মেয়ের জীবনসংগ্রাম নিয়ে বই, নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ফায়ার ফাইটারের ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ প্রকাশিত
নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) বাংলাদেশি ফায়ার ফাইটার এ টি এম হায়দার খানের লেখা ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছে। ফায়ার ফাইটার হিসেবে মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের মেয়ের জীবনসংগ্রাম ও পরিবারের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা এবার বইয়ের পাতায় তুলে ধরেছেন তিনি।
নোয়াখালীর সন্তান এ টি এম হায়দার খান বর্তমানে নিউইয়র্কে বসবাস ও কর্মরত। পেশাগত জীবনে ফায়ার ফাইটার হিসেবে ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের মেয়ের জীবনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া গভীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো লিখে রাখার উদ্যোগ নেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’।
বইটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি শিশুর জীবনসংগ্রাম। জন্মের পর কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া শিশুটিকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা, ভালোবাসা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও আশাবাদী থাকার গল্প তুলে ধরা হয়েছে এতে। একজন বাবার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা এই অভিজ্ঞতায় সন্তানের প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবারের কঠিন সময় পার করার সংগ্রাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
এ টি এম হায়দার খানের জন্য বইটি শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং নিজের পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংরক্ষণেরও প্রয়াস। ফায়ার ফাইটার হিসেবে প্রতিদিন অন্য মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা একজন বাবার কাছে নিজের সন্তানের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। সেই ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাই বইটির মূল শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
বইটির শিরোনাম ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ও সেই অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অনুভূতিকে ধারণ করে। সন্তানের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যখন পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেই সময়ের ভয়, আশা, ভালোবাসা ও টিকে থাকার গল্পই লেখক পাঠকদের সামনে এনেছেন।
নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিউইয়র্কের ফায়ার ডিপার্টমেন্টে দায়িত্ব পালন এবং পাশাপাশি নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই প্রকাশ করা এ টি এম হায়দার খানের যাত্রায় প্রবাসজীবনের আরেকটি দিকও ফুটে উঠেছে। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের গল্প ও অনুভূতিকে লেখার মাধ্যমে সংরক্ষণ করার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ বর্তমানে অ্যামাজন ও বার্নস অ্যান্ড নোবলের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে। বইটি মূলত একটি বাবার চোখে সন্তানের জীবনসংগ্রাম, পারিবারিক ভালোবাসা এবং কঠিন সময়ের মধ্যেও আশা ধরে রাখার গল্প পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) বাংলাদেশি ফায়ার ফাইটার এ টি এম হায়দার খানের লেখা ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছে। ফায়ার ফাইটার হিসেবে মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের মেয়ের জীবনসংগ্রাম ও পরিবারের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা এবার বইয়ের পাতায় তুলে ধরেছেন তিনি। নোয়াখালীর সন্তান এ টি এম হায়দার খান বর্তমানে নিউইয়র্কে বসবাস ও কর্মরত। পেশাগত জীবনে ফায়ার ফাইটার হিসেবে ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের মেয়ের জীবনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া গভীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো লিখে রাখার উদ্যোগ নেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’। বইটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি শিশুর জীবনসংগ্রাম। জন্মের পর কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া শিশুটিকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা, ভালোবাসা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও আশাবাদী থাকার গল্প তুলে ধরা হয়েছে এতে। একজন বাবার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা এই অভিজ্ঞতায় সন্তানের প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবারের কঠিন সময় পার করার সংগ্রাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এ টি এম হায়দার খানের জন্য বইটি শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং নিজের পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংরক্ষণেরও প্রয়াস। ফায়ার ফাইটার হিসেবে প্রতিদিন অন্য মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা একজন বাবার কাছে নিজের সন্তানের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। সেই ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাই বইটির মূল শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। বইটির শিরোনাম ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ও সেই অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অনুভূতিকে ধারণ করে। সন্তানের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যখন পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেই সময়ের ভয়, আশা, ভালোবাসা ও টিকে থাকার গল্পই লেখক পাঠকদের সামনে এনেছেন। নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিউইয়র্কের ফায়ার ডিপার্টমেন্টে দায়িত্ব পালন এবং পাশাপাশি নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই প্রকাশ করা এ টি এম হায়দার খানের যাত্রায় প্রবাসজীবনের আরেকটি দিকও ফুটে উঠেছে। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের গল্প ও অনুভূতিকে লেখার মাধ্যমে সংরক্ষণ করার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ বর্তমানে অ্যামাজন ও বার্নস অ্যান্ড নোবলের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে। বইটি মূলত একটি বাবার চোখে সন্তানের জীবনসংগ্রাম, পারিবারিক ভালোবাসা এবং কঠিন সময়ের মধ্যেও আশা ধরে রাখার গল্প পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে।
রাইড বুক করে পিছন থেকে ১১ বার ছুরিকাঘাত করে গাড়ি ছিনতাই করার অভিযোগ নারীর বিরুদ্ধে
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি তদন্তে বড় অভিযান, ক্যালিফোর্নিয়াসহ টার্গেটে ৯ অঙ্গরাজ্য
‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’—কর্ণাটকের মন্ত্রীর মন্তব্যে পদত্যাগ দাবি বিজেপির
ফ্লোরিডায় মাত্র পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে ১৬৩ জন নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৭ থেকে ২১ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড’ নামের এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ২ মাস থেকে ১৭ বছর। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট বা এফডিএলই বলছে, অনেক শিশু নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংস্পর্শে ছিল। এফডিএলইর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ফ্লোরিডার প্রথম রাজ্য নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় শিশু উদ্ধারের অভিযান। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করা, তাদের অবস্থান খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। অভিযানে ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে টাম্পা বে অঞ্চলে ৪৬ জন, মায়ামিতে ৪১ জন, জ্যাকসনভিলে ৩২ জন, অরল্যান্ডোতে ২১ জন, ফোর্ট মায়ার্সে ১২ জন, পেনসাকোলায় ৮ জন এবং তালাহাসি অঞ্চলে ৩ জন রয়েছে। এর বাইরে আরও শিশু যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্য, একটি ইউএস টেরিটরি এবং ১২টি দেশে শনাক্ত ও উদ্ধার হয়েছে। তবে এই ১৬৩ শিশুকে একই জায়গা থেকে বা একই ধরনের কোনো অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। এফডিএলই জানিয়েছে, অভিযানটি রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন নিখোঁজ শিশুর পৃথক কেস অনুসরণ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে তাদের খুঁজে বের করে। উদ্ধারের পর যেসব শিশুর তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল, তাদের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্ধারিত রিকভারি হাবে নিয়ে যায়। সেখানে সোশ্যাল সার্ভিসেস, শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল প্রোভাইডার, ভিকটিম অ্যাডভোকেটসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এবং ডিপার্টমেন্ট অব জুভেনাইল জাস্টিস শিশুদের কাস্টডি হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেক শিশুই বিভিন্ন মাত্রার নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে ছিল। তবে ১৬৩ শিশুর সবাই অপহরণের শিকার ছিল, এমন তথ্য কর্তৃপক্ষ দেয়নি। প্রতিটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার কারণ ও পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অভিযান থেকে তিনটি ফেলোনি মামলা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের স্টেটওয়াইড প্রসিকিউশন বিভাগ এবং মায়ামি-ডেড স্টেট অ্যাটর্নির অফিস এসব মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছে। এফডিএলই জানিয়েছে, শিশুদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার বলেছেন, অনেক শিশুই এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা দুর্বল শিশুদের লক্ষ্য করে। এ ধরনের শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাঁচ দিনের অভিযানে ১৬৩ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ফ্লোরিডায় নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা এবং নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্তে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের গুরুত্বও সামনে এসেছে।
মার্কিন বিচারকের রায়ে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক ধসের ১৭১ কোটি ডলারের দাবি খারিজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসে অভিবাসন জালিয়াতি, জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত
বেসবল খেলতে খেলতেই বুকে-পিঠে তীব্র ব্যথা, ১১ বছরের শিশুর বিরল রোগ শনাক্ত
ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মসনদ পাওয়ার সুযোগ দিতে নতুন একটি আইন পাসের দাবি উঠেছে। বর্তমানে দত্তক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাজ্য তাদের জন্মসনদ সিল করে রাখে। এই অবস্থায় নিজেদের জন্মপরিচয় জানার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা। এই দাবির পক্ষে কথা বলেছেন ৬৩ বছর বয়সী পল কিমবল। তিনি জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ফোর্ট ব্র্যাগে জন্মের পর তাকে অন্য একটি নাম দেওয়া হয়েছিল। জীবদ্দশায় নিজের জন্মসনদ দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কিমবল এক বছর বয়সে দত্তক নেওয়া হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দত্তক পরিবারের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। তারপরও নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়াকে তিনি নিজের পরিচয় সম্পর্কে পূর্ণতার অনুভূতির সঙ্গে দেখছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সেও নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথির ওপর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রায় একশ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের জন্মসনদ সিল করে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল জন্মদাতা মায়েদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা। তবে বর্তমানে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মপরিচয় ও জৈবিক সম্পর্ক জানার সুযোগ দেওয়ার দাবি সামনে এসেছে। কিমবলসহ অন্য সমর্থকেরা প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যদিও বিলটির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা নেই, রাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যারোলিন মেনজিভার জন্মদাতা মায়েদের সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, যেসব জন্মদাতা মা সন্তানকে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা হয়তো প্রকাশ্যে এসে বিলটির বিরোধিতা করতে চাইবেন না। বিলটির সমর্থকেরা আরও বলেছেন, বর্তমানে বংশপরিচয় অনুসন্ধানের জন্য বংশগত পরীক্ষা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা সরকারি নথি ছাড়াও তাদের জৈবিক আত্মীয়দের খুঁজে পেতে পারেন। তবে কিমবলের মতে, নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়ার গুরুত্ব আলাদা। এদিকে প্রস্তাবিত আইনটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে পাস হয়নি। আইনসভার নেতারা বিলটিকে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভোটের জন্য তুলছেন না। ফলে চলতি অধিবেশনে এর অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিমবল আশা করছেন, আগামী আইনসভা অধিবেশনে অন্য কোনো আইনপ্রণেতা বিলটি গ্রহণ করে এগিয়ে নেবেন। এতে তার মতো দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।
লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চড়া খরচের আশঙ্কা!
সনি মিউজিকের সঙ্গে ১৮ মিলিয়ন ডলারের রয়্যালটি বিরোধ মিটল, মামলা প্রত্যাহার জারমেইন ডুপ্রির