অভিভাবকদের জন্য সুখবর, শিশুর পাশে বসতে আর অতিরিক্ত টাকা নেবে না রায়ানএয়ার
ইউরোপের অন্যতম স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার অবশেষে তাদের পারিবারিক আসন নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ছোট শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণকারী অভিভাবকদের সন্তানদের পাশে বসার জন্য আলাদা করে আসন সংরক্ষণের অর্থ দিতে হবে না।
যুক্তরাজ্যের কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি (সিএমএ) এ নীতির বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় বিমান সংস্থাটি। তবে রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারি বলেছেন, তারা "অনিচ্ছাসত্ত্বেও" এই পরিবর্তন এনেছেন এবং আগের নীতিটিও আইনসম্মত ছিল বলে তাদের দাবি।
নতুন নীতি অনুযায়ী, যেসব অভিভাবক অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট আসন বুক করতে চান না, তাদের জন্য চেক-ইনের পর বিনা মূল্যে শিশুর পাশের আসন বরাদ্দ করা হবে। রায়ানএয়ার বলছে, ইউরোপের অধিকাংশ বিমান সংস্থাই এ ধরনের ব্যবস্থা অনুসরণ করে।
এর আগে রায়ানএয়ারের নিয়ম ছিল, শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণকারী পরিবারকে অন্তত একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের ফি দিতে হতো। সেই আসনের পাশে সর্বোচ্চ চারজন শিশুর জন্য আসন বরাদ্দ করা হতো। এতে প্রতি যাত্রাপথে সাধারণত ৮ পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হতো।
চলতি মাসের শুরুতে সিএমএ তদন্ত শুরু করে জানতে চায়, এই নীতির মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনের খরচ কি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, অন্য অনেক বিমান সংস্থা অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই শিশুদের অভিভাবকের পাশে বসার ব্যবস্থা করে থাকে।
রায়ানএয়ারের দাবি, আগের নীতির মাধ্যমে যাত্রীরা টিকিট বুকিংয়ের সময়ই নিশ্চিত হতে পারতেন তারা কোথায় বসবেন। এতে পরিবারের সদস্যদের জন্য বাড়তি নিশ্চয়তা তৈরি হতো।
তবে নতুন নীতিতে বিনা মূল্যের পারিবারিক আসন মূলত বিমানের পেছনের সারিগুলোতে বরাদ্দ করা হবে। কারণ সামনের সারির আসনগুলো সাধারণত আগে থেকেই সংরক্ষিত থাকে।
বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ পরিবর্তনকে রায়ানএয়ার "সামান্য নীতিগত সংশোধন" হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এতে তাদের আয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে না।
রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারি সিএমএর সমালোচনা করে বলেন, তাদের পারিবারিক আসন নীতি ইউরোপের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও ভোক্তাবান্ধব ব্যবস্থাগুলোর একটি ছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগিতা বাড়ানো ও কম ভাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থা শুধু শিল্পখাতের প্রচলিত নীতির সঙ্গে মিল রাখতেই রায়ানএয়ারকে পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।
অন্যদিকে সিএমএ জানিয়েছে, রায়ানএয়ার দাবি করছে যে তাদের নতুন নীতি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি যাচাই করবে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, যদি নতুন নীতি সত্যিই আইনসম্মত হয়, তাহলে এটি পরিবারগুলোর জন্য ইতিবাচক খবর। কারণ এখন থেকে সন্তানদের পাশে বসতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না। তবে অতীতে যেসব পরিবার বাধ্য হয়ে এই অর্থ পরিশোধ করেছে, সেই বিষয়েও তদন্ত চলবে।
এদিকে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংস্থা হুইচ? জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে না এলে রায়ানএয়ার এই পরিবর্তন আনত না। সংস্থাটির ট্রাভেল সম্পাদক রোরি বোল্যান্ড বলেন, আগামী কয়েক মাস তারা পর্যবেক্ষণ করবেন, নতুন নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং সব অভিভাবক সত্যিই বিনা খরচে সন্তানদের পাশে বসার সুযোগ পান কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View more‘অলস’ বা ‘কুঁড়ে’ মানুষকে সাধারণত কেউ খুব একটা পছন্দ করেন না। বরং কাজ ফেলে রাখার জন্য তাদের প্রায়ই শুনতে হয় নানা কথা। কিন্তু জানেন কি, অলসতারও রয়েছে একটি বিশেষ দিন! আজ ১০ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে National Lazy Day বা জাতীয় অলস দিবস। দিনটি মূলত কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে আরাম করা এবং নিজের জন্য সময় কাটানোর একটি মজার উপলক্ষ। তাই যারা সারাবছর অলসতার জন্য বকুনি খান, তাদের জন্য আজ যেন একটু স্বস্তির দিন। ইচ্ছা করলে ঘুমিয়ে, শুয়ে-বসে, সিনেমা দেখে কিংবা কোনো কাজ না করেই দিনটি কাটিয়ে দিতে পারেন। ধারণা করা হয়, কাজের চাপ ও ব্যস্ত জীবন থেকে মানুষকে সাময়িক বিরতি দেওয়ার ভাবনা থেকেই দিবসটির প্রচলন। তবে ঠিক কে বা কারা, কবে এই দিবসটি চালু করেছিলেন—এ নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। আর এখানেই দিবসটির সবচেয়ে মজার দিক! মজা করে অনেকে বলেন, হয়তো যারা National Lazy Day চালু করেছিলেন, তারা এতটাই অলস ছিলেন যে দিবসটি চালুর ইতিহাস লিখে রাখতেও আলসেমি করেছিলেন! তবে মজার এই দিবসের পেছনে একটি বার্তাও রয়েছে—সবসময় কাজের পেছনে ছুটে চলার পাশাপাশি মাঝে মাঝে নিজেকে বিশ্রাম দেওয়াও প্রয়োজন। তাই আজ যদি আপনার কাজের তালিকা একটু লম্বা হয়, তাহলে সব কাজ একেবারে বাদ না দিলেও অন্তত কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখতেই পারেন। কারণ আজকের দিনটা যে অলসদের!
