প্রতিরক্ষা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করল ইরান। যুদ্ধের শুরুতেই তারা জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রধান রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলার ফলে জর্ডানসহ পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা বলয়ে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি বা ‘ফাঁক’ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এএন/টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) রাডারটির অচল হয়ে পড়া এই সংঘাতে ইরানের অন্যতম সফল এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর সামরিক বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রবস্ট জানিয়েছেন, থাড রাডারের ওপর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা। যদিও মার্কিন বাহিনীর কাছে বিকল্প রাডার রয়েছে, তবে থাডের মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থার প্রধান সেন্সরটি হারিয়ে ফেলায় এখন আকাশ সুরক্ষার গুরুভার একা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর এসে পড়েছে। সিএনএন-এর প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাড ইউনিটের রাডার ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চের হামলাগুলো প্রতিহত করার দাবি করা হলেও পরে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা সামনে আসে।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরনের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি থাড রাডার অচল হওয়া মানে হলো উচ্চ উচ্চতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যাওয়া, যা যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা মজবুত করতে বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ করছে পেন্টাগন। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানিয়েছেন, সিউলে মোতায়েন থাকা কিছু মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই সুপরিকল্পিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও তাদের প্রতিরক্ষা বলয়ের সক্ষমতাকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও সংঘাতের মধ্যে ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো আগেভাগে শনাক্ত করতে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে মস্কো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ ফাইটার জেট এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইরান মূলত রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ (S-400) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রেজোনেন্স-এনই (Rezonans-NE) রাডারের ওপর নির্ভর করছে। রাশিয়ার এই প্রযুক্তিগত সহায়তা ইসরায়েলের গোপন ও অতর্কিত হামলার সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শুধু রাশিয়া নয়, চীনও ইরানকে তাদের 'বেইদু-৩' (BeiDou-3) নেভিগেশন সিস্টেমের মাধ্যমে উচ্চ-তীব্রতার জ্যামিং-প্রতিরোধী সিগন্যাল দিয়ে সহায়তা করছে। এর ফলে মার্কিন জিপিএস (GPS) ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করেই ইরান তার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের ড্রোন সরবরাহের বিনিময়ে রাশিয়া এখন ইরানকে কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে প্রতিদান দিচ্ছে। মস্কো ও তেহরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক জোট মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আধিপত্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার এই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে, মস্কো বা তেহরান এখন পর্যন্ত এই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে উভয় দেশই বারবার একে অপরের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
প্রবল উত্তেজনা এবং চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আগামী রবিবার, ৮ মার্চ থেকে তেহরান প্রদেশের সমস্ত মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং নির্বাহী প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মাত্র ২০ শতাংশ কর্মী সশরীরে অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ পরিচালনা করবেন। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এই বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে: নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: তেহরান প্রদেশের সকল নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী বর্তমানে সশরীরে অফিসে আসার পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে 'রিমোট ওয়ার্ক' বা দূরবর্তী অবস্থান থেকে কাজ করবেন। ব্যাংকিং সেবা: জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক খোলা রাখা হবে। জরুরি সেবা সংস্থাসমূহ: জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপারেশনাল ইউনিটগুলো এই ২০ শতাংশের সীমাবদ্ধতার আওতামুক্ত থাকবে। ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি: প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তেহরান প্রদেশের সকল স্তরের ব্যবস্থাপক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যে হামলা চালানো হয়েছে, তার পাল্টা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই প্রশাসনিক এই সচলতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রাথমিক খরচ ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় কেবল মার্কিন করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। 'সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেস' (CAP) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ পর্যন্ত "অপারেশন এপিক ফিউরি" (Operation Epic Fury)-এর প্রাথমিক খরচ ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই খরচের মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর আক্রমণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যয়। তবে কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত খরচ এর চেয়েও অনেক বেশি। তাদের দাবি, কাতারে ধ্বংস হওয়া ১.১ বিলিয়ন ডলারের রাডার সিস্টেম এবং শত শত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহারের খরচ এখনও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিটি প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। এই যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার গ্রুপ এবং ২০০-এর বেশি যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডলার ব্যয় হচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিপক্ষে। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও সমর্থন কমতে শুরু করেছে, কারণ যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (Pentagon) যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের জন্য আরও ৫০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ যখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট, তখন লকহিড মার্টিন ও নর্থরোপ গ্রুমম্যানের মতো বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। শেয়ার বাজারে প্রতিরক্ষা খাতের এই উল্লম্ফনকে বিশ্লেষকরা "যুদ্ধ থেকে মুনাফা" হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে বেশি জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ইরান যুদ্ধ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিশ্বকে, যেখানে অর্থনীতির চেয়ে সামরিক দম্ভকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।