ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হয়েছি। এক সময় ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা সংসদ, যা হাসি-ঠাট্টা, গান-বাজনা ও তোষামোদের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছিল, আজ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, সরকারি দলের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে এবং গণভোটের মাধ্যমে গণরায়ের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদদের ঋণ পরিশোধের পথে এগোবে। তিনি আরও বলেন, শহীদদের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ আমাদের কাছে একটি পবিত্র আমানত। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের শেষ শক্তি দিয়েও আমরা শহীদদের এই আমানত রক্ষা করব, ইনশাআল্লাহ। নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, ইরান আর একই ইরান নেই। নেতানিয়াহু আরও জানান, বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি থেকে বাধা দেওয়া। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নিয়ন্ত্রণে মোজতবা খামেনি কার্যত তাদের ‘পুতুল’ হিসেবে কাজ করছেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না। মোজতবা খামেনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইরানের সরকার পতনের প্রক্রিয়া সৃষ্টির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে রয়েছে, তবে চূড়ান্ত পরিবর্তন ঘটাতে সাধারণ জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুর মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
হামলা চালিয়েছে। হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবানন দখল করার হুমকি দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বৃহস্পতিবার বলেন, যদি লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, আমরা নিজেদের হাতে ভূখণ্ড দখল করে হিজবুল্লাহকে থামাব। গতকাল হিজবুল্লাহ বড় আকারের রকেট হামলা চালিয়েছে। আমাদের সেনাবাহিনী বৈরুতের দাহিয়েহ এবং হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকায় ত্বরিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। মন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্টকে আমরা জানাচ্ছি, যদি তারা বুঝতে না পারে কিভাবে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে, তাহলে আমাদের সৈন্যরা ভূমি দখল করে এটি করবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে লেবাননে হামলার পরিধি সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসে।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ায় রিয়াদসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যদি সৌদি আরব অংশ না নেয়, তাহলে তাদের ‘পরিণাম’ ভোগ করতে হতে পারে। গ্রাহাম বলেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়ানো ও সাতজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার জন্য দায়ী ইরানি সরকারকে মোকাবিলা করতে সৌদি আরব তাদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে অস্বীকার করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে যদি কোনো দেশ অংশ নিতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা উচিত কি না। উল্লেখ্য, ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত একজন সেনা মারা যান, ফলে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা সাতজন পৌঁছায়। হামলা লক্ষ্য ছিল সৌদি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ অংশ। গ্রাহাম আগেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই যুদ্ধে রাজি করানোর জন্য রিয়াদ সফর করেছিলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না যেখানে মার্কিন জয় নিশ্চিত নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশটি বারবার সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে এবং তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে তারা পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত গণঅভ্যুত্থান ইরানে দেখা যাচ্ছে না, বরং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে উপসাগরীয় শাসক ও গোয়েন্দা সংস্থা আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ায় রিয়াদসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যদি সৌদি আরব অংশ না নেয়, তাহলে তাদের ‘পরিণাম’ ভোগ করতে হতে পারে। গ্রাহাম বলেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়ানো ও সাতজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার জন্য দায়ী ইরানি সরকারকে মোকাবিলা করতে সৌদি আরব তাদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে অস্বীকার করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে যদি কোনো দেশ অংশ নিতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা উচিত কি না। উল্লেখ্য, ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত একজন সেনা মারা যান, ফলে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা সাতজন পৌঁছায়। হামলা লক্ষ্য ছিল সৌদি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ অংশ। গ্রাহাম আগেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই যুদ্ধে রাজি করানোর জন্য রিয়াদ সফর করেছিলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না যেখানে মার্কিন জয় নিশ্চিত নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশটি বারবার সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে এবং তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে তারা পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত গণঅভ্যুত্থান ইরানে দেখা যাচ্ছে না, বরং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে উপসাগরীয় শাসক ও গোয়েন্দা সংস্থা আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এমপিকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে, মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। এর আগে, বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারানোর পর তার অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। তিনি মহান রবের কাছে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতাল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানা শাখার সভাপতি ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন, যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।
ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড-এ বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান প্রথমবারের মতো অংশ নেবেন। ২০২৬ সালের মৌসুমের নিলামে তাকে ১ লাখ পাউন্ডে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা) দলে নিয়েছে বার্মিংহাম ফিনিক্স। লন্ডনে অনুষ্ঠিত নিলামে মোস্তাফিজকে ভিত্তিমূল্যেই দলে ভেড়া হয়। ৩০ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার টি–টোয়েন্টি স্বীকৃত ১০০ বলের ফরম্যাটে এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছেন। নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার রিশাদ হোসেন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো দল পাননি। নিলামে মোট ৮টি ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশগ্রহণ করেছে। বার্মিংহাম ফিনিক্স দলে মোস্তাফিজ খেলবেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল ও ক্রিস উড, পাকিস্তানের উসমান তারিক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডোনোভান ফেরেইরার সঙ্গে। দ্য হানড্রেডের পঞ্চম আসর শুরু হবে আগামী ২১ জুলাই।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, ইরান আর একই ইরান নেই। নেতানিয়াহু আরও জানান, বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি থেকে বাধা দেওয়া। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নিয়ন্ত্রণে মোজতবা খামেনি কার্যত তাদের ‘পুতুল’ হিসেবে কাজ করছেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না। মোজতবা খামেনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইরানের সরকার পতনের প্রক্রিয়া সৃষ্টির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে রয়েছে, তবে চূড়ান্ত পরিবর্তন ঘটাতে সাধারণ জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুর মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
হামলা চালিয়েছে। হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবানন দখল করার হুমকি দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বৃহস্পতিবার বলেন, যদি লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, আমরা নিজেদের হাতে ভূখণ্ড দখল করে হিজবুল্লাহকে থামাব। গতকাল হিজবুল্লাহ বড় আকারের রকেট হামলা চালিয়েছে। আমাদের সেনাবাহিনী বৈরুতের দাহিয়েহ এবং হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকায় ত্বরিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। মন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্টকে আমরা জানাচ্ছি, যদি তারা বুঝতে না পারে কিভাবে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে, তাহলে আমাদের সৈন্যরা ভূমি দখল করে এটি করবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে লেবাননে হামলার পরিধি সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হয়েছি। এক সময় ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা সংসদ, যা হাসি-ঠাট্টা, গান-বাজনা ও তোষামোদের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছিল, আজ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, সরকারি দলের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে এবং গণভোটের মাধ্যমে গণরায়ের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদদের ঋণ পরিশোধের পথে এগোবে। তিনি আরও বলেন, শহীদদের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ আমাদের কাছে একটি পবিত্র আমানত। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের শেষ শক্তি দিয়েও আমরা শহীদদের এই আমানত রক্ষা করব, ইনশাআল্লাহ। নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, ইরান আর একই ইরান নেই। নেতানিয়াহু আরও জানান, বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি থেকে বাধা দেওয়া। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নিয়ন্ত্রণে মোজতবা খামেনি কার্যত তাদের ‘পুতুল’ হিসেবে কাজ করছেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না। মোজতবা খামেনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইরানের সরকার পতনের প্রক্রিয়া সৃষ্টির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে রয়েছে, তবে চূড়ান্ত পরিবর্তন ঘটাতে সাধারণ জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুর মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
হামলা চালিয়েছে। হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবানন দখল করার হুমকি দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বৃহস্পতিবার বলেন, যদি লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, আমরা নিজেদের হাতে ভূখণ্ড দখল করে হিজবুল্লাহকে থামাব। গতকাল হিজবুল্লাহ বড় আকারের রকেট হামলা চালিয়েছে। আমাদের সেনাবাহিনী বৈরুতের দাহিয়েহ এবং হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকায় ত্বরিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। মন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্টকে আমরা জানাচ্ছি, যদি তারা বুঝতে না পারে কিভাবে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে, তাহলে আমাদের সৈন্যরা ভূমি দখল করে এটি করবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে লেবাননে হামলার পরিধি সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসে।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ায় রিয়াদসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যদি সৌদি আরব অংশ না নেয়, তাহলে তাদের ‘পরিণাম’ ভোগ করতে হতে পারে। গ্রাহাম বলেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়ানো ও সাতজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার জন্য দায়ী ইরানি সরকারকে মোকাবিলা করতে সৌদি আরব তাদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে অস্বীকার করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে যদি কোনো দেশ অংশ নিতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা উচিত কি না। উল্লেখ্য, ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত একজন সেনা মারা যান, ফলে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা সাতজন পৌঁছায়। হামলা লক্ষ্য ছিল সৌদি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ অংশ। গ্রাহাম আগেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই যুদ্ধে রাজি করানোর জন্য রিয়াদ সফর করেছিলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না যেখানে মার্কিন জয় নিশ্চিত নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশটি বারবার সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে এবং তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে তারা পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত গণঅভ্যুত্থান ইরানে দেখা যাচ্ছে না, বরং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে উপসাগরীয় শাসক ও গোয়েন্দা সংস্থা আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফার্স নিউজ জানায়, খামেনির স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে যে খবরগুলো ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এখনো জীবিত রয়েছেন। এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই হামলায় তাঁর স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। তবে ফার্স নিউজের দাবি, এসব তথ্য সঠিক নয় এবং মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন। তিনি সাধারণত জনসম্মুখে খুব কমই উপস্থিত হন এবং ইরানের শাসক পরিবারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জীবনযাপনকারী সদস্যদের একজন হিসেবে পরিচিত। এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার দেওয়া তাঁর প্রথম বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ না করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে হওয়া হামলায় আলী খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুত্রবধূ, জামাতা, মেয়ে ও নাতি–নাতনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম জনসম্মুখের ভাষণে মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধে নিহত ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।