শ্বশুরবাড়ির প্রশংসা করেও ভারতীদের ভিসা কড়াকড়িতে অনড় জেডি ভ্যান্স
অভিবাসন ইস্যুতে সুর চড়া করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার 'অপব্যবহার' নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তবে এই আলোচনার মাঝেই তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন তার স্ত্রী ঊষা চিলুকুরি ভ্যান্সের বাবা-মাকে, যারা কয়েক দশক আগে ভারত থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন।
ভ্যান্স জানান, তার শ্বশুর-শাশুড়ি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং তারা মার্কিন সমাজ ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে যারা মেধার ভিত্তিতে বৈধভাবে এসেছেন, তাদের সঙ্গে বর্তমানের 'ব্যবস্থা ভাঙা' অভিবাসীদের তুলনা করা চলে না।
তিনি বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালির বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। ভ্যান্সের অভিযোগ, এই কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করে সস্তায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, যা মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা দরকার যা আমেরিকার স্বার্থকে সবার আগে দেখবে।"
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই রানিং মেট আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের শিথিল নীতির কারণে অভিবাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তারা ভিসার নিয়মকানুন আরও কঠোর করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের প্রশংসা এবং একইসঙ্গে অভিবাসন বিরোধী অবস্থান—ভ্যান্সের এই দ্বিমুখী কৌশল মূলত রক্ষণশীল মার্কিন ভোটারদের আশ্বস্ত করার একটি প্রয়াস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বসে ঘরে থেকেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চান এমন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য Amazon হতে পারে একটি সম্ভাব্য ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম। তবে শুরুতেই মনে রাখতে হবে, এটি দ্রুত অর্থ উপার্জনের সহজ কোনো পথ নয়। পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে বাজার যাচাই, পণ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, পণ্য পাঠানো এবং হিসাব পরিচালনা, প্রতিটি ধাপেই পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথম ধাপ হলো কী ধরনের পণ্য বিক্রি করবেন তা ঠিক করা। বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা আছে, কতজন বিক্রেতা একই পণ্য বিক্রি করছেন, পণ্যের বিক্রয়মূল্য কত এবং সব খরচ বাদ দেওয়ার পর সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে, এসব আগে যাচাই করতে হবে। শুধু অন্য কেউ ভালো বিক্রি করছে দেখে একই পণ্য কিনে ব্যবসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এরপর আসে পণ্য সংগ্রহের বিষয়টি। স্থানীয় পাইকার, প্রস্তুতকারক, পরিবেশক অথবা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা যায়। সরবরাহকারী বাছাইয়ের সময় পণ্যের মান, মূল্য, সরবরাহের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিবহন খরচ যাচাই করা জরুরি। কিছু পণ্য অ্যামাজনে বিক্রির আগে নির্দিষ্ট অনুমোদন বা অতিরিক্ত শর্তের আওতায় থাকতে পারে। পণ্য সংগ্রহের পর অ্যামাজনে বিক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন করে পণ্যের তালিকা তৈরি করতে হয়। এতে পণ্যের ছবি, বিবরণ, মূল্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা হয়। এরপর উদ্যোক্তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি নিজে ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠাবেন, নাকি অ্যামাজনের গুদাম ও পণ্য পাঠানোর সেবা ব্যবহার করবেন। অ্যামাজনের পণ্য পূরণ সেবা ব্যবহার করলে আগে থেকেই পণ্য অ্যামাজনের গুদামে পাঠিয়ে রাখা যায়। ক্রেতার অর্ডার আসার পর প্যাকেট তৈরি, পণ্য পাঠানো এবং অনেক ক্ষেত্রে ফেরত পণ্যের ব্যবস্থাপনাও অ্যামাজন পরিচালনা করে। এতে উদ্যোক্তার দৈনন্দিন কাজ কিছুটা কমে, তবে এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফি দিতে হয়। অন্যদিকে নিজে পণ্য পাঠানোর পদ্ধতিতে বাড়িতে পণ্য রেখে অর্ডার পাওয়ার পর প্যাকেট তৈরি করে ক্রেতার কাছে পাঠানো যায়। ব্যবসা শুরুর আগে সব খরচের হিসাব করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য কেনার মূল্য, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, অ্যামাজনের ফি, প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন এবং ফেরত পণ্যের সম্ভাব্য খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ কত থাকবে, তা হিসাব করতে হবে। লাভের হিসাব পরিষ্কার না করে বড় অঙ্কের পণ্য কেনা নতুন উদ্যোক্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অ্যামাজন নতুন বিক্রেতাদের জন্য বিনামূল্যের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে। সেখানে পণ্য তালিকাভুক্ত করা, মূল্য নির্ধারণ, পণ্য পাঠানো, বিজ্ঞাপন, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়। ফলে শুরু করার আগে এসব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া যেতে পারে। সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোট পরিসরে শুরু করা। প্রথমেই বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে একটি বা কয়েকটি পণ্য নিয়ে বাজার পরীক্ষা করা, বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করা তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও সফলতার জন্য প্রয়োজন সঠিক পণ্য নির্বাচন, নির্ভুল হিসাব, নিয়ম মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত
নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাইয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলবে মার্কিন ইমিগ্রেশন, ফিরল ৩৫ বছর আগের নিয়ম
এক সপ্তাহে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত ৭ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার
নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছর বয়সী কিশোর নাকিবুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে ৩১ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরটির কিছু মেডিকেল কন্ডিশন রয়েছে এবং সে তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল অ্যালার্ট অনুযায়ী, নাকিবুলকে সর্বশেষ ৩০ আগস্ট ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে কুইন্সের ১৬৯তম স্ট্রিটে হেঁটে যেতে দেখা যায়। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল স্কাই-ব্লু রঙের শার্টের ওপর কালো হুডযুক্ত সোয়েটশার্ট ও কালো স্যান্ডেল। তার সঙ্গে একটি কালো ব্যাকপ্যাক ছিল। নাকিবুলের জন্ম ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল। তার উচ্চতা ৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ১২০ পাউন্ড। তার চুল কালো এবং চোখ বাদামি। নিউইয়র্ক সিটির অ্যালার্টে তাকে ১৬ বছর বয়সী এশিয়ান কিশোর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, নাকিবুল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এনওয়াইপিডির ১০৩ প্রিসিঙ্কটে ৮০০-৫৭৭-৮৪১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মিসিং চাইল্ড অ্যালার্টে বলা হয়েছে, নাকিবুলের একটি ছবি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। কিশোরটির সন্ধানে কুইন্সের বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং কোনো তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেমের ফাঁদে পড়ে খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: রোমান্স স্ক্যাম নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কতা
৭৬ বছর বয়সী ক্যানসার আক্রান্ত গ্রিন কার্ডধারী দুই মাসের বেশি সময় ধরে আইস ডিটেনশনে
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঝরে গেল চার বাংলাদেশির প্রাণ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সোমবার ডেট্রয়েটের একটি উপশহরে নির্বাচনী সমাবেশে এল-সায়েদকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ বা ‘ভেরি এভিল’ বলে আখ্যা দেন ভ্যান্স। ভ্যান্সের সবচেয়ে কড়া মন্তব্য আসে তার স্ত্রী উষা ভ্যান্সকে ঘিরে এল-সায়েদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে। এল-সায়েদ ভ্যান্সের প্রয়াত দাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু উষাকে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে। এর জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আবদুল, আমার স্ত্রীর নাম মুখে আনার আগে সাবধান হও।’ এরপর আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, উষা তার ‘ধারেকাছেও নেই’। ভ্যান্স অভিযোগ করেন, মুসলিম প্রার্থী এল-সায়েদ নিজের ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি তার সেই সহানুভূতি নেই। তিনি এল-সায়েদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব, শরিয়াহ আইন এবং ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এল-সায়েদের প্রচারণার সঙ্গে রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার হাসান পিকার ঘনিষ্ঠতারও সমালোচনা করেন ভ্যান্স। পিকার ২০১৯ সালের এক লাইভস্ট্রিমে যুক্তরাষ্ট্র ‘৯/১১ হামলার প্রাপ্য ছিল’—এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে ভ্যান্স উল্লেখ করেন। এল-সায়েদ পিকারের ওই মন্তব্যের নিন্দা বা তাকে প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও ভ্যান্স দাবি করেন। ভ্যান্স বলেন, এল-সায়েদ ও পিকারের রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থের পরিবর্তে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থকে অন্য গোষ্ঠীর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার দিকে যাচ্ছে। তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের জবাবে এল-সায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা মন্তব্য করেন। তিনি ভ্যান্সের ‘আমরা বনাম তারা’ ধরনের রাজনীতির সমালোচনাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি মূলত শ্রমজীবী মানুষ বনাম বিলিয়নিয়ার এবং মিশিগান বনাম ওহাইও নিয়ে একই ধরনের বিভাজনের কথা ভাবেন। এর আগে সোমবার ভ্যান্সের মিশিগান সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন এল-সায়েদ। তিনি ওহাইওর বাসিন্দা ভ্যান্সকে মিশিগানে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘মিশিগানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে ওহাইওর জেডি ভ্যান্সের চেয়ে ভালো আর কাকে পাওয়া যায়?’ ভ্যান্স ওই সমাবেশে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সকে সমর্থনের আহ্বান জানান।
মেয়ের জীবনসংগ্রাম নিয়ে বই, নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ফায়ার ফাইটারের ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ প্রকাশিত
রাইড বুক করে পিছন থেকে ১১ বার ছুরিকাঘাত করে গাড়ি ছিনতাই করার অভিযোগ নারীর বিরুদ্ধে