আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের New York অঙ্গরাজ্যের Buffalo শহরে ৫৬ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার গ্রেফতারের সময় ধারণ করা পুলিশের বডি-ক্যাম ফুটেজে তাকে কালেমা পাঠ করতে শোনা গেছে- যা প্রকাশের পর কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে বাফেলোর ডাউনটাউন এলাকার পেরি স্ট্রিট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কয়েকদিন আগেই তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। কমিউনিটির অভিযোগ, মুক্তির পর তাকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একটি বন্ধ দোকানের সামনে রেখে যাওয়া হয়।
প্রকাশিত বডি-ক্যাম ফুটেজ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট এলাকায় সন্দেহজনক উপস্থিতির অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে নুরুল আমিন শাহ আলমকে শনাক্ত করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাতে একটি সরু রড বা লাঠিসদৃশ বস্তু ছিল এবং পুলিশ বারবার সেটি ফেলে দিতে নির্দেশ দিচ্ছিল।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তারা টেজার ব্যবহার করেন। পরে তাকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরানো হয়। ধস্তাধস্তির মাঝেই তাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” পাঠ করতে শোনা যায়। একই সময়ে তাকে ইংরেজিতে “I can’t breathe” বলতেও শোনা যায়।
পুলিশের দাবি, তিনি গ্রেফতারের সময় প্রতিরোধ করেছিলেন এবং দুই কর্মকর্তাকে কামড় দেন। তবে তার আইনজীবী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, শাহ আলম ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন এবং ভাষাগত সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে তার বিরুদ্ধে হামলা ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়। আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে এরি কাউন্টি হোল্ডিং সেন্টারে নেওয়ার পর U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইস) তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করে।
জেল থেকে মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তারা পুরো ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি হালনাগাদ করা হবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে অবশেষে মার্কিন আইন প্রণেতাদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। একটি বিশেষ রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে তিনি এই বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে নিজের জবানবন্দি দেবেন। ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর ক্লিনটনই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি কংগ্রেস প্যানেলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এর আগে একই কমিটির কাছে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা ধরে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সাক্ষ্যদানকালে হিলারি দাবি করেন, এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তবে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটিকে তিনি ‘পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক থিয়েটার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টিনের ব্যক্তিগত নথিপত্রে বিল ক্লিনটনের ছবি পাওয়া যাওয়ার পর থেকেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। এর আগে ক্লিনটন নিজেও এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। এখন তদন্ত কমিটির জেরায় কোন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচার ও শত্রুপক্ষকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে দেশটির বিমান বাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরাল্ড এডি ব্রাউন জুনিয়র (৬৫) নামের ওই ব্যক্তি এক সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ইনস্ট্রাক্টর বা প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের জেফারসনভিল থেকে তাকে হেফাজতে নেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কলম্বিয়া ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্রাউনের বিরুদ্ধে 'আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট' লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ারফোর্স (PLAAF)-এর পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, ব্রাউন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীন সফরে যান এবং চলতি মাসের শুরু পর্যন্ত সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন। চীনে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই তিনি মার্কিন বিমান বাহিনী সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন এবং পরবর্তীতে চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে ব্রিফিং প্রদান করেন। এ বিষয়ে এফবিআই-এর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জেমস বারনাকল বলেন, "ব্রাউনের এই বিশ্বাসঘাতকতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীল সামরিক কৌশলগুলোকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা আমাদের দেশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।" কর্মজীবন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জেরাল্ড ব্রাউন মার্কিন বিমান বাহিনীতে ২৪ বছর সেবা দিয়ে ১৯৯৬ সালে মেজর হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি এফ-৪ ফ্যান্টম, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান চালিয়েছেন। অবসরের পর তিনি দুটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে এফ-৩৫ লাইটনিং-২ এবং এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফটের সিমুলেটর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ব্রাউন একজন সহ-ষড়যন্ত্রকারীর মাধ্যমে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এই সহ-ষড়যন্ত্রকারী স্টিফেন সু বিন নামের এক চীনা নাগরিকের সংস্পর্শে ছিলেন, যিনি ২০১৬ সালে মার্কিন সামরিক তথ্য চুরির অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বর্তমানে ব্রাউনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র নাকি “নিষিদ্ধ সাইট দেখানোর জন্য” একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করতে যাচ্ছে। এমন দাবিতে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো এমন দেশগুলোর মানুষের কাছে তথ্যপ্রবাহ সহজ করা, যেখানে কিছু অনলাইন কনটেন্ট সরকারিভাবে সীমিত বা ব্লক করা হয়। এই উদ্যোগকে তারা ইন্টারনেট স্বাধীনতা ও উন্মুক্ত তথ্যপ্রাপ্তির নীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনগুলো বলছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ বা অবৈধ ওয়েবসাইট দেখার কোনো সরকারি ব্যবস্থা নয়। বরং বিদেশে বসবাসকারী ব্যবহারকারীদের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরির ধারণা নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে তারা নিজেদের দেশে সীমাবদ্ধ থাকা কিছু আন্তর্জাতিক তথ্য বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন। এখনো এই প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি; এটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত কাঠামো বা কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছু বিতর্কও দেখা দিয়েছে। কয়েকটি দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তাদের নিজস্ব অনলাইন নীতিমালা বা কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগের সংঘাত তৈরি হতে পারে। ফলে এটি কেবল প্রযুক্তিগত কোনো উদ্যোগ নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যনিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় নীতির মধ্যকার একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে “নিষিদ্ধ সাইট দেখানোর উদ্যোগ” হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তা নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল স্বাধীনতা নিয়ে চলমান নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন।