নিয়োগ হবে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা অফিসিয়াল স্টেটজবস তালিকায় নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরির সংখ্যা ও পদের তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই আবেদনকারীদের প্রতিটি পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল এবং আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু সরকারি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। আবার কিছু পদে সরাসরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। স্টেটের সিভিল সার্ভিস বিভাগও সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে। আগ্রহীরা নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টালে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ খুঁজে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি এবং যোগ্যতার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
৯/১১ হামলার ‘ফলিং ম্যান’-এর পরিচয় কি জানা গেছে? হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিতে মুখ খুললেন বোন
স্ত্রীসহ সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের তথ্য পাঠাল এফবিআই
সোশ্যাল সিকিউরিটি আপডেট, সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলারের পেমেন্ট আসছে এই সপ্তাহে!
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাবেক মেয়র মিস্টি রবার্টস ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে পাওয়া ৯০ দিনের কারাদণ্ড শেষ করে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের সংশোধনাগারের নথি অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দিবসে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়। নির্বাচিত মেয়র থাকা অবস্থায় ওই কিশোরের সঙ্গে যৌন অপরাধের ঘটনায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। ৪৪ বছর বয়সী রবার্টসের কারাদণ্ড শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে মামলার বিচারক প্রসিকিউটরদের আরও কঠোর সাজা দেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। বিচারক কেন্ট সাভোয়া রবার্টসের সাজা নির্ধারণের সময় ৩০টির বেশি মামলার একটি তালিকা বিবেচনায় নিয়েছিলেন। এসব মামলার আসামিরা সমঝোতার মাধ্যমে দোষ স্বীকার করে মামলার নিষ্পত্তি করেছিলেন। তবে রবার্টসের মামলা জুরি বিচারের মাধ্যমে শেষ হয় এবং জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। ৩১ আগস্টের এক শুনানিতে বিচারক সাভোয়া প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, রবার্টসের সাজা নির্ধারণে তিনি যে তালিকা ব্যবহার করেছিলেন, সেটি বিবেচনার ক্ষেত্রে তার ভুল হয়েছিল। বিচারক বলেন, একই ধরনের মামলার একটি তালিকা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল এবং তিনি একটি ধারণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, সেই ধারণা ভুল ছিল। তবে রবার্টস দোষ স্বীকার না করে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অধিকার ব্যবহার করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। মার্চের শুরুতে জুরি রবার্টসকে অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারত। প্রসিকিউটররা প্রমাণ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রবার্টসের বাড়িতে আয়োজিত একটি সুইমিং পুলের অনুষ্ঠানে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে রবার্টস ও ওই কিশোর মদ্যপান করেছিলেন। ঘটনার সময় রবার্টস লুইজিয়ানার ডিরিডার শহরের মেয়র ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে তিনি মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মামলার ভুক্তভোগী ছিলেন স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং রবার্টসের ছেলের বন্ধু। তার ছেলে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। রবার্টসকে মাত্র তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি ডিরিডারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এই সাজাকে খুবই কম বলে সমালোচনা করেন। ডিরিডারের বাসিন্দা কারি ম্যাকগি স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা উচিত এবং এ বিষয়ে কোনো অজুহাত থাকা উচিত নয়। আরেক বাসিন্দা রায়ান ক্লার্ক রবার্টসের স্বল্পমেয়াদি সাজাকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন। কারাদণ্ড শেষ করে মুক্তি পেলেও রবার্টসের ওপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। পাশাপাশি ৫ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে এবং নিয়মিত মাদক পরীক্ষা করাতে হবে। তাকে মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসাও নিতে হবে। মুক্তির পর আরোপিত শর্ত ভঙ্গ করলে রবার্টসকে স্থগিত থাকা দুটি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড একই সময়ে ভোগ করতে হতে পারে। রবার্টস ৯ জুন সাজা ঘোষণার শুনানিতে নিজের দায় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময়ও নিজেকে দায়ী মনে করেছিলেন এবং এখনও নিজেকেই দায়ী মনে করেন। তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষকে হতাশ করেছেন এবং এর জন্য তিনিই দায়ী। সাজা ঘোষণার সময় রবার্টস ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছেও ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ওই কিশোরের উচ্চ বিদ্যালয়ের সময় ফিরিয়ে দিতে পারবেন না এবং ইন্টারনেটে অনেক মানুষের করা অপমান থেকে তাকে রক্ষা করতেও পারবেন না। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর মা রবার্টসের কঠোর সমালোচনা করেন এবং নিজের পরিবার থেকে দূরে থাকার কথা বলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার
মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মুসলিমদের পাশে সিনেটর অ্যাডাম শিফ