বিশ্ব

১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১:১২
১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন
১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন

ইরানের জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফলাফল।

 

সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, “জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত হয়েছে।”

 

তিনি জানান, এই ১২ বিলিয়ন ডলার মূলত ৬ বিলিয়ন ডলারের দুটি পৃথক অংশ নিয়ে গঠিত, যা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান যে বড় অর্জনগুলো নিশ্চিত করেছে, এই অর্থ ছাড় তার অন্যতম।

 

চুক্তির অংশ হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গালিবাফ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, বীমা এবং পরিবহন খাতেও এই শিথিলতার প্রভাব পড়বে।

 

গালিবাফের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এটি সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপসহকারী সচিব হেনরি এংশার এই পরিস্থিতিকে চুক্তির বাস্তবায়নের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দুই পক্ষই এখন এমন একটি অবস্থান তুলে ধরতে চায়, যাতে বোঝায় তারা আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বা অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।”

 

তার মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। “অর্থপ্রবাহ শুরু হওয়া এবং তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা—এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক,” বলেন তিনি।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন ও তেহরান একদিকে দ্রুত কিছু বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সম্পদ বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি সেই জটিল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: যুদ্ধ থামল, লাভের পাল্লা কার দিকে?

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ১৪ দফার এই স্মারকলিপি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ভার্সাইতেই স্বাক্ষরিত হয়েছে।   চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে আরও বাড়ানো যেতে পারে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ৬০ দিনের জন্য টোল-মুক্ত নিরাপদ পথ নিশ্চিত করবে।   সমঝোতার সবচেয়ে আলোচিত অংশ অর্থনৈতিক প্যাকেজ। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের নিষ্পত্তি আইএইএর তত্ত্বাবধানে হবে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।   চুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী চালু রাখা সম্ভব হতো না এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধাক্কা লাগতে পারত। যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর প্রভাব ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছিল, এমনকি তার সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যেও।   চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। ফলে জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়তে থাকা জনমতের চাপের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   তবে এই সমঝোতা নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের জেসিপিওএ পরমাণু চুক্তিকে ‘সবচেয়ে খারাপ চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহারও করেন। কিন্তু নতুন এই কাঠামোগত সমঝোতায় ইরানকে দেওয়া সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা আগের চুক্তির তুলনায় বেশি বলে সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করছে।   ইরান চুক্তিটিকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ইরান এই চুক্তিকে একটি বিজয় হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে একে একটি ঐতিহাসিক দলিল আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি শক্তিশালী ইরানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিও স্মারকলিপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিমায়িত সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনা এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি, যা দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।   চুক্তিতে ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়। ফলে দেশটির পক্ষ থেকে সমালোচনাও প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের সমালোচনার জবাবে বলেন, “ট্রাম্পই বিশ্বে তোমাদের একমাত্র মিত্র যিনি বাকি আছেন।” তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি রয়েছে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ও ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা একমত। তবে একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারেরও কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষও যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলমান।   বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মূল চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া সত্ত্বেও এসব প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকায় তেল আবিবের অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চুক্তিটি বিভাজন তৈরি করেছে। সমালোচকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে তারা “দুষ্কৃতিকারী, মূর্খ বা ঈর্ষাকাতর।” তার এই বক্তব্য রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়।   যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে ছিল না। একই সঙ্গে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক রেটিংও চাপে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের অবসান ও বাজারে স্থিতিশীলতা জনমনে স্বস্তি আনলেও ইরানকে দেওয়া বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক থামেনি।   কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সমঝোতা এখনো মূল বিরোধগুলোর সমাধান করেনি। বিশেষজ্ঞ এলিসা ইওয়ার্সের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কারণ টোল আদায় না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সার্ভিস ফি বা অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।   সামগ্রিকভাবে এই চুক্তিতে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক কিছু অর্জন দেখাতে পারছে। ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কৃতিত্ব দাবি করতে পারছেন, আর ইরান পাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল হওয়ার প্রতিশ্রুতি। তবে পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনো অমীমাংসিত। ফলে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা এই সমঝোতার চূড়ান্ত সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৩:২৩
ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন

ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন: জবাবদিহি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

ইউক্রেন ইস্যুতে ফের আলোচনার ইঙ্গিত, সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

অন্তত ১১ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত দক্ষিণ লেবানন, ধ্বংস ১১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের তীব্র বার্তা: ‘সবাই অসন্তুষ্ট, ইহুদিরাও ক্ষুব্ধ’

গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে একটি নতুন বইয়ে। বইটির তথ্য অনুযায়ী, এক গোপন ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, “সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।”   যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ শিরোনামের এই বইটি লিখেছেন দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বইটি প্রকাশের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।   বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ফোনালাপের সময় ট্রাম্পের পাশে উপস্থিত ছিলেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ—যারা দুজনই ইহুদি। তাদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনেই ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।   ঘটনার পটভূমি হিসেবে বইয়ে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজা সংকট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একটি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করে। এর আগে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হলে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সেই ঘটনার পর কুশনার ক্ষোভ প্রকাশ করে নিকটজনদের কাছে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তকে ‘অতিরিক্ত আগ্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।   পরবর্তীতে কুশনার এই পরিস্থিতিকে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান এবং একটি শান্তি প্রস্তাব তৈরি করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়।   বইয়ের দাবি অনুযায়ী, সেই খসড়া পরিকল্পনা নিয়েই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাকে কড়া ভাষায় জানান, “তুমি এখন আর পিছু হটতে পারবে না। ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু আমি। সবাই তোমার সমালোচনা করছে, কিন্তু আমি তোমার পাশে থেকেছি। এটি ইসরায়েলের জন্য একটি ভালো চুক্তি।”   এর মাত্র দুই দিন পর, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে ওই শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরে নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও এই পরিকল্পনাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়।   বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানে সরকার পরিবর্তনের উপযুক্ত সময় এসেছে বলে মত দেন। তবে পরবর্তী আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই মূল্যায়নকে সরাসরি খারিজ করে দেন বলে দাবি করা হয়েছে।   গোপন বৈঠক, সংবেদনশীল নথি এবং ইরান-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ আলোচনা ফাঁস হয়ে বইটিতে প্রকাশ পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিশেষ করে সিচুয়েশন রুমের আলোচনার মতো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা তথ্য প্রকাশ পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্তরালের টানাপোড়েন এই বইয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে সামনে এসেছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১:১০
ইরান ইস্যুতে মিত্রদের আশ্বস্ত করতে উপসাগর সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

ইরান ইস্যুতে মিত্রদের আশ্বস্ত করতে উপসাগর সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিক উদ্ধারে জাতিসংঘের বৃহৎ অভিযান শুরু

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিক উদ্ধারে জাতিসংঘের বৃহৎ অভিযান শুরু

ছবি: সংগৃহীত

‘যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়ায় ইরানে সঙ্গে যুদ্ধ করবে ইসরায়েল’

ছবি: সংগৃহীত
টাইটানিকের উদ্ধারকৃত অলংকার ও সামগ্রী নিলামে তোলার পরিকল্পনা

ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনাগুলোর একটি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা শতাধিক নিদর্শন নিলামে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলছে, এসব নিদর্শন বিক্রির উদ্যোগ আদালতের নির্দেশনা ও আইনি বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী হতে পারে। তবে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার কার্যক্রমের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তাদের পরিকল্পনা কোনো আইন লঙ্ঘন করছে না।   ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিক ১৯১২ সালে ইউরোপ থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে উত্তর আটলান্টিকে একটি হিমশৈলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরও টাইটানিকের ইতিহাস বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকৃত নিদর্শনের একচ্ছত্র উদ্ধার অধিকার রয়েছে আরএমএস টাইটানিক ইনকরপোরেটেডের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি এবার শতাধিক নিদর্শন নিলামে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, অলংকার এবং জাহাজের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন বস্তু।   সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা আদালতের নথি অনুযায়ী, নিলামে তোলার জন্য প্রস্তাবিত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে স্বর্ণখণ্ড দিয়ে তৈরি একটি হার এবং হৃদয় আকৃতির একটি লকেট। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিলামের পাশাপাশি এসব নিদর্শন বিশ্বের চারটি শহরে প্রদর্শনীর জন্যও নিয়ে যাওয়া হতে পারে।   তবে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)। সংস্থাটি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে। এনওএএর দাবি, টাইটানিক থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৫ হাজার নিদর্শন আদালতের শর্ত অনুযায়ী একটি সমন্বিত সংগ্রহ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। সেগুলো আলাদা করে বিক্রি করা বা বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।   সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের পাশাপাশি ফ্রান্সের আদালতের নির্দেশনাতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে উদ্ধার করা নিদর্শনগুলো একক সংগ্রহ হিসেবে রাখতে হবে এবং পৃথকভাবে বিক্রি করা যাবে না। টাইটানিক থেকে উদ্ধার হওয়া প্রথম দিকের কিছু নিদর্শন ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযানে আরও হাজার হাজার বস্তু উদ্ধার করা হয়। এসব সম্পদের মালিকানা ও সংরক্ষণ নিয়ে বহু বছর ধরেই আদালতে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া চলেছে।   টাইটানিক ইনকরপোরেটেডের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শনীর মাধ্যমে এসব নিদর্শন জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেছে। তবে এখন কিছু নিদর্শন বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগোতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান হলো, টাইটানিক কেবল একটি ঐতিহাসিক জাহাজ নয়; এটি হাজারো মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত একটি স্মৃতিবাহী স্থান। তাই এর ধ্বংসাবশেষ ও উদ্ধারকৃত নিদর্শন সংরক্ষণে বিশেষ দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।   এর আগে টাইটানিক ধ্বংসাবশেষ এলাকায় নতুন অভিযান পরিচালনা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপত্তি জানিয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এটি মূলত একটি গণকবরের মতো ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে যথাযথ সম্মান ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।   এখন আদালত এই বিরোধ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে টাইটানিকের উদ্ধারকৃত নিদর্শনগুলোর ভবিষ্যৎ। ইতিহাসের এই মূল্যবান স্মারকগুলো কি নিলামে বিক্রি হবে, নাকি একক সংগ্রহ হিসেবেই সংরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও টাইটানিকপ্রেমীদের মধ্যে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ২৩:১৮
ছবি: সংগৃহীত

‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতি গাজার মতো হতো’

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াল কংগ্রেস

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ফেলে খুন তরুণীর!

0 Comments