হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে দেশটির প্রধান তেল অবকাঠামো হাব ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্প এই কৌশলগত দ্বীপে সরাসরি আঘাত হানার হুমকিও দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে খারগ দ্বীপে একটি বড় ধরনের সূক্ষ্ম লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ পরিচালিত ওই অভিযানে তেল অবকাঠামোর ক্ষতি না করেই দ্বীপের ভেতরে থাকা ৯০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার বাঙ্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
তেল সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, খারগ দ্বীপ অবরোধ বা দখল করলে ইরান চাপের মুখে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের আধিপত্য কমাতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে নিজের তিনটি সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সি অবশেষে আদালতের শুনানিতে নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত ট্রায়ালের আগে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে তার আইনজীবী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্লাইমাউথ আদালতের শুনানিতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে হুইলচেয়ারে করে হাজির করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে গুরুতর আহত হয়ে প্যারালাইজড হয়ে যান তিনি। বর্তমানে তিনি একটি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক নার্সদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সেখান থেকেই তাকে দীর্ঘ ৬৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আদালতে আনা হয়। মামলার বিবরণ ও প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এক শীতকালীন রাতে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যাঞ্চি যখন পরিবারের জন্য রাতের খাবার আনতে বাইরে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগে লিন্ডসে ঘরে থাকা তার তিন সন্তানকে হত্যা করেন। শুনানি শেষে লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন সাংবাদিকদের বলেন, "সে নিজের অপরাধের সম্পূর্ণ দায় নিয়েছে এবং এটি স্বীকার করেছে। সে কোনো কিছু থেকে পালিয়ে যাচ্ছে না। পুরো ঘটনাটি একটি চরম ট্র্যাজেডি।" আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়ে ডিফেন্স আইনজীবী আরও জানান, সেই রাতে বাচ্চাদের মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল তা নিয়ে কোনো পক্ষেরই দ্বিমত নেই, তবে মূল বিতর্ক হচ্ছে কেন এটি ঘটেছিল। বিবাদী পক্ষ লিন্ডসের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আদালতে তুলে ধরবে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে সন্তান জন্মদানের পরবর্তী মারাত্মক মানসিক সমস্যার (Postpartum Mental Health Issues) কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডগুলো সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এদিকে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, নিহত তিন শিশুর বাবা এবং লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি এই ট্রায়ালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দেবেন। একই সঙ্গে প্যাট্রিকের করা সেই ভয়াবহ ৯১১ জরুরি কলটির অডিও রেকর্ড জুরিদের সামনে বাজানোর অনুমতি চেয়েছেন তারা, যেখানে তিনি ঘরে ফিরে বাচ্চাদের নিথর দেহ আবিষ্কার করেছিলেন। বিচারক সালিভান পুরো অডিওটি নিজে শুনে চূড়ান্ত ট্রায়ালে তা বাজানোর অনুমতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শুনানিতে লিন্ডসের বাবা-মা এবং বোনের আদালতে উপস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। এছাড়া লিন্ডসের সেই সাবেক বাড়ির বর্তমান মালিক জুরিদের অপরাধস্থল পরিদর্শনে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানালেও বিচারক তা নাকচ করে দেন এবং ট্রায়ালের সময় জুরিদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি দেন। আগামী ১৩ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং ২০ জুলাই জুরি নির্বাচনের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে পরবর্তী চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের অভিযোগ—এলাকার স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়া বাড়িগুলো (শর্ট-টার্ম রেন্টাল) প্রতিনিয়ত গভীর রাতে আশেপাশের পাড়া-মহল্লায় বিশৃঙ্খলা এবং অশান্তি ডেকে আনছে। গত সপ্তাহান্তে এজউড এলাকায় এমনই এক ভাড়া বাড়িতে কয়েক ডজন কিশোর-কিশোরী জড়ো হয়ে এক বিশাল পার্টির আয়োজন করে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই হট্টগোলের পর পুলিশ গিয়ে পার্টিটি ভেঙে দেয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তারা চলে গেছে। তবুও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি—এই ধরনের ঝামেলা এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই বাড়ির ঠিক পাশেই থাকা ট্যামি ওয়াশবার্ন বলেন, "আমি তাদের সরাসরি বলেছি যে অনেক হয়েছে, এবার এই বাচ্চাদের এখান থেকে বিদায় করো। কারণ তখন রাত প্রায় একটা বাজতে চলেছিল।" তিনি জানান, শনিবার রাতে প্রায় ৫০ জনের মতো কিশোর-কিশোরী তার পুরো রাস্তা জুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা প্রতিবেশীদের লনে মলমূত্র ত্যাগ করে এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলে চারপাশ নোংরা করে দেয়। রিভার ওকস সিভিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টেড ইনসেরা বলেন, "ভাড়াটিয়াদের এমন আচরণ পুরো এলাকার মানুষের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা। অনিয়ন্ত্রিত ভাড়াটেদের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।" সিভিক অ্যাসোসিয়েশনের এক বৈঠকে কোড এনফোর্সমেন্ট অফিসাররা জানান, ফোর্ট লডারডেলে এমন একটি অভিযোগ ব্যবস্থা রয়েছে যার মাধ্যমে তিনটি নিয়ম লঙ্ঘনের পর ওই