কম সিজিপিএ, জিআরই না থাকা, একাধিকবার আইইএলটিএসে কাঙ্ক্ষিত স্কোর না পাওয়া কিংবা গবেষণা প্রকাশনা ছাড়াও যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ অর্জন করা সম্ভব, তারই একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন খাগড়াছড়ির মংসাই মারমা নিমং। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসে ইতিহাস বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপসহ পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে বেড়ে ওঠা মংসাই মারমা নিমং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি ও এলএল.এম সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইতিহাস বিষয়ে গবেষণার জন্য আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসে ভর্তি ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপ অর্জন করেন।
তার শিক্ষাজীবনের পথ ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তার সিজিপিএ ছিল ২.৯৬। তিনি জিআরই পরীক্ষা দেননি। আইইএলটিএসে প্রথম দুইবার ৬.০ স্কোর পাওয়ার পর তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৬.৫ অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বাবাকে হারানোর পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন এবং আদালতে কাজ করেছেন। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও তার সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে।
গবেষণার ক্ষেত্রে তার কোনো আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ছিল না। তবে কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি এবং অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির দুটি গবেষণা প্রকল্পে প্রায় দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। এই গবেষণা অভিজ্ঞতাই তার উচ্চশিক্ষার আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আইন থেকে ইতিহাসে গবেষণার বিষয় পরিবর্তন নিয়ে অনেকের কাছে বিস্ময় তৈরি হলেও, পার্বত্য অঞ্চলের অধিকার, রাষ্ট্র, আইন এবং সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আইনের শিক্ষাই তার গবেষণার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সিজিপিএ বা পরীক্ষার স্কোরই নয়, গবেষণা অভিজ্ঞতা, একাডেমিক প্রস্তুতি, উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মংসাই মারমা নিমংয়ের সাফল্য দেখিয়েছে, প্রতিকূলতা থাকলেও পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা সাদিয়া রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইউটায় সরাসরি পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজবিজ্ঞান ও ক্রিমিনোলজি বিভাগে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করবেন। ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর পিএইচডি কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টারে। ইউনিভার্সিটি অব ইউটার প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২৪ আগস্ট সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হবে। সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সাদিয়ার। সাদিয়া জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গবেষণার সুযোগ ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাকে বেছে নিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ইউটার সমাজবিজ্ঞান পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডিতে ভর্তির আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হয়। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও গবেষণার আগ্রহ অনুযায়ী সাধারণত গবেষণা বা শিক্ষা সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থায়নের মধ্যে বৃত্তি, টিউশন ফি মওকুফ এবং ভর্তুকিযুক্ত স্বাস্থ্যবিমার মতো সুবিধা থাকতে পারে। স্নাতকে সাদিয়ার সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৭০। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি কোর্সে গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজ, টার্ম পেপার, সেমিনার পেপার ও চূড়ান্ত বর্ষের গবেষণা প্রকল্পে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার তিনটি গবেষণাপত্র বর্তমানে আন্তর্জাতিক জার্নালে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। বিভাগসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক শেষ করেই সরাসরি বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সাদিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রয়াত বাবার একটি অপূর্ণ স্বপ্ন। সাদিয়া বলেন, “আমি অত্যন্ত খুশি। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল, আমি যেন ডাক্তার হই। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১৭ সালে তিনি মারা যান। অনেক চেষ্টা করেও আমি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি। তবে পরবর্তী সময়ে কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছি।” পিএইচডি সম্পন্ন করে বাবার স্বপ্নকে অন্যভাবে পূরণ করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আন্তরিকতার সঙ্গে ডিগ্রিটি সম্পন্ন করতে চাই, যেন একদিন নামের আগে ‘ডক্টর’ শব্দটি যোগ করতে পারি। এতে আমার বাবার আত্মা হয়তো খুশি হবে। বাবার মৃত্যুর পর আমাদের তিন বোনকে বড় করতে আম্মাও অনেক সংগ্রাম করেছেন। আমি তার মুখেও হাসি ফোটাতে চাই।” স্নাতক শেষ করেই পিএইচডির সুযোগ পাওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে সাদিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজগুলো তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন। গবেষণার নকশা তৈরি, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গবেষণা সরঞ্জাম এবং বিশ্লেষণধর্মী সফটওয়্যার ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করেছেন। আবেদনের সময় নিজের গবেষণার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে একটি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। শিক্ষকদের সুপারিশপত্র এবং গবেষণার অভিজ্ঞতাও তার আবেদনকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন সাদিয়া। তিনি বলেন, “আমার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক স্যার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি সেভাবেই কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার তিনটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। গবেষণায় সহায়ক বিভিন্ন পদ্ধতি ও সফটওয়্যার ব্যবহারের জ্ঞানও অর্জন করেছি। ভালো স্টেটমেন্ট অব পারপাস এবং শক্তিশালী সুপারিশপত্র আমার আবেদনকে এগিয়ে দিয়েছে।” নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক, স্বামী, জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাদিয়া। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ প্রস্তুতির পথে বিভিন্ন সময়ে তাদের পরামর্শ, উৎসাহ ও সহযোগিতা তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সাদিয়ার অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক আতিকুল হক বলেন, “তার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খুবই স্পষ্ট। আমি তাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছি, সে একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেভাবে কাজ করেছে। স্নাতক শেষ করার সময়ই তার তিনটি গবেষণাপত্র ভালো জার্নালে পর্যালোচনাধীন থাকা প্রমাণ করে, গবেষণার জন্য তার প্রয়োজনীয় আগ্রহ ও সক্ষমতা রয়েছে। এই অর্জন তার ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল। আমি তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।”
জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব (Islamic Theology) অনুষদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর লক্ষ্যে বর্তমানে নির্মাণাধীন ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এ ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদগুলোকে একই ক্যাম্পাসে একত্রিত করা হবে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরে ২০২১ সাল থেকে ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এর নির্মাণকাজ চলছে। নতুন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করা। নবগঠিত ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হতে পারা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এই অনুষদের প্রতিষ্ঠা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তার মতে, নতুন অনুষদে ইসলামের উদার, গবেষণাভিত্তিক এবং মুক্তচিন্তার ব্যাখ্যা নিয়ে কাজ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খোরশিদে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার ফলে ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব বিভাগ এখন নিজস্বভাবে পিএইচডি এবং অন্যান্য উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান ও বিভিন্ন তহবিল পাওয়ার সুযোগও আরও বাড়বে। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী এবং তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি। বর্তমানে সেখানে আটজন অধ্যাপক এবং ৫০ জনের বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তা কাজ করছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জার্মানির সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে দক্ষ শিক্ষকের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া-তে প্রায় তিন হাজার ইসলাম ধর্মের শিক্ষকের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩০ জন। ফলে নতুন অনুষদটি শিক্ষক সংকট দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোরশিদে জানান, ২০২৭ সাল থেকে ‘ইসলাম অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়ার্ক’ নামে একটি নতুন স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কোর্সের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন, হাসপাতালভিত্তিক ধর্মীয় পরামর্শ, প্রবীণদের সেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা হবে। নতুন অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সহাবস্থান, কোরআনের সমসাময়িক ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চরমপন্থা, ইসলামবাদ এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরোধিতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। খোরশিদে বলেন, অনুষদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তার মতে, বিশ্বের অনেক মানুষ ইসলামের উদার ও গবেষণানির্ভর ব্যাখ্যার প্রতি আগ্রহী। দীর্ঘমেয়াদে মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ইসলামিক গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র নরবার্ট রবার্স বলেন, একই ক্যাম্পাসে খ্রিস্টান ও ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদ প্রতিষ্ঠা আন্তধর্মীয় বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। অন্যদিকে জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনেত্তে শাভান এই উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ইউরোপে একাডেমিক ধর্মতত্ত্ব চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কানাডায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ইউসিএমএএসে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কুশল সাহা। কানাডার ছয়টি প্রদেশের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে এই সাফল্য পেয়েছে সে। কুশল সাহার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের পাশাপাশি তার স্বজনদের মধ্যেও আনন্দের জোয়ার বইছে। ক্ষুদে এই মেধাবীর শিকড় বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তিনি সাংবাদিক সুভাষ সাহার দৌহিত্র এবং সুস্মিতা সাহা ও কমল কৃষ্ণ সাহা দম্পতির একমাত্র সন্তান। জানা গেছে, সম্প্রতি কানাডায় অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট অব মেন্টাল অ্যারিথমেটিক সিস্টেম (ইউসিএমএএস) প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিশুদের মানসিক গণনার দক্ষতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ মূল্যায়নের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে ২০০টি গণিতভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। দ্রুততা ও নির্ভুলতার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় কুশল সাহা সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব জিতে নেয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছর এই সম্মান অর্জন করেছিল একজন চীনা শিক্ষার্থী। এবার সেই জায়গায় বাংলাদেশের সন্তান কুশল সাহার নাম যুক্ত হওয়ায় গর্বিত তার পরিবার এবং পরিচিতজনরা। কুশলের বাবা কমল কৃষ্ণ সাহা উচ্চশিক্ষিত একজন পেশাজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) এবং চার্টার্ড মার্কেট টেকনিশিয়ান (সিএমটি) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে কুশলের মা সুস্মিতা সাহা বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত আছেন। কুশলের দাদা সাংবাদিক সুভাষ সাহা জানান, ইউসিএমএএস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপদ্ধতি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের দ্রুত হিসাব করার দক্ষতা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “কানাডার ছয়টি প্রদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কুশল সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। এটি শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয়।” কুশলের এই সাফল্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। শিশু বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে কুশল সাহা প্রমাণ করেছে, সঠিক সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশি শিশুরা বিশ্বের যেকোনো মঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। পরিবারের পক্ষ থেকে কুশলের জন্য সবার দোয়া ও শুভকামনা কামনা করা হয়েছে।