ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক আচরণ নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল নিউমা চৌধুরীর একাডেমিক পথচলা। সময়ের সঙ্গে সেই গবেষণার পরিধি ছড়িয়ে পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা, অধিকার ও উন্নয়ননীতিতে। দীর্ঘদিনের সেই প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লটে পাবলিক পলিসি বিষয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ফেলোশিপপ্রাপ্তদের তালিকায় পাবলিক পলিসির পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে নিউমার নাম রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ওয়েল্যান্ড এইচ. কেটো জুনিয়র ফার্স্ট-ইয়ার ডক্টরাল ফেলোশিপ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা নিউমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় তিনি সাহিত্য পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ, পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এই সময় বাংলাদেশের পেশাজীবীদের ব্যাংক নির্বাচনের কারণ এবং দেশের সেলুলার শিল্পে তরুণ গ্রাহকদের ধরে রাখার প্রভাবক নিয়ে তাঁর সহলেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার রিসার্চগেটেও তাঁর এই দুই প্রকাশনার তথ্য রয়েছে।
গ্রাহকের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের আচরণ বোঝার একটি প্রাথমিক ভিত্তি দেয়। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর গবেষণার কেন্দ্রে আসে নিজের জনগোষ্ঠী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা। অর্থনীতি ও বাজারের পাশাপাশি সংস্কৃতি, অধিকার এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক মানুষের অবস্থান নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের এথনোগ্রাফিক মিউজিয়ামের একটি প্রকল্পে মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলেন নিউমা। সেখানে বহু দশক আগে সংগ্রহ করা মারমা প্রবাদ ও পুরোনো অডিও রেকর্ডের অর্থ উদ্ধারে তিনি প্রবীণ ব্যক্তি, সংস্কৃতিবিদ ও ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করেন।
পরে অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিচারব্যবস্থা নিয়ে মাঠপর্যায়ের গুণগত গবেষণায় অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাপোর্টালে থাকা সংশ্লিষ্ট গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় জ্ঞান সংরক্ষণে নিউমার অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
থিংকার্স প্যানেলে গবেষণা ফেলো হিসেবে তথ্য বিশ্লেষণ,
গবেষণা প্রস্তাব ও অনুদানের আবেদন তৈরির পাশাপাশি নীতিবিষয়ক গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। সেখানে তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল খাগড়াছড়ির মারমা জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব।
ইয়ুথ পলিসি ফোরামে পলিসি এনভয় হিসেবেও কাজ করেছেন নিউমা। আদিবাসী অধিকার, ক্ষুদ্রঋণ, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের উপযোগী উন্নয়ননীতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর গবেষণার মূল প্রশ্ন আরও নির্দিষ্ট হয়—যাদের জন্য নীতি তৈরি করা হয়, তাদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর সেই নীতিতে কতটা প্রতিফলিত হয়।
গবেষণার পাশাপাশি মারমা স্কুল ও বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের সঙ্গে ভাষা সংরক্ষণ, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। করোনা মহামারির সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক স্বেচ্ছাসেবার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে ইনস্পায়ারিং উইমেন ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যেও তাঁর নাম ছিল।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন নিউমা। সেখানে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওয়েস ওয়াটকিন্স সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্টে গ্লোবাল ট্রেড ইন্টার্ন হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে তাঁকে গ্লোবাল ট্রেড ইন্টার্নদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউমার একাডেমিক যাত্রা তাই মার্কেটিং ছেড়ে হঠাৎ অন্য বিষয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা নয়। গ্রাহকের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে নিজ জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা, অর্থনৈতিক জীবন ও অধিকার নিয়ে কাজ—প্রতিটি পর্যায় তাঁকে জননীতি গবেষণার দিকে এগিয়ে নিয়েছে।
তাঁর পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থীর ছোট গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ কিংবা সংগঠনের কাজও ভবিষ্যতের বড় একাডেমিক লক্ষ্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। নিজের শিকড়কে কেবল পরিচয়ের অংশ হিসেবে না দেখে গবেষণার প্রশ্নে রূপান্তর করতে পারলে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাও আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চা ও নীতিনির্ধারণে জায়গা করে নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক আচরণ নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল নিউমা চৌধুরীর একাডেমিক পথচলা। সময়ের সঙ্গে সেই গবেষণার পরিধি ছড়িয়ে পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা, অধিকার ও উন্নয়ননীতিতে। দীর্ঘদিনের সেই প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লটে পাবলিক পলিসি বিষয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ফেলোশিপপ্রাপ্তদের তালিকায় পাবলিক পলিসির পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে নিউমার নাম রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ওয়েল্যান্ড এইচ. কেটো জুনিয়র ফার্স্ট-ইয়ার ডক্টরাল ফেলোশিপ। পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা নিউমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় তিনি সাহিত্য পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ, পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই সময় বাংলাদেশের পেশাজীবীদের ব্যাংক নির্বাচনের কারণ এবং দেশের সেলুলার শিল্পে তরুণ গ্রাহকদের ধরে রাখার প্রভাবক নিয়ে তাঁর সহলেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার রিসার্চগেটেও তাঁর এই দুই প্রকাশনার তথ্য রয়েছে। গ্রাহকের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের আচরণ বোঝার একটি প্রাথমিক ভিত্তি দেয়। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর গবেষণার কেন্দ্রে আসে নিজের জনগোষ্ঠী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা। অর্থনীতি ও বাজারের পাশাপাশি সংস্কৃতি, অধিকার এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক মানুষের অবস্থান নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের এথনোগ্রাফিক মিউজিয়ামের একটি প্রকল্পে মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলেন নিউমা। সেখানে বহু দশক আগে সংগ্রহ করা মারমা প্রবাদ ও পুরোনো অডিও রেকর্ডের অর্থ উদ্ধারে তিনি প্রবীণ ব্যক্তি, সংস্কৃতিবিদ ও ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিচারব্যবস্থা নিয়ে মাঠপর্যায়ের গুণগত গবেষণায় অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাপোর্টালে থাকা সংশ্লিষ্ট গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় জ্ঞান সংরক্ষণে নিউমার অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। থিংকার্স প্যানেলে গবেষণা ফেলো হিসেবে তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা প্রস্তাব ও অনুদানের আবেদন তৈরির পাশাপাশি নীতিবিষয়ক গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। সেখানে তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল খাগড়াছড়ির মারমা জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব। ইয়ুথ পলিসি ফোরামে পলিসি এনভয় হিসেবেও কাজ করেছেন নিউমা। আদিবাসী অধিকার, ক্ষুদ্রঋণ, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের উপযোগী উন্নয়ননীতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর গবেষণার মূল প্রশ্ন আরও নির্দিষ্ট হয়—যাদের জন্য নীতি তৈরি করা হয়, তাদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর সেই নীতিতে কতটা প্রতিফলিত হয়। গবেষণার পাশাপাশি মারমা স্কুল ও বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের সঙ্গে ভাষা সংরক্ষণ, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। করোনা মহামারির সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক স্বেচ্ছাসেবার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে ইনস্পায়ারিং উইমেন ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যেও তাঁর নাম ছিল। