বাংলাদেশ

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৫:১৯
বাংলাদেশের পাসপোর্ট।ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশের পাসপোর্ট।ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের লেখা ও নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন সংস্করণে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে পাসপোর্টের জলছাপে স্থান পাচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের প্রতীকী ছবি।

 

এ বিষয়ে রোববার সরকারি আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

 

আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত।’ ই-পাসপোর্ট চালুর পর ২০২১ সালে নতুন পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়। তখন সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই ভাষাগত পরিবর্তনটি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।

 

নতুন সিদ্ধান্তে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দেশটির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জানিয়ে আসছে।

 

পাসপোর্টের জলছাপেও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ, উত্তরার আজমপুরে পানি হাতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং জাতীয় পতাকার নকশার পোশাক পরা ওয়াসিম আকরামের ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। আন্দোলনের মধ্যে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার তাঁর ছবি দেশজুড়ে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।

 

মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করার সময় ঢাকার উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আর চট্টগ্রামে আন্দোলনের সময় নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম। নতুন জলছাপে তাঁদের তিনজনের প্রতীকী চিত্র একসঙ্গে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ নামে স্থান পাবে।

 

পরিবর্তিত নকশায় জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, ইলিশ, পাট ও চা-বাগানের মতো জাতীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শনও রাখা হচ্ছে।

 

এ ছাড়া কান্তজিউ মন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং হলি রোজারি চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার ছবি থাকবে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্মও নতুন জলছাপের নকশায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

তবে বর্তমানে যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাঁদের এখনই পাসপোর্ট পরিবর্তন করতে হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মেয়াদ শেষে নবায়ন কিংবা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত নকশার ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
বাংলাদেশের পাসপোর্ট।ছবি:সংগৃহীত
বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের লেখা ও নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন সংস্করণে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে পাসপোর্টের জলছাপে স্থান পাচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের প্রতীকী ছবি।   এ বিষয়ে রোববার সরকারি আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।   আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত।’ ই-পাসপোর্ট চালুর পর ২০২১ সালে নতুন পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়। তখন সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই ভাষাগত পরিবর্তনটি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।   নতুন সিদ্ধান্তে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দেশটির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জানিয়ে আসছে।   পাসপোর্টের জলছাপেও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ, উত্তরার আজমপুরে পানি হাতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং জাতীয় পতাকার নকশার পোশাক পরা ওয়াসিম আকরামের ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।   আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। আন্দোলনের মধ্যে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার তাঁর ছবি দেশজুড়ে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।   মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করার সময় ঢাকার উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আর চট্টগ্রামে আন্দোলনের সময় নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম। নতুন জলছাপে তাঁদের তিনজনের প্রতীকী চিত্র একসঙ্গে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ নামে স্থান পাবে।   পরিবর্তিত নকশায় জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, ইলিশ, পাট ও চা-বাগানের মতো জাতীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শনও রাখা হচ্ছে।   এ ছাড়া কান্তজিউ মন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং হলি রোজারি চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার ছবি থাকবে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্মও নতুন জলছাপের নকশায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে বর্তমানে যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাঁদের এখনই পাসপোর্ট পরিবর্তন করতে হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মেয়াদ শেষে নবায়ন কিংবা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত নকশার ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৫:১৯
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

তামীরুল মিল্লাতের এক শাখা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে ২০৪ জন, ছাত্র সংসদে বিজয়ী ৪৮

শেখ হাসিনা।ছবি:সংগৃহীত

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার কী হবে? আত্মসমর্পণ, গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনা

ঘটনা স্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় বিশ্বকাপের রাতেই আর্জেন্টিনা সমর্থকের আত্নহত্যা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০ বৃত্তির ঘোষণা সৌদি আরবের
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০ বৃত্তির ঘোষণা সৌদি আরবের

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।   রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে সৌদি সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারে প্রবেশ আরও সহজ করার বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান যেকোনো নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত দূর করতে উভয় পক্ষই সম্মতি প্রকাশ করেছে। এছাড়া হজ ও ওমরাহ পালন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।   বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি সে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো বিপুল রেমিট্যান্স বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও বড় ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিনের এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশের সরকারই বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। সাক্ষাতকালে সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে ভাইস অ্যাম্বাসাডর খালিদ সাঈদ এম আল হাদাল এবং কনস্যুলার সেকশনের ডেপুটি হেড মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমিও উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:১০
চরম আর্থিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি-র সুযোগ পেলেন গোলাম আজম। ছবি: সংগৃহীত

হতদরিদ্র পরিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি, গোলাম আজমের অনুপ্রেরণার গল্প

দন্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর। ছবি: সংগৃহীত

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর ৪৫ বছর পর আটক

বিশ্বে ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিলম্ব, এসি ছাড়াই ঢাকা-চেন্নাই ফ্লাইট
সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিলম্ব, এসি ছাড়াই ঢাকা-চেন্নাই ফ্লাইট—চরম ভোগান্তির অভিযোগ যাত্রীদের

ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকার অভিযোগে যাত্রীদের দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর ফ্লাইট ছাড়ার পাশাপাশি পুরো যাত্রাপথে কেবিনে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস না থাকায় যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।   জানা গেছে, ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২০৫ রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এটি চেন্নাই পৌঁছায়।   ফ্লাইটের যাত্রীদের অভিযোগ, বিলম্বের কারণ হিসেবে শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা জানানো হলেও পরে কারিগরি ত্রুটি এবং জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলা হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।   ফ্লাইটের এক যাত্রী সামিয়া শতাব্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রীদের বিমানে ওঠানো হয়। কিন্তু উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত কেবিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু ছিল না। এমনকি পুরো যাত্রাপথেও এসি কার্যকরভাবে চালু হয়নি, ফলে গরমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুও ছিলেন, যারা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেন। কেবিন ক্রুরা বারবার এসি চালু হবে বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।   সামিয়ার দাবি, পরে ক্রু সদস্যরা জানান যে উড্ডয়নের আগেই এসির সমস্যার বিষয়টি জানা ছিল এবং যাত্রীদের বিমানে রেখেই তা ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না করেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, চেন্নাই থেকে ফিরে এসে ত্রুটি মেরামত করা হবে।   তবে এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বিভিন্ন কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বে ছেড়েছে। তবে বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল ছিল না; এটি আংশিকভাবে সচল ছিল, যদিও শতভাগ সক্ষমতায় কাজ করছিল না।   অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে বিমানের দুটি এয়ার কন্ডিশনিং প্যাকের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল ছিল, অন্যটি সচল ছিল। সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী এই অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা করা অনুমোদিত থাকলেও এতে যাত্রীরা যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এয়ারলাইনসকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   ঘটনাটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ করা যাত্রীদের দুর্ভোগ প্রশ্ন তুলেছে ফ্লাইট পরিচালনার মান ও যাত্রীসেবার বিষয়ে। বিমান চলাচলে নিরাপত্তার পাশাপাশি যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ৫:১১
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ (এইচ এম) এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: রংপুরসহ দেশজুড়ে জাতীয় পার্টির নানা কর্মসূচি

ঝুঁকিপূর্ণ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাল পতাকা টাঙ্গানো হয়ছে ছবি : সংগৃহীত

গুপ্তখালের অদৃশ্য ঝুঁকিতে কক্সবাজার সৈকত, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি বাড়ছে পর্যটন খাতে

ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার প্রতারণা ও মানিলন্ডারিং মামলা

0 Comments