আমেরিকা

নিউ ইয়র্কে আইস বিরোধী বিক্ষোভ: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ার দায়ে ১৫ জন গ্রেপ্তার

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৬:৩৭

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি-তে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বিরোধী এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানায়, সোমবার বিক্ষোভকারীরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস-এর ভবনে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। আইসের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দিলে তারা তা অমান্য করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।

 

এর আগে সন্ধ্যায় জুইশ ফর রেশিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিস-এর উদ্যোগে ইউনিয়ন স্কোয়ার এলাকায় ‘সেডার ইন দ্য স্ট্রিটস’ শিরোনামে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পাসওভার উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে আইসের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদ জানান।

 

গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীরাও ওই সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোরান মামদানি। তিনি বলেন, পাসওভারের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভয়ের বিরুদ্ধে আশা এবং বিভেদের বিরুদ্ধে সংহতির মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন জীবনেও হার মানেননি, গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলেন ১৮ বছরের তরুণ

হাওয়াইয়ের ওআহু দ্বীপের ওয়াইআনায়ে এলাকার ১৮ বছর বয়সী এরিক শুলৎজের জীবনটা অন্য অনেক শিক্ষার্থীর মতো ছিল না। কৈশোরের বড় একটা সময় তাকে কাটাতে হয়েছে গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্র, গাড়ি কিংবা অস্থায়ী আবাসে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত তিনি অর্জন করেছেন হাইস্কুল ডিপ্লোমা।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেএইচএনএল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ওয়াইআনায়ে হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন এরিক। অনুষ্ঠান শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমাটা হাতে নিতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ ছিলাম। কান্না চলে আসছিল, কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়েছি।”   এরিকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে ছিল। তার বাবা-মা মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই তাকে গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকতে হয়েছে।   ওআহু দ্বীপে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সেখানে ৮০২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে। এরিকও ছিলেন সেই তরুণদের একজন।   তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি তার লক্ষ্যকে বদলে দিতে পারেনি। বছরের শুরুতে নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এরিক বলেছিলেন, প্রায় এক বছর তিনি গাড়িতে থেকেও নিয়মিত স্কুলে গেছেন।   তার ভাষায়, “আমি প্রায় এক বছর গাড়িতে থেকেছি, তারপরও একই সঙ্গে স্কুলে গেছি। এতে আমার লক্ষ্য বদলায়নি। আমি শুধু গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।”   নিজের সংগ্রামের পাশাপাশি অন্য গৃহহীন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও করেছেন তিনি। ওয়াইআনায়ে উপকূল এলাকায় একসময় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গৃহহীন পরিবারগুলোর মধ্যে দান করা সামগ্রী বিতরণ করতেন এরিক।   এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি কিছু মানুষের সহায়তাও পেয়েছেন। তাদের একজন ডিজারি অ্যাডামস, যাকে এরিক নিজের “হানাই আন্টি” বা পালক খালার মতো মনে করেন। হাওয়াই সংস্কৃতিতে “হানাই” বলতে রক্তের সম্পর্ক ছাড়াই পরিবারের মতো ঘনিষ্ঠ কাউকে বোঝানো হয়।   অ্যাডামস জানান, ক্ষুধার্ত অবস্থায় প্রায়ই এরিক তাদের বাড়িতে আসতেন। পরে তিনি এরিককে নিজের পরিবারের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় থাকতে দেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত ছিল—সময় মেনে চলা এবং আবার স্কুলে ফিরে যাওয়া।   ডিজারি অ্যাডামস বলেন, “সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন? আমাকে কি আবার স্কুলে ফিরতে সাহায্য করবেন?’ এরপর আমরা তাকে স্কুলে ভর্তি করাই, কাগজপত্র ঠিক করি এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গেও কাজ করি। তার বাবা-মাও সহযোগিতা করেছিলেন।”   বর্তমানে এরিক “রেসিডেনশিয়াল ইয়ুথ সার্ভিসেস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট” পরিচালিত একটি ট্রানজিশনাল আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তারা যেসব তরুণকে সহায়তা করে তাদের মাত্র অর্ধেক হাইস্কুল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করতে পারে। সেই বাস্তবতায় এরিকের অর্জনকে বিশেষ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ডিজারি অ্যাডামস বলেন, “সে প্রায়ই আমাকে ধন্যবাদ দেয়। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, এই অর্জনের কৃতিত্ব আমার নয়। নিজের জীবন বদলানোর সিদ্ধান্ত সে নিজেই নিয়েছে।”   ডিপ্লোমা হাতে পাওয়ার পর এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন এরিক শুলৎজ। তিনি প্লাম্বিং বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা নিতে ট্রেড স্কুলে ভর্তি হতে চান। পাশাপাশি ওয়াইআনায়ে এলাকার গৃহসংকটে থাকা মানুষদের সহায়তা করার কাজও চালিয়ে যেতে চান। নিজের গল্প অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক—এমন প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন এই তরুণ।   তিনি বলেন, “আমি আশা করি আমার গল্প অন্যদের স্পর্শ করবে। যেন তারা নিজেদের স্কুল বা কমিউনিটিতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ বা অন্য কোনো উদ্যোগ নেয়। মানুষকে সাহায্য করার জন্য যা সম্ভব, সেটাই করুক।”

