যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা। আগামী রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, আটলান্টার লিলবার্ন শহরের বার্কমার হাই স্কুল প্রাঙ্গণ (৪০৫ প্লেজেন্ট হিল রোড, লিলবার্ন, জিপ-৩০০৪৭)-এ দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ এবং বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে থাকছে বৈশাখী মেলার বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্টল, দেশীয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্পসহ নানা আয়োজন। শিশু ও পরিবারদের জন্য থাকবে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা, যা পুরো অনুষ্ঠানকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
এছাড়াও, আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত ও প্রবাসী শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করবেন।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যদের এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে বাঙালিয়ানার এই মিলনমেলাকে সফল করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দেশ থেকে দূরে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দকে একসাথে ধারণ করার এই আয়োজন প্রবাসীদের হৃদয়ে নিয়ে আসবে এক টুকরো বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যান্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) ৪০তম কনভেনশন ২০২৬-এ যোগদানের সম্মতি দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ২০ মে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে ফোবানা লস অ্যান্জেলেস কনভেনশন ২০২৬ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সম্মতি দেন। সাক্ষাৎকালে লস অ্যান্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী, কালচারাল সেক্রেটারি শহীদ আহমেদ মিঠু এবং সাবেক ফোবানা চেয়ারম্যান ও বর্তমান মেম্বারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান রেহান রেজা মন্ত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে বিএনপি’র সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কনভেনশনে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছেন হোস্ট কমিটির কর্মকর্তারা। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হলিউডে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ফোবানার ৪০তম কনভেনশন। উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালিদের বৃহত্তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফোবানার এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। লস অ্যান্জেলেসের ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে আয়োজিত এবারের কনভেনশন ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি তারকা শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, নেটওয়ার্কিং, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা কর্মশালা, বইমেলা, কাব্যজলসা, সাহিত্য ও কবিতা আসর, ইয়ুথ ও যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ ও সংস্কৃতিবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট ও ফ্যাশন শো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফোবানা স্কলারশিপ প্রদানসহ নানা আয়োজন। এবারের ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। আয়োজক কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, ডেপুটি কনভেনর হাবিব আহমেদ টিয়া, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল, প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ড. মুশফিকুল হক, কালচারাল সেক্রেটারি শহীদ আহমেদ মিঠু, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশনস চেয়ারম্যান সাংবাদিক লস্কর আল মামুন, স্টল ও বুথ চেয়ারম্যান শওকত আনজিমসহ বিভিন্ন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ফোবানা নির্বাহী কমিটির রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এন্থনি পিউস গোমেজ, কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন দুলাল, নির্বাহী সদস্য কাজী নাহিদ এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রিয়লাল কর্মকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্মেলন সফলে কাজ করছেন ।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন সময় প্রকাশনের প্রকাশক। ভিসাজটিলতা পেরিয়ে ২০০৬ সালে প্রথমবার এই বইমেলায় পা রেখেই প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। এবার ৩৫তম আসরের প্রাক্কালে সেই স্মৃতি ও অনুভূতির কথা লিখেছেন তিনি। ২০০২ সালে প্রথম চেষ্টায় ভিসা মেলেনি। ২০০৫ সালে আবেদন করলেও নিরাপত্তা যাচাইয়ের জটিলতায় সেবারও আমেরিকা যাওয়া হয়নি। অবশেষে ২০০৬ সালে বইমেলার আমন্ত্রণপত্রের সুবাদে প্রথম পা রাখেন নিউইয়র্কে। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী তানি আহমেদ, লেখক আনিসুল হক ও প্রকাশক মনিরুল হক। ছোট আয়োজনে আন্তরিকতার সেই অভিজ্ঞতা আজও ভোলেননি তিনি। বইমেলাটির সূচনা থেকেই ঢাকার প্রকাশকদের যুক্ত করতে নিরলস কাজ করেছেন প্রবাসী উদ্যোক্তা বিশ্বজিত সাহা। সেই সময়ে পোস্ট অফিসের চিঠি আর ট্রাংক কলে যোগাযোগ রেখে তিনি প্রকাশকদের অনুপ্রাণিত করে গেছেন। আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার পরদিনই পরবর্তী ফ্লাইট ধরে ঢাকায় ছুটে এসেছিলেন, এমনই দেশপ্রেম ছিল তাঁর। ২০০৬ সালে মাত্র দুটি প্রকাশনা সংস্থা সরাসরি ঢাকা থেকে অংশ নিয়েছিল। পরের বছরগুলোয় সেই সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। অনেক লেখক ও প্রকাশক বইমেলাকে উপলক্ষ করে আমেরিকা সফর করেছেন, কেউ কেউ সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন। ২০০৭ সালে 'বাঙলা উৎসব' সাবটাইটেল যুক্ত হয়ে বইমেলাটি নতুন মাত্রা পায়। পরে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপান্তরিত হয়ে এটি এখন সারা বিশ্বের বাংলাভাষীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রবাসে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই বইমেলা দেখে দেখে বড় হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলা বই ও সংস্কৃতির বীজ বপনে বইমেলার ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মনে করেন এই প্রকাশক। ঢাকার অমর একুশে বইমেলা যখন জৌলুস হারাচ্ছে, তখন নিউইয়র্কের এই বইমেলা দিন দিন আরও উজ্জ্বল হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ৩৫তম আসরে এসে এই বইমেলা এখন পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক এক উৎসব, যা কেবল প্রবাসীদের নয়, গোটা বাঙালি জাতির গর্বের সম্পদ বলে মনে করেন তিনি।
আটলান্টা: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা খাতে কাজের সুযোগ নিয়ে এসেছে জর্জিয়াভিত্তিক বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান “আরসিয়াস সিকিউরিটি সার্ভিসেস”। প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র (আর্মড) ও নিরস্ত্র (আনআর্মড) সিকিউরিটি অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিকিউরিটি পেশায় কাজ করতে আগ্রহী যেকোনো পূর্ণবয়স্ক বাংলাদেশি এই চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফুল-টাইম ও পার্ট-টাইম—উভয় ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের জন্য ফ্লেক্সিবল কর্মঘণ্টার সুবিধাও রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মূলত বৃহৎ আটলান্টা এলাকাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। আটলান্টা শহর ও এর আশপাশের প্রায় ১০০ মাইল এলাকার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সিকিউরিটি অফিসারদের কাজের সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের আবেদন করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সিকিউরিটি অফিসারের লাইসেন্স অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সিকিউরিটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থী, নতুন অভিবাসী কিংবা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ খুঁজছেন—এমন অনেকের জন্য এই চাকরি একটি ভালো সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে সিকিউরিটি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য আর্মড ও আনআর্মড—দুই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকছে। আগ্রহী প্রার্থীদের সিভি পাঠাতে বলা হয়েছে নিচের ইমেইলে: info@arseasguards.com এছাড়া সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে নিচের নম্বরে: (৩৫২) ৮০৪-১০০২ (৪০৪) ৯৯৬-৪৩৪৬