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন নিউমা। সেখানে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওয়েস ওয়াটকিন্স সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্টে গ্লোবাল ট্রেড ইন্টার্ন হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে তাঁকে গ্লোবাল ট্রেড ইন্টার্নদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউমার একাডেমিক যাত্রা তাই মার্কেটিং ছেড়ে হঠাৎ অন্য বিষয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা নয়। গ্রাহকের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে নিজ জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা, অর্থনৈতিক জীবন ও অধিকার নিয়ে কাজ—প্রতিটি পর্যায় তাঁকে জননীতি গবেষণার দিকে এগিয়ে নিয়েছে। তাঁর পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থীর ছোট গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ কিংবা সংগঠনের কাজও ভবিষ্যতের বড় একাডেমিক লক্ষ্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। নিজের শিকড়কে কেবল পরিচয়ের অংশ হিসেবে না দেখে গবেষণার প্রশ্নে রূপান্তর করতে পারলে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাও আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চা ও নীতিনির্ধারণে জায়গা করে নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ আর কোর্স শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে না। এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ চার বছরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে নতুন করে অনুমতি নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) চূড়ান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতি বাতিল করা হয়েছে। আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বৈধ শিক্ষার্থী মর্যাদা বজায় রাখলে তাদের ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুবিধা আর থাকবে না। নতুন বিধি অনুযায়ী, চার বছরের বেশি সময়ের ডিগ্রি বা গবেষণা কর্মসূচিতে থাকা শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। অনুমোদন না পেলে তাদের দেশ ছাড়তে হবে অথবা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে। শুধু অবস্থানের সময়সীমাই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী আগের মতো সহজে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন বা একই স্তরের নতুন কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ছিল, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসায় প্রবেশ করেছেন, যা তদারকির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট সংগঠন নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ কমে যেতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও পিএইচডি কর্মসূচিতে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই বিধিমালা নির্ধারিত সময় পর কার্যকর হবে। এরপর থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য অ-অভিবাসী ভিসাধারীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতির ফলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সরাসরি গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) সম্প্রতি প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এতদিন যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক অস্থায়ী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতেন, সেটি এখন আর সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে না। বরং বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন, অর্থাৎ কনস্যুলার প্রসেসিং (Consular Processing) হবে মূল প্রক্রিয়া। কী পরিবর্তন হলো? এর আগে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই ভিসার ধরন পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। এতে আবেদনকারীরা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতেন। নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা কার্যত সীমিত হয়ে গেছে। এখন অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে। USCIS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন এখন আর স্বাভাবিক অধিকার নয়, বরং এটি হবে ব্যতিক্রমধর্মী একটি সুযোগ, যা বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বেশি এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে এফ-১ (F-1) শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় যাওয়া শিক্ষার্থীদের মূল উদ্দেশ্য থাকে পড়াশোনা শেষ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অভিবাসন আইন তাদের অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) কর্মসূচির আওতায় কাজ করার এবং পরে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দিত। নতুন নীতিতে সেই পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে। কারণ এখন আবেদনকারীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজ দেশে ফিরে কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন মূল্যায়নে কর্মকর্তাদের বাড়তি ক্ষমতা USCIS-এর নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন কেসভিত্তিক এবং বিবেচনাধিকার অনুযায়ী মূল্যায়ন করবেন। অর্থাৎ, আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা থাকবে। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে অনেক আবেদনকারীর জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের পথ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত চাকরি পাওয়ার পর নিয়োগকর্তার সহায়তায় কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। এর প্রধান তিনটি বিভাগ হলো: ইবি-১ (EB-1): বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা ক্রীড়ায় অসাধারণ দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য, পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধ্যাপক, গবেষক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কিছু নির্বাহীর জন্য। ইবি-২ (EB-2): উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী, বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা জাতীয় স্বার্থে কাজ করছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য। ইবি-৩ (EB-3): দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়োগকর্তাকে প্রথমে অভিবাসন আবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ? মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা। একই সঙ্গে USCIS জানিয়েছে, এতে সংস্থাটি অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে আরও বেশি সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে। তবে অভিবাসন আইনজীবী এবং অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, নতুন নিয়ম অনেক বৈধ অভিবাসীর কর্মজীবন, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘদিনের স্থায়ী বসবাসের লক্ষ্যকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। এছাড়া এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলে USCIS-এর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য কনস্যুলার প্রসেসিংই এখন মূল পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।