মার্কেটিং থেকে পাবলিক পলিসিতে পিএইচডি! পাহাড়ের থেকে নিউমা চৌধুরী এবার যুক্তরাষ্ট্রে
ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক আচরণ নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল নিউমা চৌধুরীর একাডেমিক পথচলা। সময়ের সঙ্গে সেই গবেষণার পরিধি ছড়িয়ে পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা, অধিকার ও উন্নয়ননীতিতে। দীর্ঘদিনের সেই প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লটে পাবলিক পলিসি বিষয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ফেলোশিপপ্রাপ্তদের তালিকায় পাবলিক পলিসির পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে নিউমার নাম রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ওয়েল্যান্ড এইচ. কেটো জুনিয়র ফার্স্ট-ইয়ার ডক্টরাল ফেলোশিপ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা নিউমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় তিনি সাহিত্য পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ, পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এই সময় বাংলাদেশের পেশাজীবীদের ব্যাংক নির্বাচনের কারণ এবং দেশের সেলুলার শিল্পে তরুণ গ্রাহকদের ধরে রাখার প্রভাবক নিয়ে তাঁর সহলেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার রিসার্চগেটেও তাঁর এই দুই প্রকাশনার তথ্য রয়েছে।
গ্রাহকের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের আচরণ বোঝার একটি প্রাথমিক ভিত্তি দেয়। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর গবেষণার কেন্দ্রে আসে নিজের জনগোষ্ঠী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা। অর্থনীতি ও বাজারের পাশাপাশি সংস্কৃতি, অধিকার এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক মানুষের অবস্থান নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের এথনোগ্রাফিক মিউজিয়ামের একটি প্রকল্পে মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলেন নিউমা। সেখানে বহু দশক আগে সংগ্রহ করা মারমা প্রবাদ ও পুরোনো অডিও রেকর্ডের অর্থ উদ্ধারে তিনি প্রবীণ ব্যক্তি, সংস্কৃতিবিদ ও ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করেন।
পরে অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিচারব্যবস্থা নিয়ে মাঠপর্যায়ের গুণগত গবেষণায় অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাপোর্টালে থাকা সংশ্লিষ্ট গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় জ্ঞান সংরক্ষণে নিউমার অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
থিংকার্স প্যানেলে গবেষণা ফেলো হিসেবে তথ্য বিশ্লেষণ,
গবেষণা প্রস্তাব ও অনুদানের আবেদন তৈরির পাশাপাশি নীতিবিষয়ক গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। সেখানে তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল খাগড়াছড়ির মারমা জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব।
ইয়ুথ পলিসি ফোরামে পলিসি এনভয় হিসেবেও কাজ করেছেন নিউমা। আদিবাসী অধিকার, ক্ষুদ্রঋণ, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের উপযোগী উন্নয়ননীতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর গবেষণার মূল প্রশ্ন আরও নির্দিষ্ট হয়—যাদের জন্য নীতি তৈরি করা হয়, তাদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর সেই নীতিতে কতটা প্রতিফলিত হয়।
গবেষণার পাশাপাশি মারমা স্কুল ও বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের সঙ্গে ভাষা সংরক্ষণ, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। করোনা মহামারির সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক স্বেচ্ছাসেবার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে ইনস্পায়ারিং উইমেন ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যেও তাঁর নাম ছিল।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন নিউমা। সেখানে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওয়েস ওয়াটকিন্স সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্টে গ্লোবাল ট্রেড ইন্টার্ন হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে তাঁকে গ্লোবাল ট্রেড ইন্টার্নদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউমার একাডেমিক যাত্রা তাই মার্কেটিং ছেড়ে হঠাৎ অন্য বিষয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা নয়। গ্রাহকের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে নিজ জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা, অর্থনৈতিক জীবন ও অধিকার নিয়ে কাজ—প্রতিটি পর্যায় তাঁকে জননীতি গবেষণার দিকে এগিয়ে নিয়েছে।
তাঁর পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থীর ছোট গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ কিংবা সংগঠনের কাজও ভবিষ্যতের বড় একাডেমিক লক্ষ্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। নিজের শিকড়কে কেবল পরিচয়ের অংশ হিসেবে না দেখে গবেষণার প্রশ্নে রূপান্তর করতে পারলে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাও আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চা ও নীতিনির্ধারণে জায়গা করে নিতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreমাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারী হিসেবে কাজ কিংবা ফেলোশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ভর্তির যোগ্যতা ও ফান্ডিং বিভাগভেদে আলাদা। ফল ২০২৭ সেশনে সব প্রোগ্রামে নিশ্চিত পূর্ণ অর্থায়ন পাওয়া যাবে, এমন সাধারণ ঘোষণা হিসেবে বিষয়টি দেখার সুযোগ নেই। সুযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পারডিউ ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি। প্রচারিত পোস্টে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ লেখা হলেও সঠিক নাম জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। পারডিউ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভর্তি নির্দেশনায় স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সরাসরি পিএইচডিতে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষভাবে ভালো স্নাতক ফল থাকা শিক্ষার্থীরা সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতে পারেন। পারডিউ ইঞ্জিনিয়ারিং জানিয়েছে, অধিকাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থী অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে ফান্ডিং পান। তবে এটি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা নয়। জর্জিয়া টেকের রোবোটিকস পিএইচডি প্রোগ্রামে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। অন্যদিকে, কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সাধারণত রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। এতে স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকে। পিএইচডি করতে আগ্রহীদের সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামেই আবেদন করতে বলা হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট ব্রিডিং, জেনেটিকস অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি পিএইচডি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক অথবা মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন। সেখানে একজন উপযুক্ত শিক্ষকের গবেষণা তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সম্মতিও প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়মেই উল্লেখ রয়েছে, কিছু বিভাগ পিএইচডিতে ভর্তির আগে মাস্টার্স চাইতে পারে। ফলে একটি বিভাগের সুযোগকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ফল ২০২৭ নিয়ে মিশিগান স্টেটের গণিত শিক্ষা বিষয়ক ডক্টরাল প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে আবেদন চালু থাকার তথ্য রয়েছে। ওই প্রোগ্রামে শর্তসাপেক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত সীমার টিউশন সুবিধা ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স দেওয়া হয়। সহায়তা অব্যাহত থাকা নির্ভর করে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি, কাজের মান ও অর্থের প্রাপ্যতার ওপর। এটি ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ঘোষণা। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের সিবেল স্কুল অব কম্পিউটিং অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য চার বছরের স্নাতক বা গ্রহণযোগ্য সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। তাদের পিএইচডির কাঠামোয় আগে মাস্টার্স না থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুলটির তথ্য অনুযায়ী, অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পান, যার মধ্যে স্টাইপেন্ড ও পুরো টিউশন মওকুফ অন্তর্ভুক্ত। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে চার বছরের স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। ভর্তির আগে গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করতে হয়। প্রোগ্রামটি জানিয়েছে, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের এক বছরের অর্থায়ন তারা দেয় এবং বাকি সময়ের অর্থায়ন তত্ত্বাবধায়ক বহন করেন। তবে উভয় পক্ষের বাজেটের ওপর এই সহায়তা নির্ভরশীল। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট, মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং পূর্ণ অর্থায়ন দুটি আলাদা বিষয়। ফল ২০২৭ সেশনের জন্য আবেদন করতে হলে নির্বাচিত বিভাগের বিজ্ঞপ্তি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, আবেদনের শেষ সময় এবং অর্থায়নের লিখিত শর্ত মিলিয়ে নিতে হবে। টিউশন মওকুফের পাশাপাশি স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অর্থায়নের মেয়াদ কতটুকু থাকবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট অফারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর, ফ্রান্সে বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের চূড়ান্ত নোটিশ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাড়বে কিস্তির চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রিতে আবেদনের সুযোগ, জেনে নিন আবেদন এর সময়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করার জন্য ফালাক সুফি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন যোগ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এই বৃত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন, উপবৃত্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে ভর্তির জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনের শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি ২০২৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অধীনে কেভর্কিয়ান সেন্টারের নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের সঙ্গে এই বৃত্তি যুক্ত। ডন ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের সংরক্ষিত বিবরণে এসব তথ্য পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা বৃত্তিটির লক্ষ্য, যাঁদের পক্ষে এই আর্থিক সহায়তা ছাড়া স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করা কঠিন। নির্বাচনে নারী আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত বৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক বিবেচনার মধ্যে পড়লেও শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া বা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী হওয়াই বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা ও বৃত্তির নির্বাচনী শর্ত পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে উপবৃত্তির ন্যূনতম পরিমাণ ৩৭ হাজার ১৩২ মার্কিন ডলার। এটি একটি শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তি, দুই বছরের মোট অর্থ নয়। পাশাপাশি টিউশন, শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভিস ফি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বহনের কথা বলা হয়েছে। সহায়তা অব্যাহত রাখতে গ্র্যাজুয়েট স্কুলের নির্ধারিত একাডেমিক মান বজায় রাখতে হবে। আবেদন করতে আগ্রহীদের এনওয়াইইউর গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অ্যাপ্লিকেশন রিসোর্স সেন্টারে গিয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং বৃত্তি বিবেচনার নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। মূল লেখায় জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট ও একাডেমিক নথির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ আবেদনতালিকা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামভিত্তিক নির্দেশনাই প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করবে। এই বৃত্তি এনওয়াইইউর সব বিষয়ের মাস্টার্সের জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্বাচিত নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরাই এর আওতায় বিবেচিত হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সুবিধার বাইরে বিমানভাড়া, ভিসা ফি বা ব্যক্তিগত সব ব্যয়ও বহন করা হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের আর্থিক সহায়তার আবেদন আগেভাগেই শুরু, শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
বিদেশে ৩০ টি ফুল ফান্ড স্কলারশিপ, জেনে নিন আবেদনের সময় ও বিস্তারিত
নোবেলজয়ী পার্লমুটারের সঙ্গে গবেষণাপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মুমতাহিনা করিম মীম যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির প্রস্তাব পাওয়ার পর আরকানসাসের হেনড্রিক্স কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালে তিনি কলেজটির হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ অর্জন করেন, যার আওতায় টিউশন ফি, থাকা ও খাবারসহ সরাসরি শিক্ষাব্যয় বহন করা হয়। হেনড্রিক্স কলেজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারজন এই বৃত্তি পেয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশের মীমকে হেইস ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী। কলেজ জানিয়েছে, টিউশন ফি বাড়লে বৃত্তির অর্থও সেই অনুযায়ী বাড়ে। মীমকে নিয়ে প্রচারিত ‘৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ’ কথাটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৃত্তির প্রস্তাবের সম্মিলিত মূল্য। ইত্তেফাকের ২০২৫ সালের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে এই হিসাব উল্লেখ করা হয়। এটি এক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তি কিংবা একসঙ্গে তাঁর হাতে আসা অর্থ নয়। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব বিকল্পের মধ্য থেকে তিনি হেনড্রিক্স কলেজকে বেছে নিয়েছেন। প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মীম ওই বছরের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। ২৬ আগস্ট তাঁর ক্লাস শুরু হয়। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ফলে তাঁর এই অর্জনটি ২০২৫ সালের, নতুন করে পাওয়া বৃত্তির ঘোষণা নয়। রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় জন্ম হলেও মীম বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম নগরে। অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়ের শুরু মায়ের হাত ধরে। প্রথম আলোকে মীম জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা তাঁকে কোডিং শেখার ভিডিও দেন। সপ্তম শ্রেণিতে স্কুলের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন। নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রোগ্রামিং ক্লাব, যেখানে অন্য শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখাতেন। করোনাকালে ইউটিউব দেখে রোবোটিকসের বিভিন্ন কাজ শেখেন মীম। জমানো টাকায় আরডুইনো কিট ও সেন্সর কিনে নিজের ঘরে ছোট একটি পরীক্ষাগার গড়ে তোলেন। সেখানেই তৈরি করেন খাবার পরিবেশনকারী রোবট ‘কিবো’। পড়াশোনার পাশাপাশি আঁকাআঁকি, বিতর্ক, সাহিত্য ও সংগীতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মীমের ভাষ্য, এসব অভিজ্ঞতা বিদেশে ভর্তির আবেদনে তাঁকে সহায়তা করেছে। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মেয়েদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি।
কাঠমিস্ত্রির ছেলে সাজিবুল, সব বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গে, পেয়েছেন চার কোটি টাকার ফান্ড
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পিএইচডি ফান্ডিং, বছরে ন্যূনতম ৩৫,১০০ ডলারের সুযোগ