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ১৭:৪৩
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের বুকে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’, প্রবাসীদের পরিচয় ও উপস্থিতির প্রতীক

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ঠিকানা’

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি’র সঙ্গে পর্দায় জায়েদ খান, প্রবাসীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আসছে নতুন শর্টফিল্ম

২০২৪ সালে নিউইয়র্কে ঈদুল আজহার নামাজের জন্য খোলা মুসল্লিরা । ফাইল ছবি

শতাধিক মসজিদ উদ্যোগ নিউইয়র্কে খোলা মাঠে ঈদুল আজহার নামাজে প্রস্তুতি

দ্বীপে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ে, যোগ দিলেন ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা
বাহামার প্রাইভেট দ্বীপে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ে, যোগ দিলেন ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং পাম বিচের সমাজসেবী ও মডেল বেটিনা অ্যান্ডারসন আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। শনিবার বাহামাসের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে ছোট পরিসরে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয় বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের পাঁচ সন্তান, তার ভাই-বোন ইভাঙ্কা ট্রাম্প, এরিক ট্রাম্প ও টিফানি ট্রাম্প এবং তাদের জীবনসঙ্গীরা। এছাড়া বেটিনা অ্যান্ডারসনের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের আয়োজনের দায়িত্বে ছিল পরিচিত অনুষ্ঠানসজ্জা প্রতিষ্ঠান লুইস মিলার ডিজাইন। বিয়ের কেক তৈরি করে ফ্লোরিডার পাম বিচভিত্তিক বেকারি সুইট স্টেসিস। অতিথিদের জন্য বিশেষ হাতের লেখার নকশায় খাবারের তালিকা তৈরি করেন খ্যাতিমান শিল্পী বার্নার্ড মেইসনার।   প্রথমদিকে এই জুটি হোয়াইট হাউসে বড় আকারের বিয়ের অনুষ্ঠান করার কথা ভাবছিলেন বলে জানা যায়। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা অনুষ্ঠান ছোট পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবুও চলতি বছরের শেষ দিকে বন্ধু ও বৃহৎ পারিবারিক পরিসরে আরও বড় একটি উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছেলের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, সরকারি দায়িত্ব ও ওয়াশিংটনে চলমান গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তার হোয়াইট হাউসেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইরান পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন।   গত ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও বেটিনা অ্যান্ডারসনের বাগদানের খবর প্রথম প্রকাশ করে পেজ সিক্স। পরে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও তাদের বাগদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন।   বেটিনা অ্যান্ডারসন ফ্লোরিডার পাম বিচের পরিচিত সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা হ্যারি লয় অ্যান্ডারসন জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন।   এর আগে এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবে “মায়াবী বাগান” প্রতিপাদ্যে বেটিনা অ্যান্ডারসনের কনেবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ইভাঙ্কা ট্রাম্প, টিফানি ট্রাম্পসহ ট্রাম্প পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ০:২৯
ছবি: সংগৃহীত

আবারও আকাশে ডানা মেলছে ‘প্যান অ্যাম’: এক সময়ের কিংবদন্তি বিমান সংস্থার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছর প্রবাসে বাঙালির শেকড় খোঁজার অনন্য এক ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদনে জয়ের কোটি ডলারের বিবাহবিচ্ছেদের গোপন সমঝোতা নথির তথ্য প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতির আওতায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অধিকাংশ অভিবাসীকে গ্রিন কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করতে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। এতে দেশটিতে বৈধভাবে থাকা হাজারো শিক্ষার্থী, কর্মী, পর্যটক এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) নতুন একটি নির্দেশনা জারি করে। সেখানে বলা হয়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হবে।   এতদিন অনেক অভিবাসী “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারতেন। নতুন নীতির ফলে অধিকাংশ আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করতে হবে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ছাত্র ভিসাধারী, অস্থায়ী কর্মী এবং মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা অভিবাসীদের ওপর। কারণ আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য দেশ ছাড়ার পর অনেকেরই পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ জটিল হয়ে যেতে পারে।   বর্তমানে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কড়াকড়ি রয়েছে। এছাড়া যেসব ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে অনেক ক্ষেত্রে ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।   সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা মাইকেল ভালভার্দে বলেছেন, এই নীতি প্রতি বছর লাখো পরিবার ও নিয়োগদাতার পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তার মতে, “যারা নিয়ম মেনে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন, তাদের জন্যও এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।”   বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএসে কর্মরত সাবেক কর্মকর্তা ডগ র‍্যান্ড বলেন, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ড পান। নতুন পরিবর্তনের ফলে এসব আবেদনকারীর বিশাল অংশ সমস্যায় পড়তে পারেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে এবং বিভিন্ন “ফাঁকফোকর” ব্যবহারের সুযোগ কমে আসবে।   ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কেউ যদি গ্রিন কার্ড চান, তবে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া তাকে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে।”   তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসাধারী, শরণার্থী এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ অভিবাসন আরও সীমিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ১৫:৪৯
সম্মান গ্রহণের মুহূর্তে আফরিন মাহমুদ । ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে স্যালুটেটোরিয়ান বাংলাদেশি আফরিন, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অস্টিনে যাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারে বিশ্বকাপ টিকিট, যেভাবে আবেদন করবেন

আটলান্টা শহরের দৃশ্য | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহরের তালিকায় আবারও আটলান্টা

0 Comments