চীনের ওপর খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের
'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও চলমান যুদ্ধ শেষ করে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিলে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা গেলে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিলে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সামরিক হুমকি তৈরি করতে না পারে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প। তবে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের শর্ত। হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরান থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক দাবি জানিয়েছে। ইরানের এসব শর্ত মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কঠিন হতে পারে। এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এখন সংঘাত থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ইরান আবার জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলছে না, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবহন হওয়ায় সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তেল ও গ্যাসের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও চাপে পড়তে পারে। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আনা যায়, সেটিই এখন যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী করার মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ: মার্কিন কর্মকর্তা
সিটে বসতে নারাজ শিশু, বাবা-মা ও ক্রুর ব্যর্থ চেষ্টার পর বাতিল কানাডার ফ্লাইট
স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই, তাই নিজের সবকিছু বিক্রি করছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ
পর্তুগালের মাদেইরায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের কথিত বিয়েকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ৮ আগস্ট ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাথেড্রালের সামনে জড়ো হন ভক্ত ও গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে দেখা গেল অন্য এক নবদম্পতিকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ৮ আগস্ট মাদেইরার ফুঞ্চালে সম্পন্ন হওয়ার কথা। বিয়ের পর অতিথিদের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল পাঁচ তারকা সাভয় প্যালেস হোটেলে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে হোটেলটির দুটি তলা আগে থেকেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে রোনালদো ও জর্জিনার পক্ষ থেকে ৮ আগস্টের বিয়ের তারিখ বা ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের স্থান হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর আগে বিভিন্ন পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমও ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে মাদেইরায় তাদের বিয়ের সম্ভাব্য আয়োজনের কথা জানিয়েছিল। এই গুঞ্জনের মধ্যেই ক্যাথেড্রালের সামনে ভক্ত ও সংবাদকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন রোনালদো ও জর্জিনাকে বিয়ের পোশাকে দেখার জন্য। কিন্তু ক্যাথেড্রাল থেকে বেরিয়ে আসা নবদম্পতি ছিলেন ফাবিও সান্তোস রামোস ও ফাতিমা নিকোল কুনহা তেইক্সেইরা। মাদেইরা অঞ্চলের এই দম্পতি বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করেন। ফলে রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আশায় জড়ো হওয়া মানুষজনের সামনে তৈরি হয় বেশ মজার এক পরিস্থিতি। ক্যামেরার সামনে দিয়ে যখন অন্য দম্পতি নববিবাহিত সাজে বেরিয়ে আসেন, তখন তাদের ঘিরেও মুহূর্তেই আগ্রহ তৈরি হয়। ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য ওই নবদম্পতির বিরক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ক্যাথেড্রালের বাইরে নিজেদের ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত আগ্রহের বিষয়টি তারা উপভোগ করেছেন বলেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ে নিয়ে আগ্রহের শুরু অবশ্য অনেক আগেই। ২০২৫ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো। এরপর থেকেই তাদের বিয়ের সম্ভাব্য সময় ও স্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরায় বিয়ের আয়োজনের খবর প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। তবে তারকা এই জুটির ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান ও আয়োজনের বিস্তারিত তথ্যকে নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ৮ আগস্টের ঘটনাটি তাই রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে নয়, বরং তাদের বিয়ের গুঞ্জনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক মজার ভুল প্রত্যাশার ঘটনাই হয়ে থাকল।
বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির গান বাজছে জার্মানির এক অর্গানে, শেষ হবে ২৬৪০ সালে
যে কোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে ইরান: লারিজানি