শর্ট-টার্ম রেন্টাল বাড়ির লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত করা যেতে পারে। তবে বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, শুধু সরকারি নিয়মই যথেষ্ট নয়, বাড়ির মালিকদেরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত। টেড ইনসেরা আরও যোগ করেন, "মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো তদারকি নেই। মনে হচ্ছে, টাকা পেলেই তারা যে কাউকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছে।" এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিবিএস নিউজ মিয়ামির পক্ষ থেকে বাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। তবে ফোর্ট লডারডেল পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, স্বয়ং বাড়ির মালিকই পার্টি ভাঙার জন্য শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রতিবেশীরা জানান, এটি একটি জন্মদিনের পার্টি ছিল। তবে অতিষ্ঠ প্রতিবেশী ট্যামি ওয়াশবার্নের সাফ কথা, "তার জন্মদিনের পার্টি নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। আমি শুধু একটু শান্তি আর নীরবতা চেয়েছিলাম।"
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার সামর্থ্যের বিচারে ২০২৬ সালের সেরা রাজ্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইন্ডিয়ানা। অন্যদিকে উচ্চমূল্য, জমির সংকট এবং ধীরগতির নির্মাণ কার্যক্রমের কারণে তালিকার একেবারে নিচে অবস্থান করছে নিউইয়র্ক। সম্প্রতি প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের ‘স্টেট হাউজিং রিপোর্ট কার্ড’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরে রেখেছে। বিপরীতে উপকূলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য এখনও উচ্চমূল্য ও আবাসন সংকটের চাপে পিছিয়ে রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আবাসন খাতে সামগ্রিক মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ইন্ডিয়ানা। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে উঠে তারা প্রথম হয়েছে। ২০২৫ সালে শীর্ষে থাকা সাউথ ক্যারোলাইনা এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ানার সাফল্যের মূল কারণ হলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং নতুন আবাসন নির্মাণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। রাজ্যটিতে একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে গড়ে একটি পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, যা আবাসন সামর্থ্যের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মধ্যেই রয়েছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার বলেন, এবারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে পরিচিত আঞ্চলিক বৈষম্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু রাজ্যের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনও দেখা গেছে। রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ৫০টি রাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে দুটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর একটি হলো বাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং অন্যটি নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি। প্রতিটি সূচক মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ করে প্রভাব ফেলেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইওয়া এবং তৃতীয় স্থানে সাউথ ক্যারোলাইনা। আইওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি পরিবারকে মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে তাদের আয়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ব্যয় করতে হয়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাস। নতুন বাড়ি নির্মাণে দেশটির মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় রাজ্য হলেও বাড়ির মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সামর্থ্যের সূচকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনা। এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে ডেলাওয়্যার। গত বছরের তুলনায় ১২ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি। একইভাবে ইউটাহও ১২ ধাপ উন্নতি করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নতুন বাড়ির প্রতিযোগিতামূলক মূল্য তাদের এই অগ্রগতির প্রধান কারণ। অন্যদিকে আলাবামা, মেরিল্যান্ড, নিউ জার্সি, লুইজিয়ানা ও উইসকনসিনের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রাজ্যে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়াই তাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক। মাত্র ৮ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যটি ‘এফ’ গ্রেড অর্জন করেছে। অত্যন্ত উচ্চ আবাসন মূল্য, সীমিত নতুন নির্মাণ এবং ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার কম সুযোগ এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের পাশাপাশি ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়াও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণ করা। বিশেষ করে উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে কঠোর ভূমি ব্যবহার নীতি, সীমিত জমি এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া আবাসন সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে ইন্ডিয়ানার মতো কিছু রাজ্য দেখিয়ে দিয়েছে, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং নির্মাণ খাতকে উৎসাহ দেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া এখনও সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা এখন অনেকটাই নির্ভর করবে কোন রাজ্য দ্রুত নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে পারে এবং একই সঙ্গে সেগুলোকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারে তার ওপর।